24/05/2025
আজ ২৩ মে জাতীয় প্রেসক্লাবে "মরনফাঁদ ফারাক্কা ও মওলানা ভাসানীর নদী ভাবনা" শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মওলানা ভাসানী স্বপ্ন বাস্তবায়ন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিষদের আহ্বায়ক মনোয়ার চৌধুরী মেরিন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন দেশের খ্যাতনামা শ্রমিক ও ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও ফিলিস্তিন সংহতি আন্দোলনের অগ্রপথিক বাদল খান, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ হোসেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সেক্রেটারি ফাহিম আহম্মদ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বসু, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির আহ্বায়ক আরমানুল হক, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের যুব কমিটির সভাপতি সিফাত চৌধুরী এবং বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর চৌধুরীসহ বহু ছাত্র-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আশরাফুল ইসলাম রানা।
বক্তারা তাঁদের আলোচনায় মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক জীবন, বিশেষ করে ১৯৭৬ সালের ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চকে কেন্দ্র করে নদী রক্ষা আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, ভাসানীর নদী ভাবনা কেবল প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার আহ্বান ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম। নদীকে তিনি দেখেছেন জীবন্ত স্বত্তা হিসেবে—যার প্রবাহ থেমে গেলে থেমে যায় মানুষের জীবিকা, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির টেকসই বিকাশ।
আলোচনায় বক্তারা ভারতের সঙ্গে অভিন্ন ৫৪টি নদীর মধ্যে ৫১টিতে একতরফা বাঁধ নির্মাণ এবং কলকাতা বন্দর রক্ষায় গঙ্গার গতিপথ পরিবর্তনের সমালোচনা করেন। এর ফলে বাংলাদেশের নদীগুলোর নাব্যতা কমে গিয়ে কৃষক, মাঝি, নদীনির্ভর পেশাজীবীরা জীবিকাহীন হয়ে শহরমুখী হচ্ছেন। এ মাইগ্রেশনকে তাঁরা সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন।
একইসাথে বক্তারা তুলে ধরেন, পশ্চিমা পুঁজিবাদী অর্থনীতির প্রভাবে বাংলাদেশের নদীগুলোর ওপর ডেনিম পোশাক শিল্পের ক্ষতিকর প্রভাব। শিল্পবর্জ্যে নদী দূষিত হয়ে মানুষের জীবন ও পরিবেশ আজ বিপন্ন। তারা বলেন, ভাসানীর ফারাক্কা লংমার্চ ছিল প্রকৃতপক্ষে নদী রক্ষার মধ্য দিয়ে মানবজীবন রক্ষার সংগ্রাম। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন আজও প্রাসঙ্গিক—কারণ নদী হারালে হারাবে জীবিকা, সংস্কৃতি এবং জাতীয় ভবিষ্যৎ।
বক্তারা বলেন, ভাসানীর রাজনীতি কেবল নির্বাচন নয়, তিনি সমাজ-প্রকৃতি-মানুষের মুক্তির রাজনীতি করেছেন। তাঁর হুকুমতে রব্বানিয়া আদর্শে তিনি পরিবেশ রক্ষা এবং জনগণের স্বার্থে সাম্রাজ্যবাদী-পুঁজিবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন।
আলোচনা সভা থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আহ্বান জানানো হয়, ভাসানীর স্বপ্ন বাস্তবায়নের লড়াইয়ে নিজেদের যুক্ত করে নদী রক্ষা আন্দোলনকে বেগবান করতে। নদী রক্ষায় রাষ্ট্রীয় নীতিমালায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিও তোলা হয়।
সভাশেষে এক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়, যেখানে সাংস্কৃতিক ইউনিয়নের শিল্পীসহ জাতীয় শিল্পী পথিক নবী মনোমুগ্ধকর লোকগানের পরিবেশনা করেন। গান ও সুরের মাধ্যমে তাঁরা নদী, প্রকৃতি ও মানুষের জীবনের অন্তর্নিহিত সম্পর্ক তুলে ধরেন, যা পুরো আয়োজনের তাৎপর্যকে আরও গভীর করে তোলে।