17/05/2026
ধন্যবাদ অপরাধ বিচিত্রকে
একটি গাছ লাগান, একটি প্রাণ বাঁচান, স্লোগানে আল ফীদ্ দ্বীন ফাউন্ডেশনের বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
নিজস্ব প্রতিবেদক: “একটি গাছ লাগান, একটি প্রাণ বাঁচান, একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ুন” এই মানবিক ও পরিবেশবান্ধব স্লোগানকে সামনে রেখে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশব্যাপী সবুজায়ন কার্যক্রম জোরদার করতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সামাজিক সংগঠন আল ফীদ্ দ্বীন ফাউন্ডেশন। পরিবেশ দূষণ কমানো, বিশুদ্ধ অক্সিজেন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটির এ ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
রবিবার (১৭ মে) সকাল ৮টায় কেরানীগঞ্জ উপজেলার আটি স্কুল জয়নগর মাঠ ও খালপাড় এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। চলতি বছরে অন্তত এক হাজার গাছ রোপণের লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শুরু করেছে সংগঠনটি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, সামাজিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পুরো আয়োজনটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, নদীভাঙন, খরা এবং পরিবেশ দূষণের কারণে মানুষের জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়ছে।
এসব সমস্যা মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, “আজ একটি গাছ লাগানো মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলা। পরিবেশ রক্ষায় শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করলে হবে না, সমাজের প্রতিটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, আল ফীদ্ দ্বীন ফাউন্ডেশন শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গাছ লাগানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ সংরক্ষণ, নদী ও খালপাড়ের মাটিক্ষয় রোধ এবং বিশুদ্ধ অক্সিজেন নিশ্চিত করতে পরিকল্পিতভাবে বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে নদী, খাল ও পুকুরপাড়ে গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভাঙন কমানো সম্ভব হয়।
সংগঠনের মহাসচিব মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন বলেন, ইসলামে বৃক্ষরোপণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি গাছ মানুষের পাশাপাশি পশুপাখিরও উপকারে আসে। তাই বৃক্ষরোপণ শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি ইবাদতও বটে। তিনি বলেন, “ইসলামে বৃক্ষরোপণকে সদাকায়ে জারিয়াহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একটি ফলদ গাছ থেকে মানুষ, পাখি কিংবা কোনো প্রাণী উপকৃত হলে গাছ রোপণকারী ব্যক্তি অব্যাহতভাবে সওয়াব লাভ করেন।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে পরিবেশ সচেতন করে গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে তাদের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে শিশু-কিশোরদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ তৈরি হবে।
সংগঠনের সদস্য রেজয়ান গাজী বলেন, প্রকল্পের আওতায় শুধুমাত্র চারা বিতরণ নয়, বরং সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতেও বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মসজিদের ইমাম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নদী, খাল ও পুকুরপাড়ে গাছ লাগানোর জন্য মানুষকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি মাটিক্ষয় রোধ করা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, “আমরা চাই প্রতিটি পরিবার অন্তত একটি করে গাছ লাগাক এবং সেটির যত্ন নিক। একটি গাছ বড় হতে সময় লাগে, কিন্তু সেটির সুফল সমাজ বহু বছর ভোগ করে। তাই এখন থেকেই সবাইকে পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল হতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, বনভূমি উজাড় এবং পরিবেশ দূষণের কারণে দেশে তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শহরাঞ্চলে বিশুদ্ধ বাতাসের সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ব্যাপকভাবে গাছ লাগানো এবং বিদ্যমান বৃক্ষ সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। বক্তারা সাধারণ মানুষকে নিজেদের বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তার পাশে এবং খালি জায়গায় গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পরে উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা একযোগে মাঠ ও খালপাড় এলাকায় গাছের চারা রোপণ করেন। পুরো আয়োজনজুড়ে পরিবেশ সচেতনতা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের বার্তা ফুটে ওঠে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি বর্ষা মৌসুমসহ সারা বছরব্যাপী দেশজুড়ে এ সবুজায়ন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে আরও বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. শাহীন, মো. মহিউদ্দিন, আফরিন, সাজ্জাদ হোসেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা।