16/06/2026
“সোমা স্কুলে প্রথম দিন যেতে ভয় পায়”- এমন একটি গল্পের লাইন বাংলাদেশের অধিকাংশ শিশু পড়তে পারে। কিন্তু কেন সোমা ভয় পাচ্ছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না অনেকেই।
বাংলাদেশে ৯৫–১০০% পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির শিশু বাংলা অক্ষর ও শব্দ পড়তে পারলেও, গল্প পড়ে তার অর্থ ও প্রেক্ষাপট বুঝে সঠিক উত্তর দেওয়ার হার পঞ্চম শ্রেণিতে নেমে আসে মাত্র ৩৮ শতাংশে। এই বাস্তবতা তুলে ধরে আজ যশোরে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক আলাপনের সূচনা করেন আইআইডি-এর নির্বাহী প্রধান সাঈদ আহমেদ।
তিনি জানান, বাংলাদেশের ৫–১৬ বছর বয়সী শিশুদের পড়া ও অঙ্ক বিষয়ে শেখার বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে খানা-ভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমে পরিচালিত ICAN-ICAR গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলোই আজকের আলোচনার ভিত্তি। যেই তথ্যগুলোর বেশিরভাগই ছিল শিশুদের শেখার দুঃখজনক বাস্তবতা।
যদিও অনুষ্ঠানের সকল আলাপ শেষে, প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ আশাবাদী কণ্ঠে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সাথে আলোচনা শেষ করেন। তিনি বলেন, “সর্বোচ্চ দেশপ্রেম হলো নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা। শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে আগে নিজের কাজটি ঠিকভাবে করলে সমাধান আসবেই।“ সাথে তিনি যোগ করেন যে, একজন শিক্ষক যখন পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন, তখন তিনিই নায়ক, তিনিই পরিচালক, তিনিই প্রযোজক।
পুরো আয়োজনজুড়ে অতিথি ও বক্তাদের আলোচনায় উঠে আসে, ঘন ঘন পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের সঙ্গে অনেক শিক্ষক এখনও পুরোপুরি খাপ খাইয়ে নিতে না পারার কথা, বছরে দীর্ঘ সময় বিদ্যালয় বন্ধ থাকা, সরকারি বিভিন্ন দায়িত্বে শিক্ষকদের ব্যস্ততা, লাইব্রেরিমুখী সংস্কৃতির হ্রাস এবং প্রাইভেট টিউশনের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতার মতো বিষয়।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষকদের জন্য আরও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক প্রশিক্ষণ, সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য পৃথক ক্লাস পিরিয়ড, শিশুদের লাইব্রেরিমুখী করে তোলা, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মানসিক প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং শিক্ষার প্রকৃত মানোন্নয়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা মনে করিয়ে দেন, শুধু অন্যকে সচেতন করাই যথেষ্ট নয়- নিজের পরিবার, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশ থেকেই পরিবর্তনের উদ্যোগ শুরু করতে হবে।
উত্থাপিত এসব সমস্যা, সুপারিশ ও সম্ভাব্য সমাধান সম্পর্কে আপনাদের আরো বিস্তারিতভাবে জানাবে আইআইডি।