11/09/2026
অটিজম ম্যানেজমেন্টে যখন খাবার নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আসে, তখন একটি খুব সাধারণ প্রশ্ন সামনে আসে—খাবারের সঙ্গে অটিজমের সম্পর্ক কী?
খাবার অটিজমের কোনো চিকিৎসা বা কিউর নয়। কিন্তু একটি শিশুর প্রতিদিনের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর খাবারের প্রভাব আছে, আর সেই জায়গাতেই খাদ্য ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
অটিজম আছে এমন অনেক শিশুর মধ্যেই মনোযোগ ধরে রাখতে কষ্ট, অতিরিক্ত চঞ্চলতা, ঘুমের সমস্যা, সেন্সরি সংবেদনশীলতা বা হজমজনিত সমস্যা দেখা যায়। এখন একটি শিশু যদি এমনিতেই মনোযোগ ধরে রাখতে কষ্ট পায়, তার সঙ্গে যদি অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়—তাহলে তার শেখা বা থেরাপিতে অংশ নেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে। আবার যে শিশুর পেটের সমস্যা আছে, সে যদি এমন খাবার খায় যা তার অস্বস্তি আরও বাড়ায়, তাহলে তার স্বাভাবিক আচরণ ও দৈনন্দিন কাজেও তার প্রভাব পড়বে।
এই কারণেই আমরা খাবারকে শুধু “কী খাচ্ছে” সেই দিক থেকে দেখি না; বরং খাবারটি শিশুর শরীর ও দৈনন্দিন কার্যক্ষমতাকে কীভাবে প্রভাবিত করছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
অতিরিক্ত চিনি, কোমল পানীয়, ক্যান্ডি, চকলেট, চিপস, জাঙ্ক ফুড এবং বেশি প্রক্রিয়াজাত খাবার—যেমন ইনস্ট্যান্ট নুডলস, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, ফ্লেভারড সিরিয়াল, প্রসেসড মাংস, ফ্রোজেন ফাস্ট ফুড, ক্রিম বিস্কুট ও বিভিন্ন ধরনের প্যাকেটজাত মিষ্টি খাবার—নিয়মিত খাদ্যতালিকায় থাকলে অনেক শিশুর ক্ষেত্রে ঘুম, ক্ষুধা, অস্থিরতা বা হজমের সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষ করে চকলেট ও কিছু পানীয়তে থাকা ক্যাফেইন স্নায়ুতন্ত্রকে আরও উদ্দীপিত করতে পারে। তাই এগুলোকে ছোট বিষয় হিসেবে না দেখে সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
একইভাবে, গাট বা হজমের স্বাস্থ্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস, পেটব্যথা বা কোনো খাবার সহ্য না হওয়ার সমস্যা থাকলে একটি শিশু অনেক সময় তার অস্বস্তি ভাষায় প্রকাশ করতে পারে না। তখন আমরা হয়তো শুধু তার কান্না, বিরক্তি, অস্থিরতা, ঘুমের সমস্যা বা আচরণের পরিবর্তনটাই দেখি।
তাই খাদ্য ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য অটিজম “সারানো” নয়। উদ্দেশ্য হলো শিশুর শরীরকে যতটা সম্ভব স্বস্তিতে ও স্থিতিশীল রাখা, যাতে সে শেখা, যোগাযোগ, আচরণ নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন ইন্টারভেনশনে ভালোভাবে অংশ নিতে পারে।
দৈনন্দিন খাবারে তাই ফল, শাকসবজি, মাছ, ডিম, ডাল, ভাত, আটার রুটি, চিনি ছাড়া টক দই ও পর্যাপ্ত পানি রাখার চেষ্টা করুন। আর অতিরিক্ত চিনি, জাঙ্ক ফুড, কোমল পানীয়, চকলেট ও বেশি প্রক্রিয়াজাত খাবারকে যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
খাবার অটিজমের কিউর নয়—কিন্তু সঠিক খাদ্যাভ্যাস অটিজম ম্যানেজমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সচেতনতায় — Creative Developmental School & Therapy Center
📍 House #36 (Nur Monjil), Road #12, Shekhertek, Mohammadpur Pisciculture Housing Society, Dhaka-1207
📞 01706-027127