09/10/2026
১৮ জুলাই'২৪, আনুমানিক বিকাল ৫.৩০ মিনিট।
অনেক ক্লান্ত ছিলাম, বসা থেকে উঠেছি মাত্রই। একটু সামনের দিকে আগাতেই গুলির আওয়াজ শুনতে পাই।
সারাদিন অনেক গুলির আওয়াজ শুনেছি কিন্তু এরকম আওয়াজ কানে বাজেনি।
এই আওয়াজটা অনেকটা পাতলা ছিল। শব্দটা শুনেই বোঝা যাচ্ছিল যে এটা প্রাণ নেয়ার মত একেকটা গুলি। তখন আমার সহপাঠীরা বলল “এখানে থাকা যাবে না চল আমরা ব্যাক করি।”
আমি যখন পিছন ঘুরতে যাব, ঠিক এই মুহূর্তে আমার কানে শব্দটা বাজলো। ততক্ষণে বুঝলাম আমার বুকের নিচে সুইয়ের মত কি যেন একটা ঢুকে গেল। সাথে সাথে আমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসতেছিল। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার কারণে কথাও বলতে পারতেছিলাম না।
আমার সাথে সিফাতউল্লাহ ছিলো, ও আমাকে জিজ্ঞেস করলো “তোমার কি গুলি লেগেছে?” আমি তখন কথা বলতে পারতেছিলাম না। কোনভাবে মাথা নেড়ে তাকে বোঝালাম “হ্যাঁ আমার গুলি লেগেছে।”
এর আগে প্রথম গুলিটা লাগে আমার হাতে, আমি টের পাই নাই। গুলিটা হাতের এক পাশ দিয়ে ঢুকে অনেকখানি মাংস নিয়ে অন্যপাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে।
দ্বিতীয়টা টের পেয়েছিলাম অবশ্য, বুকের নিচে লেগেছিল। আমি দাঁড়িয়েছিলাম তখনও, পরে যাইনি। আসলে আল্লাহতালা হয়তো আমাকে বাঁচায় রাখবেন এই কারণেই হয়তো ঐ শক্তি দিয়েছিলেন।
সবশেষে আমি এবং আমাদের সহযোদ্ধা আহত ও শহীদ ভাই বোনদের উপর যে অমানবিক অত্যাচারের স্ট্রিম রোলার চালানো হয়েছে, তার যথোপযুক্ত বিচার এই বাংলার মাটিতে দেখে যেতে চাই।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আমার এ দাবি থাকবে যে, আপনারা থাকাকালীন সময়েই জুলাই আন্দোলন ২০২৪ এর গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করে যাবেন।
পাশাপাশি আওয়ামী লীগসহ যারা এই গণহত্যায় অংশ নিয়েছে তাদের অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষিদ্ধ করে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।
আমি এই আশা আপনার কাছে রাখবো।
লেখা: জুলাই বিপ্লবে আহত গাজী মো: জুনাইদুর রহমান।
শিক্ষার্থী: তা'মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা টঙ্গী, গাজীপুর।
#উত্তরারগণহত্যা
#গণহত্যার_বিচার_কর