28/08/2026
Jemima Goldsmith, former wife of Imran Khan, publicly urged UK Prime Minister Andy Burnham and Foreign Secretary Ed Miliband to intervene regarding the prison treatment and human rights of her ex-husband, former Pakistani Prime Minister Imran Khan.
ইমরান খানের প্রাক্তন স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের প্রতি প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন যেন তাঁরা তাঁর প্রাক্তন স্বামী—পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান—এর কারাবাসকালীন আচরণ ও মানবাধিকারের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন।
[সাবেক স্বামী ইমরান খানের অধিকার রক্ষায় যুক্তরাজ্যের হস্তক্ষেপ চান জেমিমা]
দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:৫৬ | আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৪২
Jemima Goldsmith, Imran Khan's former wife, has called on the British government to intervene over the former prime minister’s treatment in Pakistan, urging it to uphold his fundamental rights in accordance with directives issued by the Supreme Court of Pakistan.
On August 18, the SC ordered the government to transfer Imran to Shifa International Hospital for examination and treatment by a multidisciplinary medical board. The government instead sent him to the Pakistan Institute of Medical Sciences (PIMS) for treatment, drawing backlash from the Pakistan Tehreek-e-Insaf (PTI) leadership and eventually leading to the filing of a contempt of court petition in the apex court on Saturday.
In a post on X on Monday, Jemima demanded that "Pakistan comply with its own Supreme Court; restore Imran Khan’s medical access, his right to see his family, end his prolonged isolation and uphold his fundamental human rights.”
She directly addressed Prime Minister Andy Burnham and ex-foreign secretary David Lammy, asking: “How much longer will Britain remain silent?” She alleged that Imran, who has been imprisoned for three years, had been subjected to prolonged isolation and denied regular contact with his family, as well as access to books, lawyers and doctors.
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং তার চিকিৎসা ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তার সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ।
সোমবার, ২৪ আগস্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেমিমা বলেন, পাকিস্তান সরকারকে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। ইমরানের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং দীর্ঘদিনের একাকী বন্দিত্বের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান তিনি।
১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেখানে একটি চিকিৎসা বোর্ডের মাধ্যমে তার চিকিৎসার কথাও বলা হয়েছিল। তবে তাকে শিফা হাসপাতালে না নিয়ে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাকে সুস্থ ঘোষণা করলে আবার আদিয়ালা কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতারা প্রতিক্রিয়া জানান। গত শনিবার সরকারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার পিটিশনও দায়ের করে দলটি।
জেমিমা যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘যুক্তরাজ্য আর কত দিন নীরব থাকবে?’
ইমরানকে প্রায় তিন বছর ধরে কারাগারে একাকী রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জেমিমা। তার পরিবারের সদস্যদের প্রায় ১০ মাস ধরে তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও জানান তিনি। আইনজীবী ও চিকিৎসকদের সঙ্গেও ইমরানের যোগাযোগ সীমিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
জেমিমা জাতিসংঘের নেলসন ম্যান্ডেলা বিধির কথাও উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, ওই বিধি অনুযায়ী টানা ১৫ দিনের বেশি একাকী বন্দিত্ব নিষিদ্ধ।
তিনি বলেন, ইমরানের চিকিৎসার বিষয়ে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করেছেন। আদালত তাকে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা, ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ, পরিবারের নিয়মিত সাক্ষাৎ এবং দুই ছেলের সঙ্গে সপ্তাহে দুবার ফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এসব নির্দেশ অমান্য করা হচ্ছে।
জেমিমার মতে, বিষয়টি এখন আর শুধু পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তাই এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের প্রকাশ্যে ও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত।
ইমরানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘ সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেছেন জেমিমা। তিনি বলেন, ইমরান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ছিলেন এবং কয়েক বছর ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে খেলেছেন। পাকিস্তানে প্রথম বিনা মূল্যের ক্যানসার হাসপাতাল ও একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মতো জনকল্যাণমূলক কাজের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের দুই ছেলে সুলায়মান ও কাসিমের পক্ষ থেকেও যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানান জেমিমা। তিনি বলেন, হাজার হাজার মাইল দূর থেকে তারা তাদের বাবার স্বাস্থ্যের অবনতি দেখছেন।
জেমিমার অভিযোগ, তার দুই ছেলেকে ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তাদের ভিসা দেওয়া হয়নি এবং পাকিস্তান সরকারের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে তাদের গ্রেপ্তারের হুমকিও দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বাবার সঙ্গে নিয়মিত ফোনে কথা বলার সুযোগও তাদের দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জেমিমা আরও বলেন, যুক্তরাজ্যের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি তাকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন, তার দুই ছেলে বাবাকে দেখতে পাকিস্তানে গেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হলেও যুক্তরাজ্য হস্তক্ষেপ করবে না।
ইমরানের ছেলেরা এর আগে জানিয়েছিলেন, ২০২২ সালের নভেম্বরের পর থেকে তারা বাবাকে দেখেননি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য ভিসার আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর পাননি।
আগস্টের শুরুতে কাসিম খান ও সুলায়মান খান সিএনএনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তাদের বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে পরিবারের সদস্য, আইনজীবী ও চিকিৎসকদের ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।
তবে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় কাসিম ও সুলায়মানের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, তাদের দুজনেরই বিদেশি পাকিস্তানিদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে, যার মাধ্যমে ভিসা ছাড়াই পাকিস্তানে প্রবেশ করা যায়। তবে ইমরানের ছেলেরা বলেছেন, তাদের পরিচয়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং নবায়ন করা হয়নি।
ইমরান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন। বর্তমানে ১৯ কোটি পাউন্ডের দুর্নীতির মামলায় তিনি আদিয়ালা কারাগারে সাজা ভোগ করছেন। ২০২৩ সালের ৯ মে সংঘটিত বিক্ষোভের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন।
এর আগে গত ২৬ মার্চ জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে কাসিম খান তার বাবার মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইমরানকে দীর্ঘদিন ধরে একাকী বন্দিত্বে রাখা হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।
[ইমরান খান ও তার সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ। ছবি: রয়টার্স]