26/04/2026
🔲 মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উপর দরূদ পাঠের ১০ টি বিস্ময়কর ফজিলত।
রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি সলাত (দরূদ) ও সালাম পেশ করা সম্পর্কে আল্লাহ নির্দেশ দিয়ে বলেন,
إِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّوْنَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا صَلُّوْا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوْا تَسْلِيْماً، ‘
নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তার ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি সলাত প্রেরণ করেন। (অতএব) হে মুমিনগণ! তোমরা তার প্রতি সালাত (দরূদ) ও সালাম প্রেরণ কর’। (আহযাব ৩৩/৫৬)।
১. আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত, গুনাহ মাফ ও মর্যাদা লাভ হয়:
আনাস ইব্ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করবে আল্লাহ তা’আলা তাঁর উপর দশবার রহমত নাযিল করবেন, তাঁর দশটি গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে এবং তাঁর জন্য দশটি মর্যাদা উন্নীত করা হবে।
✪ সুনানে আন-নাসায়ী-১২৯৭
✔ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।
রাসূল (ছাঃ)-এর প্রতি দরূদ পাঠের সাথে যদি সালাম প্রদান করা হয় তাহ’লে আল্লাহর পক্ষ থেকে দশটি শান্তি অবতীর্ণ হয়।[মিশকাত হা/৯২৮।] এটা আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে বান্দাদের জন্য রহমত। তিনি বান্দার সকল ভাল কাজকেই ১০গুণ করে বৃদ্ধি করেন (আন‘আম ৬/১৬০)।
২. জিব্রাইল (আঃ) সহ ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করে :
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর উপর একবার সালাত (দরূদ) পড়ে, আল্লাহর ফেরেশতাগণ ঐ বান্দার জন্য ৭০ বার (কল্যাণের) দোআ করেন। অতএব কোনো বান্দার ইচ্ছা-সে রাসূলের উপর সালাত কম পাঠ করবে অথবা বেশি পাঠ করবে।
✪ মুসনাদ আহমাদ,হা ৬৬০৫(মাকতাবাশামেলা)
✔ ইমাম হাফেয মুনযিরী, হাফেয হায়সামী, সাখাওয়ী ও আহমাদ শাকের হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।
আব্দুল্লাহ বিন আমের বিন রাবিয়া তার পিতা (আমের) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে মিম্বারে বক্তব্য দিতে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি, "যে ব্যক্তি আমার প্রতি দরুদ পেশ করবে ফেরেশতা মণ্ডলী তার জন্য দুয়া করবে। তারা ততক্ষণ পর্যন্ত দুয়া করতে থাকবে যতক্ষণ সে দরুদ পেশ করতে থাকে। সুতরাং কম হোক বেশী হোক যা ইচ্ছা সে দরুদ পেশ করতে পারে।"
✪ মুসনাদ তায়ালুসী, হাদিস নং ১২২৫,
✪ সহীহুল জামে হাদিস নং ৫৭৪৪
✔ হাদীসের মানঃ হাসান, আলবানী।
আবূ তালহা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন (আমাদের কাছে) আগমন করলেন। তখন তাঁর চেহারায় প্রফুল্লতা দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল। তিনি বললেন, জিবরাঈল (আঃ) আমার কাছে এসে বলল, “ইয়া মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনাকে কি এই সংবাদ খুশি করে না যে, আপনার উম্মতের মধ্য থেকে যদি কোন ব্যক্তি আপনার উপর একবার দরূদ পাঠ করে আমি তাঁর দশবার মাগফিরাত চাইব, আর কেউ যদি আপনাকে একবার সালাম পাঠায় আমি তার প্রতি দশবার সালাম পাঠাব।”
✪ সুনানে আন-নাসায়ী-১২৯৫
✔ হাদিসের মান: হাসান হাদিস।
৩. মুহাম্মাদ (ﷺ) এর শাফা‘আত লাভ করবে :
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তোমরা মুয়ায্যিনের আযান শুনলে উত্তরে সে শব্দগুলোরই পুনরাবৃত্তি করবে। আযান শেষে আমার উপর দরূদ পাঠ করবে। কারণ যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করবে (এর পরিবর্তে) আল্লাহ তার উপর দশবার রাহমাত বর্ষণ করবেন। এরপর আমার জন্য আল্লাহর কাছে ‘ওয়াসীলা’ প্রার্থনা করবে। ‘ওয়াসীলা’ হল জান্নাতের সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থান, যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে শুধু একজন পাবেন। আর আমার আশা এ বান্দা আমিই হব। তাই যে ব্যক্তি আমার জন্য ‘ওয়াসীলা’র দু’আ করবে, ক্বিয়ামাতের দিন তার জন্য সুপারিশ করা আমার জন ওয়াজিব হয়ে পড়বে।
ফুটনোট: সহীহ :মুসলিম ৩৮৪, আবূ দাঊদ ৫২৩, নাসায়ী ৬৭৮,তিরমিযী ৩৬১৪,সহীহ ইবনু হিব্বান ১৬৯০,ইরওয়া ২৪২,সহীহ আল জামি‘ ৬১৩।
✪ মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ৬৫৭
✔ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।
৪.মুহাম্মাদ (ﷺ) এর নিকটবর্তী হবেন।
রাসূল (ছাঃ) বলেন,
فَمَنْ كاَنَ أَكْثَرُهُمْ عَلَيَّ صَلَاةً كَانَ أَقْرَبُهُمْ مِنِّي مَنْزِلَةً،
যে ব্যক্তি যত বেশী আমার প্রতি দরূদ পাঠ করবে, সে ব্যক্তি (জান্নাতে) মর্যাদায় তত বেশী আমার নিকটবর্তী হবে’।
✪ বায়হাক্বী; আস-সুনানুল কুবরা ৩/২৪৯;
✪ ছহীহ তারগীব হা/১৬৭৩।
৫.ফেরেশতারা রাসূল (ﷺ) এর কাছে দরূদ পৌঁছান :
আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ তা’আলার কতক ফেরেশতা এমনো রয়েছেন, যাঁরা পৃথিবীতে বিচরণ করে বেড়ায়, তাঁরা আমার উম্মতের সালাম আমার কাছে পৌঁছিয়ে থাকেন।
✪ সুনানে আন-নাসায়ী-১২৮২
✔ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা তোমাদের ঘরকে কবরস্থান বানিও না, আর আমার কবরকেও উৎসবস্থলে পরিণত কর না। আমার প্রতি তোমরা দরূদ পাঠ করবে। তোমাদের দরূদ নিশ্চয়ই আমার কাছে পৌছে, তোমরা যেখানেই থাক না কেন।
✪ আবূ দাঊদ ২০৪২,
✪ সহীহ আল জামি‘ ৭২২৬।
✪ মিশকাতুল মাসাবিহ- ৯২৬
✔ হাদিসের মান: সহিহ লিগাইরিহি।
৬. রাসূল (ﷺ) কর্তৃক সালামের জবাব দান :
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কেউ আমার উপর সালাম পেশ করলে আল্লাহ আমার ‘রূহ’ ফিরিয়ে দেন এবং আমি তার সালামের জবাব দেই।
✪ সুনানে আবু দাউদ- ২০৪১
হাদিসের মান: হাসান হাদিস।
৭. দরূদ পাঠের মাধ্যমে চিন্তা দূর হয় :
উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে গিয়ে আরয করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনার উপর অনেক বেশী দরূদ পাঠ করি। আপনি আমাকে বলে দিন আমি (দুআর জন্য যতটুকু সময় বরাদ্দ করে রেখেছি তার) কতটুকু সময় আপনার উপর দরূদ পাঠাবার জন্য নির্দিষ্ট করব? উত্তরে নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমার মন যা চায়। আমি আরয করলাম, যদি এক তৃতীয়াংশ করি? নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমার মন যা চায়, যদি আরো বেশী কর তাহলে তা তোমার জন্য কল্যাণকর। আমি আরয করলাম, যদি অর্ধেক সময় নির্ধারণ করি? নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমার মন যতটুকু চায় কর। যদি আরো বেশী নির্ধারণ কর তাহলে তোমার জন্যই ভাল। আমি বললাম, যদি দুই-তৃতীয়াংশ করি। নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমার মন যা চায়। যদি আরো বেশি নির্ধারণ কর তোমার জন্যই কল্যাণকর। আমি আরয করলাম, তাহলে (আমি আমার দুআর সবটুকু সবসময়ই আপনার উপর দরূদ পড়ার কাজে নির্দিষ্ট করে দেব)। নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তবে এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে, তোমার দীন-দুনিয়ার মকসুদ পূর্ণ হবে এবং তোমার গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।
✪ তিরমিযী ২৪৫৭,
✪ সহীহ আত্ তারগীব ১৬৭০।
✪ মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ৯২৯
✔ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।
৮. দরূদ পাঠের দ্বারা অন্তর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন হয় :
রাসূল (ছাঃ)-এর উপরে দরূদ পাঠ করলে অন্তর পাপ-পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন,
صَلُّوا عَلَيَّ، فَإِنَّ صَلاَتَكُمْ عَلَيَّ زَكَاةٌ لَكُمْ، وَسَلُوا اللهَ لِي الْوَسِيْلَةَ
তোমরা আমার প্রতি দরূদ পাঠ কর। নিশ্চয়ই আমার উপর তোমাদের দরূদ তোমাদের (অন্তরের) পবিত্রতা। আর তোমরা আমার জন্য আল্লাহর নিকট ‘ওয়াসীলা’ চাও’।
✪ সিলসিলা ছহীহা হা/৩২৬৮।
৯. দরুদ পাঠের মাধ্যমে দো‘আ কবুল হয় :
✪ ফুযালাহ্ ইবনু ‘উবায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপবিষ্ট ছিলেন। তখন একজন লোক এলেন। তিনি সলাত পড়লেন এবং এই দুআ পড়লেন “আল্লাহুম্মাগফিরলী ওয়ারহামনী” (অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা কর ও আমার উপর রহম কর)। এ কথা শুনে নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে সলাত আদায়কারী! তুমি তো নিয়ম ভঙ্গ করে বড্ড তাড়াহুড়া করলে। তারপর তিনি বললেন, তুমি সালাম শেষ করে দুআর জন্য বসবে। আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করবে। আমার উপর দরূদ পড়। তারপর তুমি যা চাও আল্লাহর কাছে দুআ করবে। ফুযালাহ (রাঃ) বলেন, এরপর আর এক ব্যক্তি এলো সলাত আদায় করলো। সে সলাত শেষে আল্লাহর প্রশংসা করল, নাবী করীমের উপর দরূদ পাঠ করল। নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে সলাত আদায়কারী! আল্লাহর কাছে দুআও কর। দুআ কবূল করা হবে।
✪ তিরমিযী ৩৪৭৬,
✪ সহীহ আত্ তারগীব ১৬৪৩,
✪ নাসায়ী ১/১৮৯,
✪ আহমাদ ৬/১৮।
✪ মিশকাতুল মাসাবিহ-৯৩০
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।
আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি সলাত আদায় করছিলাম। নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও উপস্থিত ছিলেন। তাঁর কাছে ছিলেন আবূ বাকর ও উমার (রাঃ)। সলাত শেষে আমি যখন বসলাম আল্লাহ তা’আলার প্রশংসা করলাম, এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপর দরূদ পাঠ করলাম। তারপর আমি আমার নিজের জন্য দুআ করতে লাগলাম। নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, চাও, তোমাকে দেয়া হবে। চাও, তোমাকে দেয়া হবে। [১]
✪ তিরমিযী ৫৯৩।
✪ মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ৯৩১
হাদিসের মান: হাসান সহিহ।
১০. বিপদগ্রস্ত ও আশাহত হওয়া থেকে রক্ষা :
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যে সমস্ত লোক কোন দরবারে বসেছে অথচ তারা আল্লাহ তা‘আলার যিক্র করেনি এবং তাদের নাবীর প্রতি দরূদও পড়েনি, তারা বিপদগ্রস্ত ও আশাহত হবে। আল্লাহ তা‘আলা চাইলে তাদেরকে শাস্তিও দিতে পারেন কিংবা মাফও করতে পারেন।
✪ সহীহাহ্ (হাঃ ৭৪)
✪ জামে' আত-তিরমিজি-৩৩৮০
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।
✍️ রাজিব রেজা।
🧾 মাস্টার্স অধ্যয়নরত, নেত্রকোনা সরকারি কলেজ,নেত্রকোনা।
===========✪✪✪✪✪==============
(⊕) কপি ও শেয়ার করুনঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি ভাল কাজের পথ দেখাবে, সে তার প্রতি আমলকারীর সমান নেকী পাবে।’’ ( সহীহ মুসলিম ৪৭৯৩, তিরমিযী ২৬৭১, আবূ দাউদ ৫১২৯ মান: সহীহ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক সঠিক পথের দিকে ডাকে তার জন্য সে পথের অনুসারীদের প্রতিদানের সমান প্রতিদান রয়েছে। এতে তাদের প্রতিদান হতে সামান্য ঘাটতি হবে না। (সহীহ মুসলিম--৬৬৯৭,তিরমিযী ২৬৭৪, আবূ দাঊদ ৪৬০৯, দারিমী ৫১৩,
ইবনে মাজাহ-২০৬ মান: সহীহ) (কপিরাইট)।