05/06/2026
“বৃদ্ধাশ্রম চলচ্চিত্র নিয়ে কিছু কথা“ !😢!
“বৃদ্ধাশ্রম” চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছিলাম বাংলাদেশের আপামর মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে। আমার বিশ্বাস ছিল—জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কোনো মা-বাবা যেন অবহেলা, অপমান কিংবা একাকীত্বের শিকার না হন। আমরা যত ব্যস্তই হই না কেন, যাঁদের ভালোবাসা, ত্যাগ ও সংগ্রামের ঋণে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছি, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা, যত্ন ও ভালোবাসা প্রদর্শন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
সিনেমাটি মুক্তির সময় সেন্সর বোর্ড এবং প্রেক্ষাগৃহের দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিল। আমার ইচ্ছা ছিল চলচ্চিত্রটি সারা বাংলাদেশে বিনামূল্যে প্রদর্শন করে মানুষের মধ্যে আরও বেশি সচেতনতা সৃষ্টি করা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার অভাবে সেই স্বপ্ন আর বাস্তবায়িত হয়নি।
আজও যখন পত্রিকার পাতায় কিংবা সংবাদমাধ্যমে বৃদ্ধ মা-বাবার প্রতি অবহেলা, নির্যাতন ও অসম্মানের খবর দেখি, তখন হৃদয় গভীরভাবে ব্যথিত হয়। মনে হয়, এই কারণেই তো “বৃদ্ধাশ্রম” নির্মাণ করেছিলাম—যেন সমাজের প্রতিটি মানুষ উপলব্ধি করতে শেখে যে মা-বাবার প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি আমাদের মানবিক কর্তব্য।
অনেক সময় বাংলাদেশে ভালো উদ্যোগগুলো যথাযথ সহযোগিতা, পৃষ্ঠপোষকতা কিংবা কার্যকর বাস্তবায়নের অভাবে থেমে যায়। অথচ সমাজ পরিবর্তনের জন্য এমন উদ্যোগগুলোর আরও বিস্তার প্রয়োজন। তবুও আমি আশাবাদী। কারণ পরিবর্তন একদিনে আসে না; সচেতনতার প্রতিটি ছোট প্রচেষ্টাই ভবিষ্যতের সুন্দর সমাজ গঠনের ভিত্তি তৈরি করে।
প্রার্থনা করি, আমাদের সমাজে এমন একটি সময় আসুক, যখন কোনো মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে নয়, সন্তানের ভালোবাসা ও সম্মানের আশ্রয়ে জীবন কাটাতে হবে। তখনই আমাদের মানবিকতার প্রকৃত বিজয় হবে।
— এস ডি রুবেল
সঙ্গীত শিল্পী, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অভিনেতা
বাংলাদেশ