22/04/2026
আপনি জানেন কি?
বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে সুদ বা মুনাফার হিসাব নির্ণয়ে ২ধরনের পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে – ফ্ল্যাট মেথড (Flat Method of interest calculation) বা সরল পদ্ধতি এবং ডিক্লাইন মেথড (Decline Method) বা রিডিউসিং ব্যালান্স মেথড (Reducing Balance Method) বা ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতি। সহজভাবে বুঝতে পারা বা হিসাবের সুবিধার কারনে এখনো বেশিরভাগ ক্ষুদ্রঋণের সুদের হিসাব সরল পদ্ধতিতে নির্ণয় করা হয়।
ক্রমহ্রাসমান (Decline Method) না সরল পদ্ধতি (Flat Method) কোন সুদহার আপনার সংস্থার জন্য অধিকতর লাভজনক?
সাধারণ আর দশটা পণ্যের মতো অর্থও একধরনের পণ্য যখন তা ধার হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে এর মূল্য নির্ধারিত হয় সুদের হার বা মুনাফার হার-এর মাধ্যমে। যেমন ধরুন, অর্থ বা টাকার স্বল্পতার সময় আপনার কোনো এক প্রয়োজনে যদি ব্যাংক বা অন্যকোন অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠানে ঋণ করতে যান, দেখবেন যে তাদের ঋণের হার সেসময়ে তুলনামূলকভাবে বেশী থাকে। অপরদিকে, অর্থের প্রাচুর্যের সময় সুদহারও কমতে থাকে। এক্ষেত্রে বাজারে চাহিদা ও সরবরাহ’ই মূল চালিকাশক্তি হিসাবে অর্থের মূল্য নির্ধারণ করে থাকে, সুদহারের মধ্য দিয়ে।
তফাৎগুলি কি কি?
সাশ্রয়ী (Cost Effectiveness):
ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতি: ডিক্লাইন ব্যালান্স বা ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে কেবলমাত্র অনাদায়ী বা অপরিশোধিত ঋণস্থিতি বা ব্যালন্সের উপর সুদ হিসাব করা হয়। যার কারনে, ঋণের কিস্তি পরিশোধের সাথে সাথে পর্যায়ক্রমে ঋণের (আসল) পরিমান কমতে থাকে এবং উক্ত হ্রাসপ্রাপ্ত ঋণের উপর সুদের পরিমানও কমতে থাকে।
সরল পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে প্রথমেই ঋণের পুরো মেয়াদে কার্যরত ধরে নিয়ে ঋণের আসলের উপরে সুদের পরিমান বের করে নেয়া হয়, এবং উক্ত সুদকে কিস্তি সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে প্রতিকিস্তিতে তা সমভাবে বিতরণ (distribute) করা হয়। এক্ষেত্রে ঋণপরিশোধের সাথে ঋণব্যালান্স কমলেও সুদ পরিবর্তিত হয় না। ফলশ্রুতিতে, ঋণী ব্যক্তির সুদের খরচ (Effective Interest Rate) তুলনামূলকভাবে অনেক বেশী পড়ে যায়।
হিসাবের স্বচ্ছতা (Transparency):
অর্থ যখন ঋণ হিসাবে বিতরণ করা হয়, তখন ধরে নেয়া হয় তা একটি ‘পণ্য’, যার মূল্য নির্ধারিত হয় সুদ হিসাবের মাধ্যমে। ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে যে পরিমান অর্থ ঋণীর কাছে বর্তমানে অপরিশোধিত অবস্থায় রয়েছে, কেবলমাত্র সেটুকু’র উপর সুদ হিসাব করা হয়। ফলত: ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে ঋণের সুদ নির্ণয়করণ অধিকমাত্রায় ঋণকার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।
সরল পদ্ধতিতে সুদ নির্ণয় অনেকাংশে দ্বার্থ্যবোধক (deceptive)। সুদের হার দিয়ে মোট সুদের পরিমান নির্ণয় করার পরে, ঋণ পরিশোধের সাথে সাথে তা মোট সুদের উপর কোনোরকম প্রভাব তৈরী করতে পারে না, যা কিনা ঋণের খরচ বৃদ্ধি করে বহুলাংশে।
সাধারণ ভাবে বলা যায়, একই অংকের সুদহারের ক্ষেত্রে ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে যে পরিমান সুদ হিসাবভুক্ত হয়, সরল পদ্ধতিতে একজন ঋণীকে তার প্রায় দ্বিগুন সুদখরচ বহন করতে হবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মের প্রতিপালন:
বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণ এনজিওগুলি এমআরএ-এর গাইডলাইন অনুযায়ী ঋণকার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এক্ষেত্রে, এমআরএ কর্তৃক নির্ধারিত সুদের সর্বোচ্চ হার ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে বার্ষিক ২৪ শতাংশ।
সরল পদ্ধতিতে সুদহার কম দেখালেও সুদের লুকায়িত খরচ ঋণী ব্যক্তি’র জন্য অনেকক্ষেত্রেই অতিরিক্ত দায় হিসাবে পরিগণিত হতে পারে। যেকারনে, এমআরএ সরল পদ্ধতিতে ঋণের সুদ নির্ধারণে নীতিগতভাবে নিরুৎসাহিত করেছে।
আরও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুনঃ
https://swosti.net/bn/%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8-decline-method-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%b2-%e0%a6%aa%e0%a6%a6/