06/09/2026
পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ কী?
শিশুদের মধ্যে পুনরাবৃত্তিমূলক এবং সীমাবদ্ধ আচরণ সম্ভাব্য অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (ASD)-এর অন্যতম প্রধান লক্ষণ।
পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ” বলতে এমন অস্বাভাবিক আচরণকে বোঝায়, যার বৈশিষ্ট্য হলো পুনরাবৃত্তি, অনুপযুক্ত আচরণ, অনমনীয়তা এবং অভিযোজন ক্ষমতার অভাব। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আত্ম-আঘাতমূলক, আত্ম-উদ্দীপনামূলক, বাচনিক, পুনরাবৃত্তিমূলক এবং বাধ্যতামূলক কার্যকলাপ, যেগুলোর সবই গতানুগতিক শারীরিক আচরণ।
পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণের উদাহরণ
শিশুদের মধ্যে পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণের উদাহরণ অনেক, কিন্তু অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে বাবা-মায়েরা নিম্নলিখিত সাধারণ আচরণগুলো লক্ষ্য করতে পারেন:
সীমাবদ্ধ আচরণ
বারবার একই রকম নড়াচড়ায় এদিক-ওদিক পায়চারি করা
হাত নাড়ানো
ঘূর্ণন
শরীর দোলানো
দেয়ালে বা অন্য কোনো পৃষ্ঠে মাথা ঠোকা এবং অন্যান্য ধরনের আত্ম-আঘাতমূলক আচরণ।
অভিন্নতার উপর জোর
উপযুক্ত সামাজিক আচরণ শিখতে ও গ্রহণ করতে অক্ষমতা।
কখন আপনার উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত?
যখন পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠে, শিশুর শেখা বা ঘুমানোর ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে, মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটায়, শিশুর দৈনন্দিন কাজকর্মে হস্তক্ষেপ করে, অথবা শিশুর আচরণ ক্রমাগত অন্যদের জন্য সমস্যাজনক হয়ে ওঠে, তখন অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।
উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার সন্তান বাসায়/ক্লাসে মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে সারাক্ষণ এদিক-ওদিক পায়চারি করে বা হাত নাড়ায়, তবে এই আচরণটি সমস্যাজনক।
অটিস্টিক শিশুর দৈনন্দিন রুটিনে যেকোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটলে তা উদ্বেগের মতো অনুভূতি বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং এর ফলে কেবল পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণই নয়, বরং বিলম্বিত মেলডাউনও
দেখা দিতে পারে। যদি আমরা মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়ার কারণ বুঝতে পারি, তবে শিশুটির সম্ভাব্য উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত করার জন্য আমরা তাকে একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারি।
এছাড়াও, যখন কোনো শিশুর শরীর খারাপ থাকে কিন্তু সে তা প্রকাশ করতে বা বোঝাতে পারে না, তখন তার হতাশার কারণে বারবার একই ধরনের নড়াচড়া করতে দেখা যেতে পারে। তাই, প্রত্যেক বাবা-মায়ের উচিত তাদের সন্তানকে এবং তার মধ্যে দেখা যেতে পারে এমন সম্ভাব্য পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণগুলো পর্যবেক্ষণ করা।
পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণের ব্যবস্থাপনার কার্যকরী কৌশল
পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণের ক্ষেত্রে প্রতিটি শিশুর পরিস্থিতি ভিন্ন হয়, এবং সেই অনুযায়ী কিছু বিশেষ চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে, স্টিমিং নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার জন্য আপনি নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপও গ্রহণ করতে পারেন।
শিশুর চোখের/মুখোমুখি সমতলে গিয়ে কথা বলুন।
সহজ ও স্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করুন।
আপনার শিশুর আগ্রহ ও নেতৃত্ব অনুসরণ করুন।
ছবি, ভিজ্যুয়াল ও অঙ্গভঙ্গির ব্যবহার বাড়ান।
বেশি শুনুন, কম কথা বলুন।
দৈনন্দিন রুটিন ও কাঠামো
প্রতিদিন একটি পূর্বানুমানযোগ্য রুটিন অনুসরণ করুন।
ভিজ্যুয়াল শিডিউল ব্যবহার করুন।
এক কাজ থেকে অন্য কাজে যাওয়ার জন্য শিশুকে প্রস্তুত করুন।
পরিবর্তনের আগে শিশুকে সতর্ক করুন।
ঘুমানো ও জাগার সময় নিয়মিত রাখুন।
বড় কাজকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করুন।
খেলাধুলার মাধ্যমে শেখান।
পুনরাবৃত্তি, নিয়মিত অনুশীলন ও ইতিবাচক উৎসাহ দিন।
শিশুর শক্তি ও আগ্রহের জায়গাগুলোকে গুরুত্ব দিন।
প্রতিদিন জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অনুশীলন করান।
আচরণ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ
আচরণকে বিচার না করে তার কারণ বোঝার চেষ্টা করুন।
নিজে শান্ত থাকুন এবং শিশুকে শান্ত থাকার মডেল দেখান।
সম্ভব হলে শিশুকে বিভিন্ন বিকল্প থেকে পছন্দ করার সুযোগ দিন।
ইতিবাচক আচরণের জন্য ইতিবাচক উৎসাহ/পুরস্কার দিন।
অনুপযুক্ত আচরণের পরিবর্তে উপযুক্ত বিকল্প আচরণ শেখান।
সংবেদনশীলতা ও পরিবেশ
শিশুর সংবেদনশীল (Sensory) চাহিদা চিহ্নিত করুন।
শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করুন।
অতিরিক্ত শব্দ, আলো বা অন্যান্য সংবেদনশীল উদ্দীপনা কমিয়ে দিন।
প্রয়োজন অনুযায়ী Sensory tools ব্যবহার করুন।
শিশুর Sensory break নেওয়ার প্রয়োজনকে সম্মান করুন।
পরিবার ও সামাজিক জীবনে
ভাই-বোনদের সম্পৃক্ত করুন এবং পারিবারিক বন্ধন তৈরি করুন।
শিশুর সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর পরিকল্পনা করুন।