21/09/2025
আমাদের দেশে এখনও অনেক জায়গায় রক্ত সংরক্ষণের জন্য Domestic বা Coca-Cola টাইপের রেফ্রিজারেটর ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এসব ফ্রিজে যে সেন্সর থাকে তা মূলত cooling coil-এর কাছে বসানো থাকে। ফলে এগুলো আসলে ফ্রিজের ভেতরের বাতাসের তাপমাত্রা প্রদর্শন করে, ব্লাড ব্যাগের আসল তাপমাত্রা নয়।
আবার এই তাপমাত্রা cooling coil-এর কাছে এক রকম হলেও দরজার কাছে অন্য রকম হয়। কারণ দরজা খোলা মাত্রই বাইরের তাপমাত্রার সাথে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা মিশে যায়। তাই ফ্রিজ ৪ ডিগ্রি দেখালেও, দরজার কাছে রাখা ব্যাগের তাপমাত্রা ভিন্ন হতে পারে—এটি একেবারেই স্বাভাবিক ঘটনা।
এসব ফ্রিজে যখন ব্লাড ব্যাগ সংরক্ষণ করা হয় তখন cooling coil-এর কাছে রাখা ব্যাগ ও দরজার কাছে রাখা ব্যাগের তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য থেকে যায়। এর কারণ হলো—ব্লাড ব্যাগকে নতুন তাপমাত্রার সাথে মানিয়ে নিতে ১৫–২০ মিনিট সময় লাগে। আর এই সময়টাই ব্যাগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্লাড ব্যাগে যে CPDA-1 থাকে, তার মধ্যে—
Citrate ক্যালসিয়ামকে bind করে coagulation cascade বন্ধ রাখে।
Phosphate buffer হিসেবে কাজ করে এবং pH স্বাভাবিক রাখে।
Dextrose RBC-কে শক্তি জোগায়।
আর Adenine RBC-তে ATP বজায় রাখে।
কিন্তু যদি দরজার কাছে রাখা ব্যাগের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির ওপরে উঠে যায় (যেমন—ব্যাগ খুঁজতে সময় নেওয়া বা বারবার দরজা খোলা-বন্ধ করার কারণে), তখন platelets metabolically active হয়ে glucose খরচ করতে থাকে এবং ধীরে ধীরে pH কমে যায়। এর ফলে coagulation factors সক্রিয় হয়ে fibrinogen থেকে fibrin-এ রূপান্তরিত হয়। তখন ব্যাগের ভেতরে fibrin strands বা clumps দেখা দেয়।
সমস্যাটা কোথায়? একবার fibrin তৈরি হলে তা জীবাণুর জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এমন রক্ত দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে, কারণ রোগীর জটিলতা দেখা দিতে পারে। আবার clumps তৈরি হলে transfusion-এর সময় রোগীর শরীরে DIC-এর মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে—যেটি ট্রান্সফিউশনের কারণে হয়েছে তা বোঝার উপায় থাকে না। এ কারণেই এমন রক্ত ব্যবহার না করার নিয়ম রয়েছে।
যারা রোগীর পাশে কাজ করেন, বিশেষ করে ওয়ার্ডে, তাদের জন্য খুব জরুরি বিষয় হলো—ব্লাড ব্যাগ হাতে পাওয়ার পর একবার প্লাজমার দিকে ভালো করে তাকানো। যদি সাদা সুতোর মতো fibrin strand বা জমাট বাঁধার কোনো চিহ্ন দেখা যায়, তবে অবশ্যই ব্লাড ব্যাংকের সহযোগিতা নিতে হবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে—আমাদের দেশে অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে blood bank refrigerator কিনতে পারে না। কারণ এগুলো দেশের বাইরে থেকে আনতে হয়। যদি দেশে উৎপাদন করা যেত, তবে সহজলভ্য হতো। তবুও সমাধান সম্ভব—এসব সংগঠন চাইলে সরকারি ব্লাড ব্যাংকের ফ্রিজ ব্যবহার করতে পারে একটি পৃথক ডাটাবেজের মাধ্যমে।
আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি—সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেলের ইমারজেন্সি এবং রুটিন কাজের জন্য ব্যবহৃত রক্তের একটি বড় অংশ আসে এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে। তাই সরকার চাইলে তাদের জন্য সরকারি ব্লাড ব্যাংকের ফ্রিজ ব্যবহারের ব্যবস্থা করে দিতে পারে। রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ থাকলে এবং দেশের যে প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের ফ্রিজ তৈরি করতে সক্ষম, তাদের সম্পৃক্ত করলে ভবিষ্যতে দেশেই নিরাপদ রক্ত সংরক্ষণের প্রযুক্তি তৈরি করা সম্ভব হবে।
© ডা: আশরাফুল হক