25/11/2025
শৈশবে ভূমিকম্প মানেই ছিল এক রহস্যময় মুহূর্ত। ঘর কেঁপে উঠলেই দাদি-নানীরা মৃদু হাসি দিয়ে বলতেন—
“ভইশাল যাচ্ছে...”
তাদের কথায় মনে হতো, মাটির নিচে বিশাল এক মহিষ বা পৌরাণিক প্রাণী নড়ে উঠেছে। পৃথিবীর কাঁপন আসলে সেই শক্তিশালী প্রাণীর নড়াচড়ার ফল। শিশুদের চোখে ভূমিকম্প তখন আর ভয় নয়, বরং এক অদ্ভুত গল্পের অংশ।
ভয় কমাতে তারা বলতেন—
“ভইশাল শুধু একটু নড়েছে, কিছু হবে না।”
এই আশ্বাসে শিশুরা আবার খেলায় মেতে উঠত, আর ভূমিকম্প হয়ে যেত লোককথার এক অধ্যায়।
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই গল্পের ভিন্ন ভিন্ন রূপ ছিল। কোথাও বলা হতো— “মাটির নিচে মহিষ নড়ছে।”
কোথাও বলা হতো— “নাগরাজ নড়ছে।”
আবার কেউ ধর্মীয় ভাষায় বলতো— “আল্লাহ রেগে গেছেন।”
বাস্তবের সাথে কল্পনার এই মিশ্রণই আমাদের লোকজ সংস্কৃতির সৌন্দর্য। দাদি-নানীর মুখে শোনা এই গল্পগুলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়েছে, আমাদের ভাষা, আবেগ আর স্মৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।
আজও মনে হয়— ভূমিকম্প শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা নয়,
এটা আমাদের শৈশবের গল্প, আমাদের সংস্কৃতির অংশ,
যেখানে ভয়কে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল কল্পনার আড়ালে।
আপনার ছোটবেলার ভূমিকম্পের গল্প কীভাবে বলা হতো…শেয়ার করার অনুরোধ রইলো।
****এবার দেখা যাক বৈজ্ঞানিকরা কিভাবে বিষয়টি বিশ্লেষণ করেন:-(একটু মনোযোগ দিয়ে পড়বেন প্লিজ)
সংক্ষেপে উত্তর: ভূমিকম্প ঘটে যখন পৃথিবীর ভূত্বকের টেকটোনিক প্লেটগুলো হঠাৎ একে অপরের সাথে সংঘর্ষ বা পিছলে যায়। এতে সঞ্চিত শক্তি হঠাৎ মুক্তি পায় এবং মাটি কেঁপে ওঠে।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা :-
- টেকটোনিক প্লেটের গতি: পৃথিবীর ভূত্বক অসংখ্য টেকটোনিক প্লেট দিয়ে তৈরি। এগুলো সবসময় ধীরে ধীরে নড়াচড়া করে।
- চাপ ও ঘর্ষণ: যখন দুটি প্লেট একে অপরের সাথে আটকে যায়, তখন প্রচুর চাপ জমে।
- শক্তির মুক্তি: হঠাৎ সেই চাপ ভেঙে গেলে বা প্লেট পিছলে গেলে সঞ্চিত শক্তি মুক্ত হয়। এর ফলে ভূ-পৃষ্ঠ কেঁপে ওঠে, যাকে আমরা ভূমিকম্প বলি।
- মূল অংশসমূহ:
- ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলকে বলা হয় হাইপোসেন্টার।
- এর ঠিক ওপরে ভূ-পৃষ্ঠে যে স্থান থাকে, সেটি হলো এপিসেন্টার।
- কম্পনের ধাপ:
- বড় ভূমিকম্পের আগে ছোট ছোট কম্পন হতে পারে (ফোরশক)।
- মূল ভূমিকম্পকে বলা হয় মেইনশক।
- পরে আবার ছোট ছোট কম্পন হয়, যাকে বলা হয় আফটারশক।
সহজভাবে মনে রাখার মতো:-
ভূমিকম্প = প্লেটের সংঘর্ষ + শক্তির মুক্তি → মাটি কেঁপে ওঠে।
সংগৃহীত -