23/03/2026
এই ছবিতে যাদেরকে অর্থোপেডিক্স সার্জারি করতে দেখছেন, উনারা কেউই সার্জন নন। পেশায় এক সময় ছিলো সরকারী মেডিক্যালের দালাল কিংবা কমপাউন্ডার। আন্ডারমেট্রিক দালাল থেকে এখন নিজেরাই শ্যামলী শিশু মেলার অপজিটে হাসপাতালের মালিক হয়েছেন। হয়েছেন সার্জন। হাসপাতালের নাম: ডক্টরস কেয়ার এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
দূর্দান্ত এক অনুসন্ধানী রিপোর্ট করেছেন যমুনা টিভির সাংবাদিক হাসান মিসবাহ।
একজনকে রোগী হিসেবে সাজিয়ে পাঠানোর পর দেখতে পান দুটো অপারেশন থিয়েটারে দুজন রোগীর পায়ের অপারেশন হবে। দ্রুতই ঐ দুই রোগীকে সবকিছু খুলে বলে ভুল চিকিৎসার হাত থেকে বাঁচিয়ে আনেন।
এরপর তিন মাস পর আরও কিছু তথ্য প্রমাণ সংগ্রহের পর আবারও ঐ হাসপাতালে রিপোর্ট করতে যান। গিয়ে দেখেন, এক নারীর ভাঙ্গা পায়ের জটিল অপারেশন হচ্ছে। Ilizarov Surgery, অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে করতে হয় এই সার্জারি। হাতেগোনা কিছু সার্জন করে থাকেন। অথচ সার্জারি করছে ফাইভ-এইট পাশ দালালেরা।
এই হাসপাতালে অর্থোপেডিক্সের সকল সার্জারি এখানে করছে - এক সময়ের দালাল লাভলু, রনি, দুলাল, ফরিদ।
অন্য রুমে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া এক রোগীর চিৎকার ক্যামেরায় ধরা পড়ে, 'বাবাগো। মাগো। এত কষ্ট' বলছেন। সড়ক দূর্ঘটনায় আহত এই রোগীর, এখানে অপারেশন হওয়ার পরেও কোন রকমের পরিবর্তন নেই।
সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার, এরকম একটি প্রতারণামূলক হাসপাতালে On Call -এ অনেক MBBS ডাক্তারও এসে থাকেন।
এত দূর্দান্ত অনুসন্ধানি একটি রিপোর্ট হওয়ার পর এই হাসপাতালের লাইসেন্স বন্ধ, সিলগালা এবং ভুয়া সার্জনদেরকে আজীবনের জন্য জেলখানায় বন্দী কিংবা মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তি প্রদান করার কথা। কিন্তু এমনটা অতীতেও হয়নি।
আমরা দেখেছি এইট পাশ ব্যক্তিকে ভুয়া ডাক্তার সেজে ডেলিভারি সিজার করতে।
আমরা দেখেছি মানবিক বিভাগে ইন্টারপাশ করা এক ব্যক্তিকে হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান হতে।
আমরা দেখেছি প্রকৃত ডাক্তারের BM&DC রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ব্যবহার করে ভুয়া ডাক্তারকে যুগের পর যুগ চিকিৎসা করাতে।
এরকম শত শত ঘটনা হওয়ার পরেও এসমস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোন ধরণের উপযুক্ত শাস্তি রাষ্ট্র দিতে পারেনি। জামিনে ছাড়া পেয়ে তাঁরা পুনরায় একই পেশায় ফিরে এসছে।
স্বাধীনতার এত বছর পরেও হাসপাতালগুলোকে রাষ্ট্র দালালমুক্ত করতে পারেনি। এসব দালালই রোগীদেরকে ভুয়া, ঝুঁকিপূর্ণ হাসপাতালগুলোতে ফুসলিয়ে নিয়ে যায়। মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।
আমরা জানি, ১০০০জন রোগীর জন্য ডাক্তার রয়েছে ০.৮৩ জন। আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরেও দেশের চিকিৎসকরা নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়ে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
কোন সরকারি, বেসরকারি হাসপাতালে একটু উনিশ বিশ হয়ে রোগী মারা গেলে, মব বাহিনী ডাক্তারদের উপর দোষ চাপিয়ে, পিটিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলে। এসব ভুয়া হাসপাতাল, ডাক্তারের বেলায় কাউকে দেখি না কাউকে গিয়ে ঐ হাসপাতালের একটা গ্লাসও ভাঙতে।
রাষ্ট্র কী পারে এভাবে অন্ধ হয়ে বসে থাকতে? হাসপাতাল সেক্টরে দালাল ও ভুয়া ডাক্তারদের দৌরাত্ম্য না থামিয়ে আঙ্গুল গুটিয়ে বসে থাকতে? আমাদের জীবনের কী কোন মূল্য নেই? ক্ষমার অযোগ্য এসব ব্যক্তিদের কঠিন সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কেন এত উদাসীন? এসব অনুসন্ধান করার দায়িত্ব কী শুধু সাংবাদিকদের। রাষ্ট্রের নেই? স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয় কিংবা প্রশাসনের নেই?
আমি তো কল্পনাও করতে পারি না -
আমাকে ফাইভ পাশ কোন ব্যক্তি, আমার কিংবা আমার পরিবারের বুকে স্টেথোস্কোপ লাগিয়ে পরীক্ষা করছেন। অপারেশন থিয়েটারে আমার বুক সার্জিক্যাল ছুরি চালিয়ে চিঁড়ে ফেলছে। আপনারা কল্পনা করতে পারেন?
হাসান মিসবাহ ও যমুনা টেলিভিশনকে ধন্যবাদ। আপনারা সচেতন হোন। হাসপাতালগুলোতে দালাল হতে সাবধান থাকুন।
- অন্তর মাশঊদ
#ভুয়া_ডাক্তার #দালাল