৬ মে ২০০৬ দেশের ১৪তম সরকারী মেডিকেল কলেজ হিসেবে জন্মলাভ করে তৎকালীন বেগম খালেদা জিয়া মেডিকেল কলেজ বর্তমান শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ। মানবসেবার মহান ব্রত নিয়ে এখানে ভর্তি হয় শতজন উদ্যমী প্রাণ। তাদেরই মধ্যে কেউ কেউ আবার হরিণীর মতো সচকিত হয়ে ওঠে ব্যথিতের আর্তনাদে, অসহায়ের হাহাকারে। শয্যাশায়ী পুত্রের জন্য এক ব্যাগ রক্তের আকুতি নিয়ে পিতা যখন থমকে দাঁড়ায় ওদের সামনে, ওরা পারেনি তাকে ফিরি
য়ে দিতে। হাসিমুখে দান করেছে শিরার ভেতর প্রবাহমান তাজা রক্ত। এই ত্যাগ এবং উপলবদ্ধিকে ধারণ করেই তারা ছুটে যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের সন্ধানী ইউনিটে। সেখানে হাস্যোজ্জ্বল প্রাণশক্তির অধিকারী তাপস ভাই, সজীব ভাই, চয়ন ভাই, অভি ভাই, সানোয়ার ভাই শুনালেন আশার কথা।
আমরা সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদে আবেদন করলাম। সর্বপ্রথম আমাদের মেডিকেলের সাব্বির ভাই ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাউসার ভাই এর সহায়তায় আমাদের মেডিকেলে সন্ধানী প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।
২৩ জুন, ২০০৭ (মধ্যরাত): সন্ধানী, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ইউনিট আয়োজিত ২৭তম কেন্দ্রীয় ষান্মাসিক সভায় মধ্যরাতের নতুন মেডিকেল কলেজে ইউনিট খোলা সংক্রান্ত এজেন্ডা। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর ভোর ৫টায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন হাবিব ভাই ও মেহেদী ভাই।অনুমোদন পেল সন্ধানীর ১৮তম ইউনিট হিসেবে তৎকালীন বেগম খালেদা জিয়া মেডিকেল কলেজে সন্ধানীর কার্যক্রম পরিচালনার। তৈরী হলো আমাদের ১৫ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি। শুরু হলো আমাদের পথচলা।
২৭ মার্চ, ২০০৮ এ সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে তানভীর ভাইকে সভাপতি, সাব্বির ভাইকে সহ-সভাপতি এবং ইশতিয়াক ভাইকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত হলো আমাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি।
সেই থেকে এক ঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ তরুণ-তরুণীর স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে অবিরাম পথ চলে আজ ৬ষ্ঠ বছরে পা দিলো সন্ধানী শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ইউনিট। (২০০৯ সালে আমাদের মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন হওয়ায় সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদ ২০০৯-১০ কার্যকরী পরিষদের ৩য় মাসিক সভায় ইউনিটের নাম বেগম খালেদা জিয়া মেডিকেল কলেজ ইউনিট এর পরিবর্তে শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ইউনিট হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার স্বীকৃতি লাভ করে।)
সন্ধানীর এই এগিয়ে চলা পৃথিবী থেকে কান্নার শব্দ মুছে দেবার জন্য, মানুষের এক গাল নিস্পাপ হাসির জন্য।