05/08/2024
পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথমবারের মত জেনারেশন জি (জেন-জি) এর নেতৃত্বে সফল গণঅভ্ভুত্থানের মাদ্ধমে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীরা। এই আন্দোলনের অনেক বিশেষ দিক রয়েছে, তবে ছাত্রী-বোনদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব পৃথিবীর অন্যান্য দেশের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। বহির্বিশ্বের সহায়তায় নয়, আমাদের ছোট-ভাইবোনরা মাঠে রক্ত দিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে। এখন তাদেরকে সাথে নিয়ে বৈষম্য বিরোধী বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে আমাদের সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।
সকলকে অনুরোধ আবেগের বসে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিবেন না। অনেক রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে সরকারি বাহিনী ও হেলমেট বাহিনী নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে সাধারণ মানুষ ও ছাত্র-জনতার উপর। শিশুদের বুকে গুলি চালাতেও বুক কাঁপেনি ফ্যাসিবাদী সরকার ও তার পেটুয়া বাহিনীর। বেসরকারি হিসাবে ৩০০+ ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন। দশ হাজারের বেশি ছাত্র-ছাত্রী এবং সাধারণ মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে। হাজার হাজার ছাত্র-জনতা আহত হয়েছেন। এর আগে পিলখানা হত্যাকান্ড, আবরার ফাহাদ, সাগর-রুনি হত্যা সহ অগণিত মানুষ গুম ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। পনের বছর ধরে অনেকে নিপীড়িত হয়েছেন। স্বভাবতই অনেকেই সাবেক সরকারের লোকজন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজনের উপর খেপে আছেন। এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ একদিনে উগলে দিবেন না। দয়া করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভাঙচুর করবেন না, রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করার দায়িত্ব নিয়ে নিন। সংখ্যালগুদের বাসা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় উপসনালয় রক্ষা করুন। আওয়ামীলীগ বা ছাত্রলীগ বা সাবেক সরকার দলের কারো বাসায় হামলা করবেন না। যারা এতদিন অন্যায়ভাবে দমন-নিপীড়ন করেছেন তাদের বিচার আইনের মাধ্যমে করতে হবে। দয়া করে আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না। এই তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বের উপর ভরসা রাখুন। সরকার পতন বলে আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়নি, নতুন বাংলাদেশের দায়িত্ব সবে মাত্র শুরু।
মনে রাখবেন আন্দোলনের চাইতে শাসনকার্য অনেক কঠিন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা বা সুশাসন ফিরিয়ে আনা কঠিন হতে পারে কিন্তু সম্ভব। সপ্তাহ তিনেকের মধ্যে সরকার পতন হয়েছে, কিন্তু দেশটা গড়তে তিন বছরের বেশি সময় লাগবে। আগামী দিনের বাংলাদেশে রাষ্ট্রযন্ত্রের সংস্কার দরকার। এমন সরকার বাব্যস্থা দরকার যাতে দেশের মানুষের টাকায় কেনা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বুলেট আর একটি নিরীহ মানুষের প্রাণ নেয়। প্রধানমন্ত্রীর টার্ম লিমিট, শাসন ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ, অনির্বাচিত আমলাদের ক্ষমতা কমানো, বিচারবিভাগকে আসলেই নিরপেক্ষ করা থেকে শুরু করে সংবিধান সংশোধনের সকল আলোচনা ভবিষ্যতে করা যাবে। কিন্তু এই মুহূর্তেই সবচেয়ে বেশি দরকার বেসামরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
দয়া করে আবু সায়ীদ, মুগ্ধ, ফাইয়াজ সহ সকল শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দিবেন না।