কলতাবাজার পঞ্চায়েতের ইতিহাস সূদীর্ঘ ১৫০ বৎসরেরও অধিক । কিন্তু এই ইতিহাস সংরক্ষিত না থাকার কারনে তা সঠিকভাবে উপস্হাপন করা সম্বব হচ্ছে না । এ ছাড়া এমন কোনো ব্যাক্তি বর্তমানে বেচেঁ নেই, যার কাছ থেকে কলতাবাজার পঞ্চায়েতের ধারাবাহিক তথ্য সংগ্রহ করা যেত । আমরা বিচ্ছিন্নভাবে কিছু তথ্য সংগ্রহ করতে পেরিছি, যার উপর ভিত্তি করে কলতাবাজার পঞ্চায়েতের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস উপস্হাপন করলাম ।
কলতাবাজার পঞ্চায়েত সীমানা
হাজী আব্দুল মজিদ লেন
নাসির উদ্দিন সরদার লেন (আংশিক)
কাজী আব্দুর রউফ রোড
কুঞ্জবাবু লেন (আংশিক)
রোকনপুর ১ম লেন
রোকনপুর ৩য় লেন
খান সাহেব হাজী আব্দুল মজিদ এলাকায় তিনি মজিদ ওস্তাগার নামে পরিচিতি ছিলেন । বৃটিশ সরকারের সময় অন্যান্য পঞ্চায়েতের সরদার ও সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্হিতিতে ঢাকার ডি.সি তাকে সরদারের পাগড়ি পরান । তিনি ঠিকাদারী ব্যবসা করতেন, ঢাকার অনেক প্রাচীন ভবন তার ঠিকাদারীতে নির্মিত হয়েছিল যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঢাকার কার্জন হল তিনি ঢাকার বাইশ পঞ্চায়েতের সভাপতি ছিলেন।
পঞ্চায়েত বাসীদের দাফন করার জন্য তিনি ও গোলাম রহমান সরদার টিকাটুলি কবরস্হানের জায়গাটি দান করে যান । ১৯৩৮ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন । মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে যান ।
আব্দুল মান্নান (মন্নাফ বেপারী)ছিলেন খান বাহাদুর হাজী আব্দুল মজিদ সাহেবের বড় ছেলে । পিতার ব্যবসা দেখাশোনার পাশাপাশি তিনিও ছিলেন তৎকালীন সময়ে একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার । বর্তমান বঙ্গভবন ছাড়াও বহু সরকারি ভবন তার ঠিকাদারীতে নির্মিত হয়েছিল ।
আব্দুল মান্নান বেপারী চার বার ঢাকা মিউনিসিপালিটির কমিশনার নির্বাচিত হন । এ ছাড়াও তিনি জনরক্ষা সমিতির সভাপতি ছিলেন । তিনি যখন বাইশ পঞ্চায়েতের সুপরিনটেন্ড, তখন সভাপতি ছিলেন, খাজা নসরুল্লাহ । ভাওয়াল রাজা সন্ন্যাসী কুমারের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল, মূলত তার সাক্ষী ও জবানবন্দির ভিত্তিতেই প্রমাণিত হয়েছিল যে, ভাওয়াল রাজা সন্ন্যাসী কুমার জীবিত আছেন ।
আব্দুল মান্নান বেপারী হাজী নাসিরউদ্দিন সরদারের মেয়েকে বিয়ে করেন । তার সময়েই এবং তার চেষ্টায় কলতাবাজারের দুটি লেন একটি তার বাবা হাজী আব্দুল ও অপরটি তার শ্বশুর হাজী নাসির উদ্দিন সরদার লেন নামে পরিচিত ।
অষ্টাদশ শতাব্দীতে কলতাবাজারের সরদার ছিলেন হাজী মো: নাসির উদ্দিন ।
উনার জন্ম সাল জানা নেই, তিনি ১৯০৮ সালে মৃত্যুবরন করেন। এলাকার মসজিদ ও অন্যান্য সামাজিক কর্মকান্ড সবসময় নাসির উদ্দিন সরদার সাহেব অগ্রণী ভূমিকা পালান করেন । কলতাবাজার এলাকার (পঞ্চায়েত অধীন) মৃতদের দাফন দেয়ার জন্য পাচঁ ভাই ঘাট লেনের কবরস্থানের জায়গাটি তিনি দান করেন এবং মৃত্যুর পর সেখানেই তাকে দাফন করা হয় ।
এরপর কলতাবাজার পঞ্চায়েতের দায়িত্ব পালন করেন আলহাজ্ব মো: সিদ্দিক সরদার সাহেব। ১৮৮০ সালে তিনি জন্মগ্রহন করেন এবং ১৯৫৮ সালে ২৫ জুলাই মৃত্যুবরন করেন। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি ১৮৯৭ সালে অত্র এলাকা থেকে এনট্রান্স পাশ করেন । ইংরেজিতে অত্যন্ত দক্ষতার জন্য লর্ড কার্জন তাকে প্রায়ই তলব করতেন । তিনি পর পর দুই বার বাইশ পঞ্চায়েতের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন । তৎকালীন ডিসি বাইশ পঞ্চায়েতের অন্যান্য সদস্যগণদের উপস্হিতিতে তাকে সরদারী পাগড়ি পরান। ১৯৫৮ সালে তিনি পবিত্র হজ্জ পালন করেন এবং তার অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী হজ্জ পালন শেষে মদিনায় ইন্তেকাল করলে জান্নাতুল বাকীতে তাকে দাফন করা হয়।
আলহাজ্ব মো: সিদ্দিক সরদার সাহেবের মৃত্যুর পর উনার ইচ্ছা অনুসারে কলতাবাজার পঞ্চায়েতের সরদারের দায়িত্ব গ্রহন করেন তার সুযোগ্য পুত্র ও উত্তরসুরী আলহাজ্ব মো: নূরুদ্দিন সরদার সাহেব । ১৯০৯ সালে তিনি জন্মগ্রহন করেন এবং ২০০০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ইন্তেকাল করেন । তিনি সি.এন্ড.বি ও পি.ডাব্লিউ.ডি-র ১ম শ্রেণীর ঠিকাদার ছিলেন । ১৯৫৮ সালে কলতাবাজার পঞ্চায়েতের দায়িত্ব নেয়ার পর ১৯৮০ সাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি কলতাবাজার পঞ্চায়েতের কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন । তার ব্যক্তি ইমেজ এতই প্রভাবশালী ছিল যে ১৯৫৯ ও ১৯৬০ সালের পর পর দুই বার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বতায় তিনি বি.ডি. মেম্বার নির্বাচিত হন । ১৯৪২ সালে তিনি কলতাবাজার আল-মঈন মাদ্রাসাটিকে ৪তলা ভবনে সংস্কার সাধন করে তার আজীবনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করেন । কলতাবাজার পঞ্চায়েত কমিটিকে যদি একটি বিশাল বৃক্ষের সাথে তুলনা করা হয় তবে আল-মঈন মাদ্রাসাটি হচ্ছে তার শেকড় । ১৯৯৪ সালে তিনি পড়ে গিয়ে কোমরে আঘাতপ্রাপ্ত হন এরপর আর তিনি স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে অক্ষম ছিলেন । এই অবস্হায় তিনি তার পরম স্নেহের হাজী মো: সেলিমকে (বর্তমান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি) পঞ্চায়েতের যাবতীয় কর্মকান্ডের তদারকীর দায়িত্ব প্রদান করেন । তিনি কলতাবাজার ছোট মসজিদের মুতুয়াল্লীর দায়িত্বে ছিলেন । ৭ ফেব্রুয়ারী ২০০০ সালের এলাকাবাসীকে এতিম করে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন । আলহাজ্ব মো: নুরুদ্দীন সরদার সাহেবের মৃত্যুর পর নতুন পঞ্চায়েত কমিটি গঠনের লক্ষ্যে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে এডহক কমিটি গঠন করা হয় এবং ১২ জুন ২০০১ সালে সর্বম্মাতিত্রুমে হাজী মো: সেলিমকে সভাপতি নিযুক্ত করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কলতাবাজার পঞ্চায়েত কমিটি গটন করা হয় মরহুম আলহাজ্ব মো: নূরদ্দিন সরদার সাহেব ছিলেন কলতাবাজার পঞ্চায়েতের শেষ সরদার । আমরা মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনা করি ।