25/11/2025
নাওয়াকিদুল ঈমান বা ঈমান ভঙ্গের কারণসমূহঃ
১. আল্লাহ্'র অস্তিত্ব অস্বীকার করা বা আল্লাহ ব্যতীত কাউকে স্রষ্টা বা প্রতিপালক মনে করা।
[সূরা হাশর: ২৪]
২. আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা, তিনি ব্যতীত অন্য কারো ইবাদাত করা। [সূরা আল-আনআম : ১৬২-১৬৩]
৩. সুস্পষ্ট মুশরিক-কাফিরদেরকে কাফির মনে না করা। [উম্মাহর ইজমা বা ঐকমত্যে এটা ঈমান ভঙ্গের কারণ]
৪. ধর্মীয় বিষয়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে অমুসলিম কিংবা ত্বাগুতকে সহযোগিতা করা। [ সূরা মায়িদা: ৫১]
৫. দ্বীনের অকাট্য কোনো বিধানকে অস্বীকার, অপছন্দ বা মিথ্যারোপ করা। [ সূরা আনআম: ২১ ]
৬. সুনিশ্চিত হারামকে হালাল অথবা সুনিশ্চিত হালালকে হারাম মনে করা। [ সূরা তাওবা: ২৯ ]
৭. আল্লাহ, রাসূল, দ্বীন ও দ্বীনের কোনো বিধান নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করা বা গালি দেয়া। [ সূরা তাওবা: ৬৪-৬৬ ]
৮. আল্লাহর আইনের বিপরীতে আইন প্রণয়ন করা। [ সূরা শুরা: ২১ ] [ সূরা মায়িদা: ৪৪ ]
৯. রাসূলের (স) ফয়সালার তুলনায় অন্য কারো ফয়সালাকে উত্তম মনে করা। [ সূরা নিসা: ৬৫ ]
১০. জাদু করা, বান মারা, কুফরি কালাম করা। [ সূরা বাকারা: ১০২ ]
১১. জ্যোতিষী বা গণকের ভবিষ্যৎবাণী বিশ্বাস করা। [ সূরা লুকমান: ৩৪ ]
১২. জাগতিক ও বৈজ্ঞানিক কার্যকারণের অন্তর্ভূক্ত নয় এমন কোনো বিষয়কে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা। যেমন, ভাগ্য রাশি। অনুরূপভাবে অশুভ, অযাত্রা বা অমঙ্গলে বিশ্বাস করা। [ সহিহ বুখারী: ৫৭০৭ ]
১৩. কাউকে দ্বীন শরীয়তের ঊর্ধ্বে মনে করা। [ সূরা মায়িদা: ৩ ]
ফাতওয়াঃ কেউ যদি এই বিষয়গুলো জানার পরও এর মধ্যে কোনোটা করে, তবে তাকে তাওবা করে ঈমান নবায়ন করতে হবে অর্থাৎ, পুনরায় কালিমা পাঠ করে মুসলমান হতে হবে। আর কেউ যদি অজ্ঞতাবশত এর কোনোটি করে, তবে তাওবা করে নিবে। কিন্তু, অফিশিয়ালি ঈমান নবায়ন করতে হবে না।
এছাড়া, প্রতিনিয়ত কালিমা পাঠ করে ঈমান নবায়ন করা আমাদের জন্য উচিত একটি কাজ। আল্লাহ কবুলিয়াতের মালিক। সেই সাথে সাথে ভবিষ্যতে এই কারণগুলো থেকে সতর্ক থাকবো। আর বেশি বেশি স্মরণ রাখবো রাসূলের (স) সেই হাদীস।
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, "রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মানুষের উপর এমন একটি যুগের আগমন ঘটবে যখন তার পক্ষে দ্বীনের উপর ধৈর্য ধারন করে থাকাটা জ্বলন্ত অঙ্গার মুষ্টিবদ্ধ করে রাখা ব্যক্তির মতো কঠিন হবে।"
[ জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২২৬০ ]
লিখাটি সংগৃহীত।