09/04/2025
আমরা কাকে বুঝাতে চাচ্ছি যে আমরা অনেক সুখী???🤔🤔
হয়ত আপনাদের কাছে কথাগুলো একটু বেশী কড়া মনে হতে পারে। কিন্তু আমার বিশ্বাস বর্তমানে বেশীরভাগ মানুষ নিজেদের বানানো মিথ্যা জগতে বসবাস করছে।আপনি দেখবেন এই যে,এখনকার মেয়েরা এমনকি ছেলেরাও আচ্ছা সবাইযে এরকম একটা ভংগিমাতে ছবি তুলে এটার নাম যেন কি?"সেলফি" মনে হয়। আচ্ছা যাইহোক যেই মানুষ গুলা সারাদিন সেলফি তুলে আর ইন্টারনেটে আপলোড করতে থাকে আমি আসলে তাদের ব্যাপারটা বুঝিনা।আপনি যদি নিজের জীবন মানুষের সাথে শেয়ার করার ব্যাপারে এতই আন্তরিকই হন তাহলে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠা মাত্রই কেন সেলফি তুলে আপলোড করেন না?তখন আপনার চোখের কোনে ময়লা লেগে থাকে তখন থেকেই ছবি তোলা শুরু করেন না কেন? কিন্তু না কখন কোন এংগেলে,কোন অবস্থায় ,কোন ভংগিমাতে ছবি তোলা হবে তা অনেক যাচাই বাছাই এর পর ঠিক করা হয়।এবং আমরা শুধু এমন সময়েই ছবি তুলি যখন আমরা কোথাও ঘুরতে গিয়েছি,কিংবা নতুন পোশাক পড়েছি,কিংবা যখন মজাদার কিছু খাচ্ছি ।এবং আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করি যেন পৃথিবীকে দেখাতে পারি আমরা জীবন কে উপভোগ করছি।আমরা পৃথিবীকে দেখাতে চাই আমাদের জীবনটা অনেক অসাধারণ, আমাদের জীবন খুব ফাটাফাটি। কিন্তু সত্য হল এইটা আপনার জীবনের বাস্তব চিত্র না।আপনি কোন রূপকথার জীবন যাপন করছেন না। আপনিও অন্য সব মানুষের মতোই,আপনার জীবনও অন্য সব মানুষের মতোই।অথচ আমাদের মাঝে প্রবনতা হল আমি এটা সবাইকে বলতে চাই আমি অনেক সুখে আছি।যদি আপনি খুব সুখে থাকেন তবুও তা দুনিয়াময় প্রচার করে বেড়ানোর দরকার নেই।কেননা মানুষ তখন বদনজর এবং হিংসা করতে শুরু করবে।
আপনার যা আছে সেইগুলো কামনা করা শুরু করবে। এবং তারা চাইবে আপনার যা আছে তা যেন আল্লাহ আপনার কাছ থেকে নিয়ে নেন এবং তাদের কে দান করেন। বিবাহিত দম্পতিদের মধ্যেও এসব কারনে সমস্যার সৃষ্টি হয়। কেন? কারন আমরা প্রতিনিয়ত এমন এক জীবনের চেষ্টা করি,এমন এক জীবনের স্বপ্ন দেখি যে জীবন আমাদের না।যদি আল্লাহ আমাকে সপ্তাহে ১০০০ টাকা দেন।তাহলে আমি এমন একজন মানুষের মত জীবন যাপন করব যার সাপ্তাহিক উপার্জন ১০০০ টাকা- সহজ হিসাব।
কিন্তু না! যে লোক সপ্তাহে ৫০০০ টাকা রোজগার করে আমি চাই তারমত জীবনযাপন করতে। কিন্তু আমার ভাই-বোনেরা আল্লাহ আপনাকে তা দেননি। আল্লাহ আপনাকে এমন কিছু নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন না যা তিনি আপনাকে দেননি।কাজেই, কেন নিজের জীবনকে জটিল করে তুলছেন?যেসব ভাই সারাদিন কাজের জন্য বাহিরে থাকেন।আর কাজের ফাঁকে তাদের সামনে পড়ে যাওয়া প্রতিটি মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকেন প্রশংসার দৃষ্টিতে, কামনার দৃষ্টিতে।
আল্লাহু আকবার! সেই ভাই বাসায় ফিরে বলেন ,
ধুর! "আমার স্ত্রীকে আমার কাছে বিরক্তিকর মনে হয়।"
হ্যা অবশ্যই আপনার কাছে আপনার স্ত্রীকে বিরক্তিকর মনে হওয়ারই কথা। পরস্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আপনার জীবনের যতটুকু সময় আপনি নষ্ট করেছেন তার ১০% সময় ও যদি আল্লাহ আপনাকে যাকে দিয়েছেন সেই মানুষটার দিকে তাকিয়ে আপনি ব্যয় করতেন তবে হয়ত আপনি তারও প্রশংসা করতেন। কিন্তু আপনি তা করেন না। বরং আপনি এমন সব জিনিসের দিকে নজর দিচ্ছেন তা আপনার না।আপনি এমন কিছু নিয়ে মেতে আছেন তা আপনার না।আপনি এমন জীবন যাপন করতে চাচ্ছেন তা আপনার জন্য না। আল্লাহর ওয়াস্তে আপনি আপনার নিজের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে শিখুন।এটাই যথেষ্ট। আপনার বাস্তব জীবনকি এতোই বিরক্তিকর ?আপনার জীবনে কি আর কোন কাজ নেই উদ্দেশ্য নেই? মানুষজন লিখছে-"আমি অমুক জায়গায় খেতে এসেছি,তমুক জায়গায় ঘুরতে এসেছি" আপনি কি করছেন এইগুলা দিয়ে আমার কি? এইগুলা নিয়ে কার মাথা ব্যথা আছে?আমার এসব নিয়ে যায় আসেনা। এইগুলা নিয়ে আমার কোন মাথাব্যথা নেই।
আমি জানি, এমন অনেক বোন আছেন তারা আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখেন এবং অসুখী বোধ করেন দুঃখ বোধ করেন। শুনুন বোন আমি আপনাকে সত্যটা বলি, আপনাকে যেমনটা দেখায় তবে আপনি যদি তার চেয়ে অন্যরকম হতেন তবে আপনাকে একটুও ভাল লাগতনা।কেন জানেন?কারন কোন যদুমধু আপনাকে সৃষ্টি করেনি। আল্লাহ আপনাকে আপনার মত করে এভাবেই সৃষ্টি করেছেন ।যদি অন্যদের এইটা পছন্দ না হয় ,তবে বেশ তো, জাহান্নামে যাক তার পছন্দ।হিসাবটা এতটাই সহজ,জটিল ভাবার কিছু নেই।আপনি যেমন ঠিক সেভাবেই আল্লাহ আপনাকে ভালবাসেন।আপনি যেমন, আল্লাহ চান সেই অবস্থাতেই আপনি তার আনুগত্য করুন। আল্লাহ যেইভাবে চেয়েছেন সেইভাবেই আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ চান আপনি যেন নিজেকে থেকে রাখেন। আল্লাহ চান যে সৌন্দর্য তিনি আপনাকে দিয়েছেন আপনি তার গোপনীয়তা বজায় রাখবেন। আপনার সৌন্দর্য শুধুমাত্র আল্লাহ, আপনার স্বামী,এবং যাদের সামনে পর্দা ছাড়া থাকা আল্লাহ আপনার জন্য হালাল করেছেন তাদের দেখার জন্য ।
তাহলে,বোন আপনি কাদের নিয়ে ,কি নিয়ে এত দুশ্চিন্তা করছেন।
(শায়েখ মোহাম্মদ হুবলস)