07/07/2026
পিলখানা হত্যাকাণ্ড: তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে ৪৯ জনকে দায়ী করার দাবি
স্টাফ রিপোর্টার | Next News
রাজধানীর পিলখানায় ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ৪৯ জনকে ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিশনের প্রতিবেদনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ রাজনৈতিক, সামরিক, গোয়েন্দা ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা, বিডিআর কর্মকর্তা এবং কয়েকজন সাংবাদিকের নামও দায়ীদের তালিকায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনের অন্যতম আলোচিত অংশে বলা হয়েছে, তৎকালীন সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার ২৪ জন কর্মকর্তা ওই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ভূমিকা রেখেছিলেন বলে কমিশনের পর্যবেক্ষণ। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বা অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কমিশন আরও সুপারিশ করেছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার সংস্কার করা উচিত।
প্রতিবেদনটি প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কমিশনের সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) সদর দপ্তরে সংঘটিত বিদ্রোহে সেনাবাহিনীর ৫৭ জন কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। দেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আদালতে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে তদন্তও হয়েছে।
সাম্প্রতিক তদন্ত কমিশনের এই প্রতিবেদন নতুন করে ঘটনাটি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তবে কমিশনের প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হলে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন সংবেদনশীল ও ঐতিহাসিক ঘটনার ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া এবং সব পক্ষের বক্তব্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে সত্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি জনমনে আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ হবে।