সৃজন

সৃজন Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from সৃজন, Nonprofit Organization, Hazinagar, Sarulia, Demra, Dhaka.

‘সৃজন’ একটি সামাজিক সংগঠন।
সংগঠনটি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সমাজে নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা, ক্রীড়া, মাদকমুক্ত জীবন, শৃঙ্খলা, ঐক্য, জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক চর্চা মাধ্যমে একটি সুস্থ ও উন্নত সমাজ গড়তে কাজ করে।

24/03/2026

সামাজিক সংগঠন কেন দরকার?

মানুষ সামাজিক জীব। সামাজিক জীব হিসেবেই সে বেড়ে ওঠে, বসবাস করে। প্রাণীজগতের আরো কিছু প্রাণীর মধ্যেও সমাজবদ্ধ হয়ে জীবনযাপনের প্রবণতা দেখা যায় তবে মানুষের বুদ্ধির মাত্রা তাদের চেয়ে বেশি। মানুষ কেবল সামাজিক প্রাণীই নয়, বিচার-বুদ্ধিসম্পন্ন প্রাণীও বটে। তাই সে সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাসের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকার সংগঠন গড়ে তোলে যার মধ্যে সামাজিক সংগঠন অন্যতম। সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট সমাজকে কেন্দ্র করেই সামাজিক সংগঠনগুলো গড়ে ওঠে। কোনো সমাজের কিছু লোক যখন কিছু নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বা সমাজের কিছু সমস্যা সমাধানে একত্র হয় এবং কিছু নীতিমালা অনুসরণ করে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যায় তখন তাকে সামাজিক সংগঠন বলা যায়। সামাজিক সংগঠন প্রতিষ্ঠায় সমাজের যুবক শ্রেণিকে অগ্রণী ভূমিকায় দেখা যায়। সামাজিক সংগঠন করার প্রধান কারণ সামাজিক দায়বদ্ধতা। জন্মের পর শিশুর মানসিক বিকাশে সমাজের ভূমিকা অনন্য। সমাজের কোনো এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই তার প্রথম পাঠ শুরু হয়। তরুণ বয়সে সমাজের সমবয়সী বন্ধুদের সঙ্গে চলাফেরায় তার সামাজিকীকরণ সম্পন্ন হয়, নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে ওঠে। এভাবে সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে ধীরে ধীরে সে উচ্চশিক্ষার দিকে এগিয়ে যায় এবং সামাজিক কাজ করার দায়বদ্ধতা অনুভব করে। একসময় সে সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলে। সামাজিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজ করে থাকে। যেমন: রাস্তাঘাট সংস্কার, বাঁধ বা সাঁকো নির্মাণ, বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা, রক্ত দান ইত্যাদি। এছাড়াও সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে শীতবস্ত্র ও ঈদসামগ্রী বিতরণ, চাঁদা তুলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া, স্বল্পব্যয়ে মেডিক্যাল সেবার আয়োজন করা ইত্যাদির মাধ্যমেও সামাজিক সংগঠনগুলো সমাজসেবা করে থাকে।

সামাজিক ব্যাধি নির্মূলেও সামাজিক সংগঠনগুলো এগিয়ে আসে। ভৌগোলিক এবং আর্থ-সামাজিক কারণে সমাজে বিভিন্ন সামাজিক ব্যাধি রয়েছে। মদ, জুয়া, মাদকদ্রব্য, যৌতুক, নারী নির্যাতন, দুর্নীতি, সুদ, ঘুষ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ইত্যাদির বিরুদ্ধে সামাজিক সংগঠনগুলো অবস্থান নিতে পারে। মানববন্ধন, আলোচনা সভা, সেমিনার, লিফলেট বিতরণ ইত্যাদির মাধ্যমে সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে পারে।

সামাজিক সংগঠনগুলো হতে পারে সুস্থ বিনোদনের আধার। একসময় ছেলেরা মাঠে ঘুড়ি উড়াতো, লাটিম ঘুরাতো, কাবাডি খেলতো; মেয়েরা বাড়ির উঠোনে ছক কেটে এক্কাদোক্কা, বৌছি ইত্যাদি বিভিন্ন গ্রামীণ খেলা খেলতো। বর্তমানে বিনোদন সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে ভিডিও গেইম, অনলাইন, এবং কিছু বিনোদন কেন্দ্রে যা বিনোদনের চাহিদা পূরণে অপ্রতুল এবং কিছু ক্ষেত্রে মানসিক বিকাশে প্রতিবন্ধক। সংগঠনগুলো নিয়মিত খেলাধুলা, টুর্ণামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে এই চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সুস্থ মানসিক বিকাশে সহায়তা করতে পারে।

সমাজ উন্নয়নে বিশেষত শিক্ষায় সামাজিক সংগঠনগুলো অবদান রাখতে পারে। বাংলাদেশে এখনো এমন কিছু এলাকা রয়েছে যেগুলোর শিক্ষার হার তুলনামূলক কম। কিন্তু দেশের ভারসাম্যমূলক উন্নয়নে প্রতিটি এলাকা সমানতালে এগিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই। শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান ইত্যাদির মাধ্যমে সামাজিক সংগঠনগুলো শিক্ষার মান উন্নয়নে সহায়তা করতে পাারে। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার আগ্রহ বৃদ্ধি করা যেতে পারে। পরস্পর সহযোগিতামূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরিতে সামাজিক সংগঠনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নেই। পরমতসহিষ্ণুতার অভাব। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা একই সামাজিক সংগঠনে দীর্ঘদিন কাজ করার ফলে তাদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য গড়ে ওঠে, সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। অদূর ভবিষ্যতে এই যুবসমাজ একটি সুন্দর রাজনৈতিক পরিবেশ উপহার দিতে পারে। বেকারত্ব বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য একটি সমস্যা। বেকারত্ব দূরীকরণে সামাজিক সংগঠনগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। মাসিক চাঁদা তুলে মূলধন সংগ্রহের পর সংগঠন বিভিন্ন কর্মসংস্থান গড়ে তুলতে পারে। সমাজের সম্পদশালীরাও এতে অংশীদার হতে পারে। গবাদিপশু পালন, মত্স্য চাষ, নার্সারি তৈরিসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে ব্যক্তির অসচ্ছলতা দূর হওয়ার পাশাপাশি দেশে বেকারত্বের হারও কমে আসবে।

এভাবে সামাজিক সংগঠন থেকে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র বিভিন্নভাবে উপকৃত হতে পারে। কেউ যদি তার নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য কিছু করতে চায় তবে সে সামাজিক সংগঠন করতে পারে। সামাজিক সংগঠন হোক সমাজের সমন্বয়ক।

বর্তমান তরুণ সমাজ মানেই ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটস আফ ইত্যাদি ইত্যাদি। আজ তরুণ সমাজ ভুলতে বসেছে, তারা কি?
তাদের আদৌ কি কাজ?
তাদের এসময়টার গুরুত্বই বা কি?
তাদের ইতিহাস কি?
তরুণ ত-সে, যার মধ্যে আছে তারুণ্য। আমি বয়স দিয়ে তারুণ্য মাপতে চাইতে না। আপনার বয়স ১৮ অথচ আপনি পড়ে রইলেন বয়োবৃদ্ধের মত। তাহলে আমি আপনাকে তরুণ বলতে পারিনা কিংবা বলতে চাইনা।
তারুণ্যের এই হতাশার মধ্যে তাদের একাংশ গড়ে তুলে কিছু সামাজিক সংগঠন। আবার অনেকে বলে সামাজিক সংগঠন করে লাভটাই বা কি? তাদের জন্যই আজকে এই লিখা।

24/03/2026

সামাজিক সংগঠন আমরা কেন করব?
আমার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে এর ৫টি কারণ আমি নিচে লিখার চেষ্টা করছিঃ-

১। তারুণ্যঃ
সামাজিক সংগঠন কেন করব? তার পিছনে প্রথম কারন হচ্ছে, তারুণ্য। আমরা আমাদের এ তরুণ সময়টা লেখাপড়া কিংবা চাকরির মধ্য দিয়েই চালাই। একটু খেয়াল করুন, লেখাপড়া কিন্তু দিনের ২৪ ঘন্টাই হয় না। লেখাপড়ার বাইরে আমরা অনেক সময় অবসরে কাটিয়ে দেই। আমরা চাইলে বিনোদনের মাধ্যমে সেই সময়কে তারুণ্যের শক্তিতে রূপান্তর করতে পারি। এসময়টা যদি আমরা সমাজের জন্য ব্যয় করি, তাহলে আমাদের তো কোন ক্ষতি হচ্ছে না। উল্টো লাভই হচ্ছে। কারন সমাজের উন্নয়ন মানে আমাদের উন্নয়ন। এ সমাজের সামান্য উন্নয়ন হলে, তা আমাদের কল্যাণেই আসবে। তাই আমাদের কল্যাণে তারুণ্যের অবসর সময়টা সমাজের জন্য কাজ করতে পারি।

২। দেশপ্রেমঃ
ইসলাম ধর্মে আছে, “দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ”। ঈমানের পরিপূর্ণতার জন্য দেশকে ভালবাসতে হবে। দেশকে ভালবাসা মানে দেশের প্রতি নামমাত্র ভালবাসা নয়। দেশ-প্রেম মানে দেশের কল্যাণে কাজ করা। আমরা চাইলেও একা একা দেশের জন্য কিছু করতে পারব না। তবে দশজনে একত্রে চাইলে অনেককিছু করতে পারি। কথায় আছে, “দশের লাঠি একের বোঝা”। দশের একাত্বতা মানেই সংগঠিত হওয়া। সংগঠনের আওতায় আসা। একটি সংগঠনের কর্মী হয়ে আমরা চাইলেই আমাদের উপর দেশের অধিকারটুকু পালন করতে পারি। তাই আমাদের দেশের, সমাজের কল্যাণের জন্য সামাজিক সংগঠনের আওতায় আসতে হবে।

৩। বিবেকঃ
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে মূল পার্থক্য হচ্ছে, জ্ঞান, বুদ্ধি। এ দুটির কারনেই আমরা সৃষ্টির সেরা জীব, আশরাফুল মাকলুকাত। আমরা যেখানে জন্মগ্রহণ করেছি, যে পরিবেশে আমরা বাঁচতে শিখেছি, সেই পরিবেশ রক্ষা আমাদের মৌলিক দায়িত্ব। সেই পরিবেশের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। কারন আমাদের বিবেক আছে। আমাদের বিবেক না থাকলে আমরা অন্য প্রাণীর মত যা ইচ্ছা তা করতে পারতাম, পরিবেশের যেমন ইচ্ছা তেমন ক্ষতি করতে পারতাম। কিন্তু বিবেক আছে বলেই, এ পরিবেশের আমরা ক্ষতি করতে পারি না। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য এ পরিবেশ আমাদেরকে রক্ষা করতে হবে। পরিবেশ চাইলেও একা একা রক্ষা করা যায় না। তার জন্য প্রয়োজন সামষ্টিক উদ্যোগ। আর এ সকল উদ্যোগ গুলোই গ্রহন করে সামাজিক সংগঠনগুলো। তাই আমাদের সামাজিক সংগঠনের আওতায় আসতে হবে।

৪। নৈতিকতাঃ
বর্তমান তরুণ সমাজের একটি অংশ মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং, জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে। এদেরকে রক্ষা করতে হবে।
যখন আপনি এক বা একাধিক সামাজিক সংগঠনের আওতায় চলে আসবেন তখন আপনার একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে। আপনি চাইলেও এসব অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না। কারন আপনার প্ল্যাটফর্ম আপনাকে বাঁধা দিবে।
যখন একটি সংগঠনের ব্যানারে আপনি মাদক, ইভটিজিং, জঙ্গিবাদের বিপক্ষে কথা বলবেন, তখন অন্যত্র এই অপরাধের সাথে আপনি সম্পৃক্ত হতে পারবেন না। কারন আপনার বিবেক আপনাকে বাধা দিবে। তাই এই প্ল্যাটফর্ম তৈরির জন্য আপনাকে সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে আসতেই হবে।

৫। নিজের ক্যারিয়ারঃ
আপনি যখন সংগঠনের হয়ে আপনার মত আরো ১০/২০/১০০ জনের সাথে কাজ করবেন, তখন সেখান থেকে অনেক দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। কারন একেক জনের মেধা একেক রকম। সংগঠনের সকলের মেধার বিনিময়ে যেহেতু কাজ হয়, সেহেতু শ্রেষ্ট কাজটিই তখন আপনি করবেন। এতে আপনার সাংগঠনিক যোগ্যতা, নিজেকে প্রেজেন্টেশন করা, স্মার্টনেস, ইভেন্ট কমপ্লিটে কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। এতে আপনি আপনার সমমান অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকবেন। প্রতিযোগিতার এ বিশ্বে আপনার ক্যারিয়ার গঠনে যা ভুমিকা রাখবে।

পরিশেষে একটা কথাই বলি, আসলেই কি আমার সামাজিক সংগঠন করা উচিৎ কি-না??? প্রশ্নটা নিজেকে নিজে করুন।
ধন্যবাদ সবাইকে।।

, সৃজন

19/09/2024
এদের দিকেও একটু নজর দেয়া দরকার...
25/08/2024

এদের দিকেও একটু নজর দেয়া দরকার...

23/08/2024

ইতোমধ্যে যারা বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ তহবিলে দান করেছেন স্বচ্ছতার স্বার্থে তালিকা করে তা প্রকাশ করা হবে। খরচ কিভাবে হলো সেটাও প্রকাশ করা হবে।

23/08/2024

আমরা কি বন্যা দূর্গতদের পাশে দাঁড়াবো না?

মতামত দিন।

Address

Hazinagar, Sarulia, Demra
Dhaka
1361

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সৃজন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:


  • সুন্দর, সুস্থ, পরিচ্ছন্ন, মাদকমুক্ত সমাজ তৈরী করাই “সৃজন” এর মূলমন্ত্র।

  • সমাজের দুস্থ এবং অসহায় মানুষদেরকে নানা ধরণের সেবামূলক কাজ করা।

  • বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষিত ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।

  • সামাজিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেয়া এবং সমাজ বিরোধী কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন করা।