Dhaka kendra-ঢাকা কেন্দ্র

Dhaka kendra-ঢাকা কেন্দ্র ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি চর্চা প্রতিষ্ঠান। মাওলা বখ্শ সরদার মেমোরিয়াল ট্রাস্টের একটি প্রকল্প।

ঢাকা কেন্দ্র মাওলা বখ্শ সরদার মেমোরিয়াল ট্রাস্টের একটি শাখা প্রাতিষ্ঠান । প্রাতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে ট্রাস্টের নিজস্ব ভূমি ও ভবনের ২য় তলায়।একত্রে প্রায় ৪০ জন পাঠকের পাঠযোগ্য সুপরিসর পাঠকক্ষ ,কার্যালয় ,গ্রন্থ বিক্রয় কেন্দ্র ও প্রর্দশনী কক্ষ নিয়ে ঢাকা কেন্দ্র। ঢাকা কেন্দ্র পাঠাগারের প্রধান আকর্ষণ বিশেষভাবে ঢাকা বিষয়ক দুষ্প্রাপ্য ও সহজলভ্য গ্রন্থসহ জ্ঞানের অন্যান্য শাখার যাবতীয় গ্রন্থ সংগ্রহ। প্রাতিষ্ঠা

নটি শোভা বৃদ্ধি করেছে সুদৃশ্য বাগান যেখানে স্থাপিত রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ভাস্কর্য।পাঠক ও দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে একটি ক্যাফেটেরিয়া । ঢাকা কেন্দ্রর প্রচেষ্টা ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন ও সংরক্ষন । এ প্রতিষ্ঠান যেমন জ্ঞানী-গুণী ও বিদগ্ধ পন্ডিতদের সমাবেশ কামনা করে, তেমনি এর মুখ্য উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষ ও পাঠককূলের নিয়মিত আগমন ।

শুভ নববর্ষ ১৪৩৩পহেলা বৈশাখের এই শুভক্ষণে ঢাকা কেন্দ্র পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।নতুন ব...
14/04/2026

শুভ নববর্ষ ১৪৩৩
পহেলা বৈশাখের এই শুভক্ষণে ঢাকা কেন্দ্র পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
নতুন বছর আমাদের সবার জীবনে বয়ে আনুক শান্তি, সমৃদ্ধি ও সফলতা।
আসুন, মানবকল্যাণে একসাথে এগিয়ে যাই নতুন উদ্যমে।

ব্রজেন দাস (৯ ডিসেম্বর ১৯২৭ – ১ জুন ১৯৯৮) ব্রজেন দাস ছিলেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাঁতারু এবং দক্ষিণ এশিয়ার গর্ব। তিনি প...
09/04/2026

ব্রজেন দাস
(৯ ডিসেম্বর ১৯২৭ – ১ জুন ১৯৯৮)

ব্রজেন দাস ছিলেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাঁতারু এবং দক্ষিণ এশিয়ার গর্ব। তিনি প্রথম দক্ষিণ এশীয় ব্যক্তি হিসেবে সাঁতার কেটে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেন। ১৯৫৮ সালের ১৮ আগস্ট এই কৃতিত্ব অর্জনের পর তিনি মোট ছয়বার ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেন এবং ১৯৬১ সালে ১০ ঘণ্টা ৩৫ মিনিটে বিশ্বরেকর্ড গড়েন।
মুন্সিগঞ্জের কুচিয়ামোড়া গ্রামে জন্ম নেওয়া তিনি ঢাকার কিশোরী লাল জুবিলী স্কুল ও কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজে পড়াশোনা করেন। শৈশবে বুড়িগঙ্গা নদীতে সাঁতারের মধ্য দিয়েই তার পথচলা শুরু। জীবনের এক পর্যায়ে তিনি লালকুঠির উল্টো দিকে ফরাসগঞ্জ রোডের বাড়িতে বেড়ে ওঠেন। সাঁতারের পাশাপাশি তিনি ক্রীড়াঙ্গনেও সক্রিয় ছিলেন ইস্টবেঙ্গল ফুটবল দলের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেছেন এবং ১৯৬৬–৬৭ সালে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ সিমেন্ট অ্যান্ড লাইম কোম্পানির স্বত্বাধিকারী ছিলেন।
সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মাওলা বখ্শ সরদার মেমোরিয়াল ট্রাস্ট এর সূচনা থেকেই তিনি উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে যুক্ত ছিলেন এবং ট্রাস্টের কার্যক্রমে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। ট্রাস্টের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত শিক্ষা অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেন, যা তার মানবসেবার প্রতি গভীর অঙ্গীকারের প্রমাণ বহন করে।

26/03/2026
05/03/2026

ঢাকার ইতিহাস,ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি চর্চা প্রতিষ্ঠান,

“ঢাকা কেন্দ্রের” ত্রয়োদশতম প্রকাশনা :"খাজা মুহম্মদ আযম'র ইসলামী পঞ্চায়েত ঢাকা"

কলমে: মুহাম্মদ আরিফুর রহমান

প্রকাশিত হয়েছে

অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষে

মূদ্রিত মূল্য ২৫০ টাকা

একুশে বইমেলা উপলক্ষে সর্বোচ্চ ৪০% ছাড়ে পাওয়া যাচ্ছে

শব্দ শিল্পে স্টল নং ৭২১,৭২২,৭২৩,৭২৪

(সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)

মেলা চলবে

১৫ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত


প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা

ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা

#শব্দশিল্প #ইসলামী_পঞ্চায়েত_ঢাকা ুশে_বইমেলা_২০২৬

এছাড়াও বইটি অনলাইনে সংগ্রহ করতে নিম্নোক্ত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করুন। অনলাইন ক্রয়েও সম্মানিত পাঠক ৪০℅ ছাড়ের সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।

হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর : +৮৮০ ১৭১২৯৯৫৭৯০

সবাইকে জানাই অপরিমেয় শুভকামনা ও কৃতজ্ঞতা।

ঢাকা—একটি নগর, একটি সভ্যতা, বহু শতকের ইতিহাসের ধারক। এই শহরের গৌরবময় অতীত রচিত হয়েছে নানা সময়ের নানা শাসনামলে, আর সেই ইত...
29/01/2026

ঢাকা—একটি নগর, একটি সভ্যতা, বহু শতকের ইতিহাসের ধারক। এই শহরের গৌরবময় অতীত রচিত হয়েছে নানা সময়ের নানা শাসনামলে, আর সেই ইতিহাস লিপিবদ্ধ হয়েছে বিভিন্ন ভাষায়। মুঘল, ব্রিটিশ এবং পরবর্তীকালে পাকিস্তান আমলে ফার্সি, উর্দু ও ইংরেজি ভাষার প্রাধান্য থাকায় ঢাকার ইতিহাসের বহু আকর গ্রন্থ রচিত হয়েছে এই ভাষাগুলোতেই।

ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের দায়বদ্ধতা থেকেই ঢাকা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এসব দুর্লভ ও মূল্যবান গ্রন্থ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। আজ সেই প্রচেষ্টার ফলশ্রুতিতে ঢাকা কেন্দ্রের সংগ্রহশালা প্রায় সহস্রাধিক দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থে সমৃদ্ধ—যা ঢাকার ইতিহাসচর্চায় এক অনন্য ভাণ্ডার।

সময়ের প্রয়োজনে এবং মাতৃভাষার প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে এই ভিন্ন ভাষায় রচিত অমূল্য গ্রন্থসমূহ বাংলায় ভাষান্তরের তাগিদ দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল। সেই ভাবনা থেকেই বাস্তব রূপ পেল প্রথম উদ্যোগটি। ঢাকার ঐতিহাসিক পঞ্চায়েতসমূহের প্রথম সুপারিন্টেন্ডেন্ট খাজা মুহম্মদ আযম রচিত উর্দু ভাষার গ্রন্থ “ইসলামী পঞ্চায়েত ঢাকা” এবার বাংলা ভাষায় পাঠকের হাতে তুলে দেওয়া হলো।

ঢাকার ইতিহাস ও সংস্কৃতিপ্রেমী পাঠকদের জন্য ঢাকা কেন্দ্রের এই প্রকাশনা গ্রন্থটি বিশেষভাবে সমাদৃত হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

বইটি ঢাকা কেন্দ্রের নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র এবং শব্দশিল্প প্রকাশনীতে পাওয়া যাচ্ছে। ৪০% ছাড়ে বর্তমান মুল্য ১৫০/- টাকা।

দার্শনিক নাট্যগুরু ও ঢাকার কৃতি সন্তান সাঈদ আহমেদের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ঢাকা কেন্দ্রের গভীর শ্রদ্ধাকীর্তিমান নাট্য ব্য...
21/01/2026

দার্শনিক নাট্যগুরু ও ঢাকার কৃতি সন্তান সাঈদ আহমেদের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ঢাকা কেন্দ্রের গভীর শ্রদ্ধা

কীর্তিমান নাট্য ব্যক্তিত্ব সাঈদ আহমদ (১৯৩১–২০১০)

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নাট্যকার, দার্শনিক চিন্তার ধারক এবং আধুনিক বাংলা নাটকের অন্যতম পথিকৃৎ সাঈদ আহমদ ১৯৩১ সালের ১ জানুয়ারি পুরান ঢাকার ইসলামপুর সংলগ্ন আশেক লেনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এক পরিবারের সন্তান।

তাঁর পিতা মির্জা এফ. মোহাম্মদ ঢাকার ঐতিহ্যবাহী লায়ন থিয়েটারের যৌথ মালিক এবং একজন সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিত্ব। মাতা জামিলা খাতুন। চাচা মির্জা আবদুল কাদের সরদার ছিলেন ঢাকার বাইশ পঞ্চায়েতের প্রধান সরদার। চার ভাই ও পাঁচ বোন সকলেই পুরান ঢাকার পৈত্রিক নিবাসেই জন্ম ও বেড়ে ওঠেন।

শিক্ষাজীবনে সাঈদ আহমদ ছিলেন কৃতিত্বপূর্ণ। তিনি ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৫৬ সালে লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। শিক্ষাজীবনকালেই তিনি বেতারে সেতার বাদক হিসেবে কাজ করেন এবং ১৯৫৪ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (বিবিসি)-এ যুক্ত ছিলেন। এ সময় তিনি ব্রিটিশ টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং লন্ডনের নামকরা থিয়েটার ও কনসার্ট হলে বাদ্যযন্ত্র পরিবেশন করেন।

ইউরোপে অবস্থানকালে তিনি প্যারিসের টেলিভিশন ও বিভিন্ন নাট্যমঞ্চে কাজ করেন এবং জার্মানি, স্পেন ও ইতালির বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেন। পাশাপাশি পাক-ভারত উপমহাদেশের নাট্যচর্চা বিষয়ক বহু কর্মশালা ও আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

কর্মজীবনের শুরুতে তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে করাচিতে অবস্থান করেন। চাকরির পাশাপাশি তখনই নাটক লেখায় মনোনিবেশ করেন। এ সময় তিনি Paintings of Pakistani Artists এবং পরবর্তী পনের বছরের শিল্পচর্চা নিয়ে Paintings of Bangladesh Arts সংকলন করেন। চিত্রকলার ওপর তাঁর অসংখ্য প্রবন্ধ ও গবেষণাধর্মী লেখা রয়েছে এবং তিনি বিশ্বের বিভিন্ন কর্মশালায় এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন ও ক্লাস নেন।

নাট্যকার হিসেবে তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
দ্য থিঙ্ক (১৯৬১) – কালবেলা, মাইলপোস্ট (১৯৬৪), দ্য সারভাইভাল (১৯৬৭) – তৃষ্ণায়, ওয়ান ডে অ্যান্ড এভরিডে (১৯৭৪) – প্রতিদিন একদিন, এবং লাস্ট নওয়াব অব বেঙ্গল – শেষ নবাব। এই নাটকগুলো তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা বাংলায় অনুবাদ করেন এবং ঢাকার বিভিন্ন নাট্যগোষ্ঠী মঞ্চায়ন করে। সাঈদ আহমদ বাংলা নাটকে অস্তিত্ববাদী দর্শন ও অধিবাস্তবতার সংমিশ্রণে এক নতুন ধারার সূচনা করেন। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে তিনি যে নাট্যভাষা নির্মাণ করেন, তা একজন শেকড়ঘেঁষা অথচ আধুনিক নাট্যকারের স্বাক্ষর বহন করে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি সচিবালয়ে যোগ দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ টেলিভিশনে নিয়মিতভাবে নাট্য বিষয়ক কাজ শুরু করেন। তিনি অনুষ্ঠানমালা উপস্থাপনা, বিদেশি নাট্যব্যক্তিত্ব ও কলাকুশলীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণসহ বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

অত্যন্ত সদালাপী, রসিক ও প্রাণবন্ত মানুষ সাঈদ আহমদ নিজেকে আজীবন পুরান ঢাকার সন্তান হিসেবে গর্বের সঙ্গে পরিচয় দিতেন।

২০১০ সালের ২১ জানুয়ারি তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। একই বছর তিনি মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হন।

উল্লেখ্য, তাঁর বড় ভাই নাজির আহমদ—বিবিসি বাংলা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা—ছিলেন দক্ষ অভিনেতা, আবৃত্তিকার ও সাহিত্যবোদ্ধা। অপর ভাই শিল্পী হামিদুর রাহমান ছিলেন শহীদ মিনারের নকশাকার।

২০০৬ সালে মরহুম সাঈদ আহমদ ‘ঢাকা প্রদর্শনী কক্ষ’-এর উদ্বোধন করেন—যা ঢাকার সংস্কৃতি চর্চায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

তথ্যসূত্র: ত্রৈমাসিক ঢাকা (ঢাকা কেন্দ্রের মুখপত্র)

সর্বজন শ্রদ্ধেয়, জনহিতৈষী ও মহানুভব মরহুম মাওলা বখ্শ সরদার সাহেবের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা আজও গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় নত...
15/01/2026

সর্বজন শ্রদ্ধেয়, জনহিতৈষী ও মহানুভব মরহুম মাওলা বখ্শ সরদার সাহেবের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা আজও গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় নত।

১৯৪৪ সালে ঢাকার নবাব কর্তৃক ‘বাইশ পঞ্চায়েত’ এর একজন সরদার মনোনীত হন মাওলা বখ্শ। জীবদ্দশার প্রায় পুরোটা সময়ই সমাজের নানা কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করেছেন। পরপর তিনবার ১৯৫১, ১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে ঢাকা পৌরসভার কমিশনার নির্বাচিত হন। ১৯৫৬-৫৭ সালে ঢাকার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিকল হয়ে গেলে ব্রিটিশ কারিগরদের চার লাখ টাকা দাবির বিপরীতে তিনি মাত্র কয়েক হাজার টাকার বিনিময়ে সে সমস্যার সমাধান করেছিলেন। ঐতিহ্যবাহী ফরাশগঞ্জ ক্লাবের যাত্রা শুরু তার বাড়িতেই। তার হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয় পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এ ফুটবল ক্লাবটি।

মাওলা বখ্শ সরদার ছিলেন ঢাকার পঞ্চায়েত ব্যবস্থার অন্যতম প্রভাবশালী একজন সরদার। এ ব্যবস্থায় জীবিত সরদারদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সর্বশেষ প্রতিনিধি। সরদার হিসেবে ছিলেন ন্যায়বিচারক, মানবদরদি ও অসাম্প্রদায়িক। বাবা পেয়ার বখ্শ ও ছিলেন পঞ্চায়েত সরদার। মাওলা বখ্শ ১৯০৯ সালে সূত্রাপুরের ওয়াল্টার রোডে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক শিক্ষা শুরু যোগীনগরের এক টোলে। এরপর মাধ্যমিক পর্যন্ত লেখাপড়া করেন ইস্ট বেঙ্গল ইনস্টিটিউশনে। শৈশবে তিনি পৈতৃক ব্যবসায়ে না জড়িয়ে পালিয়ে কলকাতা চলে যান। সেখানে গিয়ে বেশ কিছুদিন একটি মোটর ওয়ার্কশপে কাজ শেখেন। তারপর আবার ফিরে আসেন ঢাকায়। ঢাকা এসে ‘এক্সেল ওয়ার্কশপ’ নামে এক ব্রিটিশ ভদ্রলোকের ওয়ার্কশপে কর্মক্ষেত্রে যোগ দেন। পরে ব্রিটিশ ভদ্রলোক দেশে ফিরে যাওয়ার সময় ওয়ার্কশপটি উপহার হিসেবে তাকে দিয়ে যান। ১৯৩২ সালে ওই ওয়ার্কশপের যন্ত্রপাতি দিয়েই নতুন করে চালু করেন ‘ইন্ডিয়া অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ’, যা এ দেশের বাঙালি মুসলমানদের মালিকানাধীন প্রথম ওয়ার্কশপ। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশরা ওই ওয়ার্কশপটি অধিগ্রহণ করে। ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পর তিনি আবার ওয়ার্কশপটি নিজের মতো করে সাজিয়ে তোলেন। ১৯৪৪ সালে ঢাকার নবাব কর্তৃক ‘বাইশ পঞ্চায়েত’-এর একজন সরদার মনোনীত হন মাওলা বখ্শ। তার জীবদ্দশার প্রায় পুরোটা সময়ই সমাজের নানা কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করে গেছেন।

১৯৬৭ সালে ঢাকার তৎকালীন পৌর চেয়ারম্যান মঈনুদ্দীন সাহেবকে নিয়ে বিয়ে-শাদিসহ নানা সামাজিক অনুষ্ঠান উদ্যাপনের জন্য গড়ে তোলেন একটি কমিউনিটি সেন্টার। সে সেন্টারটি এখন মঈনুদ্দীন চৌধুরী মেমোরিয়াল হল নামে পরিচিত। নর্থব্রক হল লাইব্রেরির সংস্কারও করেন তিনি। ১৯৫৬ সালে গেন্ডারিয়া-বাঘাবাড়ী সংযোগ রাস্তা নির্মাণেও তিনি ছিলেন অগ্রণী ভূমিকায়। ১৯৬৯ সালে ফরাশগঞ্জ জামাতখানার পেছন থেকে চামারটুলী হয়ে সূত্রাপুর বাজার পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রেও রাখেন অগ্রণী ভূমিকা। তিনি ১৯৬৬ সালে সূত্রাপর স্পোর্টিং ক্লাব ও লক্ষ্মীবাজারের নবযুগ বসাক লেনে প্রতিষ্ঠা করেন জাগৃতি সংঘ।
বাংলায় প্রজাস্বত্ব আইন নিয়ে আন্দোলন শুরু হলে ঢাকাবাসীর পক্ষে তিনি নেতৃত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে এগিয়ে আসেন আন্দোলনের মূলভাগে। ১৯৩৯ সালের দুর্ভিক্ষে শহরের অভুক্ত মানুষের আহার জোগাতেও এগিয় গিয়েছিলেন তিনি। শিক্ষা বিস্তারে ফরাশগঞ্জের বেশিরভাগ স্কুল ও মাদ্রাসায় তার অবদান অপরিসীম। তার এলাকাটা ছিল হিন্দুপ্রধান। তাদের তিনি অন্তর দিয়ে ভালোবাসতেন।

এ মহান ব্যক্তি ১৯৮৭ সালের ১৫ জানুয়ারি পৃথিবীর আলোছায়া ছেড়ে পরলোকগমন করেন । তাঁর মানবসেবা, আদর্শ ও কর্মগাথা সময়ের পর সময় আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

শুভ জন্মদিন! হে আলোর পথযাত্রী!আপনার জীবন ও কর্মের জন্য আমরা যে কৃতজ্ঞতা অনুভব করি, তা কোনো শব্দেই পুরোটা প্রকাশ করা সম্ভ...
25/12/2025

শুভ জন্মদিন! হে আলোর পথযাত্রী!

আপনার জীবন ও কর্মের জন্য আমরা যে কৃতজ্ঞতা অনুভব করি, তা কোনো শব্দেই পুরোটা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও চর্চায় আপনার আজীবন অবদান আমাদের গর্বিত করেছে। আপনি শুধু ইতিহাস নিয়ে কথা বলেননি—আপনি ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি চর্চার জন্য একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, যা এই শহরের স্মৃতি ও আত্মাকে লালন করে চলেছে। আপনার কাজ কেবল একটি শহরের গল্প নয়; এটি একটি জাতির স্মৃতি, অস্তিত্ব ও পরিচয়ের প্রতিফলন।

আপনি কথা ও কাজে একই মানুষ। “দাও আলো দাও জীবন” স্লোগানে একটি দাতব্য চক্ষু চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করে অসংখ্য মানুষের চোখে আলো ফিরিয়েছেন। আবার “দুস্থের সেবায়” এই মানবিক অঙ্গীকারকে সামনে রেখে গড়ে তুলেছেন একটি ট্রাস্ট, যা নীরবে কিন্তু দৃঢ়ভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। একই সঙ্গে আপনি প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত আছেন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত একটি বিশেষ জনকল্যাণ সংস্থার সঙ্গে—যার পথচলা শতাব্দী পেরিয়েও মানবসেবার আলোকবর্তিকা হয়ে আছে।

আপনার উপস্থিতি আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে এক আশীর্বাদ। আপনি আমাদের প্রজন্মকে শিখিয়েছেন কীভাবে একটি শহরের প্রতিটি ইট, পথ আর গাছের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়। আপনার কাজ ঢাকার প্রতি আমাদের ভালোবাসাকে নতুন করে চিনতে শিখিয়েছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে গেছে অমূল্য উত্তরাধিকার।

৭৮ পূর্তির এই বিশেষ দিনে আমরা কামনা করি আপনার জীবনে সুখ, শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু। আপনার চিন্তা, কর্ম ও মানবিক আলোর পথ যেন আরও বহু বছর আমাদের দিকনির্দেশনা দেয়। আপনি আমাদের অনুপ্রেরণা। আপনার এই আলোকিত যাত্রায় আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে পাশে আছি।

শুভ জন্মদিন।

যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমাদের এই স্বাধীনতা সেই সকল বীর শহীদদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি
16/12/2025

যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমাদের এই স্বাধীনতা সেই সকল বীর শহীদদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি

সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা।
02/10/2025

সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা।

Address

২৪ মোহিনী মোহন দাস লেন
Dhaka
1100

Opening Hours

Monday 15:00 - 19:00
Tuesday 15:00 - 19:00
Wednesday 15:00 - 19:00
Thursday 15:00 - 19:00
Friday 15:00 - 19:00
Saturday 15:00 - 19:00
Sunday 15:00 - 19:00

Telephone

+8801712995790

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dhaka kendra-ঢাকা কেন্দ্র posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Dhaka kendra-ঢাকা কেন্দ্র:

Share