05/08/2026
শয়তানকে আপনি যতটা ভয়ংকর ভাবেন, সে তার চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান!
সবচেয়ে ভয়ংকর প্রতারক সে নয়, যার চেহারা দেখে মানুষ ভয় পায়। সবচেয়ে ভয়ংকর প্রতারক সে, যার কথা শুনে মানুষ তাকে নিজের শুভাকাঙ্ক্ষী মনে করে।
আজ অনেকের মনে শয়তানের যে ছবি আঁকা আছে, সেটা কুরআন-সুন্নাহর নয়; বরং শিশুদের কার্টুনের। লাল রঙের, শিংওয়ালা, বিকৃত চেহারার এক দানব-যে নাকি কানে কানে এসে বলবে, "যাও, গুনাহ করো!"
কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
এটাই ইবলিসের সবচেয়ে বড় সাফল্য। কারণ সে আপনাকে এমন এক কাল্পনিক শত্রুর খোঁজে ব্যস্ত রেখেছে, অথচ নিজের আসল কৌশল আপনার চোখের আড়ালে রেখে দিয়েছে।
ইবলিস কখনোই মানুষের সামনে এসে নিজেকে শয়তান পরিচয় দেয় না। সে নিজেকে উপস্থাপন করে একজন পরামর্শদাতা, শুভাকাঙ্ক্ষী, বাস্তববাদী কিংবা যুক্তিবাদী হিসেবে। সে জানে-মানুষকে জোর করে পথভ্রষ্ট করা যায় না; কিন্তু সুন্দর ভাষা, আকর্ষণীয় যুক্তি এবং আবেগের মোড়কে ভুলকে সাজিয়ে দিলে মানুষ নিজেই সেই পথে হাঁটতে শুরু করে।
কুরআনের প্রথম ঘটনাটাই তার প্রমাণ।
আল্লাহ তা'আলা যখন আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সিজদা করার নির্দেশ দিলেন, ইবলিস তখন প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেনি। সে নিজের অহংকারকে যুক্তির পোশাক পরিয়ে বলেছিল-
﴿قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِّنْهُ خَلَقْتَنِي مِن نَّارٍ وَخَلَقْتَهُ مِن طِينٍ﴾
"আমি তো তার চেয়ে উত্তম। আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।"
দেখুন, কী সূক্ষ্ম প্রতারণা! অবাধ্যতাকে সে এমনভাবে উপস্থাপন করল যেন মনে হয় সে ন্যায়সঙ্গত একটি যুক্তি দিচ্ছে।
এরপর জান্নাতে আদম (আলাইহিস সালাম)-এর কাছেও সে বলেনি, "আল্লাহর অবাধ্য হয়ে যান।" বরং মানুষের স্বাভাবিক দুর্বলতা-দীর্ঘ জীবন, উচ্চ মর্যাদা ও স্থায়ী সুখের আকাঙ্ক্ষাকে লক্ষ্য করে সে বলল-
﴿وَقَالَ مَا نَهَىٰكُمَا رَبُّكُمَا عَنْ هَٰذِهِ ٱلشَّجَرَةِ إِلَّآ أَن تَكُونَا مَلَكَيْنِ أَوْ تَكُونَا مِنَ ٱلْخَٰلِدِينَ﴾
তারপর সন্দেহ দূর করতে শপথও করল-
﴿وَقَاسَمَهُمَآ إِنِّي لَكُمَا لَمِنَ ٱلنَّاصِحِينَ﴾
"আমি তো তোমাদের সত্যিকারের কল্যাণকামী।"
এই কৌশল আজও বদলায়নি।
ইবলিস আজও কাউকে বলে না, "সুদ খাও।" সে বলে, "পরিবারের ভবিষ্যৎ তো নিশ্চিত করতে হবে!"
সে বলে না, "অশ্লীলতা ছড়াও।" সে বলে, "এটা ব্যক্তিস্বাধীনতা, আধুনিকতা, নিজের মতো বাঁচার অধিকার।"