CCS works to raise awareness and advocate for the protection of consumer rights. It has over 1,00,000 volunteers and 90 committees. এক নজরে সিসিএস:
দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পণ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার হচ্ছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। এর মধ্যে ফরমালিন, ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়াম, মেলামাইন ও কার্বাইডসহ বিষাক্ত রাসায়নিক অন্যতম। ফলে মানুষের লিভার, কিডনি, পাকস্থলি, ফুসফুসসহ নানা অঙ্গ ক্ষতি
গ্রস্ত হচ্ছে। যা ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন। মারণব্যাধী ক্যানসারসহ জটিল রোগ বাসা বাঁধছে মানবদেহে; যাকে অনেকেই ‘নীরব গণহত্যা’ বা ‘নীরব মহামারি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই মহামারি থেকে ভোক্তাকে সুরক্ষা দিতে বিশ্বজুড়ে যেমন ভোক্তার অধিকার রয়েছে, তেমনি রয়েছে বাংলাদেশেও। দেশে ২০০৯ সালে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯’ পাস হয় এবং ‘জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠিত হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি ও জনমত গঠন করা প্রয়োজন। এই মহান উদ্দেশ্য নিয়ে ২০১৩ সালে সিনিয়র সাংবাদিক পলাশ মাহমুদ-এর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘কনশাস কনজ্যুমার্স সোসাইটি’ (সিসিএস)। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে প্রায় ১২০০০ স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে দেশের ৬১টি জেলায়, ৩৪৫টি থানায় ও ৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করে যাচ্ছে। সিসিএস ‘জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর’ (ডিএনসিআরপি) এর সঙ্গে সমন্বয় করে ও যৌথভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম ও অর্জন:
১. ‘শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ অর্জন:
করোনার মধ্যে স্বেচ্ছাসেবা কার্যক্রমের জন্য ‘শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করে ‘কনশাস কনজ্যুমার্স সোসাইটি (সিসিএস)’-এর স্বেচ্ছাসেবী প্লাটফর্ম ‘করোনায় স্বেচ্ছাসেবী’ বা ‘সিসিএস স্বেচ্ছাসেবী’। ৮৯টি দেশের প্রায় ৪০ লাখ প্রতিযোগীর মধ্যে ১৮২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ২০২১ সালে ‘ঢাকা ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল ২০২০’ এর অধীনে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর নামে ‘শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২০’-এর আয়োজন করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বঙ্গভবন থেকে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
২. ‘আন্তর্জাতিক যুব সম্মাননা-২০১৯’ অর্জন:
ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখায় ‘কনশাস কনজ্যুমার্স সোসাইটি (সিসিএস)’-এর প্রতিষ্ঠাতা পলাশ মাহমুদকে দিল্লিতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ বা ‘আন্তজাতিক যুব সম্মাননা-২০১৯’ প্রদান করা হয়। ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ কনফারেন্স অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ড সিরিমনি-২০১৯’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশে^র ১০ জন গুরুত্বপূর্ণ তরুণকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
৩. ভোক্তা সম্মেলন:
দেশে প্রথম ‘ভোক্তা অধিকার সম্মেলন-২০২২’ আয়োজন করা হয়। ২৪ মার্চ ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব এএইচএম শফিকুজ্জামান ও পরিচালক জনাব মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারসহ অন্যরা। সম্মেলনে দেশের ৪৭টি জেলা ও ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৩০০ ভোক্তা সংগঠক অংশগ্রহণ করেন।
৪. ভোক্তা অধিকার বিষয়ক সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান:
ভোক্তার স্বার্থ সুরক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য সিসিএস ২০২২ সালে চার বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ‘ভোক্তা স্বার্থে অসামান্য অবদানের জন্য বিশেষ সম্মাননা’ ও ১০ সাংবাদিককে ‘ভোক্তা অধিকার সাংবাদিকতা পুরস্কার-২০২২’ প্রদান করে। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডাব্লিটিও সেলের প্রধান জনাব এএইচএম শফিকুজ্জামান, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রাক্তণ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব মাহবুব কবীর মিলন, পিরোজপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব মহিউদ্দীন মহারাজ ও অধিদপ্তরের পরিচালক জনাব মনজুমর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। এছাড়া টেলিভিশন থেকে চার জন, পত্রিকা থেকে তিন জন ও অনলাইন থেকে তিন জন সাংবাদিককে ‘ভোক্তা অধিকার সাংবাদিকতা পুরস্কার-২০২২’ প্রদান করে।
৫. ৫২ পণ্যের রিট:
২০১৮ সালে ৫২টি ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন কর সিসিএস। রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ৫২টি ভেজাল পণ্য নিষিদ্ধ করেন এবং বাজার থেকে প্রত্যাহারের আদেশ দেন; যা দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। একইসঙ্গে এই রিটের ফলে বড় বড় কোম্পানি তাদের কোয়ালিটি কন্ট্রোল উন্নত করে। ফলে ভোক্তাসাধারণ দীর্ঘ মেয়াদে উপকৃত হয়েছে।
৬. ১৬১২১ হটলাইন:
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন নাম্বার ১৬১২১। ভোক্তা অধিকার সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়ে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে উক্ত নাম্বারে ফোন করলে ২৪ ঘণ্টা সেবা পাওয়া যায়। ২০১৮ সালে ৫২ পণ্য নিয়ে হাইকোর্টে সিসিএস রিট করলে ওই রিটের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে পরবর্তীতে হটলাইনটি চালু করা হয়।
৭. ই-কমার্স গ্রাহকদের সুরক্ষা:
২০২১ সালে ই-কমার্স গ্রাহকদের সুরক্ষায় বড়সড় ভ‚মিকা রাখে সিসিএস। একটি এমএফএস গেটওয়েতে ১৮ হাজার গ্রাহকের আটকে যাওয়া কয়েক’শ কোটি টাকা ছাড় করাতে সিসিএস সক্রিয় ভ‚মিকা পালন করে। শেষ পর্যন্ত সকল গ্রাহক টাকা ফেরত পায়। এবং অন্যান্য গেটওয়েতে আটকে থাকা গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে ১ হাজার ৬৮ জন ভোক্তার পক্ষে রিট পিটিশন করে সিসিএস।
৮. মাসিক প্রকাশনা:
সিসিএস ‘কনজ্যুমার ওয়াচ’ নামে একটি মাসিক ম্যাগাজিন প্রকাশ করে। ম্যাগাজিনটি প্রায় ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৫০টির বেশি জেলায় বণ্টন করা হয়। ‘কনজ্যুমার ওয়াচ’ সিসিএস এর মূখপাত্র হিসেবে কাজ করে।
৯. কীটনাশকে হেভিমেটাল বন্ধে রিট:
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরীক্ষায় দেখা যায়, দেশে বেশির ভাগ কিটনাশকে মাত্রাতিরিক্ত হেভিমেটাল রয়েছে। দেশে কীটনাশক আমদানির ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরিতে মান পরীক্ষার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর কিটনাশক আমদানিতে ল্যাব টেস্ট বাধ্যতামূলক করার দাবিতে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেছে সিসিএস।
১০. সেমিনার:
সিসিএস এ পর্যন্ত ৮টির বেশি সেমিনার আয়োজন করেছে। এসব সেমিনারে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সাবেক তত্ত¡াবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও কর্মকর্তাবৃন্দ, র্যাব কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন পণ্য উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সুপারশপের প্রতিনিধিসহ নানান অংশীজন উপস্থিত থাকেন।
১১. প্রশিক্ষণ:
সিসিএস-এর যুব সংগঠন সিওয়াইবি বর্তমানে প্রায় ৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থীকে ভোক্তা অধিকারের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় , রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গণবিশ্ববিদ্যালয়সহ ২০০ থেকে ১৮শ’ জন পর্যন্ত শিক্ষার্থী নিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
১২. দিবস পালন ও প্রচারণা:
সিসিএস-এর পক্ষ থেকে প্রতি বছর ‘বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস’ পালন ও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। একযোগে সারাদেশে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়। একইসঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জেলা ও থানায় ভোক্তা অধিকার বিষয়ক লিফলেট বিতরণসহ নানান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
১৩. ভোক্তাদের সহযোগিতা:
কোনো ভোক্তা যদি অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হন এবং তিনি সিসিএসকে অবহিত করেন, সিসিএস তার অধিকার বুঝে পেতে ও প্রতিকার পেতে সযোগিতা করে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ ভোক্তাকে সরাসরি সহযোগিতা করেছে সিসিএস। এ ছাড়া ডিজিটালমাধ্যমে শত শত ভোক্তাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
১৪. ভোক্তা স্বার্থে গবেষণা:
ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় সিসিএস এ পর্যন্ত ছোট আকারে কয়েকটি রিসার্চ করেছে। এর মধ্যে আলোচিত ছিল; ‘বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ডাইনিং-ক্যানটিনে খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা’ এবং ‘সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি ও প্রতিকার।’ পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির গবেষণার ফলাফল ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
১৫. ল্যাব টেস্ট:
সিসিএস বিভিন্ন সময়ে স্বল্প পরিসরে কিছু পণ্য ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করিয়ে থাকে। ২০১৮ সালে গুণাগুণ পরীক্ষার জন্য আটটি ব্রান্ডের লবণের ল্যাব টেস্ট করা হয়। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্রান্ডের লবণ নিম্নমানের বলে পরীক্ষায় ধরা পড়ে।
১৬. মানবিক কার্যক্রম:
ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজের পাশাপাশি সিসিএস সময়ে সময়ে মানিবক কার্যক্রম হাতে নিয়ে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো, লালমনিরহাটে নিঃসন্তান বৃদ্ধ দম্পতিকে ১ লাখ টাকা ব্যয়ে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া। ঘরের সঙ্গে বাথরুম ও টিউবওয়েলও স্থাপন করে দেওয়া হয়। উপক‚ল এলাকায় সুপেয় পানি সংকটের কারণে সাতক্ষীরার আশাশুনিতে কয়েকটি টিউবওয়েল স্থাপন করে দেওয়া হয়েছে।
১৭. ডিজিটাল প্রচারণা:
ভোক্তাদের সচেতন করতে সিসিএস বেশির ভাগ সময় ডিজিটাল প্রচারণা চালিয়ে থাকে। এ জন্য নির্বাহী পরিচালকের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ, সিসিএস-এর অফিসিয়াল ভেরিভায়েড পেজ, সিওয়াইবি ও সিসিএস স্বেচ্ছাসেবীর অফিসিয়াল পেজ, সিসিএস-এর অফিসিয়াল গ্রæপ ও সিসিএস স্বেচ্ছাসেবীর অফিসিয়াল গ্রুপসহ বিভিন্ন গ্রুপে ও পেজে ডিজিটাল প্রচারণা চালানো হয়। এ ছাড়া ইউটিউব, স্নাপচ্যাট, লিঙ্কডইন, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্লাটফর্মে ডিজিটাল প্রচারণায় তিন ধরনের কনটেন্ট দেওয়া হয়- ছবি, টেক্সট ও ভিডিও।
১৮. কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ভূমিকা:
করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হলে সিসিএস প্রায় ১২ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর বিশাল দল গড়ে তোলে। ৩৩৫টি থানায়, ৬১টি জেলায় ও ৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবা পরিচালিত হয়। এসময় প্রায় ২০ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থীকে নগদ অর্থসহায়তা দেয়া হয়। এর মধ্যে ২০০ শিক্ষার্থীকে তিন মাস ১ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়।