28/08/2025
দেশের কোমলমতি প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিহিংসা, আত্ম অহমিকাবোধ ও প্রপোগান্ডা ছড়িয়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য পিছন থেকে কারা ইন্ধন দিচ্ছেন?
কই স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও বিএসসি/ডিপ্লোমা পদ, গ্রেড কোটা, মর্যাদা নিয়ে এমন বিষেধাগার আন্দোলন করতে দেখিনি, যা দেখেছি তা হচ্ছে বিএসসি প্রকৌশলীরা প্রকৌশল পেশার চেয়ে প্রশাসন ক্যাডারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। হয়ত এই কারণেই মেগাপ্রকল্পে কনসালটেন্ট, ডিজাইন ড্রয়িং সমস্থ কিছু আমদানি নির্ভর। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দেশে যথেষ্ট থাকলেও গবেষণা নাই, উদ্ভাবন নেই, সৃজনশীলতার কোনো চর্চা নেই। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্থান ও চীন বিশ্ব ক্ষমতাধর দেশেরগুলোর মধ্য অন্যতম। শুধু পেশি শক্তি নয়, জ্ঞান বিজ্ঞানের গবেষণায় ও প্রযুক্তির চর্চায় এবং উদ্ভাবনে আধুনিক বিশ্বে অবদান রাখছে। মেশিনারিজ, ইলেকট্রনিক্স, আইটি, শিল্প, সমরাস্ত্র, চিকিৎসা কোনো ক্ষেত্রের কথা বলব- পার্শবর্তীরা পারে, তৈরি করে , সরবরাহ করে সোনার বাংলায় সেগুলোর গলদকরণ হয়। নিজের যোগ্যতায় তৈরী উল্লেখ্যযোগ্য তেমন কিছুই নেই মেধাবি তকমা ছাড়া। যেখানে ঢাকা শহরে ব্যাটারি চালিত রিক্সার ব্যবহার সীমিত করার চিন্তা সরকারের সেখানে কপি- পেষ্ট নির্ভর প্রচলিত রিক্সার অবতারণা করেছে দেশের সর্বোচ্চ প্রকৌশল বিদ্যাপীঠ বুয়েট। কমতি আছে, সীমাবদ্ধতা আছে, কিন্তু সদিচ্ছা কতটুকু আছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান কিংবা রাষ্ট্রের? জটিল ম্যাথ- ইকুয়েশন সলভ করে মেধার স্বীকৃতি নিয়ে দেশের বাহিরে পারি জমায় আমাদের দেশের উচুতলার মেধাবিরা। উচ্চ বেতনে আয় রোজগার করে সংসার চালানোর জন্য সরকার জনগনের রাজস্বখরচ করে বিনামূল্যে উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে? যদি তাই না হয় বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্ররা কেন দেশের বৃহৎ ডিপ্লোমা প্রকৌশলী কমিউনিটির পেছনে উঠেপড়ে লেগেছে, কেন যমুনা ঘেরাও, ১০ গ্রেড কেন তাঁদের আন্দোলনের লক্ষবস্তু হবে? নাকি এদেরকে কোনো গোষ্ঠী/শ্রেণি ব্যবহার করছে ভাবার বিষয়।
"ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং" কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায় মিড লেভেলের ৪ বছর মেয়াদি ইঞ্জিনিয়ারিং যোগ্যতার কারিকুলাম সংবলিত প্রকৌশল ডিগ্রি। এটাকে সাধারণ শিক্ষার সাথে সমতুল্য করার সুযোগ নেই। পাঠক্রম এমনভাবে সাজানো যাতে একজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী তাত্ত্বিক এবং ব্যবহারিক জ্ঞানে অর্জিত দক্ষতা প্রকৌশল/কারিগরি খাতে দেশের উন্নয়নমূলক/সেবা কর্মকান্ডে অবদান রাখতে পারে। চাকরিক্ষেত্রে মাঠের কাজ বাস্তবায়নে সরাসরি নিয়োজিত থাকে উপ-সহকারী প্রকৌশলীরা , উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ৪বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন- ইঞ্জিনিয়ারিং, যা সরকারি গেজেটদ্বারা স্বীকৃত। ৬-১০ বছর মাঠে সরাসরি কারিগরি কাজে সম্পৃক্ত থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন, এনালাইসিস, মূল্যায়ন ও সমস্যা সমাধান করে কারিগরি কাজে ত্বাত্তিক ও ব্যবহারিকভাবে তাঁরা দক্ষ প্রকৌশলী হিসাবে গড়ে উঠে। যার কোনো বিকল্প হতে পারে না। বাস্তবভিত্তিক অভিজ্ঞতায় দক্ষ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা বড় পরিসরে বাস্তবায়ন এবং চাকরি নিয়মানুযায়ী অন্যান্য চাকরির ন্যায় পদোন্নতির সুযোগ থাকে। যা স্বাভাবিক।
দেশের কারিগরি সেক্টরে বিএসসি ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং যোগ্যতা সম্পন্নরা যথাক্রমে ১০ম ও ৯ম গ্রেডে এন্ট্রি পদে যোগদান করে একে অপরের পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে সহযোগী হয়ে ফিল্ডে ও ডেস্কে কাজ করছে, কোনো কলাহল নেই, বৈষম্য নেই, যার যার মেধা, দক্ষতা যোগ্যতা দিয়ে পদোন্নতি পাচ্ছে। কোটার অভিযোগ অমূলক এবং বিভ্রান্তিকর। সবকিছু সরকারি গেজেটও বিধি বিধান সমর্থিত ও কর্মপরিবেশ সুশৃঙ্খল। ভোকেশনাল এসএসসি, ভোকেশনাল এইএসসি, ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কারিকুলাম প্রণয়ণেও বুয়েটসহ গ্রেজুয়েট ইঞ্জিনিয়ারদের অংশগ্রহণ, মতামত ছিল, কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারি নীতি নির্ধারণে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষক অধ্যাপক, গবেষক সম্পৃক্ত ছিল না, তা নয়। কারিকুলাম, শিক্ষাবছর সমস্থ কিছু বিচার বিশ্লেষণ, যাচাই-বাচাই করে পদ-পদবি যোগ্যতা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে। তাহলে কথিত বুয়েট রুয়েট গংদের উস্কে রাস্থায় নামিয়ে দিল কারা? অযৌক্তিক, লজ্জাকর ৩ দফায়- ১০ গ্রেডে চাকরি দরকার তাদের, ডিপ্লোমারা চাকরিও পাবে না, কোনো পদন্নোতিও পাবে না। তাহলে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায় only বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিই থাকুক, তারা টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে উপ-সহকারী, সহকারী সব কাজই তো পারবেন। টেকনিক্যাল স্কুল, কলেজ, পলিটেকনিক বন্ধ করে দেওয়ার দাবিটা থাকা দরকার!!!
এ লজ্জা সবার, এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র আছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না, ভাবাই যায় এদেশের
নোংড়া রাজনৈতিক প্রভাব ! সঠিক তথ্য উপাত্ত তাদের অজানা থাকার কথা নয়, বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের উপ-সহকারী প্রকৌশলীর নিয়োগ পরীক্ষা বুয়েট নিজেই নিচ্ছে, standard Question হচ্ছে। কই কখনোতো বুয়েট বলেনি যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায়নি। টেকনিশিয়ান নিয়োগ হচ্ছে ভোকেশনাল, বিজ্ঞান এসএসসি/এইএসসি ট্রেড কোর্স থেকে। টেকনিক্যাল পদ অনুযায়ী শিক্ষাগতযোগ্যতা সাজানো হয়েছে।
পেশাজীবিদের মাঝে তো দ্বন্দ্ব নেই, বরং পারস্পরিক সহযোগিতার ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজমান বিভিন্ন কারিগরি সেক্টরে। অনেকক্ষেত্রে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা পদোন্নতি পেয়ে অধিক দক্ষতার সাথে প্রকল্প বাস্তবায়ন, মূল্যায়ন ও সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। যা দেশের শ্রম ও অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। প্রকৃত জ্ঞানের অন্য নাম অভিজ্ঞতা। যা আপনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা সমধানে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।
পেশাদারী একটা বৃহৎ শ্রেণি ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সড়ক, তথ্য প্রযুক্তি, ইউটিলিটি সেবা, শিল্প কারখানা খাতে রাত দিন কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। নিজেদের পদ-পদবী, পদোন্নতি ও অর্জিত মর্যাদা নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলে দেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়ন তথা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে তা অধিকার সচেতন হাজার হাজার ডিপ্লোমা ছাত্র শিক্ষক পেশাজীবি & অভিভাবক চেয়ে চেয়ে দেখবে? দুর্বার, রক্তক্ষয়ী আন্দোলন হবে প্রতিটা জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। এমন পরিস্থিতি কারো জন্যই শুভকর নয়, আমাদের কাম্য নয়। তবে অস্থিত্বের প্রশ্নে আঘাত আসলে তা বহুগুনে ফেরত দেওয়ার জন্য ডিপ্লোমা পরিবার সচেষ্ট আছে।
আশা করি সরকার দায়িত্বশীলতার সাথে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের অযৌক্তিক ও অবৈধভাবে চাওয়া ৩ দফা দাবির বিপরীতে ব্যবস্থা নিবেন এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ন্যায্য অধিকার সুরক্ষার ৭ দফা দাবি কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিকাশ ও সম্মৃদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।