10/06/2026
সৌদি ভিসার নতুন নিয়ম! নতুন ভিসায় সৌদি আসার সঠিক প্রসেস
সৌদি আরবের শ্রমবাজারকে আধুনিক ও ডিজিটাল করতে ২০২৬ সালে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে দক্ষতা-ভিত্তিক শ্রেনীবিন্যাস (High-Skill, Skilled, Basic) এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল চুক্তির ওপর ভিত্তি করে নতুন ভিসার প্রসেসিং করা হচ্ছে।
নিচে নতুন ভিসায় সৌদি আসার সঠিক প্রসেস এবং এই লাইনে যে ধরনের ভয়াবহ প্রতারণা হতে পারে, তা বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
# # ১. নতুন ভিসায় সৌদি আসার সঠিক প্রসেসিং (ধাপসমূহ)
বর্তমানে আগের মতো শুধু কাগজে-কলমে বা ম্যানুয়ালি ভিসা প্রসেস হয় না। পুরো প্রক্রিয়াটি নিচে দেওয়া ধারাবাহিকতা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়:
1. চুক্তিপত্র ও কিউয়া (Qiwa) অনুমোদন
প্রথম ধাপ
সৌদি নিয়োগকর্তা বা কোম্পানি তাদের Qiwa প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কাজের চুক্তিপত্র (Employment Contract) ইস্যু করবেন। ভিসার আবেদনটি কোম্পানির সৌদি সরকারি কোটা (Nitaqat) এবং সঠিক পেশা শ্রেনীবিন্যাসের সাথে মিলতে হবে।
2. ভিসা ইস্যু ও মোফা (MOFA) লজমেন্ট
দ্বিতীয় ধাপ
চুক্তি অনুমোদনের পর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MOFA) থেকে ভিসা নম্বর ও ইনভাইটেশন ইস্যু করা হয়। বাংলাদেশে অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে এই মোফা (MOFA) লজমেন্ট বা নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়।
3. মেডিকেল পরীক্ষা (Gamca)
তৃতীয় ধাপ
ভিসা নম্বরের সূত্র ধরে গামকা (GAMCA/WAMS) অনুমোদিত সেন্টার থেকে মেডিকেল পরীক্ষা করাতে হবে এবং 'ফিট' সার্টিফিকেট অনলাইন ডাটাবেজে যুক্ত হতে হবে।
4. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও তথ্য যাচাই
চতুর্থ ধাপ
বাংলাদেশ থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নিতে হবে। ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, উচ্চ বা কারিগরি পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট যাচাই (Attestation) ও অনলাইন সাবমিশন বাধ্যতামূলক।
5. ভিসা স্ট্যাম্পিং ও বিএমইটি (BMET) কার্ড
পঞ্চম ও চূড়ান্ত ধাপ
সৌদি এম্বাসি থেকে পাসপোর্টে ভিসা স্ট্যাম্পিং বা ই-ভিসা প্রিন্ট হওয়ার পর, বাংলাদেশের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) থেকে বাধ্যতামূলক স্মার্ট কার্ড (ফিঙ্গারপ্রিন্ট সম্পন্ন করে) নিতে হবে। এরপরই টিকিট কেটে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া যাবে।
# # ২. ভিসা প্রসেসিংয়ে যেসব প্রতারণার সম্ভাবনা থাকে
দালাল বা ভুয়ো এজেন্সিগুলো প্রবাসীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন উপায়ে প্রতারণা করে। সবচেয়ে কমন এবং বিপজ্জনক প্রতারণাগুলো হলো:
# # # ক) "ফ্রি ভিসা" বা ভুয়ো কোম্পানির ফাঁদ
সৌদি আরবে আইনত কোনো "ফ্রি ভিসা" বলতে কিছু নেই। প্রতারকরা বলে, "ভিসা নিয়ে সৌদিতে গিয়ে যেকোনো জায়গায় কাজ করতে পারবেন।" বাস্তবে সৌদি আসার পর দেখা যায় কোনো কোম্পানিই নেই, অথবা যে কফিল (নিয়োগকর্তা) এনেছে সে হুরুব (পলাতক মামলা) দিয়ে দেয় বা আকামা (Iqama) করে দেয় না।
# # # খ) ভিসার পেশা এবং কাজের অমিল
আপনাকে হয়তো বলবে "ড্রাইভার" বা "স্টোর কিপার" বা "ফ্যাক্টরি জব", কিন্তু পাসপোর্টে বা ভিসায় দিয়ে দেবে "আমেল আদি" (সাধারণ শ্রমিক) বা কৃষি কাজ। ২০২৬ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, **আকামার পেশা এবং আপনার বাস্তব কাজের মধ্যে অমিল থাকলে সেটি বড় আইনি অপরাধ** হিসেবে গণ্য হচ্ছে এবং এতে জেল-জরিমানা বা সরাসরি দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি থাকে।
# # # গ) জাল মেডিকেল ও জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
কিছু অসাধু দালাল অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে আনফিট মানুষকে ভুয়ো মেডিকেল বা জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বানিয়ে দেয়। এম্বাসি বা সৌদি এয়ারপোর্টে বায়োমেট্রিক ও ডিজিটাল ডাটাবেজ যাচাইয়ের সময় এই জালিয়াতি ধরা পড়লে সারাজীবনের জন্য সৌদি আরব নিষিদ্ধ (Ban) হতে হয়।
# # # ঘ) ভিসার দাম এবং বেতনের মিথ্যা আশ্বাস
বাংলাদেশে বসে দালালরা লাখ লাখ টাকা দাবি করে এবং সৌদিতে গিয়ে ২,০০০ থেকে ৩,০০০ রিয়াল বেতনের লোভ দেখায়। কিন্তু বাস্তবে আসার পর দেখা যায় বেতন মাত্র ১,০০০ বা ১,২০০ রিয়াল, এবং ওভারটাইমের কোনো বালাই নেই।
> **জরুরি সতর্কতা:** ২০২৬ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী সৌদি আরবে ৫ বছরের জন্য ডিজিটাল রেসিডেন্ট আইডি (Muqeem Card) দেওয়া হলেও প্রতি বছর তার ডিজিটাল স্ট্যাটাস নিয়োগকর্তাকে নবায়ন করতে হয়। তাই কোনো এজেন্সিকে টাকা দেওয়ার আগে কোম্পানির নাম নিয়ে **Qiwa** বা **Absher** পোর্টালে তাদের স্ট্যাটাস (Nitaqat Green/Platinum কিনা) এবং আসল চুক্তিপত্র যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
>