Bangladesh Garment & Sweaters Workers Trade Union Center

Bangladesh Garment & Sweaters Workers Trade Union Center Bangladesh Garments & Sweater Workers Trade Union Center, Registration No. B-2196

২০ রমজানের মধ্যে বোনাস-বেতন না দিলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হুশিয়ারী উপক্ষো করে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে শ্রমিকরা।আজ ২৭ ফেব্রু...
27/02/2026

২০ রমজানের মধ্যে বোনাস-বেতন না দিলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হুশিয়ারী উপক্ষো করে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে শ্রমিকরা।

আজ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার সকাল ১০:৩০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ বলেন ২০ রমজানের মধ্যে বোনাস-বেতন না দিলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হুশিয়ারী উপক্ষো করে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে শ্রমিকরা।

সমাবেশে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম.এম আকাশ বলেন, শ্রমিকরা স্বাধীনতা বিরোধী জামাত শিবিরকে ভোট না দিয়ে বিএনপিকে ভোট দিয়েছে এবং তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে বিধায় বিএনপি এবং তারেক রহমানকে এখন শ্রমিকদের ন্যায় সঙ্গত দাবি পূরণের পরীক্ষা দিতে হবে। ইতিমধ্যে কৃষকদের ঋণ মওকুফ করার ঘোষনা দিয়েছেন, যাতে শ্রমিকরাও আরো বেশি আশায় বুক বেধেছেন। এছাড়াও বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে শ্রমিকদের কল্যানের জন্য যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

সমাবেশে শ্রম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ আজকের সমাবেশের ন্যায় সংগত দাবি পূরণে সরকার ও মালিকদের বিশেষ উদ্যোগের আহ্বান জানান। যদি কোন মালিক ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দিতে না পারেন তাহলে সরকার দায়িত্ব নিয়ে সে সকল কারখানার শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। দেশের সকলের ন্যায় শ্রমিকরাও যাতে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে সে ব্যাপারে সকলকে দায়িত্বশীল পদক্ষেপের আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে শ্রমিক নেতা কাজী রুহুল আমিন বলেন, আমরা শ্রমিকরা উৎপাদন ও অর্থনীতি সচল রেখে জীবনমানকে উন্নত করতে চাই। কিন্তু জীবন বাচানোর তাগিদে বাধ্য হয়ে রাজপথে নামি। তিনি মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর রাস্তা অবরোধকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে মর্মে হুশিয়ারীর সমালোচনা করে বলেন যে, যে সকল মালিকরা সময়মতো বেতন বোনাস না দিয়ে শ্রমিকদেরকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করলে সে সকল মালিকদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিবেন? এবং শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের জন্য সরকার কি করবেন, তা কেন বলেন নি? আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এবং সরকারের কাছে সেটি জানতে চাই। বেতন-বোনাস না পেয়ে ঈদ ভন্ডুল হলে এবং না খেয়ে মরতে বসলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্যকে উপেক্ষা করে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবো। রাজপথে লড়াইয়ের ফলেই তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হতে পেরেছেন বলে স্মরণ করিয়ে দেন এই শ্রমিক নেতা।

শ্রমিক নেতা কাজী রুহুল আমিন এর সভাপতিত্বে এবং কে.এম মিন্টুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম.এম আকাশ, শ্রম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় নারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি সাহিদা পারভীন শিখা, সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক নেতা ইকবাল হোসেন, আমিনুল ইসলাম, জালাল হাওলাদার, সাইফুল্লাহ আল মামুন, জাহানারা বেগম ও তাজরীন ফ্যাশনের আহত শ্রমিক জরিনা বেগম।

সমাবেশ শেষে লাল পতাকার মিছিল প্রেসক্লাব ও পল্টন এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষীন করে।

ভেনেজুয়েলার রাস্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে অপহরণের নিন্দাভেনেজুয়েলায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপ প্রতিরো...
09/01/2026

ভেনেজুয়েলার রাস্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে অপহরণের নিন্দা
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপ প্রতিরোধে বিশ্বব্যাপী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান
ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা জানাতে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ ট্রেড ইউনিয়নস (ডব্লিউএফটিইউ) - বাংলাদেশ কমিটির আয়োজনে আজ বিকেল ৪ টায়, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
WFTU বাংলাদেশ কমিটির সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন এর সভাপতিত্বে এবং সরকারী কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের চেয়ারম্যান নোমানুজ্জামান আল আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশর সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, বাংলাদেশের জাতীয় শ্রমিক জোট এর সাধারণ সম্পাদক বাদল খান, জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাহাবুব মজনু, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সহ সভাপতি জাকারিয়া হোসেন। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি আবদুল কাদের হাওলাদার, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সহসভাপতি মাহবুবুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, অর্থ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল, সহসম্পাদক নবকুমার কর্মকার, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. বিমল সাহা, জাতীয় শ্রমিক জোটের সাংগঠনিক সম্পাদক ছালেহ আহমেদ প্রমুখসহ ট্রেড ইউনিয়ন সদস্য, এবং উদ্বিগ্ন নাগরিকরা এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে। নেতৃবৃন্দ, তাদের বক্তব্যে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী কে অপহরণ এবং তার প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠনের লক্ষ্যে আগ্রাসী পদক্ষেপের নিন্দা জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন বিশ্বের একক দেশ হিসাবে সর্বোচ্চ তেলের মজুদ এবং ১০ হাজার টন মজুদের স্বর্ণ খনি, ব্যাংকের ভল্টে জমা ১১৯ টন সোনা আর ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মুল্যের বিশেষ খনিজ উপকরণের লোভে মিথ্যা অভিযোগ তুলে মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে মার্কিনিরা অপহরণ করেছে। কিন্তু ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতিরোধের মুখে মাদুরো কে তুলে নিয়ে গেলেও এখনো নির্বিঘ্নে সম্পদ লুট করতে পারেনি মার্কিনিরা। ভেনেজুয়েলার জনগণ ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন দস্যূ আর বিশ্বাস ঘাতকদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছে।
ডব্লিউএফটিইউ বাংলাদেশ কমিটির নেতৃবৃন্দ জোর দিয়ে বলেন যে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপগুলি কেবল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন নয় বরং এর নাগরিকদের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপরে আঘাত। নেতৃবৃন্দ বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা সাম্রাজ্যবাদী শোষক দেশগুলির সম্পদ লোলুপতার বিরুদ্ধে প্রতিটি সার্বভৌম দেশের তাদের নিজেদের সম্পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের পক্ষে দাাঁড়িয়েছি যার বলেই আমরা আমাদের বন্দর কে রক্ষা করার লড়াই করছি। তাই যারাই বিদেশী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাদের অধিকার এবং স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে তাদের সমর্থন করার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া অপরিহার্য। সমাবেশ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সাম্রাজ্যবাদী অগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে এবং সকল জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে বাধ্য করার জন্য WFTU - বাংলাদেশ কমিটি ভেনেজুয়েলা এবং বিশ্বজুড়ে স্থায়ী শান্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সকল ট্রেড ইউনিযন এবং শ্রমজীবীদের সংগঠনের মধ্যে দৃঢ সংহতির সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি)-এর উদ্যোগে আগামীকাল ১০ জানুয়ারি, সকাল ১০টায়, ঢাকার মনিসিংহ ফরহাদ ট্রাস্ট ভবনে অনু...
09/01/2026

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি)-এর উদ্যোগে আগামীকাল ১০ জানুয়ারি, সকাল ১০টায়, ঢাকার মনিসিংহ ফরহাদ ট্রাস্ট ভবনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ যুব কর্মশালা।

কর্মশালার বিষয়বস্তু—
“প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও জলবায়ু পরিবর্তনে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শ্রমিক আন্দোলনে যুব নেতৃত্বের ভূমিকা”।

এই কর্মশালায় প্রযুক্তি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের চ্যালেঞ্জ এবং শ্রমিক আন্দোলনে যুবসমাজের করণীয় ও নেতৃত্বের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হবে। শ্রমিক আন্দোলনের অগ্রযাত্রায় যুব নেতৃত্বকে আরও দক্ষ, সচেতন ও সংগঠিত করার লক্ষ্যেই এ কর্মশালার আয়োজন।

‘সংগঠিত ও অসংগঠিত সর্বক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সামাজিক ও মজুরি বৈষম্যের অবসান চাই’—এই দৃপ্ত স্লোগানকে সামনে রেখে জাতীয় নারী...
09/01/2026

‘সংগঠিত ও অসংগঠিত সর্বক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সামাজিক ও মজুরি বৈষম্যের অবসান চাই’—এই দৃপ্ত স্লোগানকে সামনে রেখে জাতীয় নারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের ৪র্থ জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনটি আজ শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬, রাজধানীর কাকরাইলস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনে আয়োজন করা হয়।
সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি বিশিষ্ট নারী নেত্রী ডা. ফওজিয়া মোসলেম। সংগঠনের সভাপতি আয়েশা ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ডা. ফওজিয়া মোসলেম।
বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিল্স)-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)-এর যুগ্ম সমন্বয়কারী আব্দুল কাদের হাওলাদার, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সহ-সভাপতি মাহবুব আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউএন উইমেন বাংলাদেশ অফিসের প্রোগ্রাম এনালিস্ট তপতি সাহা, বিল্স-এর পরিচালক কহিনুর মাহমুদ, এনসিসিডাব্লিউই উইমেন কমিটির সদস্য সচিব রুখসানা আশা, ওয়ার্কার্স রিসোর্স সেন্টারের উইমেন কমিটির চেয়ারম্যান কুয়াশা আক্তার এবং জাতীয় নারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক সাহিদা পারভীন শিখা। সম্মেলনে শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন নারী শ্রমিক নেত্রী জাহানারা বেগম।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী। জীবিকা নির্বাহের তাগিদে নারীরা আজ দেশের সংগঠিত ও অসংগঠিত উভয় খাতে শ্রম দিয়ে উৎপাদন ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক খাতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব প্রমাণ করে—সক্ষমতার দিক থেকে নারীরা কোনোভাবেই পিছিয়ে নেই।
তবে বক্তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সংবিধান, শ্রম আইন ও আন্তর্জাতিক শ্রম কনভেনশনে নারী-পুরুষের সমঅধিকার স্বীকৃত থাকলেও বাস্তবে নারী শ্রমিকেরা প্রতিনিয়ত শোষণ, বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। শুধুমাত্র নারী হওয়ার কারণেই তাঁদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নানা কুসংস্কার মোকাবিলা করে কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে হয়। কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি পরিবারেও তাঁরা বহুমাত্রিক নিপীড়নের শিকার হন। তবুও জীবিকার প্রয়োজনে সব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে নারীরা শ্রমবাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছেন এবং পুরুষ সহকর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই সম্মেলনের মাধ্যমে নারী শ্রমিক আন্দোলন আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হবে।
সম্মেলন থেকে সংগঠিত ও অসংগঠিত সব খাতে নারী-পুরুষের সামাজিক ও মজুরি বৈষম্যের অবসান নিশ্চিত করতে ৯ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সমকাজে সমমজুরি নিশ্চিত করা, গৃহ শ্রমিকসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের নারী শ্রমিকদের শ্রম আইনের পূর্ণ অধিকার প্রদান, যৌন হয়রানি ও সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, পূর্ণ মজুরিসহ ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি প্রদান, কর্মক্ষেত্রে ডে-কেয়ার সুবিধা চালু, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং নারী শ্রমিকদের জন্য আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিল অধিবেশনে দেশের বর্তমান শ্রম পরিস্থিতি, নারী শ্রমিকদের সমস্যা, চলমান আন্দোলন ও সাংগঠনিক নানা বিষয়ে সারাদেশের বিভিন্ন সেক্টর থেকে আগত নারী শ্রমিক প্রতিনিধিরা বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সবশেষে উপস্থিত কাউন্সিল প্রতিনিধিরা সর্বসম্মতিক্রমে সাহিদা পারভীন শিখা-কে সভাপতি এবং সুমনা সরকার ঝুমুর-কে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ২১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় নারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেন।

সংগঠিত ও অসংগঠিত সর্বক্ষেত্রে নারী পুরুষের সামাজিক ও মজুরি বৈষম্যের অবসান চাইজাতীয় নারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র এর ৪...
08/01/2026

সংগঠিত ও অসংগঠিত সর্বক্ষেত্রে নারী পুরুষের সামাজিক ও মজুরি বৈষম্যের অবসান চাই

জাতীয় নারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র এর ৪র্থ নারী শ্রমিক সম্মেলন, আগামীকাল ৯ জানুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার সকাল ১০টা, আইডিইবি ভবন কাকরাইল, ঢাকা

সকাল ৯.৩০ মিনিট পতাকা উত্তোলন, উদ্ধোধন
সকাল ১০ টায় উদ্ধোধনী অধিবেশন
বেলা ১২ টা থেকে ৪ টা কাউন্সিল অধিবেশন

গার্মেন্টস কর্মী দিপু চন্দ্র দাস কে নৃশংসভাবে হত্যার সাথে যুক্ত প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত ও গণমাধ্যম ও সংস্কৃত...
26/12/2025

গার্মেন্টস কর্মী দিপু চন্দ্র দাস কে নৃশংসভাবে হত্যার সাথে যুক্ত প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত ও গণমাধ্যম ও সংস্কৃতিক সংগঠনের অফিসে হামলার উস্কানিদাতাদের গ্রেফতার কর।
আজ ২৬ ডিসেম্বও ২০২৫, সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ময়মনসিংহের ভালুকায় পাইওনিয়ার গার্মেন্টসের শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসু এর নির্মম হত্যাকান্ডে জড়িত প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি এবং দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের এ কর্মসূচি পালন করে জী-স্কপ।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নাইমুল আহসান জুয়েল, যুগ্ম সমন্বয়কারী, জি-স্কপ। সঞ্চালনা করেন জী-স্কপের শীর্ষ নেতা সেলিম মাহমুদ। বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস এন্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি ইদ্রিস আলী, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট এর সহ-সভাপতি খালাকুজ্জামান লিপন, জাতীয়তাবাদী গার্মেন্টস শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক লুৎফুন নাহার লতা, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক জোটের সহ-সভাপতি শেখ শাহনাজ, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু মিয়া, বাংলাদেশ জাতীয় নিট ডাইং গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান চেধৈুরী, জী-স্কপের নারায়ণগঞ্জের প্রতিনিধি হাসনাত কবির, আশুলিয়ার প্রতিনিধি খায়রুল মামুন মিন্টু এবং মিরপুর অঞ্চলের প্রতিনিধি শিরিন সিকদার। সংহতি বক্তব্য রাখেন স্কপের সমন্বয়ক আহসান হাবিব বুলবুল, স্কপ নেতা নুরুল আমিন ও আবদুর রাজ্জাক, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের ইকবাল হোসেন, হকার শ্রমিক ইউনিয়নের সেকেন্দার হায়াত।
বক্তারা বলেন, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দিপু চন্দ্র দাসকে যেভাবে মব সহিংসতার শিকার হয়ে প্রাণ দিতে হয়েছে, তা মানবতা, আইন ও সংবিধানের মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত এবং যারা ষড়যন্ত্র করেছে—সবার দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে মব সুষ্টি করে দিপুকে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার মত নৃশংসতা চালানো হয়েছে। অথচ দিপুর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ উঠেছে যে কর্মস্থলের বিরোধের প্রতিশোধ এবং রাজনৈতিক সুবিধা লুটতে কারখানা কর্তৃপক্ষ এবং একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠি পরিকল্পিত ভাবে মব তৈরি করে এই নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। তাই শুধু মব অংশগ্রহণকারীদেরকেই নয় মব তৈরির চক্রান্তকারিদেরও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ জাতীয় গণমাধ্যমের কার্যালয় এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর হামলা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আঘাত। এসব হামলার সঙ্গে জড়িতদের এবং উস্কানি দাতাদের দ্রুত চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং ভবিষ্যতে গণমাধ্যম ও সংস্কৃতিকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সমাবেশ থেকে উত্থাপিত প্রধান দাবিসমূহ-
১. দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে
২. হত্যাকাণ্ডে জড়িত ঘাতক ও ষড়যন্ত্রকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে
৩. দিপুর পরিবার কে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৪. গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর হামলার দায়ীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে
৫. শ্রমিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে
৬. মব সহিংসতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে
বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দিপু চন্দ্র দাসের বিচার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিক অধিকারের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার আন্দোলন আরো কঠোর হবে যা শক্তি প্রয়োগ করে দমন করা যাবে না।

10/11/2025
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) এর দপ্তর সম্পাদক এবং নারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক প্রখ্যাত ...
09/11/2025

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) এর দপ্তর সম্পাদক এবং নারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক প্রখ্যাত শ্রমিক ও নারী নেত্রী সাহিদা পারভীন শিখা আপার মাতা লতিফা খানম লিলি আজ রবিবার বিকেলে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছেন শিখা আপার মায়ের মৃত্যুতে গভীর ভাবে শোকাহত। মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার বর্গের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

নির্মাণ শ্রমিকদের অকৃত্রিম বন্ধু, ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন (বাংলাদেশ) ইনসাব-এর সাধারণ সম্পাদক প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা মো...
24/10/2025

নির্মাণ শ্রমিকদের অকৃত্রিম বন্ধু, ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন (বাংলাদেশ) ইনসাব-এর সাধারণ সম্পাদক প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা মোঃ আব্দুর রাজ্জাক এর জীবন সংগ্রাম

আবহমানকাল থেকে আধুনিক মানবসভ্যতা বিকাশে যাদের অবদান অনষীকার্য তারা হলো নির্মাণ শ্রমিক। সৃষ্টির শুরু থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিশাল বিশাল সুরম্য অট্টালিকা-প্রাসাদসহ মানবজাতির বসবাস উপযোগী জীবনধারনের প্রয়োজনীয় যত অবকাঠামো তার সবই নির্মাণ শ্রমিকদের শ্রমে-ঘামে নির্মিত। অথচ অর্ধ কোটির অধিক কর্মরত শ্রমিকের নির্মাণ খাতকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি এমনকি এই খাতের শ্রমিকদের জন্য ন্যুনতম মজুরি, কর্মঘন্টা, আবাসন, রেশন, বাসস্থান সুবিধা সম্পর্কে কোন ধরনের বিধি-বিধান ছিল না। এমনই ক্লান্তিকালে সময় ৯০ এর দশকের শুরুর দিকে জীবিকার প্রয়োজনে ঢাকায় এসে নির্মাণ শ্রমিকের কাজে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় শ্রমিকদের নানাবিধ দুঃখ-দুর্দশা ও শোষন-বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান যিনি তিনি মোঃ আব্দুর রাজ্জাক।

ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব) এর সাধারণ সম্পাদক প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা মোঃ আব্দুর রাজ্জাক গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাএলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যাসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

শ্রমিক নেতা মোঃ আব্দুর রাজ্জাক নির্মাণ শ্রমিকদের সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করার কাজে আত্ননিয়োগ করে নিরলসভাবে আন্দোলন সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেন। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ নির্মাণ শ্রমিক সংগঠন ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব) গড়ে তোলেন এবং আমৃত্যু সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করার মধ্য দিয়ে এদেশের নির্মাণ শ্রমিকদের আস্থাভাজন নেতা হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। তার অকাল প্রয়াণে বেদনাহত শোককে শক্তিতে পরিনত করে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও সংগ্রামী জীবনালোচনার মধ্য দিয়ে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায় এবং মুক্তির লড়াই তরান্বিত করতে আজকের এই শোকসভা।

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক ১৯৬৩ সালের ০২ ফেব্রুয়ারি পাবনা জেলার আতাইকুলা উপজেলার দুবলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আব্দুল আজিজ ও মাতা সবুরা খাতুনের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। কঠোর পরিশ্রমী মোঃ আব্দুর রাজ্জাক শৈশবেই পিতৃহারা হয়ে নিষ্ঠার সাথে ছোট ভাই বোনদের পড়া লেখা ও ভরন পোষনের দায়িত্ব পালন করেন। আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে পরিবারের নিকট বটবৃক্ষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ছোটবেলা থেকে তিনি ছিলেন কর্তব্যপরায়ন ও প্রতিবাদী। কোন অনিয়ম দেখলে তিনি সেখানে প্রতিবাদ করতেন।

জীবিকার প্রয়োজনে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করার পাশাপাশি সংগঠন ও সংগ্রামে নিষ্ঠার সহিত দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে আব্দুর রাজ্জাক সাধারণ শ্রমিক থেকে হয়ে উঠেন এদেশের লক্ষ লক্ষ নির্মাণ শ্রমিকদের আস্থাভাজন নেতা। নির্মাণ শ্রমিকদের অধিকার সচেতন ও সংগঠিত করে ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব) গঠন এবং সারাদেশে নির্মাণ শ্রমিকদের একটি শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে তার অবদান অতুলনীয়। ইতিমধ্যে ইনসাব বাংলাদেশের নির্মাণ শ্রমিকদের আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী সর্ববৃহৎ প্রধান সংগঠন হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। তিনি নিরলসভাবে জীবনের দীর্ঘ সময় নির্মাণ শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের পরিক্ষিত নেতা হিসেবে ইনসাবের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষভাবে নির্মাণ শ্রমিকদের ১২ দফা দাবী প্রনয়ন ও প্রতিবছর ১৮ জানুয়ারি দাবী দিবস পালনসহ নানাবিধ দাবী আদায়ের সংগ্রামে তিনিই ছিলেন প্রধান। তিনি নির্মাণ শ্রমিকদের কল্যাণে অসংখ্য পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তার নেতৃত্বে¡ বহু সফল আন্দোলন হয়েছে, যা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে।

২০০৮ সালে কাকরাইলের আইরিস-নুরজাহান টাওয়ারের দূর্ঘটনায় ৪ জন শ্রমিক নিহত হলে আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে ইনসাব নিহত শ্রমিকদের জনপ্রতি ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়ে জোরালো ভুমিকা রাখেন, যা বাংলাদেশে নির্মাণ শ্রমিকদের দূর্ঘটনাজনিত মৃত্যুতে সর্বোচ্চ পরিমান ক্ষতিপূরণ। ২০১৩ সালে উত্তর বাড্ডার ময়নার বাগে সন্ত্রাসীরা গুলি করে দুই নির্মাণ শ্রমিককে হত্যা করলে আব্দুর রাজ্জাক এর নেতৃত্বে ইনসাব ১০ সহশ্রাধিক শ্রমিককে নিয়ে বিশাল প্রতিবাদ মিছিল করে হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করতে বাধ্য করেন। তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো নির্মাণ খাতকে শিল্প খাত এবং নির্মাণ শ্রমিকদেরকে শিল্প শ্রমিক হিসেবে রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃতি আদায়। তারই আন্তরিক প্রচেষ্টায় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত এবং দুর্ঘটনায় নিহত-আহত ও স্থায়ী অক্ষম বা পঙ্গুত্ব বরণকারী সহম্রাধিক নির্মাণ শ্রমিক ১০ কোটি টাকার বেশি অনুদান পেয়েছে। শ্রমিক আন্দোলনের পাশাপাশি সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের নেতৃত্বে থেকে সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার্থে তিনি অনন্য ভুমিকা পালন করেছেন।

এদেশের শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের শ্রেণি সচেতন এবং দায়িত্বশীল জাতীয় ফেডারেশন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) সাথে যুক্ত হন এবং দুই যুগেরও অধিক সময় কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালে টিইউসির দশম জাতীয় সম্মেলনে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়ে আমৃত্যু সফলভাবে সে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সাথে সাথে শোষন-বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের চেতনায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে নানাবিধ ভুমিকা রাখেন। তার মুত্যুতে এদেশের নির্মাণ শ্রমিকসহ অপরাপর শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের অপুরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

আমাদের প্রিয় নেতা প্রিয় মানুষ আব্দুর রাজ্জাক এর রেখে যাওয়া অসমাপ্ত সংগ্রামী কর্মকান্ড এগিয়ে নিতে সচেষ্ট থাকবো। পরিশেষে আবারও বিনম্র শ্রদ্ধা এবং তার পরিবার-সজনদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছি।

চিরঞ্জীব শ্রমিক নেতা মোঃ আব্দুর রাজ্জাক । দুনিয়ার মজদুর এক হও।

ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব) এর উদ্যোগে ২৩ অক্টোবর ২০২৫, বৃহস্পতিবার, বিকাল ৩টা, জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়...
24/10/2025

ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব) এর উদ্যোগে ২৩ অক্টোবর ২০২৫, বৃহস্পতিবার, বিকাল ৩টা, জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে নির্মাণ শ্রমিকদের অকৃত্রিম বন্ধু, ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব)'র সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি)'র সহ-সভাপতি প্রখ্যাত শ্রমিকনেতা আব্দুর রাজ্জাক এর প্রয়াণে শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মিরপুর, রানা প্লাজা, তাজরিন ফ্যাশন সহ বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক হত্যাকান্ডের বিচার, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, তৈরী পোশাক শিল...
16/10/2025

মিরপুর, রানা প্লাজা, তাজরিন ফ্যাশন সহ বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক হত্যাকান্ডের বিচার, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, তৈরী পোশাক শিল্পের চেকসই উন্নয়ন, শ্রমিক অধিকার সুরক্ষা, কল্যাণ নিশ্চিতকরন এবং জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্স (AFWA) বাংলাদেশ কমিটির স্বারকলিপি।

আজ বৃহস্পতিবার ১৬ অক্টোবর ২০২৫, এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ কমিটির পক্ষ থেকে মিরপুরের অগ্নি কান্ডে শ্রমিক হত্যার জন্য মালিক সহ দায়ীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে AFWA বাংলাদেশ কমিটির উদ্দোগে বিক্ষোভ সমাবেশে কমিটির আহ্বায়ক বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা কাজি রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা সুলতানা বেগম এবং জোটের অন্যতম নেতা নাহিদুল ইসলাম নয়ন। এসময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা ইদ্রিস আলী, রফিকুল ইসলাম সুজন, তপন সাহা, মোঃ ইলিয়াস, নারী কমিটির আহবায়ক রাশিদা আক্তার, সদস্য সচিব পারভীন আক্তার প্রমুখ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, এক যুগের অধীক সময় পেরিয়ে যাওয়া সত্বেও অদ্যবধি রানাপ্লাজা শ্রমিক হত্যাকান্ডের বিচার হয়নি। এমনকি ১৯৯০ সালে সারাকা গার্মেন্ট থেকে পরবর্তী কালে তাজরিন ফ্যাশন, স্পেকট্রাম, কেটিএস গার্মেন্ট সহ শতাধিক কারখানায় হাজার হাজার শ্রমিক হত্যাকান্ডের বিচার হয়নি। বিচারহীনতা মালিকদেরকে এহেন দায়িত্বহীন আচরনে উৎসাহিত করে চলেছে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি তৈরী পোশাক শিল্প জিডিপিতে ১০.৩৫% এবং দেশের মোট রপ্তানির ৮২ শতাংশ আয় করে। শ্রমিকের লাশের উপর দাঁড়িয়ে গড়ে ওঠা নব্য ধনিক গোষ্ঠির অধিক মুনাফার লোভের শিকার হয়ে আবারো জীবন দিতে হলো মিরপুরের শিয়ালবাড়ীর ১৬ জন গার্মেস্টস শ্রমিককে।
সমাবেশ শেষে মিছিল সহ মন্ত্রনালয়ের সম্মুখে গেলে পুলিশ জোটের ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলকে নিয়ে সচিবালয়ে যায় এবং স্বারকলিপি প্রদান করেন।
স্বারকলিপিতে শ্রমিক হত্যার বিচার, নিহত-আহত শ্রমিকদের আইএলও কনভেনশন-১২১ অনুসারে ভবিষ্যত জীবনের আয়ের সমপরিমান ক্ষতিপূরণ, সুচিকিৎসা, বকেয়া বেতন ও আইনানুগ পাওনা পরিশোধের দাবী জানান। একই সাথে ভবিষ্যতে যাতে অগ্নিকান্ড, ভবন ধ্বস এবং শ্রমিক হত্যাকান্ডের মতো এহেন অমানবিক ঘটনা না ঘটে তার জন্য কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিশেষ করে ভবন, অগ্নি ও বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবী জানান।
শ্রমিক, শিল্প ও জাতীয় স্বার্থে সংবিধান এবং আইএলও কনভেনশন অনুসারে অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, শ্রম আইন সংশোধন ও কার্যকর, ৩০ হাজার টাকা জাতীয় নুন্যতম মজুরি ঘোষণা এবং রেশন, আবাসন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা সহ শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অতি সত্তর বাস্তবায়নের দাবী জানান।
উক্ত দাবীতে দেশব্যাপী গার্মেন্টস শিল্পে সভা সমাবেশ ও মিছিল সহ নানাবিধ কর্মসূচী পালনের ঘোষণা দেয়া হয়।

শ্রমিক হত্যাকারীদের বিচার, ক্ষতিপূরণ ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার দাবিতে মিরপুরে মশাল মিছিলআজ, বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর ২০২...
16/10/2025

শ্রমিক হত্যাকারীদের বিচার, ক্ষতিপূরণ ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার দাবিতে মিরপুরে মশাল মিছিল

আজ, বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর ২০২৫), বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (বিজিএসটিইউসি)-এর উদ্যোগে রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে পল্টন মোড়ে পর্যন্ত এক মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি মিরপুরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
মশাল মিছিলে অংশগ্রহণকারী শ্রমিক নেতারা অবিলম্বে এই নৃশংস ঘটনার জন্য দায়ী মালিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, নিহত ও আহত শ্রমিকদের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর কনভেনশন-১২১ অনুসারে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়।
শ্রমিকদের প্রধান দাবির মধ্যে ছিল—সারা দেশের সকল কারখানা ও কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা বারবার ঘটতে থাকবে। শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষিত করতে সরকার ও কারখানা মালিকদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

Address

Room No-407, 22/1, Topkhana Road
Dhaka
1000

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bangladesh Garment & Sweaters Workers Trade Union Center posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Bangladesh Garment & Sweaters Workers Trade Union Center:

Share

Category

Gwtuc

Garment Workers Trade Union Center, Established in 1994 GWTUC is the biggest Trade Union in the garment sector fighting in the forefront of the struggle for the interest of workers, for their rights and better living and working conditions. The Center unites all workers irrespective of their political orientation, religion, ethnicity, caste, creed,or gender. Since overwhelming number of garment workers are women it gives special priority to women’s participation and empowerment. It is a democratic, fighting and constructive trade union committed to build up a healthy trade union movement in the interest of workers, industry and all round development in harmony with nature. There are about 40 million workers in the garment sector, more than 80% being women. Garment industry started developing in Bangladesh in the 1980′s.Presently BGMEA and BKMEA both owners associations have member factories numbering 4,882 and 1,870 member factories respectively. Number of employers little more than 5,000. The garment sector contributes 10 to 11% of the Gross Domestic Product (GDP). It is the biggest export earner. Though there are Labor Laws in Bangladesh which give rights to workers including garment workers to be organized in trade unions,in reality garment workers are not allowed to form trade unions or organize movements. Whenever workers try to form a union or raise demands and industrial disputes, leading workers are dismissed, assaulted by hired hooligans of employers, false cases are lodged, police assault, arrest, harassment and repressions are unleashed. Though victimisation for trade union activities is forbidden by law and is a punishable offense, such repressions are daily affair in Bangladesh. Trade unions are registered in most cases when it is backed by owner, government and ruling parties, foreign powers and NGO’s. GWTUC being the largest union having committees and members in all the industrial areas, is being refused registration since several years.GWTUC is composed of trade Unions which are already registered. It means member unions of GWTUC are registered. Hence there can be no reason why it will not be registered. According to labor law an unregistered trade union cannot raise demands or disputes or organize movements, or do anything accept organizational activities required for submitting application for registration. But GWTUC is very much active.It believes that the rights are guarantied by the Constitution,Labor Laws and ILO Conventions ratified by the government. It is the government and owners who violate laws and deprive workers and GWTUC of their rights. But whenever there are big movements of garment workers GWTUC leaders are invited by Employers association or the Government to ensure meaningful negotiations resolution of disputes. It is because they are the most representative and voice of the garment workers. GWTUC has more than 20 unions as its members. It has 15 regional committees covering all the industrial areas including districts where there are garment factories. More than 50,000 workers activists of GWTUC. Work at the grass root level under difficult and often dangerous conditions to build up healthy trade union movement, Millions participate in our movements,meetings and demonstrations. GWTUC has a central executive committee lead by President, Working President and General Secretary elected by the the National Conference held every 2 years. The fund of GWTUC is supported by subscription of member unions, contributions of workers and donations from trade union veterans and progressive and humanist individuals.