06/05/2026
মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন বিএইচআরএফ চেয়ারপার্সন এডভোকেট Alena Khan সহ মানবাধিকার নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে
ভিক্ষা বৃত্তির উদ্দেশ্যে অংগহানি মামলার ভিকটিম নেয়ামুলকে RAB হেফাজত থেকে অভিভাবকের হেফাজতে ফিরিয়ে দেয়া হলো -
*প্রেস বিজ্ঞপ্তি*
*ডিএমপি ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তির উদ্দেশ্যে ধারালো ব্লেডদিয়ে ০৭ বছর বয়সের শিশু নেয়ামুলের অঙ্গহানি মামলায় র্যাব-১ কর্তৃক তদন্তকৃত ও চার্জশীটভুক্ত ০৫ জন আসামীকে বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক যাবজ্জীবন (আমৃত্যু) কারাদন্ড প্রদান এবং ভিকটিম নেয়ামুল’কে সম্পূর্ন সুস্থ অবস্থায় পিতার জিম্মায় প্রদান করেছে র্যাব-১।*
১। র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সবসময় বিভিন্ন ধরণের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। র্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে এ পর্যন্ত মাদক ব্যবসায়ী, অপহরণকারী, সন্ত্রাসী, এজাহারনামীয় আসামী, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, প্রতারকচক্র, ধর্ষণকারী, পর্ণোগ্রাফি বিস্তারকারী, চোরাকারবারীদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে এবং চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার ঘটনা উৎঘটন করে আসামীদের আইনের সম্মুখিন করছে।
২। গত ০৬/০৯/২০১০ খ্রিঃ আনুমানি ১৪০০ ঘটিকায় ডিএমপি ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকায় শিশু মোঃ নেয়ামুল (৭)’কে এজাহারনামীয় আসামী ১। শরিফুল ইসলাম @ কোরবান আলী, ২। সালাহউদ্দিন, ৩। খন্দকার ওমর ফারুক, ৪। ইমরান, ৫। আব্দুল্লাহ আল-মামুন’গণ অঙ্গহানীর মাধ্যমে ভিক্ষাবৃত্তির উদ্দেশ্যে ধারালো ব্লেড দিয়ে তার গোপনাঙ্গ কেটে সম্পূর্ন বিচ্ছিন্ন’সহ গলা-বুক-পেট ও মাথায় গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে ভিকটিমের পিতা- মোঃ উমেদ আলী (৫৭) বাদী হয়ে বিজ্ঞ নারী ও শিশু আদালতে পিটিশন মামলা নং-৪২/২০১০ দায়ের করেন। তাহার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডিএমপি ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানার মামলা নং-৬, তারিখ-০৩/০৫/২০১১, ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধন/০৩) এর ১২/৩০ রুজু হয় এবং মামলার তদন্ত কার্য শুরু হয়। র্যাব-১ উক্ত মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে। মহামান্য হাইকোর্টের SUO MOTU RULE- NO-1, তারিখ-১৮/০১/২০১১ খ্রিঃ তারিখের আদেশ মূলে র্যাব-১ উক্ত মামলার তদন্তভার গ্রহন করে। তদন্ত কালে র্যাব-১ মামলার প্রধান আসামী শরিফুল ইসলাম @ কোরবান আলী সহ অন্যান্য এজাহারনামীয় আসামীগন’কে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে ০৩(তিন) জন আসামীর ফৌঃকাঃবিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করতঃ বিজ্ঞ আদালতে সোর্পদ হয়। মহামান্য হাইকোর্ট ভিকটিম মোঃ নেয়ামুল(৭)’কে মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত র্যাব হেফাজতে রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। উল্লেখ্য যে, উক্ত ঘটনাটি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার হওয়ায় গত ২০১২ সালে আমেরিকান ভিত্তিক টিভি চ্যানেল সিএনএন এবং এ্যাডভোকেট এলিনাখান, চেয়ারপার্সন, বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের সহযোগীতায় ভিকটিম মোঃ নেয়ামুল(৭)’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমেরিকার John Hopkins Hospital এ প্রেরণ করা হয়। পরবর্তীতে ভিকটিম মোঃ নেয়ামুল ২ মাস উন্নত চিকিৎসা শেষে সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরে আসেন। র্যাব-১, উত্তরা, ঢাকা মামলাটির তদন্তকার্য সম্পন্ন করে আসামীদের বিরুদ্ধে গত ১৫/০৫/২০১১ খ্রিঃ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দাখিল করেন। গত ০২/০৪/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪, ঢাকা উক্ত মামলাটির বিচারকার্য সম্পন্নকরে ০৫(পাঁচ) জন আসামীকে যাবজ্জীবন (আমৃত্যু) কারাদন্ড প্রদান করেন। ০৯/০৪/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪, ঢাকা র্যাব হেফাজতে থাকা ভিকটিম মোঃ নেয়ামুল’কে তার পিতা- মোঃ উমেদ আলী’র জিম্মায় প্রদানের জন্য আদেশ প্রদান করেন। বিজ্ঞ আদালতের আদেশ মোতাবেক অদ্য ০৫/০৫/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ ১১৫০ ঘটিকায় ভিকটিম মোঃ নেয়ামুল’কে ১। এ্যাডভোকেট এলিনাখান, চেয়ারপার্সন, ২। তাহমিনা তারমিন বিনু, ৩। তানিয়া তারমিন রিনু, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন’গনের উপস্থিতিতে সাক্ষী ১। ছবুরা খাতুন, স্বামী-মোঃ উমেদ আলী, সাং- ছাতিরচর, থানা-নিকলী, জেলা-কিশোরগঞ্জ, ২। মনির (৪০), পিতা-আঃ মালেক, সাং-শিমুলিয়া, থানা-রূপগঞ্জ, জেলা-নারায়নগঞ্জ, মোবাইল-০১৭২০০০৮২৫৭, ৩। নং-১৪৪৯৮৮৯ কর্পোরাল আতাউর রহমান, আর.পি.এসআই, র্যাব-১, উত্তরা, ঢাকা’দের সম্মুখে নেয়ামুল’কে সম্পূর্ন সুস্থ অবস্থায় তার পিতা- মোঃ উমেদ আলী এর নিকট জিম্মায় প্রদান করা হয়।
*স্বাক্ষরিত/-*
শাহ আলম
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
সিনিয়র সহকারী পরিচালক (অপস্ এবং মিডিয়া অফিসার)
অধিনায়কের পক্ষে
মোবাঃ ০১৭৭৭৭১০১০৩।