17/09/2024
পেন্সিলের স্বপ্নদ্রষ্টা, প্রতিষ্ঠাতা এডমিন, আমাদের প্রিয় বন্ধু আনোয়ারের মৃত্যুর পর পেন্সিল পরিবারের অসংখ্য সদস্য, পেন্সিলের এডমিন থেকে শুরু করে পেন্সিল ফাউন্ডেশনের অসংখ্য মানুষ আনোয়ারকে নিয়ে ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করেছেন, দুঃখ প্রকাশ করেছেন, বিক্ষুব্ধ হয়েছেন। আমাদের এই অতি প্রিয় মানুষের অকাল মৃত্যু আমাদের হতবিহবল করেছে, আমাদের স্তব্ধ করেছে। কষ্টকে, মনের অনুভূতিকে ভাষায় প্রকাশ কিংবা লিখে শোক প্রকাশের জায়গাটাতে আমরা তখন নির্বাক ছিলাম। পরিবারের প্রিয় মানুষের মৃত্যুতে আমরা দিশেহারা ছিলাম।
পেন্সিল এডমিন প্যানেল থেকে শুরু করে পেন্সিল ফাউন্ডেশন থেকে শুরু করে পেন্সিলের প্রতিটি জায়গায় যারা দায়িত্বে আছেন তারা প্রত্যেকেই আনোয়ারের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। এই পরিবারের প্রতিটি মানুষের সঙ্গে তার ছিলো আত্মার সম্পর্ক।
পেন্সিল পরিবার এই মৃত্যুর সঠিক তদন্তের জোর দাবী জানায়। এবং এই ব্যাপারে আনোয়ারের পরিবারকে সহযোগিতা করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন পেন্সিল পরিবার তা তা করার জন্য বদ্ধ পরিকর। এই ঘটনার পর পরই গুলশান থানায় আনোয়ারের ভাই মাহমুদুল হাসান মিলন বাদী হয়ে মামলা রুজু করেন। এবং সেই মামলা এখন পুলিশের তদন্তাধীন রয়েছে। আমাদেরকে এবং আনোয়ারের পরিবারকে পুলিশ নিশ্চয়তা দিয়েছে যে তারা সততা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে এই মামলার তদন্ত করবে এবং অবশ্যই তারা আমাদেরকে বিভিন্ন সময় তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানাবে। আমাদের পক্ষ থেকেও বিষয়টি মনিটর করা হচ্ছে। যেহেতু এই বিষয়টা তদন্তাধীন রয়েছে তাই এই ব্যাপারে আমরা আইনত এবং নীতিগতভাবে কোন মন্তব্য করতে পারছি না। কিন্তু আমরা আনোয়ারের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি এবং যেকোনো প্রয়োজনে আমরা তাদেরকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার নিশ্চয়তা দিয়েছি। আনোয়ারের ভগ্নীপতি প্রখ্যাত ব্যারিস্টার সোহান ভাই যিনি এই মামলায় উকিল হিসেবে কাজ করছেন পেন্সিল তার সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
আনোয়ারের জন্য ইতিমধ্যে আমাদের চট্টগ্রাম পেন্সিল থেকে দোয়া মাহফিল, কোরআন খতম এবং এতিমখানার ছাত্রদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কায়মনোবাক্যে আনোয়ারের জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে। ঢাকায় আগামী শুক্রবার কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল এবং এতিমখানায় এতিমদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই দোয়া মাহফিলে আনোয়ারের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন বলে আমরা আশা করছি।
আমরা অল্প সময়ের মধ্যেই আনোয়ারকে নিয়ে একটি স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা আনোয়ারকে উৎসর্গ করে একটি স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নিচ্ছি।
আমরা বারবার মনে করিয়ে দিতে চাই যে পেন্সিল পরিবারের যারা দায়িত্বে রয়েছেন তাদের নিয়েই আনোয়ার আগামীর স্বপ্ন দেখতেন, তাদের নেতৃতেই দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের চিন্তা করতেন।
আনোয়ার শুধুমাত্র একটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন না। তিনি একজন মেধাবী মানুষ ছিলেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে কাজ করেছেন, তিনি একজন বাবা ছিলেন, সন্তান ছিলেন, ভাই ছিলেন, অনেকের বন্ধু ছিলেন, কারো প্রিয়জন ছিলেন। তার বিশাল একটি কর্মক্ষেত্র ছিলো। তাই তার মানসিক অবস্থা নিয়ে ধারনা করতে গেলে প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হয়ে ধারনা করতে হবে যেটা একমাত্র তার পরিবারের সদস্যদের পক্ষেই সম্ভব। তাই সামগ্রিক ব্যাপারে তথ্য এবং ধারনা ছাড়া কল্পনাপ্রসূত মন্তব্য এবং পোষ্ট তার পরিবার এবং প্রিয়জনদের হৃদয়ে শুধু রক্তক্ষরণই ঘটাবে যা আমাদের কাম্য নয়।
পেন্সিল থেকে আনোয়ার তার ব্যক্তিগত কারণেই বিরতিতে ছিলেন। পেন্সিল পরিবার অধীর আগ্রহে তার ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলো। আনোয়ার পেন্সিলের একজন অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন এবং এর মধ্যে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছিল না।
পেন্সিল চার লক্ষের অধিক পরিবারের সদস্য। যার স্বপ্নদ্রষ্টা একজন আনোয়ার। কিন্তু এই টিমে সে অনেককে সংযুক্ত করেছে এই সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে বহুমাত্রিক রূপ দেয়ার জন্য। পেন্সিল পরিবারকে সে একই ছাতার নীচে আনতে অক্লান্ত চেষ্টা করেছে যেন সমাজ গঠনে পেন্সিল উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। পেন্সিল বহু প্রিয় লেখক, লেখিকা, কবি, ফটোগ্রাফার, চিত্রশিল্পীর, নৃত্যশিল্পী, গায়ক, গায়িকা, বাচিক-শিল্পীর জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। শহর থেকে শুরু করে সেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিভা প্রকাশের জন্য একটা নির্ভরযোগ্য স্থান হিসেবে কাজ করেছে পেন্সিল। আমরা বিশ্বাস করি যে স্বপ্ন আনোয়ার দেখে গিয়েছে যে স্বপ্ন আমাদের মাঝে সে ছড়িয়ে দিয়েছে, সেই স্বপ্নের মশাল আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে দিয়ে যেতে পারবো। এভাবেই মুক্ত বুদ্ধি এবং শুভ চেতনার চর্চা চলমান থাকবে।
আনোয়ার আমাদের মাঝে নেই, একসময় আমরাও থাকবো না কিন্তু রয়ে যাবে আমাদের কর্ম, আমাদের প্রতিশ্রুতি এবং আমাদের স্বপ্ন। আমরা সবাই এই স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাবো আজীবন এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি।
আনোয়ার এর স্মরনে আগামী ২০শে সেপ্টেম্বর শুক্রবার
মদিনাতুল উলুম ইসলামিয়া এতিমখানা কমপ্লেক্স
ঠিকানাঃ : প্লট-১০, রোড নং-৮, ব্লক-সি, ঢাকা উদ্যান, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭
এই ঠিকানায় কোরান খতম ও এতিম বাচ্চাদের দুপুরে খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এবং বাদ আসর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল মসজিদে দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
সবাইকে এ দোয়া মাহফিলে উপস্থিত হয়ে আনোয়ার এর আত্মার মাগফেরাত কামনা করার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে। এখানে মহিলাদের অংশগ্রহন করারও ব্যবস্থা রয়েছে।