28/08/2022
বর্তমানে ১২০ টাকা দিয়ে আমরা মাত্র ১ মার্কিন ডলার কিনতে পারছি! ক্যান ইউ ইমাজিন দিস? এখন যদি স্বর্ণ মুদ্রাব্যবস্থা চালু থাকতো, তাহলেও কি এমনটাই হতো?
আসুন,
💥 কেন টেকসই স্বর্ণ মুদ্রাব্যবস্থাকে বাতিল করা হলো?
💥 স্বর্ণ মুদ্রাব্যবস্থার কেনই বা দরকার?
তা জেনে নেই-
১৯৭১ সালের ১৫ই আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সন স্বর্ণের দরজা বন্ধ করে দেন। সেই থেকে পরবর্তী দুই প্রজন্মের শিক্ষার্থীদেরকে নীতিনির্ধারক এবং প্রফেসররা এই বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছে যে, আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থায় স্বর্ণের কোনো দাম নেই।
অথচ, বাস্তবতা হচ্ছে স্বর্ণ কখনোই মাঠ ছেড়ে যায়নি, অন্তরালে গিয়েছে মাত্র। ক্ষমতাসীন এলিটরা একদিকে জনসম্মুখে স্বর্ণকে উপেক্ষা করতে শুরু করেছে, স্বর্ণ নিয়ে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে, কিন্তু তলে তলে আবার ঠিকই স্বর্ণ কুক্ষিগত করে রেখেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে স্বর্ণ যদি এতটাই মূল্যহীন হয়, তবে-
👉 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেন এখনো ৮ হাজার টন স্বর্ণ ধরে রেখেছে?
👉 কেন স্বর্ণের মজুদ ২০ হাজার টন থেকে ৮ হাজার টনে নেমে আসার পর ডলারকে স্বর্ণে রূপান্তরের সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে?
👉 কেন জার্মানি এবং আইএমএফ ৩ হাজার টন করে স্বর্ণ মজুদ করে রেখেছে?
👉 কেন চীন চুরি করে স্বর্ণ জমাচ্ছে?
👉 কেন রাশিয়া প্রতিবছর ১ হাজার টনেরও বেশি স্বর্ণ সংগ্রহ করছে?
👉 স্বর্ণ যদি বাস্তবেই এত মূল্যহীন হয়ে থাকে, তবে সবাই কেন স্বর্ণের জন্য এতো খাবলাখাবলি করছে?
আসল বিষয় হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যদি জনগণকে আশ্বস্ত করতে পারে যে, স্বর্ণের সাথে অর্থের কোনোরূপ সম্পর্ক নেই, তবে তারা যত খুশি টাকা ছাপতে পারবে। এজন্যই বেন বেরনাঙ্ক থেকে শুরু করে এ্যালান গ্রিন্সপ্যান-সহ সবাই স্বর্ণকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে যাচ্ছে।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হচ্ছে- অর্থ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতার সাথে জনগণের আচরণ নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। বস্তুত, স্বর্ণই এখনো পর্যন্ত বিশ্ব-অর্থব্যবস্থার মূলভিত্তি, পাদপ্রদীপ।
🗣️ বইটি কেন পড়বেন?
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আলোচ্য বইটির বিষয়বস্তু খুবই প্রাসঙ্গিক এবং দরকারী। স্বর্ণের মুদ্রা তার আবির্ভাবের শুরু থেকেই স্থিতিশীল। এমনকি ১৫০০ বছর আগের স্বর্ণের মুদ্রার মূল্যমান এখনও প্রায় একই আছে! অন্যদিকে কাগজের মূদ্রার দরপতন হয়, ডলারের বিপরীতে অনেক মূদ্রা হোচট খায়। কিন্তু সব দেশের মূদ্রা যদি স্বর্ণমুদ্রা বা রৌপ্যমুদ্রা হতো, তাহলে কিন্তু এমনটা খুব বেশি হতোনা।
শুধুমাত্র ডলারের মূল্যের তারতম্যের কারণে বিভিন্ন দেশের হাজার-হাজার কোটি টাকা লস হচ্ছে। আর গুটিকয়েক দেশ ফুলে-ফেঁপে উঠছে! আসলে কাগজের মুদ্রা চালু করার উদ্দেশ্য একটাই। আর তা হলো- পুঁজিবাদীদের, কম্যুনিস্টদের সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখা। কাগজের ডলারকে এখন স্বর্ণের জায়গায় বসানো হয়েছে! আর বেশিরভাগ স্বর্ণের রিজার্ভ আমেরিকা, জার্মানি, রাশিয়া, ফ্রান্স ও চীনের কাছে! খোদ আমেরিকার কাছেই আছে ৮ হাজার টনের বেশি স্বর্ণ!
এমন পরিস্থিতিতে আপনি যদি টোটাল মুদ্রাব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা পেতে চান, তাহলে নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে-
★ স্বর্ণের মুদ্রা কেন যেকোনো কাগজের মুদ্রার থেকে স্থিতিশীল❓
★ একসময় ডলারের বিপরীতে স্বর্ণ মজুদ রাখা হত, এখন কেন রাখা হয় না❓
★ স্বর্ণের মুদ্রা ব্যবস্থায় বর্তমান সাম্রাজ্যবাদীদের সমস্যা কী❓
★ চীন কেন তাদের স্বর্ণের মুদ্রার মজুদের পরিমাণ গোপন রেখেছে❓
★ কেন বিভিন্ন দেশ গোপনে স্বর্ণের মজুদ বাড়াচ্ছে❓
★ এখানে IMF-এর ভূমিকা কী❓
★ কেন যেসব ইকোনমিস্টরা ডলারের কাছে বিক্রি হননি, তারা সবাইকে সঞ্চয়ের অন্তত ১০% স্বর্ণ মজুদ করতে সাজেস্ট করেছেন❓
যদি আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা না থাকে, কিন্তু আপনি জানতে আগ্রহী হন, তাহলে এ সকল প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন James Rickards এর The New Case for Gold বইয়ে। বইটার সাবলীল ও প্রাঞ্জল অনুবাদ করেছেন রাকিবুল হাসান ভাই। একবার পড়া শুরু করলে, শেষ না করে উঠতে পারবেননা! বইটিতে এমন সব তথ্য আছে, যা জানতে পারলে আপনি শিহরিত হবেন! সাথে সাথে আমার এই লেখার শুরুর প্রশ্নের উত্তরটাও পেয়ে যাবেন। যারা মুদ্রাব্যবস্থার আদ্যোপান্ত জানতে আগ্রহী তাদের জন্য মাস্টরিড একটা বই।
💢 বই পরিচিতিঃ
বই: গোল্ড ইজ মানি
লেখক: জেমস রিকার্ডস
অনুবাদক: রাকিবুল হাসান
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৪
মুদ্রিত মূল্য: ২২০ টাকা
বাইন্ডিং: পেপারব্যাক
প্রকাশনী: ফাউন্টেন পাবলিকেশন্স
পরিশেষে আমার মনে হয়, শুধু মুদ্রাব্যবস্থা না বরং বিশ্ব রাজনীতির গতি-প্রকৃতি ভালোভাবে বুজতে বইটা সকল সচেতন পাঠকেরই পড়া উচিৎ।