১৬ কোটি মানুষের বাস এই বাংলাদেশে। এর মধ্যে আনুমানিক ১৪ কোটিরই অবস্থান দারিদ্রসীমার নিচে। দারিদ্রতার সাথে অশিক্ষা আর মাদক নামের অভিশাপও তাদের অনেকের নিত্যসঙ্গী। এই ১৪ কোটি মানুষ প্রতিদিন ক্ষুধার তাড়না মেটাতে পথে নামে। সব পথই আবার সুপথ নয়। পেটের জ্বালা মেটানোর চিন্তায় কোন পথ ভালো আর কোনটা খারাপ তা বিচারের মতো অবস্থাও তাদের থাকে না। দেশে লাখ লাখ স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসা থাকার পরও সব শিশু, কিশোর আর যু
বকেরা অর্থের অভাবে সঠিক জায়গায় লেখাপড়া শিখতে পারছেনা । আর অভাবগ্রস্থ অবস্থার খারাপ প্রভাব পড়ছে “শিশুর পুষ্টিপূরণে”। আমাদের দেশে বর্তমানে দারিদ্রতা আর শিক্ষা ব্যবস্থা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে। দেশের অধিকাংশ শিশু এখন অপুষ্টিজণিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। পুষ্টির অভাবে শিশুদের মেধা বিকাশও ব্যাহত হচ্ছে। ২০১৩ সালের ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে শিক্ষা ও পুষ্টিবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ। অথচ আমাদের দেশে প্রতিবছর বিলাসিতার মাধ্যমে যে টাকা ব্যয় হয় তার একটি অংশ দিয়েই সুবিধাবঞ্চিত অনেক শিশুর খাদ্য ও শিক্ষার সংস্থান করা সম্ভব।
দেশে ধনী ও দরিদ্রের সম্পদের ব্যবধান প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে। আমাদের দেশের জনগণকে ৩টি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা যেতে পারে:
১ম শ্রেণীঃ উচ্চবিত্ত, যারা বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে।
২য় শ্রেণীঃ মধ্যবিত্ত, যারা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণের চেষ্টা করছে।
৩য় শ্রেণীঃ নিম্মবিত্ত, যারা কঠোর পরিশ্রম করে জীবনধারণের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টায় রত।
আর দেশের পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে আমাদের প্রয়োজন নিজেদের ধ্যানধারণায় পরিবর্তন। নিজেদের প্রয়োজন পূরণের জন্য আমাদের শত ব্যস্ততার মাঝে সামান্য সময় ও অর্থ বের করতে পারলে আমরা পারবো সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভাগ্য বদলানোর অংশিদার হতে। নিজ সন্তানের ভরণপোষণ, উন্নত খাবার, শিক্ষা, পোশাক ইত্যাদির পাশাপাশি আমরা পারি ওই ৬০ লক্ষ অপুষ্ট শিশুর স্বাস্থ্য ফেরাতে এবং শিক্ষার ব্যবস্থা করতে। দেশের অবস্থাপন্ন ২ কোটির অধের্ক মানুষও যদি একটি করে অবহেলিত শিশুর দায়িত্ব নিতে রাজি হন, তাহলে আর অবহেলিত শিশু খুঁজে পাওয়া যাবে না। ঠিক এমনই ধারণা থেকে জন্ম ‘সৌহার্দ ফাউন্ডেশন’এর। ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এ আপ্তবাক্য আর সৃষ্টিকর্তার বিধানকে পুঁজি করে কিছু মানুষের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফসল সৌহার্দ ফাউন্ডেশন। প্রাথমিকভাবে যার পথচলা শুরু শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ৫০ শিশু ও অবহেলিত ৫০ প্রবীণাকে নিয়ে একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নিয়ে। ধীরে ধীরে সমাজের সব বঞ্চিত শিশুকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা আর অবহেলিত প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে মা-বাবার মতো শ্রদ্ধা ও সেবা দেয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাচ্ছে।