সংক্রান্তি
পৌষ সংক্রান্তির দিনই পালিত হয় পুরান
ঢাকার এবং আদি ঢাকাইয়াদের ঐতিহ্যের
সাকরাইন উৎসব। ভোরবেলা কুয়াশার
আবছায়াতেই ছাদে ছাদে শুরু
হবে ঘুড়ি ওড়ানোর উন্মাদনা। ছোট বড়
সকলের অংশগ্রহনে মুখরিত
থাকবে প্রতিটি ছাদ। বেলা বাড়ার
সাথে সাথে বাড়বে উৎসবের জৌলুস। আর
শীতের বিকেলে ঘুড়ির কাটা-কাটি খেলায়
উত্তাপ ছড়াবে সাকরাইন উৎসব। এক দশক
আগেও ছাদে ছাদে থাকতো মাইকের
আধিপত্য। আজ মাইকের স্থান দখল
করেছে আধুনিক সাউন্
ড সিস্টেম ও ডিজে। উৎসবের
আমেজ থাকবে পুরান ঢাকার সর্বত্র।
গেন্ডারিয়া, তাঁতীবাজার, লক্ষীবাজার,সূত্রাপুর
মাতবে ঐতিহ্যের এই উৎসবে।
আকাশে উড়বে ঘুড়ি আর
বাতাসে দোলা জাগাবে গান।
মাঝে মাঝে ঘুড়ি কেটে গেলে পরাজিত
ঘুড়ির উদ্ধেশ্যে ধ্বনিত হবে "বাকাট্টা লোট"
শব্দ যুগল
সাকারাইন উৎসব এখন আর শুধু
ঢাকাইয়াদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাকরাইন
পুরান ঢাকায় বসবাসকারী সকল মানুষের
উৎসবে পরিণত হয়েছে। পুরান ঢাকার এই
সকল ঐতিহ্যগুলো সম্পর্কে নতুন
প্রজন্মকে সচেতন
এবং ঐতিহ্যগুলো পুনরুজ্জীবিত করার
লক্ষ্যে আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য যে, পুরান ঢাকার সার্বজনীন
উৎসব ঈদ মিছিল, বৈশাখী মেলা আর
সাকরাইন উৎসব। আশার কথা এই যে,
পুরান ঢাকার ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন,
সংরক্ষন এবং জনপ্রিয় করার
লক্ষ্যে বর্তমান প্রজন্ম সচেতন।
অতীতে সাকরাইনে পুরান ঢাকায়
শ্বশুরবাড়ি থেকে জামাইদের নাটাই,
বাহারি ঘুড়ি উপহার দেওয়া এবং পিঠার
ডালা পাঠানো ছিলো অবশ্য পালনীয় অংগ।
ডালা হিসেবে আসা ঘুড়ি, পিঠা আর
অন্যান্য খাবার বিলি করা হতো আত্নীয়-
স্বজন এবং পাড়ার লোকদের মধ্যে। নীরব
প্রতিযোগিতা চলতো কার
শ্বশুরবাড়ি হতে কত বড় ডালা এসেছে।
আজ এই সব চমৎকার আচারগুলো বিলুপ্ত
হতে চলেছে। পুরান ঢাকার
আদি বসবাসকারী সকল মানুষ এই
ঐতিহ্যগুলোর স্মৃতি রোমন্থন করেন। নতুন
প্রজন্মকে শোনান সেই সব মুখরিত দিনের
কথা। মনের খুব গভীরে পরম মমতায় লালন
করেন ঐতিহ্যের পরম্পরা। স্বপ্ন দেখেন
এই সকল প্রাণময় ঐতিহ্যগুলো আবার
পুনরুজ্জীবিত হবে।
শাঁখারিবাজার,তাঁতী বাজার, সূত্রাপুর আর চলছে ঘুড়ি বানানো
ব্যস্ততা ও সুতায় মাঞ্জা দেওয়া। নাটাই কেনবার পালা শেষ। পুরান
ঢাকা অপেক্ষা করছে ১৪ই জানুয়ারীর শীত
সকালের। শুরু হবে উৎসব। আর সন্ধ্যায়
আধার ঘনাবার সাথে সাথে পুরান
ঢাকা সকল জঞ্জাল আর
কালিমা পুড়িয়ে ফেলার আর আতশবাজীর
খেলায় (ইংরেজীতে যাকে বলে ফায়ার
ওয়ার্কস) মাতবে। রাতে কেউ কেউ
উড়াবে ফানুস ও চলবে অনুষ্ঠান । সাকরাইন এমনই সুন্দর আর
অর্থপূর্ণ ঘুড়ি উড়ানোর উৎসব।
বর্ণনাটি ইন্টারনেট হতে সংগৃহীত... :)
:)