Abuddarda Abdullah

Abuddarda Abdullah Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Abuddarda Abdullah, Dhaka.

শহিদ ইয়াহিয়া সিনওয়ার সম্পর্কে প্রথম আলোয় প্রকাশিত ব্রিটিশ-ফিলিস্তিনি শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক কর্মী আজাম তামিমির মতামত। হামা...
20/10/2024

শহিদ ইয়াহিয়া সিনওয়ার সম্পর্কে প্রথম আলোয় প্রকাশিত ব্রিটিশ-ফিলিস্তিনি শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক কর্মী আজাম তামিমির মতামত।

হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের লাশের যে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথম ছড়িয়ে পড়ে, সেটি দেখে গাজার একটি আংশিকভাবে ধ্বংস হওয়া বাড়ির ভেতর থেকে তোলা ছবি বলে মনে হচ্ছিল। ইসরায়েলি নেতারা হয়তো বিশ্বকে এই ছবি দেখাতে চাননি।

ধারণা করা হচ্ছে, যিনি প্রথম লাশটি দেখেন, তিনিই তাড়াহুড়ো করে ছবিটি তুলে পরিচিতজনদের কাছে পাঠিয়েছিলেন এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার পর ছবিটি বাকি বিশ্ব দেখতে পায়।

সিনওয়ারের মৃত্যু কীভাবে ঘটেছিল, তা দেখানোর জন্য সম্ভবত ইসরায়েলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাথায় অন্য একটি গল্প ছিল। তাঁরা হয়তো এই গল্প ফাঁদতে চেয়েছিলেন যে হামাসপ্রধান কাপুরুষের মতো সুড়ঙ্গে লুকিয়ে ছিলেন এবং ইসরায়েলি জিম্মিদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। তবে সত্যটি হলো, হামাসের এই শীর্ষ নেতা বীরের মতো শত্রুদের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াই করে শহীদ হয়েছেন।

ছবিতে সিনওয়ারের মাথায় বুলেটের ক্ষত দেখা গেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিশ্বকে বিশ্বাস করাতে চেয়েছিলেন, সিনওয়ার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু না; তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন না; বরং তিনি ইসরায়েলি সেনাদের মুখোমুখি হয়ে লড়াই করে মারা যান।

ফিলিস্তিনিদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সিনওয়ারের মৃত্যু মূলত শাহাদাত বরণ বা সবচেয়ে মহৎ ও সম্মানজনক মৃত্যু হিসেবে বিবেচিত হবে।

02/10/2024
28/09/2024

❝ শাপলাচত্বর ট্রাজেডি নিয়ে আল্লামা ফরীদ উদ্দিন মাসউদ সাহেবের সাক্ষাৎকার••

বইঃ বিশ্বাসের বহুবচন।
লেখকঃ রশীদ জামীল।
পর্ব নাম্বারঃ টু।

•রশীদ জামীলঃ আপনি আজিবন মউদূদীবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন। আপনার অনেক কথা ও কাজের প্রকাশ্য এবং লিখিত সমালোচনা করার পরও আপনার এই ব্যাপারটি আমার ভালো লাগে। আমাদের আকাবির ও আসলাফ মউদূদীবাদের সাথে আপোষ করেন নি। ব্যাপারটি আপনি ধরে রেখেছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য কে বেশি ক্ষতিকর? ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক-মুরতাদ নাকি জামায়াতে ইসলামী।

•মাওলানা মাসউদঃ আমি জামায়াতকেই বেশি ক্ষতিকর মনে করি। এর কারণ, কেউ নাস্তিক বা মুরতাদ হলে একটা সম্ভাবনা থাকে হক্ব যখন তার সামনে আসবে, তখন তাওবা করে দ্বীনে ফিরে আসার। কিন্তু মউদূদীদের সামনে তো এই সুযোগও নাই। কারণ, তারা যা করতেছে, এটাকে দ্বীন মনে করেই করতেছে। তাছাড়া কোন নাস্তিক বা মুরতাদ থেকে মুসলমানরা ধোঁকা খায়না। কিন্তু মউদূদীরা তো দ্বীনের নামে মুসলমানদেরকে ধোঁকা দিচ্ছে।

•রশীদ জামীলঃ আপনি দারুল উলূম দেওবন্দের সন্তান। আমরা দেখে থাকি এখনো প্রতি বছর দারুল উলূমের মাহফিলে বাংলাদেশ থেকে আপনি আমন্ত্রিত হন। উলামায়ে দেওবন্দ মউদূদীবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার। আপনিও অনুসরণ করছেন। দেওবন্দ তো আহলে হাদিস ফিরকার বিরুদ্ধেও এবং শুরু থেকেই সোচ্চার। ওদের ব্যাপারে আমরা আপনাকে নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখি কেন?

•মাওলানা মাসউদঃ দেখুন, আমি অতি ক্ষুদ্র একজন মানুষ। আমার একার পক্ষে সবগুলোর বিরুদ্ধে দাড়ানো সম্ভব না। দ্বীনের নামে বদদ্বীনির অনেক শাখা-প্রশাখা আছে। আলহামদুলিল্লাহ আমাদের উলামায়ে কেরাম সবগুলোর বিরুদ্ধে সোচ্চার আছেন। বড়রা সবগুলো নিয়ে কাজ করছেন। আমি দেখলাম ছোট মানুষ হিসাবে সবকিছু করে ফেলতে চাইলে, কেনটাই করা হবে না। তাই আমি একটা নিয়েই আছি। বাকি সবগুলোতে উলামায়ে কেরামের সাথে আমার সমর্থন আছে।

•রশীদ জামীলঃ মুফতি সাখাওয়াত আপনার সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে আপনার ভূমিকাকে তাসলিমা নাসরিনের সাথে তুলনা করেছিলেন। মন্তব্য প্লিজ।

•মাওলানা মাসউদঃ সেটা তাঁর ব্যক্তিগত মতামত ছিল। আমি জানি না সে এখনো তার কথায় আছে কি না। তবে আমি কিন্তু আল্লাহর কাছে স্বচ্ছ আছি। কারণ, আমি যা করেছিলাম দ্বীনের জন্যই করেছিলাম। তাসলিমার বিরোধিতা তো আমিও করেছি।

(২য় পর্ব)

25/09/2024

আমরা কি কওমী শিক্ষাধারার বৈশিষ্ট্য ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি ?
---------
|| মাওলানা মুহাম্মাদ হেমায়েত উদ্দীন ||
ইদানিং দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন কওমী মাদরাসায় ছাত্ররা কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মাতবরি শুরু করেছে। উস্তাদ ও মুরব্বী মান্যতার তোয়াক্কা মোটেই করছে না। যেন ছাত্ররাই উস্তাদ ও মুরব্বীদের চেয়ে বেশি জ্ঞানী, বেশি বিচক্ষণ ও বেশি দূরদর্শী হয়ে গেছে। আন্দোলন করে ছাত্রদের কথা মানার জন্য উস্তাদ ও মুরব্বীদেরকে বাধ্য করা হচ্ছে। উস্তাদ ও মুরব্বীদের সঙ্গে বেয়াদবিও করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর প্রভৃতি সহিংসতাও চালানো হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় উস্তাদ ও মুরব্বীদের দোষ-ত্রুটি প্রচার করে উস্তাদ ও মুরব্বীদের কাপড় খুলে ফেলা হচ্ছে। আল্লাহর কাছে এসব থেকে পানাহ চাই।

এসব আন্দোলনকারী নবীনদের অনেক যুক্তি। অন্যায়ের প্রতিবাদ, ন্যায্য দাবি আদায়, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি যুক্তির দোহাই দিয়ে তারা এগুলো করছে। কিন্তু উস্তাদ ও মুরব্বীদের আনুগত্য, তাদের আদব রক্ষা, তাদের সম্মান রক্ষা, তাদের অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতাকে মেনে নেওয়া- এগুলোর আবশ্যকতার কথা তারা মাথা থেকে একেবারেই ধুয়ে মুছে ফেলছে। আমি কসম করে নয় তবে কসমের কাছাকাছি প্রত্যয় থেকে বলছি এই ধারা চলতে থাকলে এবং ব্যাপকতা পেলে কওমী মাদরাসা শিক্ষাধারা তার শৃঙ্খলা হারাবে, ছাত্র গড়ার ঐতিহ্য হারাবে, বৈশিষ্ট্য হারাবে। কওমী মাদরাসা শিক্ষাধারা ধবংস হয়ে যাবে।

মনে রাখতে হবে, উস্তাদদের প্রতি ছাত্রদের ভক্তি শ্রদ্ধা এবং ছাত্রদের প্রতি উস্তাদদের স্নেহ-আন্তরিকতা, ছাত্রদের মঙ্গল ও কল্যাণকামিতার চিন্তা-চেতনা এটি হচ্ছে কওমী শিক্ষাধারার প্রতিষ্ঠানসমূহের ঐতিহ্যবাহী বৈশিষ্ট্যসমূহের একটি।

উস্তাদদের বিরুদ্ধে ছাত্রদের আন্দোলন এই বৈশিষ্ট্যকে ধ্বংস করে দিবে। উস্তাদদের প্রতি ছাত্রদের ভক্তি শ্রদ্ধা না থাকলে, উস্তাদদের সঙ্গে বেয়াদবি করলে, ছাত্রদের প্রতিও উস্তাদদের স্নেহ-আন্তরিকতা থাকবে না, ছাত্রদের মঙ্গল ও কল্যাণকামিতার চিন্তা থাকবে না। তখন উস্তাদদের মধ্যে ছাত্রদেরকে ভালো আলেম হিসেবে গড়ে তোলার স্বযত্ন প্রয়াস ও ব্যাকুলতাও থাকবে না। তখন উস্তাদরা শুধু চাকরি রক্ষার চিন্তায় পরিচালিত হবে। শুধু অফিসিয়াল ডিউটি পালন করেই ক্ষান্ত হবে। অতিরিক্ত আন্তরিকতা নিয়ে ছাত্রদেরকে গড়ে তোলার যে তৎপরতার ফলে কওমী মাদরাসা থেকে যোগ্য আলেম গড়ে ওঠে সেই তৎপরতা চালানোর উৎসাহ উস্তাদদের মধ্যে থাকবে না। তখন কওমী মাদরাসা থেকে উস্তাদদের স্বযত্ন প্রয়াসে যোগ্য আলেম তৈরি হওয়ার ধারা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আর এভাবেই কওমী মাদরাসা শিক্ষাধারা তার ছাত্র গড়ার ঐতিহ্যবাহী বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলবে।

জানি না, কওমী মাদরাসার সফলতার ধারাকে বিনষ্ট করার জন্য পরিকল্পিতভাবে কোন গোষ্ঠি ছাত্রদেরকে ও নবীনদেরকে উস্তাদ মুরব্বীদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছে কি না। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।

কওমী শিক্ষাধারাকে তার ঐতিহ্যবাহী বৈশিষ্ট্যে ধরে রাখতে হলে উস্তাদ মুরব্বীদের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন বিশৃঙ্খলা বনাম আত্মঘাতি তৎপরতা অতি অবশ্যই পরিহার করতে হবে। আর যদি আমরা কওমী শিক্ষাধারাকে ধ্বংসের ফাইনাল সিদ্ধান্ত নিয়েই থাকি তাহলে এগুলোই চালিয়ে যাই এবং যুক্তির নামে কুযুক্তি দিয়ে একে উজ্জীবিত করতে থাকি!

কারও নাম উল্লেখ করে বিতর্কের দিকে যেতে চাই না। তবে মোটাকথা যে, ছাত্রদের এসব উগ্রতা ও সহিংসতার পেছনে অবশ্যই কারো না কারো উগ্র চিন্তা-চেতনার প্রভাব থাকে। সেই পেছনের কুশিলবরা যদি কওমী শিক্ষাধারার শত্রু হয়ে থাকে, তাহলে তাদের ব্যাপারে সকলে সজাগ সচেতন থাকুন। দলীল-প্রমাণসহ তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে থাকুন। আর যদি তারা আমাদেরই কওমী ধারার লোক হন এবং এই ধারার শত্রু না হন কিন্তু মুরব্বীদের বুঝ ও মুরব্বীদের অনুসৃত নীতি ছেড়ে নিজেদের বুঝমত তারা এসব তৎপরতা চালাচ্ছেন- এমন হয়, তাহলে তাদের কাছে বিনীত নিবেদন- জুমহুর মুরব্বীদের বুঝ ও তাদের অনুসৃত নীতি বর্জন করবেন না। কওমী শিক্ষাধারাকে ধ্বংস করে দিবেন না। হক ও হক্কানিয়াতের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এই ধারাকে ধ্বংস করে দিবেন না। যোগ্য আলেম গড়ার এই কারখানাগুলোকে ধ্বংস করে দিবেন না। আকাবিরের রেখে যাওয়া এই আমানতকে ধ্বংস করে দিবেন না।

মনে রাখবেন, জুমহুর মুরব্বীদের বুঝ ও তাদের অনুসৃত নীতি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। আপনাদেরটা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নয়, বরং প্রবল সন্দেহপূর্ণ, নিশ্চিত ঝুঁকিপূর্ণ। হাদীছের ভাষ্য স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি-
دع ما يريبك إلى ما لا يريبك. (رواه الترمذي والنَّسائي، وقال الترمذي: حديث حسن صحيح.)
অর্থাৎ, সন্দেহ পূর্ণটা ছেড়ে সন্দেহ মুক্তটা ধরো। (সুনানে তিরমিযী ও নাসায়ী)

উস্তাদ ও মুরব্বীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে উজ্জীবিত কোমলমতি ছাত্র ও নবীনদের বলব, কওমী মাদরাসা ধ্বংসের এই তৎপরতায় তোমরা ব্যবহৃত হয়ো না। কোন মাদরাসায় কোন সমস্যা দেখা দিতে পারে, কোন উস্তাদ বা মুরব্বীর কোন ভুল হতে পারে। অতীতেও কোন প্রতিষ্ঠানে এরকম সমস্যা ও ভুল দেখা দেয়নি তা নয়। কিন্তু তখন যেভাবে মুরব্বীদের মধ্যস্থতায় সবকিছুর প্রতিকার করা হয়েছে, এখনও সেভাবেই এগোতে হবে। ইমাম মালেক রহ.-এর একটা প্রসিদ্ধ উক্তি রয়েছে যা এ ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। উক্তিটি হল-
لن يصلح آخر هذه الأمة إلا بما صلح به أولها.
অর্থাৎ এই উম্মতের শুরুভাগের লোকদের ইসলাহ সংশোধন যে পদ্ধতিতে হয়েছে, শেষভাগের ইসলাহ সংশোধনও সেই পদ্ধতি ছাড়া অন্যভাবে হবে না।

মনে রাখতে হবে, মুরব্বীদের মাধ্যমে কোন সমস্যার সমাধান হলে মুরব্বী মান্যতার ধারায় আর কেউ সাধারণত সেই বিষয় নিয়ে দ্বিতীয়বার ঘাটাঘাটি করতে যায় না। বলে, যা-ই হোক মুরব্বীগণ যখন বলছেন তখন আমরা মেনে নিলাম। এভাবে সমস্যার সমাধান স্থায়িত্ব লাভ করে। বা ন্যুনতম পরিস্থিত শান্ত হয়। কিন্তু ছাত্র ও নবীনদের প্রতি অন্যদের এরূপ মান্যতা হওয়া সম্ভব নয়, হয়ও না। ফলে তাদের আন্দোলনে সাময়িক কোন সমাধানে পৌঁছনো হলেও পরবর্তীতে আরেক নবীন গোষ্টি সময় সুযোগে আবার পাল্টা আন্দোলন গড়ে তোলে। সমস্যার সমাধান স্থায়িত্ব লাভ করে না। পরিস্থিতি শান্ত হয় না। যেমনটা ইদানিং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আমরা লক্ষ করছি একই বিষয় নিয়ে কিছুদিন পরপর কাউন্টার রিকাউন্টার আন্দোলন চলছে।

উস্তাদ মুরব্বীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন প্রয়াসী ছাত্র ও নবীনদের বলব, তোমরা এখন ভাবছো উস্তাদ মুরব্বীদের চেয়ে তোমরা বেশি বোঝ, হয়তো খুব বেশি দিন যাবে না তোমাদের এই ভুল ভাঙ্গবে, যখন দেখবে তোমাদের ছাত্র ও অধীনস্থরা তোমাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে এই বলে যে, তোমরা বোঝ না। তখন তোমরা ঠিকই বুঝবে তোমাদের ছাত্ররা না-বুঝ তাই এমন বলছে। এবং এ-ও বুঝবে অতীতে তোমরাও তোমাদের ছাত্রদের মতো ভুল বুঝেছিলে এবং সেই ভুল বুঝের উপর নির্ভর করে কতোকিছু করেছিলে। তখন আফসোস করবে। কিন্তু ক্ষতি যা হওয়ার তা তো ইতিমধ্যে হয়েই গিয়ে থাকবে। অতএব সময় থাকতেই হূঁশে আসো। বুদ্ধিমত্তা, ভারসাম্য, আদব, শৃঙ্খলা সাথে রাখো।

25/09/2024

আমরা কি কওমী শিক্ষাধারার বৈশিষ্ট্য ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি ?
---------
|| মাওলানা মুহাম্মাদ হেমায়েত উদ্দীন ||

ইদানিং দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন কওমী মাদরাসায় ছাত্ররা কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মাতবরি শুরু করেছে। উস্তাদ ও মুরব্বী মান্যতার তোয়াক্কা মোটেই করছে না। যেন ছাত্ররাই উস্তাদ ও মুরব্বীদের চেয়ে বেশি জ্ঞানী, বেশি বিচক্ষণ ও বেশি দূরদর্শী হয়ে গেছে। আন্দোলন করে ছাত্রদের কথা মানার জন্য উস্তাদ ও মুরব্বীদেরকে বাধ্য করা হচ্ছে। উস্তাদ ও মুরব্বীদের সঙ্গে বেয়াদবিও করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর প্রভৃতি সহিংসতাও চালানো হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় উস্তাদ ও মুরব্বীদের দোষ-ত্রুটি প্রচার করে উস্তাদ ও মুরব্বীদের কাপড় খুলে ফেলা হচ্ছে। আল্লাহর কাছে এসব থেকে পানাহ চাই।

এসব আন্দোলনকারী নবীনদের অনেক যুক্তি। অন্যায়ের প্রতিবাদ, ন্যায্য দাবি আদায়, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি যুক্তির দোহাই দিয়ে তারা এগুলো করছে। কিন্তু উস্তাদ ও মুরব্বীদের আনুগত্য, তাদের আদব রক্ষা, তাদের সম্মান রক্ষা, তাদের অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতাকে মেনে নেওয়া- এগুলোর আবশ্যকতার কথা তারা মাথা থেকে একেবারেই ধুয়ে মুছে ফেলছে। আমি কসম করে নয় তবে কসমের কাছাকাছি প্রত্যয় থেকে বলছি এই ধারা চলতে থাকলে এবং ব্যাপকতা পেলে কওমী মাদরাসা শিক্ষাধারা তার শৃঙ্খলা হারাবে, ছাত্র গড়ার ঐতিহ্য হারাবে, বৈশিষ্ট্য হারাবে। কওমী মাদরাসা শিক্ষাধারা ধবংস হয়ে যাবে। মনে রাখতে হবে উস্তাদদের প্রতি ছাত্রদের ভক্তি শ্রদ্ধা এবং ছাত্রদের প্রতি উস্তাদদের স্নেহ-আন্তরিকতা, ছাত্রদের মঙ্গল ও কল্যাণকামিতার চিন্তা-চেতনা এটি হচ্ছে কওমী শিক্ষাধারার প্রতিষ্ঠানসমূহের ঐতিহ্যবাহী বৈশিষ্ট্যসমূহের একটি।

উস্তাদদের বিরুদ্ধে ছাত্রদের আন্দোলন এই বৈশিষ্ট্যকে ধ্বংস করে দিবে। উস্তাদদের প্রতি ছাত্রদের ভক্তি শ্রদ্ধা না থাকলে, উস্তাদদের সঙ্গে বেয়াদবি করলে, ছাত্রদের প্রতিও উস্তাদদের স্নেহ-আন্তরিকতা থাকবে না, ছাত্রদের মঙ্গল ও কল্যাণকামিতার চিন্তা থাকবে না। তখন উস্তাদদের মধ্যে ছাত্রদেরকে ভালো আলেম হিসেবে গড়ে তোলার স্বযত্ন প্রয়াস ও ব্যাকুলতাও থাকবে না। তখন উস্তাদরা শুধু চাকরি রক্ষার চিন্তায় পরিচালিত হবে। শুধু অফিসিয়াল ডিউটি পালন করেই ক্ষান্ত হবে। অতিরিক্ত আন্তরিকতা নিয়ে ছাত্রদেরকে গড়ে তোলার যে তৎপরতার ফলে কওমী মাদরাসা থেকে যোগ্য আলেম গড়ে ওঠে সেই তৎপরতা চালানোর উৎসাহ উস্তাদদের মধ্যে থাকবে না। তখন কওমী মাদরাসা থেকে উস্তাদদের স্বযত্ন প্রয়াসে যোগ্য আলেম তৈরি হওয়ার ধারা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আর এভাবেই কওমী মাদরাসা শিক্ষাধারা তার ছাত্র গড়ার ঐতিহ্যবাহী বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলবে। জানি না কওমী মাদরাসার সফলতার ধারাকে বিনষ্ট করার জন্য পরিকল্পিতভাবে কোন গোষ্ঠি ছাত্রদেরকে ও নবীনদেরকে উস্তাদ মুরব্বীদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছে কি না। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।

কওমী শিক্ষাধারাকে তার ঐতিহ্যবাহী বৈশিষ্ট্যে ধরে রাখতে হলে উস্তাদ মুরব্বীদের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন বিশৃঙ্খলা বনাম আত্মঘাতি তৎপরতা অতি অবশ্যই পরিহার করতে হবে। আর যদি আমরা কওমী শিক্ষাধারাকে ধ্বংসের ফাইনাল সিদ্ধান্ত নিয়েই থাকি তাহলে এগুলোই চালিয়ে যাই এবং যুক্তির নামে কুযুক্তি দিয়ে একে উজ্জীবিত করতে থাকি!

কারও নাম উল্লেখ করে বিতর্কের দিকে যেতে চাই না। তবে মোটাকথা যে, ছাত্রদের এসব উগ্রতা ও সহিংসতার পেছনে অবশ্যই কারো না কারো উগ্র চিন্তা-চেতনার প্রভাব থাকে। সেই পেছনের কুশিলবরা যদি কওমী শিক্ষাধারার শত্রু হয়ে থাকে, তাহলে তাদের ব্যাপারে সকলে সজাগ সচেতন থাকুন। দলীল-প্রমাণসহ তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে থাকুন। আর যদি তারা আমাদেরই কওমী ধারার লোক হন এবং এই ধারার শত্রু না হন কিন্তু মুরব্বীদের বুঝ ও মুরব্বীদের অনুসৃত নীতি ছেড়ে নিজেদের বুঝমত তারা এসব তৎপরতা চালাচ্ছেন- এমন হয়, তাহলে তাদের কাছে বিনীত নিবেদন- জুমহুর মুরব্বীদের বুঝ ও তাদের অনুসৃত নীতি বর্জন করবেন না। কওমী শিক্ষাধারাকে ধ্বংস করে দিবেন না। হক ও হক্কানিয়াতের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এই ধারাকে ধ্বংস করে দিবেন না। যোগ্য আলেম গড়ার এই কারখানাগুলোকে ধ্বংস করে দিবেন না। আকাবিরের রেখে যাওয়া এই আমানতকে ধ্বংস করে দিবেন না।

মনে রাখবেন, জুমহুর মুরব্বীদের বুঝ ও তাদের অনুসৃত নীতি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। আপনাদেরটা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নয়, বরং প্রবল সন্দেহপূর্ণ, নিশ্চিত ঝুঁকিপূর্ণ। হাদীছের ভাষ্য স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি-
دع ما يريبك إلى ما لا يريبك. (رواه الترمذي والنَّسائي، وقال الترمذي: حديث حسن صحيح.)
অর্থাৎ, সন্দেহপূর্ণটা ছেড়ে সন্দেহমুক্তটা ধরো। (সুনানে তিরমিযী ও নাসায়ী)

উস্তাদ ও মুরব্বীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে উজ্জীবিত কোমলমতি ছাত্র ও নবীনদের বলব, কওমী মাদরাসা ধ্বংসের এই তৎপরতায় তোমরা ব্যবহৃত হয়ো না। কোন মাদরাসায় কোন সমস্যা দেখা দিতে পারে, কোন উস্তাদ বা মুরব্বীর কোন ভুল হতে পারে। অতীতেও কোন প্রতিষ্ঠানে এরকম সমস্যা ও ভুল দেখা দেয়নি তা নয়। কিন্তু তখন যেভাবে মুরব্বীদের মধ্যস্থতায় সবকিছুর প্রতিকার করা হয়েছে, এখনও সেভাবেই এগোতে হবে। ইমাম মালেক রহ.-এর একটা প্রসিদ্ধ উক্তি রয়েছে যা এ ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। উক্তিটি হল-
لن يصلح آخر هذه الأمة إلا بما صلح به أولها.
অর্থাৎ এই উম্মতের শুরুভাগের লোকদের ইসলাহ সংশোধন যে পদ্ধতিতে হয়েছে, শেষভাগের ইসলাহ সংশোধনও সেই পদ্ধতি ছাড়া অন্যভাবে হবে না।

মনে রাখতে হবে, মুরব্বীদের মাধ্যমে কোন সমস্যার সমাধান হলে মুরব্বী মান্যতার ধারায় আর কেউ সাধারণত সেই বিষয় নিয়ে দ্বিতীয়বার ঘাটাঘাটি করতে যায় না। বলে, যা-ই হোক মুরব্বীগণ যখন বলছেন তখন আমরা মেনে নিলাম। এভাবে সমস্যার সমাধান স্থায়িত্ব লাভ করে। বা ন্যুনতম পরিস্থিত শান্ত হয়। কিন্তু ছাত্র ও নবীনদের প্রতি অন্যদের এরূপ মান্যতা হওয়া সম্ভব নয়, হয়ও না। ফলে তাদের আন্দোলনে সাময়িক কোন সমাধানে পৌঁছনো হলেও পরবর্তীতে আরেক নবীন গোষ্টি সময় সুযোগে আবার পাল্টা আন্দোলন গড়ে তোলে। সমস্যার সমাধান স্থায়িত্ব লাভ করে না। পরিস্থিতি শান্ত হয় না। যেমনটা ইদানিং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আমরা লক্ষ করছি একই বিষয় নিয়ে কিছুদিন পরপর কাউন্টার রিকাউন্টার আন্দোলন চলছে।

উস্তাদ মুরব্বীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন প্রয়াসী ছাত্র ও নবীনদের বলব, তোমরা এখন ভাবছো উস্তাদ মুরব্বীদের চেয়ে তোমরা বেশি বোঝ, হয়তো খুব বেশি দিন যাবে না তোমাদের এই ভুল ভাঙ্গবে, যখন দেখবে তোমাদের ছাত্র ও অধীনস্থরা তোমাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে এই বলে যে, তোমরা বোঝ না। তখন তোমরা ঠিকই বুঝবে তোমাদের ছাত্ররা না-বুঝ তাই এমন বলছে। এবং এ-ও বুঝবে অতীতে তোমরাও তোমাদের ছাত্রদের মতো ভুল বুঝেছিলে এবং সেই ভুল বুঝের উপর নির্ভর করে কতোকিছু করেছিলে। তখন আফসোস করবে। কিন্তু ক্ষতি যা হওয়ার তা তো ইতিমধ্যে হয়েই গিয়ে থাকবে। অতএব সময় থাকতেই হূঁশে আসো। বুদ্ধিমত্তা, ভারসাম্য, আদব, শৃঙ্খলা সাথে রাখো।

24/09/2024

শাপলাচত্বর ট্রাজেডি নিয়ে আল্লামা ফরীদ উদ্দিন মাসউদ সাহেবের সাক্ষাৎকার••
বইঃ বিশ্বাসের বহুবচন।
লেখকঃ রশীদ জামীল।
পর্ব নাম্বারঃ ওয়ান।
•রশীদ জামীলঃ জনাব আপনি শাহবাগ আন্দোলনের সাথে একাত্মতা জানিয়েছিলেন। তার মানে তারা সঠিক ছিল?
•মাওলানা মাসউদঃ আমি যখন শাহবাগ আন্দোলনের সাথে একাত্মতা জানিয়েছিলাম, তখন তাদেরকে সঠিকই মনে করেছিলাম এবং এখনো তা-ই মনে করি।
•রশীদ জামীলঃ যখন এবং ছিল, তার মানে পরে তারা আর সঠিক ছিল না বা আপনার কাছে সঠিক মনে হয়নি। যদি তা-ই হয়, তাহলে প্রতিবাদ করলেন না তো?
•মাওলানা মাসউদঃ প্রতিবাদ করলাম না..কথাটা সঠিক নয়। যখন শাহবাগের সাথে অ্যান্টি ইসলাম কিছু নাস্তিকের সম্পৃক্ততার কথা প্রকাশিত হয়েছে, তখন আমি প্রতিবাদ করেছি। এখনো আমার প্রতিবাদের অনেক ভিডিও ক্লিপ ইউটিউবে সার্চ করলে পাবেন।
•রশীদ জামীলঃ কিন্তু তখন শাহবাগের পক্ষে আপনার নেওয়া অবস্থানের ব্যাপারটি যেভাবে ফলাও করে প্রকাশ করেছিলেন, প্রতিবাদের ব্যাপারটি তো সেভাবে প্রচার করলেন না।
•মাওলানা মাসউদঃ দেখুন মাওলানা, কোনটাই আমি ফলাও করে প্রচার করিনি। আমি যখন শাহবাগে গিয়েছিলাম, তখন সেই ব্যাপারটিকে জামাত শিবিরের লোকজন ব্যাপকভাবে প্রচার - প্রচারণা চালিয়ে আমার ক্বওমি আলেম-উলামার সরল আবেগটাকে আমার বিরুদ্ধে টেনে নিতে চেষ্টা করেছে এবং অনেকাংশে সফলও হয়েছে। কিন্তু নাস্তিকতার বিরুদ্ধে আমার বক্তব্য বা অবস্থানের ব্যাপার কেউ সেভাবে সামনে নিয়ে আসেনি।
•রশীদ জামীলঃ আপনি শাহবাগ গেলেন, শাপলায় গেলেন না কেন? যে চেতনা থেকে শাহবাগ গিয়েছিলেন বলে আপনার দাবি, সেই একই চেতনা থেকেই তো উচিত ছিল শাপলায় যাওয়া এবং আলিম উলামার সাথে একাত্মতা জানানো।
•মাওলানা মাসউদঃ আমি শাপলায় কিভাবে যাবো। সেই রাস্তা তো আমার জন্য বন্ধ করে রাখা হয়েছিল।
•রশীদ জামীলঃ কারা বন্ধ করে রাখলো? কীভাবে করল?
•মাওলানা মাসউদঃ আমি কারো নাম নিতে চাই না। হেফাজতে ইসলামের ভেতরের কিছু মানুষ চাননি আমি আল্লামা আহমদ শফি দাঃবাঃ এর কাছে যাই। সবসময় তারা একটি প্রতিবন্ধকতার দেয়াল খাড়া করে রেখেছেন।
•রশীদ জামীলঃ আপনি তখন আল্লামা আহমদ শফিকে চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিতে আপনি তাকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিতে। কেন করেছিলেন? আর কিছু বলার থাকলে সরাসরি চট্টগ্রাম চলে যেতে পারতেন। হুজুরের সাথে ফেইস টু ফেইস হয়ে কথা বলতে পারতেন। যেটুকু আপনার বলার ছিল।
মাওলানা মাসউদঃ আর আমি আন্দোলন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানাইনি। আমি অনুরোধ করেছিলাম দাবিগুলোর সাথে আরেকটি দাবি যুক্ত করে নিতে। সেটি হলো জামাত শিবিরকে নিষিদ্ধ করা। আর আমি হুজুরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। আমাকে হুজুরের সাথে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। বারবার ফোন করার পরও আমাকে জানানো হয়েছে হুজুর অসুস্থ। কথা বলতে পারবেন না।
রশীদ জামীলঃ কারা জানিয়েছিলেন হুজুর অসুস্থ!
মাওলানা মাসউদঃ আমি হাটহাজারী মাদ্রাসার নাম্বারে ফোন করেছি। ওদিক থেকে কে ফোন রিসিভ করে কথা বলেছেন, সেটা তো আমি বলতে পারবো না। তবে নিশ্চয় দায়িত্বশীল কেউই হবেন। বাইরের কেউ বা কোন ছাত্র তো মাদ্রাসার অফিসিয়াল ফোন রিসিভ করতে পারে না। তাই না?
রশীদ জামীলঃ সরাসরি হাটহাজারী চলে গেলেও পারতেন।
মাওলানা মাসউদঃ সেই সুযোগও আমাকে দেওয়া হয়নি। একবার আমি গিয়েছিলাম হুজুরের কাছ থেকে কিছু নির্দেশনা আনতে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আমাকে অফিসে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। দুপুর বেলা আমাকে জানানো হয়েছিল, হুজুরের শরীর ভালো নেই। দেখা করা যাবে না।
•রশীদ জামীলঃ আমি জানিনা কথাটি সত্যি কি না। এক সাক্ষাৎকারে আপনি বলেছিলেন 'শাহবাগে গিয়ে আমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় নেক কাজ করেছি'। কথাটির যদি একটু ব্যাখ্যা করতেন!
•মাওলানা মাসউদঃ কথাটি আমি ঠিক কিভাবে বলেছিলাম আমার মনে নেই। তবে এটুকু মনে আছে যে, এমন একটি কথা আমি বলেছিলাম। কথাটির ব্যাখ্যা হলো, আমি আজিবন মউদূদীবাদের বিরোধিতা করে আসছি। এই মিশন নিয়ে আমি কাজ করছি সারা জীবন। এ-ই কাজটি আমি পেয়েছি আমার আকাবির-আসলাফ তথা উলামায়ে দেওবন্দের কাছ থেকে। আপনি জানেন, মওদূদিয়্যতের সাথে আমাদের মূল বিরোধটা হলো আক্বাইদ সংক্রান্ত। ইসমতে আম্বিয়া এবং আদালতে সাহাবা সংক্রান্ত। মউদূদীরা নবীগনকে 'মাসুম আনিল খাতা মানে না'। সাহাবায়ে কেরামকে সমালোচনার উর্ধ্বে স্বীকার করে না। আর ইসমতে আম্বিয়া ও আাদলতে সাহাবা অস্বীকার কারীদের বিরোধিতা করাকে আমি একটি নেক কাজ এবং শ্রেষ্ট ইবাদত মনে করি। শাহবাগের জমায়েতকে আমার কাছে একটি সুবর্ণ সুযোগ মনে হয়েছিল। আমার কাছে মনে হয়েছিল, সাহাবার দুশমনদের বিরুদ্ধে এটি একটি শক্ত অবস্থান। এই সুযোগকে কাজে লাগানো যেতে পারে। এই নেক নিয়তেই আমি সেখানে গিয়েছিলাম।
•রশীদ জামীলঃ কিন্তু এ-ই নেক কাজটি করতে আপনি এমন জায়গায় চলে গেলেন, যেখানে নাচ-গান, বাজনা এবং ছেলেমেয়েদের বেপর্দা সহাবস্থান ছিল। কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
•মাওলানা মাসউদঃ দেখুন মাওলানা, 'আহওয়ালুল বলিয়াতাইন' ব্যাপারটি আপনি বুঝেন। আপনাকে ব্যাখ্যা করার দরকার হবে না। আপনার সামনে যখন দুইটা মন্দ কাজ থাকবে, তখন বড় মন্দ থেকে বাঁচার জন্য ছোট মন্দটা করার ইজাজত আছে। এটাকে হালাল মনে করে নয়, বড়টা থেকে আত্মরক্ষার খাতিরে। আমার কাছে মউদূদী ফিতনাকে বড় ফিতনা মনে হয়েছে এবং এখনো মনে হয়। তাছাড়া হুজুর পাক সাঃ কি 'ওকাজের মেলায় দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে চলে যাননি?
•রশীদ জামীলঃ একটি টেলিভিশন টকশোতে আপনি বলেছিলেন, আমি ইস্তেখারা করে শাহবাগে গিয়েছিলাম। ইস্তেখারাটির কি একটি ব্যাখ্যা করবেন?
•মাওলানা মাসউদঃ আমি যখন শাহবাগে গিয়েছিলাম, তখন শাহবাগের সাথে নাস্তিকতার কোন সম্পর্ক ছিলনা। এটা তো শুরু হলো রাজিব মারা যাওয়ার পর। তার আগ পর্যন্ত শাহবাগের অবস্থান ছিল জামায়াতে ইসলামীর (মউদূদীবাদের) বিরুদ্ধে। সুতরাং সেখানে যাওয়া একটি জায়েজ কাজ। আবার আমার উলামায়ে কেরাম কেউ যাচ্ছেন না। আমার যাওয়া সঠিক হবে কিনা— সেটা নিয়ে আমি একটু দ্বিধান্বিত ছিলাম। আর হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাজিঃ এর রেওয়ায়েত মতো দুটি জায়েজ কাজের মধ্যে তারজিহ দেওয়ার জন্য ইস্তেখারা করা যায়। সেভাবেই আমি করেছিলাম এবং শাহবাগ গিয়েছিলাম।

(১ম পর্ব শেষ)

20/09/2024

জাতীয় মসজিদের সম্মানিত খতীবের সাথে স্বাধীনতা বিরোধীদের ঘৃণ্য আচরণ ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ উত্থানের শঙ্কাকে সত্য প্রমাণিত করল।

20/09/2024

প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশের যে কয়জন আল্লামা আছেন, তাদের মধ্যে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ সাহেব একজন "আল্লামা"।

অন্যদের চেয়ে তিনি আলাদা। তিনি কথা বলেন কম, যিকির করেন বেশী, তার মুনাজাত আপনাকে কাদাবে, এটার সাক্ষী আমি নিজেই।

তার বক্তব্য:

তার কিছু বক্তব্যের সাথে ওলামায়ে কেরামগন দ্বিমত পোষণ করে থাকেন, সেসব বক্তব্যের যৌক্তিক সমালোচনা করার অধিকার রাখে তার সমপর্যায়ের ব্যক্তিরা, সবাই না। কওমী মাদ্রাসার ছাত্ররা সুশৃংখল,তাদের মধ্যে যারা অন্যায়ভাবে বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী, তাদেরকে যদি বে-আদব বলা হয়ে থাকে, সেটা সঠিক বলেছেন, তার এ বক্তব্যের সমালোচনা করবে তার সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।

শেষ কথা:

সম+আলোচনা=সমালোচনা
এটা সুন্দর।
বড়দের তাসামুহ হয়ে গেলে
অন্যান্য বড়রা ভুল শোধরানোর চেষ্টা করবে,
আমাদের মতো কমবয়সীরা চুপচাপ থাকাই নিরাপদ।
আমার এই লেখার সমালোচনা আমাকে কেন্দ্র করে করতে পারেন, কিন্তু বড়দের এখানে না জড়ানোর করজোড় আবদার রইল।

গুরুত্বপূর্ণ কথা:

হেফাজত ইসলাম, জামাত ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, জমিয়তসহ প্রতিটি দলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন, প্রতিটি দলের কর্মীও রয়েছেন।
আলোচনা, সমালোচনা, পর্যালোচনার কাজ হলো নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি বর্গের, কর্মীদের কাজ শুধুই কাজ করা।

জাযাকুমুল্লাহ।
মুফতী আরীফ বিন হাবিব

Address

Dhaka

Telephone

+880 1967-898684

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Abuddarda Abdullah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share