29/06/2024
(বেশি ব্যস্ত হলে শেষের অর্ধেক হলেও বুঝার ট্রাই করেন। খুবই খুবই ইম্পর্ট্যান্ট কিছু কথা বলেছি আপনাকে। একটা খোলা চিঠি বলতে পারেন।)
আচ্ছা, সূরা কাহাফের ঘটনাগুলো মনে আছে?
দেখেন, সবাই আপনাকে চারটা ঘটনার কথা বলে শুধু। যেটা আমরা খেয়াল করতে ভুলে যাই, সেটা হচ্ছে ঘটনাগুলো কেন বলা হচ্ছে? প্রত্যেকটা ঘটনা আমার কাছ থেকে কী চাইছে? আজ থেকে শুরু করে আমার মৃত্যু পর্যন্ত আমার কাছে কী দাবী করছে ঘটনাগুলো? কোন পথের নির্দেশ দেখাচ্ছে বিস্তারিতভাবে, যেন আমি সেই পথে হাঁটি, না থামি? পরিপূর্ণ আনুগত্যের সাথে যেন আমি গাইডেন্সগুলো অনুসরণ করি। গাইডেড থাকি। মিসগাইডেড যারা, চিরশত্রুর পূজারী যারা, তাদের সাথে যেন আমার কিছুতেই না মিলে যায়।
কেন প্রতি সপ্তাহে জুমু’আর দিনে নবিজী (সা) এটা পড়তে বললেন? দাজ্জালের বিরুদ্ধে, ম্যাটেরিয়ালিজমের বিরুদ্ধে কী ওষুধ লুকানো আছে এর মাঝে? প্রতিটা ওষুধ, প্রতিটা পদক্ষেপ কি খুঁজে খুঁজে বের করেছি? ম্যাটেরিয়ালিজম ঈমানকে ভুলিয়ে দেয়, ভুল করিয়ে দেয়, আর এই সূরা কাহাফ কিভাবে সেই ভাঙ্গা ফাটা ঈমানে ঔষধের কাজ করে সারিয়ে তোলে? কিভাবে আরোগ্যের দিকে নিয়ে যায়? জানি কী? খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ভেবে ভেবে পড়ি তো?
নাকি না বুঝে, এই কুরআনকে জাস্ট মন্ত্রপাঠের বস্তু বানিয়ে নিয়েছি পথহারা নির্বোধদের মতো? না বুঝলে, না ভাবলে, না ঘাটলে সত্যিই কি পথনির্দেশ জানা যায় কখনো? অনুসরণ করা যায়? সম্ভব? এই কুরআন কি পথের বিস্তারিত নির্দেশ দিতেই আসেনি? আরোগ্যের পথ বুঝিয়ে বলে দিতে আসেনি? আচ্ছা, না বুঝে প্রেসক্রিপশান পড়লে বহুত ফায়দা দূরে থাকুক, নূন্যতম ফায়দাও কি পাওয়া যায়? আর না বুঝে পড়াকে কি কেউ কখনো “পড়া” বলে?
আচ্ছা, এতো উৎসাহী হওয়ার পরেও সেই সাহাবীকে নবিজি (সা) তিনদিনের কমে কুরআন পড়ে ফেলতে নিষেধ কেন করেছেন, ভেবেছি কি? উত্তরটা কি নবিজি (সা) নিজেই পরিস্কারভাবে বলে দেননি? যেন বুঝে বুঝে পড়া হয়। না বুঝে যেন পড়া না হয়। তাও কথাগুলো তিনি (সা) একজন আরবকে বলেছেন! একজন আরবকে!! আরবীতে যাদের দক্ষতা আর গভীর বুঝের কথা বলে শেষ করা যাবে না। কথাগুলো তিনি (সা) একজন সাহাবীকে বলেছেন, যিনি ঈমান এনেছেন নিজে নবিজিকে (সা) সরাসরি দেখে। ঈমানের পাঠ শিখেছেন রাসূলুল্লাহ’র (সা) কাছ থেকেই। এতো দক্ষতা, এতো গভীর জ্ঞান আর বুঝের পরেও তিনি (সা) আলোচনা শুরুই করেছেন এইভাবে যেন ত্রিশ দিনে একবার পড়া হয়। সেইখান থেকে অতি উৎসাহ আর জোরাজুরিতে দশদিন আর সাতদিনে এসেছেন।
কেন?
ভাবার আছে। ভাবতে হবে।
আচ্ছা, আরেকটা জিজ্ঞাসা। প্রেসক্রিপশান শুধু পড়লেই আর বুঝলেই কি হয়ে যায়, নাকি ওষুধ কিনতে যাওয়া লাগে? ওধুধের দোকান থেকে কিনে খাওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট কিছু কাজ যথাযথভাবে করা লাগে? নিয়মিত করা লাগে? একটু ভাবিয়েন, প্লিজ।
যারা বুঝে বুঝে খেয়াল করে পড়েন, তারা জানেন, সূরা কাহাফের চার ঘটনার ঠিক সেন্টারে কিছু কথা বলেছেন আল্লাহ। এই মহাগুরুত্বপূর্ণ কথাগুলোর আগে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা দুইটা ঘটনা বুঝিয়েছেন। আবার কথাগুলো বলার পরে আরো দুইটা ঘটনা বুঝিয়েছেন।
ম্যাটেরিয়ালিজমের এগেইন্সটে ফাইট করার জন্য দরকার সঠিক স্পিরিচুয়ালিটি, রাইট? সেই স্পিরিচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং’র সারাংশ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সুরা কাহাফের ঠিক মাঝখানে। প্রায় কেন্দ্রে।
ইয়েস, সেন্টারে! এতোটাই ইম্পর্ট্যান্ট এই স্পিরিচুয়াল রিয়েলাইজেশান এন্ড এসিমিলেশান (assimilation, আত্তীকরণ)! একে গভীরভাবে বুঝে, অনুভব করে করে হৃদয়ে প্রোথিত করে না নিলে, দাজ্জাল আর শাইত্বান বাদ দিলাম, দুনিয়ার সাধারণ ফাইটেই আপনি টিকতে পারবেন না। প্রতিদিন হেরে যাবেন। দুনিয়াকে, নিজের জব কিংবা বিজনেসকেই আর-রাজ্জাক্ব মনে করা শুরু করবেন ভালভাবে বুঝে উঠার আগেই। ঈমান খুইয়ে বসবেন, কিন্তু বুঝবেনও না।
ট্রাস্ট মি, সূরা কাহাফের সেন্টারে থাকা এই স্পিরিচুয়াল রিয়ালাইজেশান নিয়ে আল্লাহ’র বলা পয়েন্টসগুলা আসলেই ডীপ! অনেক অনেক বেশি ডীপ! আর তাই, সূরা কাহাফের (১৮: ৪৫-৫৯) কেন্দ্রে থাকা এই আয়াতগুলোর প্রতিটা কথাকে, প্রতিটা শব্দকে আপনাকে রিয়ালাইজ করতে হলে ঘাটতে হবে, ভাবতে হবে। নিজের ভিতরে নাড়াচাড়া করে অনুভব করে নিতে হবে। ভেবে, চিন্তা করে করে বের করে আনতে হবে আল্লাহ’র প্রতিটা কথা আপনার কাছে, আপনার অন্তরের কাছে কী আবেদন করছে? কী চাইছে? কী ডিমান্ড করছে?
দেখেন, এই দুনিয়ার রিয়েলিটি বুঝে নিতে হবে সরাসরি দুনিয়ার ক্রিয়েটরের কাছ থেকে। দুনিয়ার পরীক্ষার স্বরূপও আল্লাহ’র কাছ থেকেই আপনার বুঝে নেয়া লাগবে। সুরা কাহাফের কেন্দ্রে দেখবেন এই বিষয়গুলোর দিকে আপনার ভাবনাকে, আপনার বুঝকে ধাক্কা মেরে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।
আর বনী আদমকে চ্যালেঞ্জ করে আসা, বনী আদমের সরাসরি স্পিরিচুয়াল শত্রুর ব্যাপারে আপনাকে আবারও সিরিয়াস রিমাইন্ডার দেয়া হচ্ছে। ইবলিসের ঘৃণ্য আর নীচ মানসিকতার এই শত্রুতাকে খুবই সিরিয়াসলি বুঝে নেওয়ার দিকে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।
একটু খেয়াল করলেই আপনি বুঝবেন, ম্যাটেরিয়ালিজম হচ্ছে দাজ্জালি সিস্টেমের মূল হাতিয়ার। আপনার-আমার চিরশত্রু ইবলিসও বস্তুবাদ আর ভোগবাদ দিয়েই আপনাকে, আপনার ইন্দ্রিয়গুলোকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ডাকতে থাকে, আক্রমণ করতে থাকে অবিরাম। বলা বাহুল্য, ২০২৩-২৪ এ এসে এই আক্রমণ সাঁড়াশি অভিযানে রূপ নিয়েছে। এক্সটার্নাল এবং ইন্টার্নাল, ম্যাটেরিয়াল এবং স্পিরিচুয়াল, সবদিক থেকেই এই আক্রমণ এখন চরমতম তীব্রতায় রূপ নিচ্ছে, যেটা মানব ইতিহাসে আগে কখনো ঘটেনি।
আর এতো কিছুর পরেও মুসলিমরা এতোটা গাফিল আর ভোঁতা হয়ে আর কখনো থাকেনি। বিশ্বব্যাপী, স্পেশালি প্যা লে স্টা ই নে ফিজিক্যাল আক্রমণ থেকে শুরু করে আপনার ঘরে এসে, আপনার অন্তর আর মস্তিষ্কে ভয়াবহ আঘাত করে করে আপনাকে ভোঁতা করে দিতে চাইছে, আর আপনিও শত্রুর সাথে গলা মিলিয়ে নিজের সর্বোচ্চ ক্ষতিটা করতে দিচ্ছেন, নিজেই নিজের ক্ষতি করছেন, বুঝে শুনেও করছেন, এমনকি ভাবনা-চিন্তার শক্তিটুকুও আপনার এতোটাই লোপ পেয়েছে যে সব বুঝেও...
এমন অবস্থায় সত্যিই কি আপনি সুরা কাহাফ পড়েন? এটাকে কি পড়া বলে? আসলেই কি পড়তে পারেন? ভাবতে পারেন? বুঝতে পারেন? নিজেকে বাঁচানোর জন্য পথের নির্দেশনা খুঁজে নিয়ে অনুসরণ করেন প্রেসক্রিপশানটাকে? বুকে হাত দিয়ে বলেন তো, নূন্যতম সেন্সটুকু, ইমার্জেন্সিটা যে কোন ভয়াবহ লেভেলে চলে গেছে, সেটা অনুভব করার মতো হৃদয়টা আপনার আর আছে কিনা? ছটফট করে কাঁদে কিনা?
Anything for You O Master! Ya Allah, anything for You!
এভাবে কি আর ভাবতে পারেন? ভাবেন? চলেন এই ভাবনা অনুযায়ী? ভেবে দেখুন তো!
নাকি অলরেডি বিক্রি হয়ে গেছেন?
ফেরার রাস্তা এখনো খোলা। কিন্তু ফেরার ইচ্ছেটুকু কি আছে?
নাকি শত্রুর কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়ার আনন্দেই মাতাল আর বিভোর থাকতে ভালো লাগছে?
collected