30/03/2026
ছোট্ট ইরার কথা মনে আছে তো? সীতাকুণ্ডের ইরা? মাত্র ১ মাস আগের ঘটনা। এত সহজে তো ভোলার কথা নয়।
একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে সীতাকুণ্ড থেকে মাত্র ৫০ কি.মি দূরে হাটহাজারিতে।
২৬শে মার্চ , সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় শিশু আফরিনকে (১১) তার বাসা থেকে ফুসলিয়ে নিয়ে আসে ফয়সাল। পাশের তুলা ফ্যাক্টোরিতে প্রবেশ করে।
এরপরের দৃশ্যে দেখা যায় ফয়সাল খালি গায়ে, টিশার্ট হাতে ফ্যাক্টরি থেকে বের হয়ে যেতে। ভাবটা এমন, যেন আজকে খুব গরম পড়েছে। অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায়, নির্বিগ্নে হেঁটে চলে গিয়েছে। ৪০ মিনিটে এভাবে একাধিকবার ফ্যাক্টোরিতে ঢুঁকে এবং বের হয়ে যায় ফয়সাল।
আরফিনের প্রতিবন্ধী বাবা, কারখানা শ্রমিক মা তাদের মেয়েকে চারদিকে খুঁজেও কোথাও না পেয়ে থানায় অভিযোগ জানান। দুদিন পর লাoশের পচা গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে সেই তুলার ফ্যাক্টোরি থেকে আফরিনকে উদ্ধার করা হয়।
অত্যন্ত নির্মমভাবে আফরিনকে পাশবিক নির্যাতনের পর মেরে ফেলেছে খু_নি ফয়সাল। চো_খ উ__ড়ে চেহারা থেঁ__লে দিয়েছিলো।
স্বাধীনতা দিবসের দিন এত বড় হিংস্র একটি ঘটনা ঘটলো। পাকিস্তানী হানাদারবাহিনী দ্বারা নয় মাসে লাখো নারীর উপর পাশবিক নির্যাতন, নির্মমতার কথা আমরা প্রতি বছরই কষ্টের সাথে স্মরণ করি। হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়।
কিন্তু তাদের আত্মত্যাগে পাওয়া স্বাধীন দেশে হওয়া নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমরা নিশ্চুপ কেন থাকি? কেন আমরা নারীর জন্য দেশটাকে নিরাপদ করতে পারলাম না আজও? কেন আমরা নরপিশাচদেরকে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিয়ে নারী ও শিশুদের জন্য দেশটাকে নিরাপদ করতে পারছি না?
এই ফয়সাল স্ত্রীসহ এই এলাকায় ভাড়া থাকতো। স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও ছোট্ট শিশুটিকে ছাড় দেয়নি। আফরিন নিখোঁজের পর তাকে খোঁজার জন্য ফয়সালও অংশ নেয়। কিন্তু ২৮ তারিখ লাশ উদ্ধার হওয়ার পর স্ত্রীকে ফেলেই পালিয়ে যায়।
এই খুনি এখনও পলাতক। আমাদের আশেপাশেই হয়তো কোথাও লুকিয়ে আছে। বিশেষ করে সে বরিশালের বাসিন্দা। বরিশাল, ঢাকা, চট্টগ্রাম এলাকায় আত্মগোপনে থাকার সম্ভাবনা খুব বেশী।
গতকাল আফরিনকে দাফন করা হয়েছে। এতটুকু একটা মানুষের কী নিষ্ঠুর নিয়তি। আহারে বাংলাদেশ। বিচার ব্যবস্থা!
আমি সবাইকে অনুরোধ করবো। এই খুনির চেহারাটা মনে রাখুন। তাকে দেশের যেই প্রান্তেই পাবেন, আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিন।
আফরিনকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে, খুনির চেহারা পুরো দেশে ছড়িয়ে দিন।
- অন্তর মাশঊদ