08/03/2026
আমরা বেশ কিছুদিন ধরেই একজন বয়স্ক নারীকে লক্ষ্য করছিলাম। তিনি প্রতিদিন রাস্তায় হেঁটে হেঁটে ৫ টাকার কলম বিক্রি করতেন। বিষয়টা আমাদের নজরে পড়ে। কৌতূহল থেকে একদিন তার সাথে কথা বললাম।
আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম,
— আপনি দিনে কতগুলো কলম বিক্রি করেন?
তিনি বললেন,
— ৩০ থেকে ৫০টা… কখনো কখনো এর থেকেও একটু বেশি।
আমি আবার জানতে চাইলাম,
— এই কলমগুলো আপনি কত দামে কিনেন?
তিনি বললেন,
— ৩ টাকায় কিনি।
মনে মনে একটু হিসাব করলাম। তারপর জিজ্ঞাসা করলাম,
— এই আয়ে কি আপনার সংসার চলে?
তিনি একটু হেসে বললেন,
— কখনো কেউ একটু বেশি দাম দিয়েও কলম কিনে। সব মিলিয়ে দিনে একশ থেকে দেড়শ টাকা হয়। এই টাকা দিয়ে বাসায় অসুস্থ স্বামী আর দুই সন্তানকে নিয়ে কোনোভাবে সংসার চালাই।
তার কথা শুনে একটি বিষয় আমার খুব ভালো লাগল—
তিনি কারো কাছে সরাসরি সাহায্য চান না, বরং নিজের পরিশ্রম দিয়ে কিছু করার চেষ্টা করেন।
আমরা আরও কিছুদিন তাকে পর্যবেক্ষণ করলাম। তার কথাগুলো বাস্তব কি না, তা বোঝার চেষ্টা করলাম। দেখলাম, সত্যিই তিনি কঠোর পরিশ্রম করে জীবন চালাচ্ছেন।
তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম—
তাকে সরাসরি দান নয়, বরং একটি কাজের সুযোগ দেব।
একদিন তাকে বললাম,
— আমরা যদি আপনাকে কিছু টাকা ধার দিই, আপনি কি ব্যবসা করতে পারবেন?
তিনি বললেন,
— যদি এমন কিছু হয় যাতে আমাকে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে না হয়, তাহলে অবশ্যই চেষ্টা করব।
তখন আমরা ভাবলাম, তার জন্য একটি ডিমের ছোট দোকান করা যায়। কারণ এতে বেশি সময় দিতে হবে না, পরিবার সামলিয়েও করা সম্ভব।
যেই চিন্তা, সেই কাজ।
আমরা তাকে নগদ টাকা দেইনি—বরং দোকানের জন্য প্রয়োজনীয় সব জিনিস কিনে দিয়েছি।
তারপর বললাম,
— এই টাকা কিন্তু একসময় ফেরত দিতে হবে।
তিনি সম্মত হলেন এবং খুব আন্তরিকভাবে ব্যবসা শুরু করলেন।
বিশ্বাস করবেন কি না জানি না—
মাত্র ২০ দিনের মধ্যেই তিনি সেই মূলধনের টাকা তুলে ফেললেন।
একদিন তিনি একটি পলিথিন ব্যাগ থেকে ধীরে ধীরে টাকা বের করে আমাদের হাতে দিতে শুরু করলেন। আমরা গুনে দেখলাম—
সেখানে পুরো মূলধনের টাকা রয়েছে।
মুহূর্তটা সত্যিই খুব ভালো লাগার ছিল।
আমরা আবার সেই টাকা তার হাতেই ফিরিয়ে দিলাম।
এখান থেকেই আমাদের মূল ভাবনা শুরু।
আমরা একটি বিষয় উপলব্ধি করেছি—
কাউকে যদি এক মাসের বাজার করে দেওয়া হয়, তাহলে সে এক মাস খুব ভালোভাবে চলতে পারবে। কিন্তু পরের মাসে তার কী হবে?
আবারও তাকে সাহায্যের জন্য কারো দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।
আমরা মনে করি, এটি প্রকৃত সমাধান নয়।
আমাদের ফাউন্ডেশন শুধু সাময়িক সাহায্য দেওয়ার জন্য কাজ করছে না।
আমরা চাই স্থায়ী সমাধান।
আমরা চাই—যার পাশে আমরা দাঁড়াবো, সে যেন একসময় আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠে এবং ভবিষ্যতে অন্য কাউকে সাহায্য করার সক্ষমতাও অর্জন করে।
হয়তো আমাদের সব প্রচেষ্টা সফল হবে না।
কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, চেষ্টা চালিয়ে গেলে সফলতার হার ধীরে ধীরে বাড়বে।
ধরুন, আমরা যদি ১০টি পরিবারকে এক মাসের খাবার দেই—তারা এক মাস ভালো থাকবে। কিন্তু এক মাস পর আবার একই সমস্যায় পড়বে।
কিন্তু আমরা যদি এমনভাবে সাহায্য করি, যেখান থেকে তারা নিজেরাই দাঁড়িয়ে যেতে পারে—তাহলে সেটিই হবে প্রকৃত পরিবর্তন।
এই বয়স্ক মহিলার ঘটনাটিই তার একটি ছোট উদাহরণ।
আমরা তাকে সামান্য একটি ব্যবসার সুযোগ করে দিয়েছিলাম।
মাত্র ২০ দিনের মধ্যেই তিনি সেই মূলধনের টাকা ফেরত দেওয়ার মতো অবস্থায় চলে এসেছেন।
আজ তার একটি ছোট ব্যবসা আছে, একটি অবস্থান আছে।
তিনি যদি এই ব্যবসাটি ধরে রাখতে পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে আর কারো কাছে সাহায্যের জন্য হাত বাড়াতে হবে না।
বরং একসময় হয়তো তিনিই অন্য কাউকে সাহায্য করার মতো অবস্থায় পৌঁছে যাবেন।
ভাবুন তো—
একজন মানুষকে সঠিকভাবে দাঁড়াতে সাহায্য করা গেলে, সে ভবিষ্যতে আরও কয়েকজন মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে।
আমাদের লক্ষ্য ঠিক সেখানেই।
সাময়িক সহায়তা নয়, স্থায়ী পরিবর্তন।
আমরা ধীরে ধীরে আমাদের এই পরিকল্পনাটি আপনাদের সাথে শেয়ার করব।
অনেকের মনে হয়তো একটি প্রশ্ন জাগতে পারে—
ঘটনাটি বুঝলাম, উদ্যোগটাও বুঝলাম। কিন্তু বাস্তব ছবি কোথায়?
আমরা জানি, বর্তমানে মানুষ যেকোনো কার্যক্রম দেখলে স্বাভাবিকভাবেই তার বাস্তব প্রমাণ বা ছবি দেখতে চায়। এটি খুবই স্বাভাবিক একটি প্রশ্ন।
তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করতে চাই।
এখন পর্যন্ত আমাদের এই কার্যক্রমে কোনো দাতা যুক্ত নেই। আমরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এই কাজগুলো শুরু করেছি।
এই কারণেই আমরা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি—
আমাদের কার্যক্রম চলবে, মানুষকে সাহায্য করার চেষ্টা চলবে, কিন্তু এ মুহূর্তে আমরা কোনো বাস্তব ছবি বা ব্যক্তিগত মুহূর্ত প্রকাশ করব না।
কারণ আমরা বিশ্বাস করি, সাহায্যের মুহূর্তটি অনেক সময় ব্যক্তির সম্মান ও ব্যক্তিগত মর্যাদার সাথেও জড়িত।
যখন আমাদের সাথে দাতারা যুক্ত হবেন এবং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা দেখানোর প্রয়োজন হবে, তখন অবশ্যই আমরা আমাদের সকল কার্যক্রম যথাযথভাবে আপনাদের সামনে তুলে ধরব।
আমাদের উদ্দেশ্য একটাই—
মানুষকে সাময়িক সহায়তা নয়, বরং স্থায়ীভাবে দাঁড়াতে সাহায্য করা।
#জিদনী_ফাউন্ডেশন
#মানবিকতা
#মানুষের_পাশে
#দান_করুন
#সদকা
#মানবতার_টানে
#একটু_সহযোগিতা
#আপনার_দান