25/02/2026
অদম্য উদ্যোক্তাঃ ৪ জন অদম্য শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণের স্বপ্ন ছোঁয়ার গল্প শুরু হচ্ছে! 🚀
স্বপ্ন যখন আকাশছোঁয়া, আর সংকল্প যখন দৃঢ়—তখন সাফল্য কেবল সময়ের ব্যাপার। সেই বিশ্বাস থেকেই আমাদের এক নতুন পথচলা শুরু হয়েছে: ৩ জন যুবক এবং ১ জন অদম্য মেধাবী যুবতীকে পূর্ণাঙ্গ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা।
আমাদের এই ৪ জন সাহসী তরুণ-তরুণী এখন তাদের আইডিয়াকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রস্তুত। এই ০৪ জনের জন্য দরকার ৪ লাখ টাকা।
আমরা চাই এই অদম্য চারজনের পাশে আপনিও থাকুন। আপনার পরামর্শ, নেটওয়ার্ক কিংবা সামান্য উৎসাহ হতে পারে তাদের এই দীর্ঘ লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি।
মোঃ রেজাউল জান্নাত (দিনাজপুর)
হুইলচেয়ারে বন্দি শরীর, কিন্তু মুক্ত আকাশে উড়তে চায় রেজাউলের মন।
কখনো কখনো জীবন মানুষকে এমন এক জায়গায় এনে দাঁড় করায়, যেখানে সামনে এগোনোর পথ চোখে পড়ে না। স্পাইনাল কর্ড ইনজুরির কারণে দিনাজপুরের মোঃ রেজাউল জান্নাত আজ হুইলচেয়ারে চলাচল করেন। যে বয়সে অন্যরা দৌড়ায়, সে বয়সে তিনি ভাড়া করা একটি ছোট দোকানে বসে মানুষের মোবাইল/বিকাশ রিচার্জ করে দেন।
তবুও তিনি হার মানেননি। অদম্য জেদ আর ইচ্ছাশক্তি দিয়ে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। শরীর তাকে থামাতে পারেনি, থামাতে পারেনি স্বপ্ন দেখাও।
রেজাউল চান তার এই ছোট দোকানটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত দোকানে রূপ দিতে—যেখানে মুদি পণ্য, ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী এবং বিকাশ, নগদ ও রিচার্জ সেবা একসঙ্গে থাকবে।
তিনি প্রমাণ করতে চান, শরীর অবশ হতে পারে, কিন্তু মানুষের ইচ্ছাশক্তি কখনো পঙ্গু হয় না।
এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজন ৯০,০০০ (নব্বই হাজার) টাকা।
হুইলচেয়ারে বসে থাকা এই অদম্য যোদ্ধার জীবনে আপনার সহযোগিতা হতে পারে আশার প্রদীপ, যা তার অন্ধকার পথ আলোকিত করবে।
মোঃ আশরাফুল ইসলাম (গাইবান্ধা)
একটি কৃত্রিম পা আর এক আকাশ স্বপ্ন—আশরাফুলের অদম্য যাত্রা।
এক পা নেই, তাতে কী হয়েছে? স্বপ্ন তো আকাশ ছোঁয়ার। এই বিশ্বাস নিয়েই প্রতিদিন লড়াই করে যাচ্ছেন গাইবান্ধার অদম্য তরুণ মোঃ আশরাফুল ইসলাম।
কৃত্রিম পায়ের ওপর ভর করে যখন তিনি একটি শোরুমে দাঁড়িয়ে কাস্টমারদের হাসিমুখে সেবা দেন, তখন অনেকেই বুঝতে পারেন না—এই হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে নিজের একটি ছোট দোকান দেওয়ার গভীর আকাঙ্ক্ষা, নিজের পরিচয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর তীব্র ইচ্ছা।
আশরাফুল একজন শিক্ষিত তরুণ। তিনি ফুলছড়ি সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে মাস্টার্স অধ্যয়নরত। পড়াশোনার পাশাপাশি বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করে কাস্টমার ডিলিং ও পণ্য বিক্রয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
তিনি কোনো করুণা চান না—চান শুধু নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটি সুযোগ।
তার স্বপ্ন একটি কসমেটিকস দোকান গড়ে তোলা, যেখানে পাশাপাশি বিকাশ, নগদ ও রিচার্জের মতো ডিজিটাল সেবাও থাকবে।
প্রয়োজনীয় বাজেট: ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা।
আপনার সামান্য সহযোগিতাই হয়তো এই পরিশ্রমী তরুণের জীবন থেকে “প্রতিবন্ধকতা” শব্দটি মুছে দিয়ে “সফল উদ্যোক্তা” পরিচয়টি যোগ করতে পারে। আসুন, আশরাফুলের স্বপ্নের সারথী হই।
মোঃ আরিফুল ইসলাম (রংপুর)
পরনির্ভরতার গ্লানি মুছে নিজের পরিচয় গড়তে চান আরিফুল।
রংপুরের ঐতিহ্যবাহী কারমাইকেল কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করার দিন আরিফুল ইসলাম ভেবেছিলেন—জীবনটা হয়তো এবার নিজের মতো করে সাজাতে পারবেন।
কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। ডান হাতের সামান্য শারীরিক ত্রুটি আর পুঁজিহীনতা বারবার তাকে থামিয়ে দিয়েছে।
আজ তিনি বন্ধুর দোকানের এক কোণে বসে মোবাইল রিচার্জ ও এমএফএস সেবার কাজ করেন।
দোকানটা তার নয়, জায়গাটাও নয়—শুধু স্বপ্নটা তার।
আর সেই স্বপ্নটাই তাকে প্রতিদিন আবার বসে থাকতে শেখায়।
আরিফুল একজন শিক্ষিত, পরিশ্রমী তরুণ। তিনি চান নিজের একটি ইলেক্ট্রনিক্স ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের দোকান, যেখানে আর কাউকে জায়গা দিতে হবে না—নিজের পরিশ্রমেই নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে পারবেন।
এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজন ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা।
অভাবের কাছে হার না মানা এই তরুণটির জন্য হয়তো আপনার সামান্য সহযোগিতাই হতে পারে সেই ধাক্কা, যা তাকে পরনির্ভরতা থেকে মুক্ত করে একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের পথে নিয়ে যাবে।
সোনিয়া আক্তার (যশোর)
এক হাতে সীমাবদ্ধ শরীর, কিন্তু মুক্ত আকাশে উড়তে চায় সোনিয়ার মন।
কখনো কখনো জীবন মানুষকে এমন এক জায়গায় এনে দাঁড় করায়, যেখানে সামনে এগোনোর পথ চোখে পড়ে না। জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে যশোরের সোনিয়া আক্তারের বাম হাত নেই।
যে বয়সে অন্যরা স্বাভাবিক জীবনে এগিয়ে যায়, সে বয়সে তিনি সংসার ও একটি কন্যা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংগ্রাম করে চলেছেন।
তবুও তিনি হার মানেননি। অদম্য জেদ আর ইচ্ছাশক্তি দিয়ে তিনি এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। শরীর তাকে থামাতে পারেনি, থামাতে পারেনি স্বপ্ন দেখাও।
সোনিয়া চান তার এই উদ্যোগকে একটি পূর্ণাঙ্গ সেবাভিত্তিক ব্যবসায় রূপ দিতে, যেখানে স্টেশনারি সামগ্রী এবং অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের আবেদন সেবা একসঙ্গে থাকবে।
তিনি প্রমাণ করতে চান, শরীরের একটি অংশ না থাকলেও মানুষের ইচ্ছাশক্তি কখনো পঙ্গু হয় না।
এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজন ১,১০,০০০ (এক লক্ষ দশ হাজার) টাকা।
এক হাতে জীবন সংগ্রাম করা এই অদম্য নারীর জীবনে আপনার সহযোগিতা হতে পারে আশার প্রদীপ, যা তার অন্ধকার পথ আলোকিত করবে।
আসুন, আমরা সবাই মিলে এই ৩ জন তরুণ এবং ১ জন তরুণীর উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিই।
সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
Bank Name: Eastern Bank PLC (EBL)
Account Name: ADAMYA FOUNDATION
Account Number: 1041060005337
Branch: Gulshan Branch
বিকাশ মার্চেন্ট
01848382050