সমিতির ইতিহাস
মরহুম অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী সাহেবের একটি বাণী থেকে আমরা জানতে পারি ১৯৫১ সালের ৮ এপ্রিল ১১ জয়নাগ রোডস্থিত সাউথ ইকবাল হলে এই দিনাজপুর সমিতির গোড়াপত্তন হয়, কিন্তু এই সমিতির কার্যক্রমের কোন তথ্য পাওয়া যায় না। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে তখনকার দিনাজপুর জেলা (বর্তমান ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলাসহ) হতে ৬ জন নির্বাচিত সম্মানিত সংসদ সদস্যকে সংবর্ধনা দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করে ঢাকা জেলা
কোর্ট এলাকার কাছে ২৪ কাজির দেউড়ীর জনাব আব্দুল মজিদ সাহেবের বাড়িতে বসে শিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, দিনাজপুর জেলা থেকে নির্বাচিত ৬ জন সম্মানিত সংসদ সদস্যকে দিনাজপুররের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে এবং তৎপর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন, বাংলাদেশ, ঢাকায় তাঁদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। পরবর্তীতে ঢাকাস্থ দিনাজপুরের লোকদের সুখ-সুবিধার কথা চিন্তা করে সমিতির উন্নতিকল্পে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহন করা হয়। সে মোতাবেক ১৯৫৫ সালে ২০ আগস্ট রোজ রবিবার রফিক সাহেব (সাবেক আবাসিক পরিচালনা, শাহাবাগ হোটেল), শাহাবাগ হোটেলের ছাদে বসে ২১ সদস্য বিশিষ্ট দিনাজপুর জেলা সমিতি, ঢাকা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন সমিতির সাধারন সদস্য সংখ্যা ছিল ১৩৮ জন। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মরহুম আব্দুল মজিদ এবং সাধারন সম্পাদক ছিলেন মরহুম আব্দুল ওয়াহেদ। পুরাতন ঢাকা ২৯৫ নহাবপুর রোডের এক হাজি সাহেবের ৩ কক্ষ বিশিষ্ট একটি বাসায় ২য় তলায় একটি ঘর সমিতির জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। তখন মরহুম মির্জা গোলাম হাফিজ ও মরহুম হাজি দানেশ সাহেব সহ অনেকেই উক্ত সমিতির সাথে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। সমিতির গঠনতন্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে যাদের নাম আজও স্মরণ করা হয় তাঁদের মধ্যে ড.জি.সি.দেব, মরহুম এস. এ.বারি এটি.এড.মোহাম্মদ হোসেন, শের আলী সাহেব, সুলতান সাহেবের অন্যতম। এছাড়াও সমিতির সাথে আরো অনেকেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। সে সময় দুবছর মেয়াদী সমিতির কার্যকারী কমিটি গঠিত হয়। আজও তা চলে আসছে।
এরপর ১৯৫৮ সালে ঢাকা পরিষদ ভবনে ঢাকাস্থ দিনাজপুর জেলা সমিতির পরবর্তী মেয়াদের কার্য পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হতো। সে সময় হতে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত সমিতির কার্যক্রমের কোন ধারাবাহিক তথ্য বিবরনী পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এই সময়কালে বিভিন্ন সময়ে যারা সমিতির কর্ণধার ছিলেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে সর্বজনাব আব্দুল মজিদ সরকার, মির্জা গোলাম হাফিজ, লুতফুর রহমান, কর্নেল আব্দুল জব্বার, প্রকৌশলী মরহুম এজাবুদ্দিন আহমেদ, এডভোকেট আব্দুল মালেক, বিচারপতি মরহুম আব্দুল মান্নান, শের আলী, মরহুম আব্দুল কাদেরী, মরহুম আজিজুর রহ্মা, জয়নাল আবেদীন, আব্দুল মান্নান, প্রকৌশলী মজিবুর রহবান অন্যতম। এখানে উল্লেখ্য বাংলাদেশ সরকারের সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় মন্ত্রী বেগম খুরশীদ জাহান হক এমপি ১৯৭৮-৭৯ সনে দিনাজপুর সমিতি, ঢাকার সহ-সভাপতি ছিলেন। উল্লেখ্য করা যেতে পারে যে, সে সময়ে দিনাজপুরের সমিতি, ঢাকা বলতে তদানীন্তন বৃহত্তর দিনাজপুর জেলা বোঝাতো। ১৯৮৪ সালে সরকারি নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে এই সমিতির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৮৫-৮৬ সালে প্রশাসনিক ব্যাবস্থাপমায় পরিবর্তন আনার কারনে বৃহত্তর দিনাজপুর জেলাকে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় এই তিনটি জেলায় বিভক্ত করা হয়। সদর মহাকুমার ১৩টি থানাকে নিয়ে বর্তমান জেলা ঘঠিত হয়।১৯৮৬ সালের শেষ দিকে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে নতুন করে দিনাজপুর জেলা সমিতির কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়। এই সময় থেকে ধারাবাহিকভাবে যারা সমিতির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তারা হলেন সর্বজনাব প্রকৌশলী মরহুম মোহাম্মাদ জামিল, কর্নেল সবুর, জয়নাল আবেদীন, সাবেক সভিব মরহুম মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম, আজিজুর রহমান, এডভোকেট শাহ আজিজুর রহমান, এটিএম রফিকুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্তি সচিব আজির উদ্দিন আহমেদ, ফিরোজ কবির। ১৯৯৭-২০০১ সময় সমিতির দায়িত্বভার পরবর্তী কার্যকারী কমিতির ইকট নিয়মতান্ত্রিকভাবে হস্তান্তর না হওয়ার প্রেক্ষিতে ২০০১ সনে নির্বাচিত কমিটি সম্পূর্ণ নতুন ভাবে সমিতির কার্যক্রম শুরু করে এই ধারাবাহিকতায় বর্তমান কমিটির কার্যক্রম চলে আসে।