09/10/2025
সেতু’র উদ্যোগে জাতীয় তামাকমুক্ত দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা
তামাক চাষ বন্ধে আইনের বাস্তবায়ন চাই
৯ অক্টোবর জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে সেতু’র উদ্যোগে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের সামনে মানববন্ধন ও সংস্থা’র সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় “কৃষি জমিতে তামাক চাষ, খাদ্য নিরাপত্তায় সর্বনাশ”।
সেতু’র সিনিয়র আইসিটি ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত কর্মসূচীতে সেতু’র কর্মকর্তা ও যুব প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেতু’র মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান নাজমুন্নাহার বলেন, তামাক চাষ প্রতিরোধে আমাদের সকলকে দায়িত্বশীল হতে হবে, পাশাপাশি সরকারকে কৃষকবান্ধব হতে হবে। সরকারকে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সবাইকে নিয়ে একটি রোড ম্যাপ করে কাজ করলে ২০৪০ সালের আগেই বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করা সম্ভব।
সেতু’র রেইজ প্রকল্পের সমন্বয়কারী মোঃ উজ্জল হোসেন বলেন, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ উন্নয়নে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যের কুপ্রভাব আজ সর্বজন স্বীকৃত। কৃষকদের এই ক্ষতিকর তামাক চাষ থেকে বিরত রাখার জন্য বিকল্প ফসল চাষে সহায়তা প্রদান করতে হবে। আমাদের কৃষি জমি কমছে। অল্প জায়গায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকরা তামাকের বিকল্প যে ফসল উৎপাদন করছে সেগুলো বাজারজাত করার ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের আন্তর্জাতিক বাজার বের করতে হবে। তাই দেশের সামগ্রিক তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণে একটি নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবী।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে ক্ষতিকর জেনেও তামাক চাষে ঝুঁকছে কৃষক। মাটি, পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর তামাকের চাষাবাদ। সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তামাক চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করা হলেও তামাক প্রক্রিয়াজাত কোম্পানিগুলোর আর্থিক সহযোগিতায় দিন দিন তামাক চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিনামুল্যে বীজ, ঋণের ওপর সার ও নগদ অর্থসহ জমিতে অন্য ফসলের চেয়ে তামাকের উৎপাদন বেশী হওয়ায় এবং স্থানীয় বাজারগুলোতে তামাকের আশানুরুপ মুল্য পাওয়ায় উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। এ অবস্থায় চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের বরাত দিয়ে বক্তারা বলেন তামাক চাষ ও সেবন মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। তামাক পাতা, বিড়ি, সিগারেট, গুল, খইনি ও জর্দ্দাসহ এধরনের নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করায় বাড়ছে ক্যান্সারসহ নানা রোগ। তামাক চাষে কৃষকদের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। এছাড়া তামাক কাটার পর রোদে শুকিয়ে আঁটি বেঁধে ঘরে তুলতে হয়। আর বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত নাড়াচাড়া করতে হয়। এরপর তামাক যায় কোম্পানীর গোডাউনে। সেখানেও তামাক পাতার সংরক্ষণ করতে হয়। এতে তামাকের গন্ধ সরাসরি মানবদেহে প্রবেশ করে শিশুসহ নানা বয়সী মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
এছাড়াও তারা আরও বলেন, তামাকজাত দ্রব্য সেবনে নাক, গলা ও মুখের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে গলার ক্যান্সার হওয়র সম্ভাবনা বেশি। ধুমপান বিষপান এই কথার কোন বিকল্প নেই। ধুমপায়ীদের সামাজিকভাবে সচেতন করতে হবে। তাহলে সুফল আসতে পারে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সেতু’র প্রধান কার্যালয়ের কৃষিবিদ এনামুল হক বলেন, তামাক চাষ কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট, কৃষক ও কৃষকের পরিবারের স্বাস্থ্যহানি, জীববৈচিত্র ধ্বংস এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ। পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র রক্ষার জন্য উন্নত দেশগুলোতে তামাক চাষ বন্ধ করা হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক কোম্পানীগুলো বাংলাদেশের মত দেশগুলোতে তামাক চাষের প্রসার ঘটিয়েছে। তারা আমাদের মাটি, পানি, বায়ু দূষিত করছে। তাই আমাদের কৃষি জমি রক্ষায় তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।
সভাপতির বক্তব্যে সঞ্জয় কুমার বিশ্বাস সেতু’র নিম্নোক্ত ৫ দফা দাবী তুলে ধরেন :
- তামাকের পরিবর্তে খাদ্য শস্য উৎপাদনে কৃষকদের সহযোগিতা প্রদান এবং বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
- খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষি জমিতে তামাক চাষ বন্ধ করা।
- তামাক চাষে সকল ধরনের ঋণ ও অন্যান্য সুবিধা নিষিদ্ধ করা।
- পার্বত্য এলাকায় তামাক চাষ অবিলম্বে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।
- বনায়নের নামে তামাক কোম্পানীগুলোর বিদেশী গাছলাগানো নিষিদ্ধ করা।