04/04/2026
ক্রিস্টিনা কুক: মহাকাশের বুকে এক জীবন্ত কিংবদন্তি
নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ফিজিক্স এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডাবল মেজর করা এই নারী প্রমাণ করেছেন যে, ইচ্ছাশক্তি আর পড়ালেখা জানা থাকলে পৃথিবীর সীমানা ছাড়িয়ে চাঁদে পৌঁছানোও সম্ভব।
নাসার বহুল প্রতীক্ষিত 'আর্টেমিস ২' (Artemis II) মিশনের মাধ্যমে ক্রিস্টিনা কুক ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম চিরস্থায়ী করে নিয়েছেন। ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর মানুষ যখন আবার চাঁদে ফিরছে, তখন সেই ৪ জন ক্রুর মধ্যে তিনি একমাত্র নারী এবং মিশনের স্পেশালিস্ট ইঞ্জিনিয়ার। মহাকাশযানে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তা মেরামতের গুরুদায়িত্ব তাঁর কাঁধেই।
এমনি এমনি এত বড় যায়গায় যেতে পারেন নি। ২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত টানা ৩২৮ দিন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) কাটিয়ে তিনি মহাকাশে নারীদের মধ্যে দীর্ঘতম একক অবস্থানের রেকর্ড গড়েন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি পৃথিবীর প্রায় ৫,২৪৮ বার প্রদক্ষিণ করেছেন এবং প্রায় ১৩৯ মিলিয়ন মাইল পথ পাড়ি দিয়েছেন।
২০১৯ সালের ১৮ অক্টোবর, ক্রিস্টিনা কুক এবং জেসিকা মেয়ার মিলে বিশ্বের প্রথম 'অল-ফিমেল স্পেসওয়াক' সম্পন্ন করেন। এর আগে কোনো নারী দল এককভাবে মহাকাশে হাঁটেনি। তিনি মোট ৬টি স্পেসওয়াক করেছেন এবং মহাকাশের শূন্যতায় ঝুলন্ত অবস্থায় মোট ৪২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট কাজ করেছেন!
ক্রিস্টিনা শুধু মহাকাশেই নয়, পৃথিবীর সবথেকে দুর্গম এলাকাগুলোতেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন। আমেরিকার অ্যান্টার্কটিক প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে তিনি এক বছরেরও বেশি সময় দক্ষিণ মেরুর হিমাঙ্কে কাটিয়েছেন। সেখানে তিনি ফায়ারফাইটিং এবং সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিমের সদস্য হিসেবেও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
গ্রিনল্যান্ডের সামিট স্টেশনে কাজ করেছেন যেখানে তাপমাত্রা হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় থাকে। এছাড়া আলাস্কাতেও তিনি ফিল্ড রিসার্চের কাজ করেছেন।
নাসার নভোচারী হওয়ার আগে তিনি একজন দক্ষ প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেছেন। বৃহস্পতি গ্রহের রহস্য উন্মোচনের জন্য পাঠানো 'জুনো' (Juno) মিশনের রিমোট সেন্সিং ইনস্ট্রুমেন্ট তৈরিতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
২০২০ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাঁকে বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
স্পেস স্টেশনে থাকাকালীন তিনি প্রোটিন ক্রিস্টাল বৃদ্ধি এবং ক্যান্সারের ওষুধ তৈরির গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ক্রিস্টিনা কুক কেবল একজন নভোচারী নন, তিনি বর্তমান প্রজন্মের মেয়েদের জন্য এক অনন্য রোল মডেল। ফিজিক্সের জটিল সমীকরণ থেকে শুরু করে স্পেস স্টেশনের বাইরে মহাকাশের শূন্যতায় ভেসে থাকা - সবখানেই তিনি অতুলনীয়। তাঁর এই যাত্রা বলে দেয় যে, নর্থ ক্যারোলাইনার ক্লাসরুম থেকে চাঁদের কক্ষপথ পর্যন্ত দূরত্বটা আসলে কঠোর পরিশ্রম, পড়াশোনা, অদম্য মনোবল, হাল না ছাড়ার শপথ, নিজেকে ভাঙ্গার আর সাহসের।
বি লাইক ক্রিস্টিনা গার্লস! ফেসবুকে ১৫ বছরে শিশু বিয়ের পেডোফাইলিক এডভোকেসি না করে পড়ার টেবিলে ফেরো!