20/07/2026
https://www.facebook.com/share/1EiL76E91s/
সাম্যবাদী, বিপ্লবী ও মানব মুক্তি পিয়াসী হেনা দাস ১৯২৪ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সতীশচন্দ্র দত্ত একজন স্বনামধন্য আইনজীবী এবং মা মনোরমা দত্ত ছিলেন চুনারুঘাট থানার নরপতি গ্রামের জমিদার জগৎচন্দ্র বিশ্বাসের বড়ো মেয়ে। তিনি ১৯৪০ সালে সিলেট সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৪২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক, ১৯৪৭ সালে বিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ ডিগ্রী অর্জন করেন।
সংগ্রামী নারী হেনা দাসের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল প্রথাগত কাজের মাধ্যমে নয়, মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনই ছিল তার প্রধান কাজ। ছাত্র আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলন, সাংস্কৃতিক আন্দোলন, নারী আন্দোলন সকল ক্ষেত্রেই ছিল তাঁর অংশগ্রহণ ও সংগ্রাম। তিনি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এছাড়াও ব্রিটিশ-বিরোধী-আন্দোলন, ভাষা-আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বাংলাদেশের সকল ক্রান্তিলগ্নে তিনি সক্রিয় ছিলেন। তিনি ১৯৪২ সালে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন এবং সার্বক্ষণিক কমিউনিস্ট হওয়ার যে সিদ্ধান্ত তিনি গ্রহণ করেছিলেন সেই মানবতা ও সাম্যের আদর্শ তাঁকে নতুন জীবনাচার, বন্ধুর পথ পাড়ি দেয়ার শক্তি যোগায়।
নারী সংগঠক হেনা দাসের আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় একেবারে কিশোর বয়স থেকে। রাজনীতির বাইরে তার জীবনে অন্য কোনো জগৎ ছিল না। সে রাজনীতি ছিল দেশপ্রেম, সততা, ত্যাগ এবং মানব কল্যানে নিবেদিত। তাঁর কর্মজীবন আলোচনা করলে দেখা যায় জীবনের সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তিনি পরিণত হয়েছেন কিংবদন্তীতে।
তার ত্যাগ ও কর্মের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে তিনি ‘রোকেয়া পদকে’ সম্মানিত হয়েছেন। এছাড়া সুনামগঞ্জ পৌরসভা, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, ঢাকেশ্বরী মন্দির, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট, আহমেদ শরীফ ট্রাস্টসহ তিনি বহু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মাননা পেয়েছেন। এই সংগ্রামী মহীয়সী নারী ২০ জুলাই ২০০৯ পরলোক গমন করেন।