13/08/2026
ঢাকা, ১২ আগস্ট ২০২৬: বিশ্ব হাতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশের বন্য হাতি সংরক্ষণ এবং বন্দী হাতিদের শেকলমুক্ত, নিরাপদ ও কল্যাণভিত্তিক ভবিষ্যতের দাবিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বিশেষ আয়োজন।
আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা, বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলন, দুনিয়াদারি আর্কাইভ এবং পিপল ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার (PAW) ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
বুধবার, ১২ আগস্ট বিকেল ৪ টায় আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার ধানমন্ডি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আলোকচিত্র, তথ্যচিত্র, চলচ্চিত্র ও আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের বন্য ও বন্দী হাতিদের বর্তমান অবস্থা, সংকট এবং সম্ভাব্য সমাধান তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার পরিচালক ফ্রঁসোয়া শঁব্রো স্বাগত বক্তব্য দেবেন। আলোকচিত্রী কে এম আসাদ এর আলোকচিত্র নিয়ে No Way Home শীর্ষক একটি আলোকচিত্র ঘটনা প্রবাহ উপস্থাপন করেন আমিরুল রাজিব।
হাতি অধিকার কর্মী আমিরুল রাজিব ও রাকিবুল হক এমিল Elephants of Bangladesh শীর্ষক উপস্থাপনায় বাংলাদেশের বন্দী হাতিদের বর্তমান বাস্তবতা, সংরক্ষণ সংকট, বন্দী হাতিদের কল্যাণ এবং শেকলমুক্ত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
হাতির নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় বাংলাদেশের প্রচলিত আইন এবং খসড়া বিধিমালার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। এছাড়াও বন্দী হাতির শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয় সংক্রান্ত প্রাণী আচরণ ও অসুস্থতার নানা দিক তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ভেটেরিনারিয়ান ডা. শফিউল আহাদ সরদার।
আয়োজনের শুরুতেই প্রদর্শিত হয় মার্শাল করউইন পরিচালিত তথ্যচিত্র Sanctuary: Elephant Nature Park। এর মাধ্যমে এশিয়ার প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ডের ক্যাপটিভ হাতি উদ্ধার ও পুনর্বাসনের পথিকৃৎ প্রাণী অধিকারকর্মী সায়েংদুয়ান লেক চাইলার্ট এর কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। যার মাধ্যমে বন্দী ও নির্যাতিত হাতি উদ্ধার, পুনর্বাসন এবং মানবিক ও শেকলমুক্ত ব্যবস্থাপনার বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরা হয়।
উল্লেখ্য সায়েংদুয়ান লেক চাইলার্ট গত এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে ভিজিট করে এক অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর নিকট বাংলাদেশের হাতিদের জন্য কাজ করার আগ্রহ দেখান।
আয়োজকদের মতে, বিশ্ব হাতি দিবসকে সামনে রেখে হাতি সংরক্ষণ ও অধিকার নিয়ে চলমান কার্যক্রমকে আরও বেগবান করা এবং বাংলাদেশের হাতিদের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার সম্মিলিত প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করাই এ আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য।