Bangladesh Zakat Foundation বাংলাদেশ যাকাত ফাউন্ডেশন

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • Bangladesh Zakat Foundation বাংলাদেশ যাকাত ফাউন্ডেশন
Directions

Bangladesh Zakat Foundation বাংলাদেশ যাকাত ফাউন্ডেশন Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Bangladesh Zakat Foundation বাংলাদেশ যাকাত ফাউন্ডেশন, Charitable organisation, Dhaka.

🔲 এক নজরে তাওহিদ ❑ তাওহিদ কী?তাওহিদ হলো, আল্লাহকে তাঁর রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব), উলুহিয়্যাত (ইবাদত-বন্দেগি) এবং নাম ও গু...
02/05/2026

🔲 এক নজরে তাওহিদ

❑ তাওহিদ কী?

তাওহিদ হলো, আল্লাহকে তাঁর রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব), উলুহিয়্যাত (ইবাদত-বন্দেগি) এবং নাম ও গুণাবলিতে একক ও অদ্বিতীয় হিসেবে স্বীকার করা।

❑ তাওহিদের গুরুত্ব:

আল্লাহ তাআলা মানুষ ও জিনকে কেবল এই উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:



وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ

"আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।" [সূরা যারিয়াত: ৫৬]

এটি দ্বীনের মূল ভিত্তি এবং সকল নবী ও রসুলদের দাওয়াতের মূল কেন্দ্রবিন্দু। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ

"(হে নবি) তোমার পূর্বে আমি যে রসুলই পাঠিয়েছি তাকে এই মর্মে প্রত্যাদেশ করেছি যে, আমি ছাড়া অন্য কোনো মাবুদ বা উপাস্য নেই। সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো।"

[সূরা আম্বিয়া: ২৫]

❑ তাওহিদের প্রকারভেদ (أقسام التوحيد الثلاثة)

◈ ১. তাওহিদুর রুবুবিয়্যাত (توحيد الربوبية):

আল্লাহকে একমাত্র রব অর্থাৎ একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, রিজিক দাতা, জীবন-মৃত্যু দাতা এবং মহাবিশ্বের একমাত্র পরিচালক হিসেবে বিশ্বাস করা।

উদাহরণ: একমাত্র আল্লাহই আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই আমাদের প্রকৃত অন্নদাতা। একমাত্র তিনি আসমান থেকে বৃষ্টি দান করেন এবং জমিন থেকে ফসল উদ্গত করেন। একমাত্র তিনিই জীবন ও মৃত্যু দান করেন, এই মহাবিশ্বের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা কেবল তাঁর হাতেই রয়েছে..ইত্যাদি।

◈ ২. তাওহিদুল উলুহিয়্যাত (توحيد الألوهية):

বাহ্যিক ভাবে এবং গোপনে তথা চিন্তা-চেতনা এবং মন ও মননে ছোট-বড় সকল প্রকার ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য নিবেদন করা।

উদাহরণ: একমাত্র আল্লাহর জন্যই নামাজ, রোজা, দুআ, মানত, কুরবানি, সাহায্য প্রার্থনা ইত্যাদি সম্পাদন করা। অনুরূপভাবে মনের সবটুকু আকুতি ও আরাধনা, ভয় ও ভরসা, আশা-আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি কেবল তাঁর নিকট সমর্পণ করা।

◈ ৩. তাওহিদুল আসমা ওয়াস সিফাত (توحيد الأسماء و الصفات):

কুরআন ও সুন্নাহর বর্ণনা অনুযায়ী আল্লাহর সুন্দর নাম ও সুমহান গুণাবলিকে কোনও প্রকার বিকৃতি, অস্বীকার, অপব্যাখ্যা কিংবা সৃষ্টির সাথে তুলনা, সাদৃশ্য বা উপমা বর্ণনা ছাড়াই একমাত্র আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা।

উদাহরণ:

আল্লাহ সর্বশ্রোতা (السَّمِيعُ), সর্বদ্রষ্টা (الْبَصِيرُ) ও পরম দয়ালু (الرحمن), ইত্যাদি গুণবাচক সকল সুন্দর নাম একমাত্র আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা।

অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলার সত্তাগতভাবে সৃষ্টি জগতের সর্ব ঊর্ধ্বে অবস্থান, নিচের আসমানে অবতরণ, কথা বলা, আনন্দিত হওয়া, ক্রোধান্বিত হওয়া, তাঁর তার চেহারা, হাত, চোখ ইত্যাদি সিফত বা গুণ-বৈশিষ্ট্যগুলো তাঁর জন্য সাব্যস্ত করা যেভাবে তাঁর সুমহান মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এগুলোকে অস্বীকার, বিকৃতি, অপব্যাখ্যা, রূপক অর্থে গ্রহণ থেকে বা সৃষ্টি জগতের কোনও কিছুর সাথে সাদৃশ্য ও উপমা বর্ণনা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ ۖ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ

"কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।"

[সূরা শূরা: ১১]

❑ তাওহিদের রোকন বা স্তম্ভ দুটি:

◈ ১. নাফি (النفي—অস্বীকার করা): ইবাদত-বন্দেগি, সার্বভৌমত্ব, নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে কোনও মখলুক বা সৃষ্টির অংশীদারিত্বকে মনে-প্রাণে অস্বীকার করা।

◈ ২. ইসবাত (الإثبات—সাব্যস্ত করা): আল্লাহ নিজের জন্য যে সব কর্ম, নাম ও গুণাবলী সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁর রসুল যা বর্ণনা করেছেন সেগুলো কেবল একমাত্র আল্লাহর জন্যই সাব্যস্ত করা।

তাওহিদের দুটি রোকন রয়েছে, কালিমা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এর মধ্যে। যেমন:

১) ‘লা ইলাহা’ (নেই কোনও সত্য উপাস্য) এটি হল, নাফি বা অস্বীকৃতি।

২) ‘ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া)। এটি হল, ইসবাত বা সাব্যস্ত করণ।

❑ তাওহিদ বিনষ্টকারী বিষয়: শিরক

◈ ১. শিরকে আকবর বা বড় শিরক: এটি মানুষকে ইসলাম থেকে সম্পূর্ণ বের করে দেয়।

- উদাহরণ: আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে প্রার্থনা করা, মাজারে মানত করা বা কাউকে আল্লাহর মতো ভয় করা বা ভালোবাসা, অলি-আউলিয়া বা নেককার কবর বাসীদের নিকট সন্তান চাওয়া, রোগ-ব্যাধি ও বিপদ মুক্তির জন্য প্রার্থনা করা কিংবা তাদের নিকট মনের ইচ্ছা ও কামনা-বাসনা পূরণের জন্য মানত করা, পশু জবাই করা বা দুআ-আরাধনায় প্রবৃত্ত হওয়া অথবা তাদেরকে ওসিলা বা মাধ্যম মনে করা ইত্যাদি।

- পরিণতি: এর মাধ্যমে একজন মানুষ ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত কাফের ও মুরতাদ হয়ে যায়। তওবা ছাড়া মৃত্যু হলে আখিরাতে চিরতরে জান্নাত হারাম হয়ে যায় এবং চিরস্থায়ী ভাবে জাহান্নাম অবধারিত হয়ে যায়। কেননা তা শিরকে আকবার বা বড় শিরক।

◈ ২. শিরকে আসগর বা ছোট শিরক:

এটি ইসলাম থেকে বের করে না দিলেও তাওহিদকে ক্ষুণ্ণ করে এবং এটি কবিরা গুনাহের থেকেও ভয়াবহ।

- উদাহরণ: মানুষের প্রশংসা বা সুনাম ও সুখ্যাতির মোহে ইবাদত করা (এটাকে রিয়া বলা হয়)।

অথবা ইবাদতের উদ্দেশ্য হওয়া একমাত্র দুনিয়ার স্বার্থ হাসিল করা, আল্লাহর ওপর ভরসার পরিবর্তে কেবল বৈষয়িক উপকরণের ওপর নির্ভর করা, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কসম করা, তাবিজ-কবজ ব্যবহার করা ইত্যাদি।

- পরিণতি: যে আমলের মধ্যে এ ধরণের শিরক থাকে সে আমলটি বরবাদ হয়ে যায়। অর্থাৎ এর সওয়াব বাতিল হয়ে যায়।

আখেরাতে এর পরিণতি জাহান্নাম। তবে তা বড় শিরকের মত ইসলাম থেকে বহিষ্কার করে না, সকল আমলকে বরবাদ করে না এবং স্থায়ীভাবে জাহান্নামকে অবধারিত করে না।

এ বিষয়ে আমাদের সর্বদা সতর্ক থাকা আবশ্যক।

❑ তাওহিদের উপকারিতা (فوائد التوحيد):

১. তাওহিদের ওপর অটল থাকলে আল্লাহর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি অর্জন সহজ হয়।

২. আখেরাতে প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শাফায়াত বা সুপারিশ লাভে ধন্য হওয়া যায়।

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ خَالِصًا مِنْ قَلْبِهِ أَوْ نَفْسِهِ

"কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ লাভের মাধ্যমে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান ব্যক্তি হবে সেই, যে ব্যক্তি অন্তরের অন্তরস্থল থেকে একনিষ্ঠভাবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই) বলবে।"

[সহিহ বুখারি: ৯৯]

৩. তাওহিদ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই চির শান্তির নীড় জান্নাতে প্রবেশের নিশ্চয়তা লাভ করা যায়।

আল্লাহর রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ

"যে ব্যক্তি এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল যে সে জানত ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই’, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"

[সহীহ মুসলিম: ২৬]

৪. তাওহিদ বাস্তবায়ন করলে মানব জীবনের সকল পাপরাশি মোচন করা হয় তার পরিমাণ যাই হোক না কেন।

এক কথায় তাওহিদের বাস্তবায়নই, দুনিয়া ও আখেরাতে চূড়ান্ত সাফল্যের পথ প্রশস্ত করে।

মহান আল্লাহ আমাদেরকে একনিষ্ঠ ভাবে তাওহিদ বাস্তবায়নের তাওফিক দান করুন এবং তাওহিদ পরিপন্থী সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

✍️ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি (হাফিজাহুল্লাহ)

20/03/2026

ঈদ মুবারাক
🌙
তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম!

📢 **আসন্ন পবিত্র রমজান উপলক্ষে বাংলাদেশ যাকাত ফাউন্ডেশনের যাকাত ফান্ডে দান করার বিনীত আহ্বান**আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমা...
25/02/2026

📢 **আসন্ন পবিত্র রমজান উপলক্ষে বাংলাদেশ যাকাত ফাউন্ডেশনের যাকাত ফান্ডে দান করার বিনীত আহ্বান**

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ 🤍
পবিত্র রমজান মাস—রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস—আমাদের দুয়ারে সমাগত। এই মাস আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ এনে দেয়, পাশাপাশি অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মহৎ বার্তা দেয়।
💎 **যাকাত** ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ—যা সমাজে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে এবং দরিদ্রদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।

🏢 ** বাংলাদেশ যাকাত ফাউন্ডেশন** সুন্নাহর আলোকে মানবতার সেবায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের কার্যক্রমসমূহের মধ্যে রয়েছে—
📚 শিক্ষা সহায়তা
🏥 চিকিৎসা সহায়তা
🍚 দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি
👶 এতিম ও অসহায়দের সহযোগিতা
📖 দাওয়াহ কার্যক্রম
আমরা প্রতিটি দানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করি, যাতে আপনার আমানত সঠিক হকদারের কাছে পৌঁছে যায়, ইনশাআল্লাহ।

🤲 এই রমজানে আমাদের চারপাশে অনেক ভাই-বোন রয়েছেন, যারা মৌলিক চাহিদা পূরণেও হিমশিম খাচ্ছেন। আপনার যাকাত, ফিতরা ও সাদাকাহ তাদের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে পারে ✨
🍽 খাদ্য
👕 বস্ত্র
💊 চিকিৎসা
🎓 শিক্ষা

আপনার সামান্য সহযোগিতাও হতে পারে কারো জীবনের বড় পরিবর্তনের কারণ।

পেমেন্ট পদ্ধতি জানতে কমেন্ট বক্স দেখুন।

#রমজান২০২৬ #যাকাত #সাদাকাহ #ফিতরা #দানকরুন #মানবতারসেবা

24/02/2026
আপনাদের সন্তানদেরকে এই প্রশ্নগুলো বারবার করে তাওহীদ শিক্ষা দিন:⭕ ১) প্রশ্ন: আল্লাহ কোথায়?✅ উত্তর: আসমানে (আরশের উপর)।⭕ ...
19/02/2026

আপনাদের সন্তানদেরকে এই প্রশ্নগুলো বারবার করে তাওহীদ শিক্ষা দিন:

⭕ ১) প্রশ্ন: আল্লাহ কোথায়?
✅ উত্তর: আসমানে (আরশের উপর)।

⭕ ২) প্রশ্ন: আল্লাহ আরশের উপর—এর কুরআনের দলিল কী?
✅ উত্তর: “আর-রহমান আলাল আরশিস্তাওয়া।”

⭕ ৩) প্রশ্ন: “ইস্তিওয়া” অর্থ কী?
✅ উত্তর: তিনি উপরে উঠেছেন (বাস্তব অর্থে, রূপক নয়)।

⭕ ৪) প্রশ্ন: আমরা আমাদের আকীদা কোথা থেকে গ্রহণ করি?
✅ উত্তর: কুরআন, সুন্নাহ ও আসার (সাহাবীদের বর্ণনা) থেকে।

⭕ ৫) প্রশ্ন: আল্লাহ জিন ও মানুষকে কেন সৃষ্টি করেছেন?
✅ উত্তর: শুধু তাঁরই ইবাদতের জন্য, তাঁর কোনো শরীক নেই।
⭕ ৬) প্রশ্ন: এ বিষয়ে কুরআনের দলিল কী?
✅ উত্তর: আল্লাহ বলেন, “আমি জিন ও মানুষকে শুধু আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।”
⭕ ৭) প্রশ্ন: “ইবাদত করে” অর্থ কী?
✅ উত্তর: তারা তাওহীদ মানে ও আনুগত্য করে।
⭕ ৮) প্রশ্ন: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” অর্থ কী?
✅ উত্তর: আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই।
⭕ ৯) প্রশ্ন: সবচেয়ে বড় ইবাদত কী?
✅ উত্তর: তাওহীদ।
⭕ ১০) প্রশ্ন: সবচেয়ে বড় গুনাহ কী?
✅ উত্তর: শির্ক।
⭕ ১১) প্রশ্ন: তাওহীদ কী?
✅ উত্তর: ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক করা।
⭕ ১২) প্রশ্ন: শিরক কী?
✅ উত্তর: আল্লাহর সাথে অন্যের ইবাদত করা।
⭕ ১৩) প্রশ্ন: তাওহীদের কয়টি অংশ?
✅ উত্তর: তিনটি।
⭕ ১৪) প্রশ্ন: তাওহীদের অংশগুলো কী?
✅ উত্তর: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ, তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ, তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত।
⭕ ১৫) প্রশ্ন: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ কী?
✅ উত্তর: আল্লাহর কাজসমূহে তাঁকে একক করা; যেমন সৃষ্টি, মালিকানা ও পরিচালনা।
⭕ ১৬) প্রশ্ন: তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ কী?
✅ উত্তর: বান্দাদের কাজসমূহে আল্লাহকে একক করা; যেমন দুআ, যবেহ, সিজদাহ ইত্যাদি।
⭕ ১৭) প্রশ্ন: আল্লাহর কি নাম ও গুণাবলি আছে?
✅ উত্তর: হ্যাঁ, তিনি নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন এবং নবী ﷺ যা সাব্যস্ত করেছেন।
⭕ ১৮) প্রশ্ন: আল্লাহর নাম ও গুণাবলি কোথা থেকে গ্রহণ করি?
✅ উত্তর: কুরআন ও সুন্নাহ থেকে।
⭕ ১৯) প্রশ্ন: আল্লাহর গুণাবলি কি সৃষ্টির গুণাবলির মতো?
✅ উত্তর: না, তাঁর গুণাবলি সৃষ্টির গুণাবলির মতো নয়; যদিও কখনো কখনো নামের মিল থাকতে পারে।
⭕ ২০) প্রশ্ন: এর কুরআনের দলিল কী?
✅ উত্তর: আল্লাহর বাণী: “তাঁর মতো কিছুই নেই, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।”
⭕ ২১) প্রশ্ন: কুরআন কী?
✅ উত্তর: কুরআন হলো আল্লাহর কালাম।
⭕ ২২) প্রশ্ন: কুরআন অবতীর্ণ না সৃষ্টি?
✅ উত্তর: অবতীর্ণ; এটি আল্লাহর কালাম, বাস্তব অর্থে (অক্ষর ও শব্দসহ)।
⭕ ২৩) প্রশ্ন: পুনরুত্থান (বাআছ) কী?
✅ উত্তর: মৃত্যুর পর মানুষকে পুনরুজ্জীবিত করা।
⭕ ২৪) প্রশ্ন: পুনরুত্থান অস্বীকারকারীর কুফরের দলিল কী?
✅ উত্তর: আল্লাহর বাণী: “কাফিররা ধারণা করে যে তারা কখনো পুনরুত্থিত হবে না।”
⭕ ২৫) প্রশ্ন: আল্লাহ আমাদের পুনরুত্থিত করবেন—এর দলিল কী?
✅ উত্তর: আল্লাহর বাণী: “বলুন, অবশ্যই! আমার রবের কসম, তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে।”
⭕ ২৬) প্রশ্ন: “ইসলাম” শব্দের অর্থ কী?
✅ উত্তর: তাওহীদের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা, তাঁর আনুগত্য করা এবং শিরক ও শিরকের অনুসারীদের থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করা।

প্রফেসর ড. আবু বকর মুহাম্মাদ জাকারিয়া

প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে কিছু নির্দিষ্ট আমল করা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ এবং অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এই আমলগুলো করলে ই...
22/01/2026

প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে কিছু নির্দিষ্ট আমল করা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ এবং অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এই আমলগুলো করলে ইনশাআল্লাহ ঘুমের মধ্যে আল্লাহর নিরাপত্তা পাওয়া যায় এবং আখেরাতের পাথেয় অর্জিত হয়।

​নিচে কোরআন ও হাদিসের আলোকে ৬টি গুরুত্বপূর্ণ আমল তুলে ধরা হলো:

​১. অজু করে ঘুমানো

​ঘুমানোর আগে অজু করা সুন্নাহ। যদি কেউ অজু অবস্থায় ঘুমান, তবে একজন ফেরেশতা তার জন্য দোয়া করতে থাকেন।

​হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি পবিত্র (অজু) অবস্থায় রাত কাটায়, তার মাথার কাছে একজন ফেরেশতা রাত যাপন করেন। যখনই সে ব্যক্তি নড়াচড়া করে বা ঘুম থেকে জাগে, তখনই ফেরেশতা বলেন— 'হে আল্লাহ! আপনার এই বান্দাকে ক্ষমা করে দিন, কারণ সে পবিত্র অবস্থায় ঘুমিয়েছে'।" (সহিহ ইবনে হিব্বান)

​২. বিছানা ঝেড়ে নেওয়া

​বিছানায় কোনো পোকা-মাকড় বা ময়লা আছে কি না তা নিশ্চিত করতে বিছানা ঝেড়ে নেওয়া উচিত।

​হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমাদের কেউ যখন বিছানায় ঘুমানোর জন্য যায়, সে যেন তার লুঙ্গির আঁচল দিয়ে বিছানাটা ঝেড়ে নেয়। কারণ সে জানে না যে তার অনুপস্থিতিতে বিছানায় কী এসেছে।" (সহিহ বুখারি)

​৩. সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে ফুঁ দেওয়া

​এটি জাদুটোনা, কুদৃষ্টি এবং শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচার শ্রেষ্ঠ উপায়।

​আমল: দুই হাতের তালু একত্রে করে তাতে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়ে ফুঁ দেবেন। এরপর দুই হাত দিয়ে শরীরের যতটুকু অংশ সম্ভব (মাথা ও মুখমণ্ডল থেকে শুরু করে) মুছে নেবেন। এটি তিনবার করবেন।

​হাদিস: আম্মাজান আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে এই আমলটি করতেন। (সহিহ বুখারি)

​৪. আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াত করা

​রাতে আয়াতুল কুরসি পড়লে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একজন পাহারাদার নিযুক্ত করা হয় এবং শয়তান কাছে আসতে পারে না।
​আয়াত: اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ... (সুরা বাকারা: ২৫৫)

​হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যখন তুমি বিছানায় যাবে তখন আয়াতুল কুরসি পড়বে। তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার জন্য একজন রক্ষক থাকবে এবং সকাল হওয়া পর্যন্ত শয়তান তোমার কাছে আসতে পারবে না।" (সহিহ বুখারি)

​৫. তাসবিহ পাঠ করা (তাসবিহে ফাতেমি)

​সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে এবং বরকত লাভ করতে এই তাসবিহ অত্যন্ত কার্যকর।

​আমল:
​সুবহানাল্লাহ (৩৩ বার)
​আলহামদুলিল্লাহ (৩৩ বার)
​আল্লাহু আকবার (৩৪ বার)

​হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) হযরত আলী (রা.) ও ফাতেমা (রা.)-কে এই আমলটি শিখিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন এটি একটি সেবকের (কাজের লোক) চেয়েও উত্তম। (সহিহ মুসলিম)

​৬. ঘুমানোর দোয়া পড়া

​সর্বশেষ আল্লাহর নাম নিয়ে ঘুমানো।

​দোয়া: بِاسْمِكَ رَبِّي وَضَعْتُ جَنْبِي، وَبِكَ أَرْفَعُهُ (বিসমিকা রব্বি ওয়াদাতু জাম্বি, ওয়া বিকা আরফাউহু)।

​অর্থ: "হে আমার রব! আপনার নামেই আমি আমার পার্শ্বদেশ বিছানায় রাখলাম এবং আপনার সাহায্যেই আমি আবার উঠব।"

​অন্য একটি সহজ দোয়া: اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا (আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া)। অর্থ: "হে আল্লাহ! আপনার নামেই আমি মৃত্যুবরণ করছি (ঘুমাচ্ছি) এবং আপনার নামেই জীবিত (জাগ্রত) হব।" (সহিহ বুখারি)

​৭. সুরা মুলক তিলাওয়াত করা

​রাসূলুল্লাহ (সা.) সুরা মুলক তিলাওয়াত না করে রাতে ঘুমাতে যেতেন না। এটি কবরের আজাব থেকে সুরক্ষা দান করে।

​হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "কোরআনে এমন একটি সুরা আছে যার মধ্যে ৩০টি আয়াত রয়েছে, যা পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করা হয়। আর সেটি হলো— তাবারকাল্লাযি বিয়াদিহিল মুলক (সুরা মুলক)।" (সুনানে তিরমিজি)

​৮. সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (আমানার রাসূলু...) পাঠ করা

​রাতে এই দুটি আয়াত পড়লে তা ওই ব্যক্তির (বিপদ-আপদ ও শয়তান থেকে রক্ষার জন্য) যথেষ্ট হয়ে যায়।

​আয়াত: সুরা বাকারার ২৮৫ ও ২৮৬ নম্বর আয়াত।

​হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি রাতে সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।" (সহিহ বুখারি)

​৯. সুরা কাফিরুন পাঠ করা

​এই সুরাটি পাঠ করা শিরক থেকে মুক্তির ঘোষণা।

​হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) নফাল আল-আশজায়ি (রা.)-কে বলেছিলেন, "তুমি ঘুমানোর আগে 'কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন' পড়ো, কারণ এটি শিরক থেকে মুক্তির সনদ।" (সুনানে আবু দাউদ)

​১০. তওবা ও ইস্তেগফার করা

​সারাদিন আমাদের অজান্তেই অনেক গুনাহ হয়ে যায়। ঘুমের আগে তওবা করলে আল্লাহ তায়ালা সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন।

​হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি বিছানায় যাওয়ার সময় তিনবার এই দোয়াটি পড়বে— 'আস্তাগফিরুল্লাহাল লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি', আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার মতো বিশাল হয়।" (সুনানে তিরমিজি)

​১১. ঘুমানোর সুন্নাহ পদ্ধতি অনুসরণ করা

​রাসূলুল্লাহ (সা.) যেভাবে ঘুমানোর পরামর্শ দিয়েছেন:
​ডান কাতে ঘুমানো: রাসূলুল্লাহ (সা.) ডান কাতে হয়ে ডান হাত গালের নিচে রেখে ঘুমাতেন।

​নিয়ত করা: এই নিয়তে ঘুমানো যে, আমি বিশ্রাম নিয়ে আবার তাহাজ্জুদ বা ফজরের সালাতের জন্য জাগ্রত হব। এতে আপনার ঘুমের সময়টুকুও ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে।

​১২. মানুষের প্রতি ক্ষমা ও অন্তর পরিষ্কার করা

​ঘুমানোর আগে কারো প্রতি হিংসা বা বিদ্বেষ না রেখে সবাইকে ক্ষমা করে দিয়ে ঘুমানো একটি বিশেষ আমল।

​শিক্ষা: সালফে সালেহীনগণ ঘুমানোর আগে বলতেন, "হে আল্লাহ! যারা আমার ওপর জুলুম করেছে বা আমার হক নষ্ট করেছে, আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিলাম।" এর ফলে অন্তরে এক অদ্ভুত প্রশান্তি আসে।

#হাদিস #حديث

১. ঈমান ও তাকওয়া।২. কুরআন কারীমকে ধারণ করা।৩. বিশেষ করে সূরাতুল বাকারা পাঠ।৪. বেশি বেশি দান সদাকা করা।৫. প্রত্যেক নিয়ামত...
21/01/2026

১. ঈমান ও তাকওয়া।

২. কুরআন কারীমকে ধারণ করা।

৩. বিশেষ করে সূরাতুল বাকারা পাঠ।

৪. বেশি বেশি দান সদাকা করা।

৫. প্রত্যেক নিয়ামতের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ হওয়া।

৬. রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়ের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।

৭. প্রত্যেক কাজ বিসমিল্লাহ বলে শুরু করা, বিশেষ করে
খাবারের সময়।

৮. ঘরে প্রবেশের সময় সালাম দিয়ে প্রবেশ করা।

৯. ক্রয় বিক্রয় করার সময় সত্য কথা বলা।

১০. বেশি বেশি ইস্তিগফার করা।

১১. যে কোন কাজ ইস্তিখারা করে করা।

১২. অধীনস্থদের নামাজের আদেশ করা।

১৩. সকালের সময়ের মধ্যে বরকত। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সময় বরকতের দুয়া করেছেন। এই সময় কাজ করার চেষ্টা করা।

১৪. অন্যের জন্য বরকতের দুয়া করা।

১৫. বরকত হাসিলের ঋণ পরিশোধ এর দুয়া বেশি বেশি পাঠ করা ( আল্লাহুম্মাকফিনি....)।

১৬. যাদের সামর্থ্য আছে বারবার হজ্জ ও উমরাহ করা।

১৭. অন্যকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করা।

১৮. ইবাদতের জন্য সময় ব্যয় করা।

১৯. বিয়ে করা।

২০. ত্বলিবুল ইলম কে সাহায্য করা।

—Abdullah Al Monsur হাফিযাহুল্লাহ

#হাদিস #حديث

আপনি আশা করেন একজন উমরের, একজন সালাহুদ্দিন আইয়ুবীর মত কোনো বীরের। অথচ নিজের বাচ্চাদেরকে বিড়াল, ভুত-পেত্নী, কোনো কিছুর ছা...
26/11/2025

আপনি আশা করেন একজন উমরের, একজন সালাহুদ্দিন আইয়ুবীর মত কোনো বীরের। অথচ নিজের বাচ্চাদেরকে বিড়াল, ভুত-পেত্নী, কোনো কিছুর ছায়া বা পুলিশের ভয় দেখিয়ে তাদের থামিয়ে রাখেন। বীর পুরুষ তো আমাদের সন্তানরাই হবে! নাকি কোথাও থেকে টুপ করে পড়বে এই জমিনে?

শিশুমনে কখনই এসবের ভয় ঢুকিয়ে দিতে নেই। এসব খুবই তুচ্ছ। অথচ এই তুচ্ছ তুচ্ছ বিষয়গুলো নিয়ে বাচ্চারা বড় হতে থাকে। হয়ত এক সময় ভুলে যায়, কিন্তু মনে রাখবেন, মজবুত কিছু পেতে চাইলে তার শেকড়ের দিকে সবার আগে নজর দিতে হবে।

সহজ কিছু আয়াত আর হাদিস দেই। এগুলো মুখস্ত করে নেবেন। তাহলে যখনতখন বাচ্চাদের বলতে পারবেন। তাদেরকে আল্লাহর আজাবের ভয়ে চিন্তা ফিকিরে ফেলতে পারবেন। তারা শয়তানের বিরুদ্ধে ছোটোবেলা থেকেই মুকাবেলা করা শিখবে। কোনো একটা ভুল কাজ থেকে যেন সে কোনো মানুষ বা পুলিশের ভয়ে না ফেরে। বরং আল্লাহর ভয়ে নিজেকে ফিরিয়ে নেয়।

আয়াত-

إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ
অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ অন্তরের সব কথা জানেন।

وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْۚ
অর্থ: তোমরা যেখানেই থাক না কেন তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন।

وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ
অর্থ: তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ তা দেখেন।

اَلَمۡ یَعۡلَمۡ بِاَنَّ اللّٰہَ یَرٰی
অর্থ: সে কি জানে না যে, নিশ্চয় আল্লাহ্ দেখেন।

وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُۥ
অর্থ: এবং কেউ সামান্য পরিমাণ অসৎ কাজ করলে (কেয়ামতের দিন সে নিজে)তাও দেখতে পাবে।

হাদিস-

إِتَّقِ اللَّهَ حَيْثُمَا كُنْت

অর্থ- তুমি যেখানে যে অবস্থায় থাক না কেনো আল্লাহকে ভয় কর!

যদি মনে করেন বাচ্চা এখনো ছোটো এসব বুঝবেনা, তবে এটাও শয়তানের একটা ধোঁকা। বাচ্চা যদি সামান্য আওয়াজে ঘাবড়ে যায়, বা মিয়াউ মিয়াউ, পুলিশের ভয়ে জলদি লোকমাটা মুখে নেয়, কিংবা ঘুমের ভান ধরে তবে লা শাক্কা “আল্লাহ কিন্তু সব দেখছেন, তোমার ভুল কাজে উনি নারাজ হবেন” এমন কথাও বাচ্চা বুঝবে।

বাচ্চাদের নিয়ে বসে এই আয়াতগুলোর তাফসির আলোচনা করুন বিশেষ করে টিনেজ বাচ্চাদের সাথে। তাদের অন্তরে খোদাই করে দেন কথাগুলো। যে,

- তুমি কখন কী করো, কী ভাবো সবই কিন্তু আল্লাহ দেখছেন, একদিন সমস্ত গুনাহের কাজের জবাব দিতে হবে।
- কোনো একটা কাজ করার আগে, বা শুরু করে দিলেও মাঝপথে ভাবো কাজটা কি আল্লাহর নারাজ হওয়ার মত?
- কোনো গুনাহের চিন্তা মাথায় আসলে একবার মনে করে নেবে, কিয়ামতের দিন সবার সামনে কিন্তু তোমার হিসাব কষা হবে, আর সেদিন তোমার জবান বন্ধ থাকবে, কোনো অজুহাত শোনা হবে না। পারবা সবার সামনে নিজের বেইজ্জতি দেখতে?
- শয়তানকে খুশি করিও না। আল্লাহকে খুশি করাও
- আমাকে তুমি ফাঁকি দিয়ে অনেক কিছুই করতে পারবে। কিন্তু মনে রাখবে এতে তোমার নিজেরই ক্ষতি করছ। আল্লাহ কিন্তু সব জানেন। উনার থেকে কোনো কিছুই তুমি গোপন রাখতে পারবে না।

কথাগুলো বলার সময় কখনো বাচ্চাদের কাঁধে বা পিঠে হাত রেখে বলেন, কখনো তাদের হাত ধরে বলেন, কখনো তাদের এক কাঁধে মাথা রেখে অন্য কাঁধে হাত রেখে বলেন, কখনো এক আঙুল তাদের বুকে ঠেকিয়ে বলেন- ইত্তাকিল্লাহ। ইত্তাকিল্লাহ। ইত্তাকিল্লাহ।

হাত, পিঠ, কাঁধ এইসব স্পর্শ করে নাসিহা করার মর্মই আলাদা। এইভাবে করা নাসিহাগুলো দিলে ছাপ ফেলে। আল্লাহর ভয়ে লোম শিহরিত হয়। ছোটো বাচ্চাদের কোলে নিয়ে আদর করতে করতে বলুন, সুন্দর করে বলুন- আমার বাচ্চাটা কখন কী করে সব কিন্তু আল্লাহ দেখেন, আমার বাচ্চাটা কিন্তু শয়তানকে খুশি করবে না, ও আল্লাহকে খুশি করবে। আমার বাচ্চাটা খুব ভাল আর ও সব বুঝে আমি জানি!

প্লে উইথ দেয়ার মাইন্ড! শিশুমনকে বোঝান আপনি তাকে প্রচুর বিশ্বাস করেন, এবং তার উপর আপনার অগাধ আস্থা। বাচ্চারা গুনাহ, সোওয়াব, আজাব এসব না বুঝলেও মা-বাবা কষ্ট পাবেন, তাদের বিশ্বাস ভেংগে যাবে, তাদের চোখে হিরো থেকে জিরো হতে হবে এসব খুব ভাল বোঝে। তাই তাদের প্রতি আনলিমিটেড ভালবাসা, সম্মান, গুরুত্ব, আস্থা, বিশ্বাস এসব প্রকাশ করে তাদের নিজেদেরকেই গুনাহের বিরুদ্ধে, শয়তানের বিরুদ্ধে জিততে দিন।
সংগৃহিত
পরিমার্জন ও সংযোজন আইন উদ্দিন আইনী

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bangladesh Zakat Foundation বাংলাদেশ যাকাত ফাউন্ডেশন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share