একুশে পদক প্রাপ্ত চিত্রশিল্পী কাজী আনোয়ার হোসেন সমাজ কল্যাণ সংস্থা

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • একুশে পদক প্রাপ্ত চিত্রশিল্পী কাজী আনোয়ার হোসেন সমাজ কল্যাণ সংস্থা

একুশে পদক প্রাপ্ত চিত্রশিল্পী কাজী আনোয়ার হোসেন সমাজ কল্যাণ সংস্থা Kazi Anowar Hossain was a Bangladeshi painter.
(2)

Address

Dhaka
Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when একুশে পদক প্রাপ্ত চিত্রশিল্পী কাজী আনোয়ার হোসেন সমাজ কল্যাণ সংস্থা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to একুশে পদক প্রাপ্ত চিত্রশিল্পী কাজী আনোয়ার হোসেন সমাজ কল্যাণ সংস্থা:

Share

Kazi Anowar Hossain

একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী কাজী আনোয়ার হোসেন। যিনি নৌকার ছবি এঁকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সান্নিধ্যে এসে তাঁর কাছ থেকে ‘নৌকা আনোয়ার’-এর খেতাব পেয়েছিলেন। নিভৃতচারী আমার বাবা চিত্রপটে শুধু নৌকার ছবিই আঁকেননি, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রংতুলিতে বর্ণবিভা ছড়িয়ে তাঁর নিপুণ হাতে এঁকেছেন নদীতে পানির ঢেউ, বন-বনানী, পাখি, প্রাকৃতিক দৃশ্য, নৈসর্গিক দৃশ্যপট ও প্রান্তিক এক গোষ্ঠীর যাপিত জীবনের চালচিত্র। কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৪১ সালে গোপালগঞ্জ জেলার কুরপালা গ্রামের কাজী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা কাজী আবুল হোসেন ছিলেন পুলিশ ইন্সপেক্টর। মা অহিদুন্নেছা গৃহিণী। ১৩ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। শৈশব থেকেই বিচিত্র ঢং, নানা রং ও নানা বর্ণের নৌকার ছবি আঁকার মধ্য দিয়ে তিনি শিল্পী জগতে প্রবেশ করেন। মাধ্যমিক স্কুলের পরীক্ষার খাতায় নৌকার ছবি এঁকে সবাইকে অবাক করে দিয়েছিলেন তিনি। সেই থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রংতুলিতে বর্ণবিভা ছড়িয়ে গেছেন। তাঁর আঁকা ছবি দেখে বিমোহিত হয়েছেন অনেক চিত্রশিল্পীসহ বরেণ্য ব্যক্তিরা। প্রশংসা কুড়িয়েছেন দেশ-বিদেশের রাষ্ট্রনায়কদের।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধী যখন বাংলাদেশ সফরে আসেন, তখন আমার বাবা কাজী আনোয়ার হোসেনের হাতে আঁকা বঙ্গবন্ধুর একটি ছবি তাঁকে উপহার দেওয়া হয়। ছবিটি বর্তমানে ভারতের রাজধানী দিল্লির রমডার্ন আর্ট গ্যালারিতে সংরক্ষিত। বঙ্গবন্ধু আমার বাবাকে আদর করে নৌকা আনোয়ার বলে ডাকতেন। সেই থেকে তিনি নৌকা আনোয়ার নামে পরিচিতি লাভ করেন। আমার বাবার শিল্পী হয়ে ওঠার নেপথ্যে ছিলেন তাঁর মা অহিদুন্নেছা। যাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা ও ঐকান্তিক সহযোগিতা ছিল আমার বাবার চলার পথের পাথেয়। শিক্ষাজীবনে ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর ছবি আঁকা তাঁর স্বল্প আয়ের অবলম্বন ও জীবনজীবিকা হয়ে দাঁড়ায়। মন-পবনের নৌকার টানে বাংলার নদী নিসর্গ আর নৌকা ক্রমশ বিচিত্র বর্ণ ব্যঞ্জনায় রূপ পেতে থাকে তাঁর তুলি আর জলরঙে। পরিণত বয়সে এসে তিনি মিনিয়েচার ছবির দিকে ঝুঁকে পড়েন। ছবির উপকরণের ক্ষেত্রে আধুনিককালের চিত্রশিল্পীদের মতো অভিনব প্রবণতা লক্ষণীয়। বলা যায়, সে ধারায় আমার বাবার কাজেও বৈচিত্র্য যথেষ্টই। ক্যানভাস হিসেবে সহজ উপকরণ ব্যবহার করতে শুরু করেন তিনি। দেশলাইয়ের খাপের কাঠের অংশের ওপর নৌকা ও অনিবার্যভাবে নদীর দৃশ্যও চিত্রায়িত করেন। যা ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যের কারণে আজও ব্যাপকভাবে সমাদৃত।

এ ছাড়া তিনি ছবির উপকরণ হিসেবে আঠা, গাছের পাতা, ছাল, আমের বীজ, মাছের কাঁটা, হাড়, হরিণ ও মহিষের সিং, পেঁপেগাছ, রাজহাঁসের ডিম, পথে কুড়িয়ে পাওয়া অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, টুকরা কাপড় ইত্যাদি ব্যবহার করতে থাকেন। সীমিত রঙের ব্যবহার–সংবলিত তাঁর এ ধরনের শিল্পকর্মগুলোর সঙ্গে ইউরোপীয় রেনেসাঁর অমর শিল্পী লেওনার্দো দা ভিঞ্চির কাজের মিল পাওয়া যায়। জীবননৌকার যাত্রী হয়ে পাশ্চাত্যে পাড়ি জমানোর সুযোগও পেয়েছিলেন তিনি।