09/10/2025
আজ ১০ অক্টোবর: এনডিপির মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসার ৮ম কারামুক্তি দিবস
গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও “মায়ের ডাক”-এর নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক
ঢাকা, ১০ অক্টোবর ২০২৫ (শুক্রবার):
আজ ১০ অক্টোবর পালিত হচ্ছে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)-র মহাসচিব, মানবাধিকার নেতা ও সামাজিক সংগঠক মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা-র ৮ম কারামুক্তি দিবস।
২০১৭ সালের এই দিনে শহীদ জেহাদ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ে শহীদ জেহাদের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি থেকে একজন জাতীয় নেতাকে গ্রেফতারের ঘটনাটি সে সময় মানবাধিকার ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। কয়েকদিন পর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি মুক্তি পান। সেই থেকে দিনটি প্রতিবছর “মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসার কারামুক্তি দিবস” হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের অগ্রণী কণ্ঠ
মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান এবং দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন।
তিনি মানবাধিকার সম্মিলিত জোটের মুখপাত্র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম-খুন, রাজনৈতিক নিপীড়ন, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর নির্ভীক অবস্থান তাঁকে একজন সাহসী মানবাধিকার নেতায় পরিণত করেছে। তাঁর নেতৃত্বে মানবাধিকার সমিতি সারা দেশে নির্যাতিত, গুম ও খুন হওয়া পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং মানবতার পক্ষে সচেতনতা গড়ে তুলেছে।
‘মায়ের ডাক’-এর প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা
রাজনৈতিক ও মানবাধিকার কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা মানবিক সংগঠন “মায়ের ডাক”-এর প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন।
‘মায়ের ডাক’ একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, যা মাতৃত্বের মর্যাদা, নারী অধিকার, সমাজসেবা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে।
সংগঠনটির বিভিন্ন কর্মসূচি—বিশেষ করে মা ও সন্তানকে কেন্দ্র করে সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে ঈসার দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্ব বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে “মায়ের ডাক”-এর ইতিহাস
বাংলাদেশের অষ্টম শ্রেণির ইংরেজি পাঠ্যপুস্তকে “Mother’s Call (Mayer Dak)” শিরোনামে সংগঠনটির ইতিহাস ও কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এ অধ্যায়ে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা-র ছবি ও অবদানও স্থান পেয়েছে।
এটি শুধু একটি পাঠ্যবিষয় নয়—বরং মানবিক নেতৃত্ব, মাতৃত্বের মর্যাদা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের একটি প্রজন্মের শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মানবাধিকার আন্দোলনে দৃঢ় উপস্থিতি
মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি সর্বদা মানবাধিকারের পক্ষে সোচ্চার থেকেছে।
২০১৯ সালে শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর তিনি কুষ্টিয়ার তাঁর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ান এবং মানবাধিকার সমিতির ব্যানারে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদী মানববন্ধনের নেতৃত্ব দেন।
এর আগেও, ২০১৩ সালের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে তিনি সভাপতিত্ব করেন, যেখানে গুম হওয়া সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ আটজন নিখোঁজ নাগরিকের ছবি প্রদর্শিত হয়।
উক্ত কর্মসূচির প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন জাগপার সভাপতি মরহুম শফিউল আলম প্রধান।
ঘটনাটি বাংলাদেশের মানবাধিকার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা
এনডিপি চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্তজা বলেন,
> “মঞ্জুর হোসেন ঈসা শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ন্যায়, সত্য ও মানবাধিকারের কণ্ঠস্বর।
শহীদ জেহাদ দিবসের দিনে তাঁর কারামুক্তি আমাদের গণতন্ত্রের সংগ্রামের এক প্রতীক।”
নিজের কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এক বার্তায় মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন,
> “আমাকে বন্দি করা হয়েছিল জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্রের কথা বলার জন্য।
কিন্তু সত্যকে কখনো বন্দি করা যায় না।
আমি এই দিনটি উৎসর্গ করছি শহীদ জেহাদ ও সকল সাহসী মানুষদের প্রতি, যারা ন্যায়বিচার ও মানবতার পক্ষে অবিচল।”
সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জাতীয় ঐক্যের ধারক
রাজনীতি ও মানবাধিকারের পাশাপাশি মঞ্জুর হোসেন ঈসা ‘হৃদয়ে পতাকা ২ মার্চ’ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এই সংগঠনটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক সম্প্রীতি জাগিয়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।
তাঁর নেতৃত্বে সংগঠনটি দেশের তরুণ প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেম, স্বাধীনতার ইতিহাস ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মাতৃত্ব ও মানবতার প্রতি অবিচল অবস্থানই মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসার জীবনদর্শনের প্রতিচ্ছবি।
তাঁর কারামুক্তি দিবস শুধু একটি ব্যক্তিগত স্মৃতি নয়—এটি বাংলাদেশের মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনুপ্রেরণার দিন।