11/05/2026
এই লিস্ট টা ব্রেইনে একেবারে গেঁথে নিন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই অবশ্যই একবার চেক করে নিবেন।
১। আজকে সারাদিনে একবারও দুরুদ ইস্তেগফার পড়া হয়েছে কি? যদি পড়া না হয়ে থাকে সাথে সাথে পড়ে নেব। কারণ দরূদ ও ইস্তেগফার হচ্ছে রহমত টানার আমল। যখন এগুলো করা হয় না, তখন আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি থেকে মানুষ একটু একটু করে দূরে সরে যায়। শুকনো জমিনে বৃষ্টি না হলে যেমন শক্ত হয়ে যায় তেমনি অন্তরও শক্ত হয়ে পড়ে।
২। শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আজকে কোনো ভালো কাজ করা হয়েছে কি? যেমন সামান্য হলেও দান করা, কারো কাজে সহোযোগিতা করা। টেবিলের জগ, ফ্রিজের পানির বোতল ভরে রাখা এগুলোও হতে পারে। যদি না করা হয়ে থাকে পরেরদিন একটু বেশি করার চেষ্টা করব। কারণ মনের ভেতর সবসময় কিছু না কিছু জায়গা খালি থাকে। ভালো কাজ না করলে সেখানে ধীরে ধীরে অলসতা, রাগ, হিংসা, হতাশা জায়গা নেয়। তাই প্রতিদিনের নেক কাজ দিয়ে সেই জায়গাটা ভরাট করে রাখব।
৩। আজকে কোনো গুনাহ হয়েছে কি? সেটা যত ছোটই হোক সাথে সাথে তাওবা করে নিব। কারণ আমাদের জীবনের অধিকাংশ সমস্যা আসে নিজেদের করা পাপের কারণে। আর এসব সমস্যার সমাধান আসে একদম পাক্কাভাবে তাওবা করার মাধ্যমে। তাওবা কিভাবে? গুনাহের জন্য লজ্জিত হবো, আর কখনো না করার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে ওয়াদা করব আর সেজন্য ইস্তেগফার তথা ক্ষমা চাইব।
৪। আজকে কোনোকিছুর জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানিয়েছি কি? প্রত্যেকদিন কোনো না কোনো নিয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করব। বাসায় ভালো রান্না হয়েছে বা নতুন জামা কিনতে পেরেছি কিংবা কোনো মাথাব্যথা, পেট ব্যাথা ছাড়াই দিনটা সুস্থভাবে কেটেছে সেজন্যে হলেও আলহামদুলিল্লাহ বলব। কারণ আল্লাহ কুরআনে বলেছেন তার বান্দাদের মধ্যে শুকরিয়া আদায়কারী বান্দার সংখ্যা অল্প।। আর এই অল্প সংখ্যকই কামিয়াব। তাই চেষ্টা করব এর অন্তর্ভুক্ত হতে।
৫। কাজের চাপে বাচ্চার সাথে খারাপ ব্যবহার করে ফেলেছি? বাবা মা কেউ ডেকেছে যেতে দেরি করে ফেলেছি? পরিবারের কারো সাথে একটু কর্কশভাবে কথা বলে ফেলেছি? এরকম হয়ে থাকলে সবগুলো মনে রাখব এবং পরেরদিন এই আচরণগুলো আবার যাতে না হয় তা ঠিক করার পর্যাক্টিস করব। প্রতিদিন পর্যাক্টিস করতে পারলে চমৎকার আখলাক ওয়ালা একজন মানুষ হওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।
৬। আজকে কেউ কি আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে? সেটা ভাড়ার জন্য রিক্সাওয়ালা হোক, ছোট ভাইবোন হোক, কাজের বুয়া হোক, পাশের বাসার কেউ হোক আমি শোয়ার আগে তাকে মাফ করে দিয়ে সমস্ত বিদ্বেষ, খারাপ লাগা মন থেকে ঝেড়ে ফেলে ফ্রেশ হয়ে তারপর ঘুমাব। এক সাহাবী শোয়ার আগে এই আমলটা করার কারণে দুনিয়াতেই রাসুল সাঃ তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন।
৭। শোয়ার আগে সর্বশেষ কাজটা যাতে ফোন টিপাটিপি না হয়। যদি ঘুমের মধ্যে মৃত্যু হয়ে যায় তাহলে শেষ কাজটা যদি হয় রিলস দেখা, অযথা স্ক্রলিং করা তাহলে আল্লাহর কাছে আমার কি ইজ্জত থাকবে? তাই ফোন টিপলেও চোখ বন্ধ করার আগে কালিমা পড়ে ঘুমাব। তাহলে মৃত্যু হলেও ঈমানের সাথে মৃত্যু হয়েছে বলে ধরা হবে, যেটা হলো জান্নাতের গ্যারান্টি ইনশাআল্লাহ।
© sadia samha