22/09/2026
💔 একটা শিশুর প্রয়োজন আছে… কিন্তু পরিবারের সামর্থ্য নেই।”একটি শিশুর হাতে খাবারের বাটি, চোখে জল—আর ঘরে অপেক্ষা করছে অসুস্থ মা।”
মেয়েটির নাম রুমি। “রুমি অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু তার না বলা কথাগুলো তাই অনেক সময় বুঝতে হয় তার চোঁখ আর আচরণের ভাষায়।”“চুপচাপ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে।ও কিছু বলতে পারে না… শুধুই ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে।” 💔
ক্ষুধা লাগলেও বলতে পারে না—
“মা, আমার ক্ষুধা লেগেছে।”
ব্যথা পেলেও বলতে পারে না—
“মা, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।”
কী চাই, কী ভালো লাগে, কী ভয় পায়—
অনেক সময় সেটাও মুখে প্রকাশ করতে পারে না।
আমার বাড়ি থেকে তার বাড়িটা খুব একটা বেশি দুরে না। না! ঠিক বাড়ি না, ওদেরটা বস্তি বাড়ি। জীর্ণ, ভাঙাচোরা একটা ছোপড়ি, বৃষ্টি হলেই চাল গড়িয়ে টিপটিপ করে পানি পড়ে। আর সেই ছোপড়িটাতেই ভিজে ভিজে রুমি আর তার অসহায় মা থাকে। ওর বাবা নাকি বিয়ে করে ওদের ফেলে চলে গেছে বহুবছর আগে। মা অসুস্থ! সুস্থ হলেই বা কি! আমাদের সমাজে মহিলারা আবার সন্তানদের খাবার জোগান দিতে শান্তিতে কাজ করতে পারে নাকি শকুনদের নজর এড়িয়ে! ওর মা ও শকুনের চোখ এড়ায়নি। যাক সে অন্য ঘটনা! সেসবে না যাই। আজকের কথা বলি।
রুমি সেই থেকে একাই ওর পরিবারের আর্নিং মেম্বার! আর্নিং মেম্বার বলতে ওই হাত পেতে দুটো যদি কোনরকমে পায়। সোজা কথা ভিক্ষুক ! আমি সেদিন গাড়ি করে বাড়ি ফিরছিলাম। বাড়ির কাছাকাছি আসতেই দেখলাম রুমি আমার প্রতিবেশী রহমান মিয়ার দরজায় হাত পেতে দাড়িয়ে!চোঁখ বেয়ে জল পড়ছে। খুব সম্ভবত রহমান মিয়ার কাছ থেকে খাবার চাইতে এসেছিলো। লোকটাকে আমি চিনি! যথেষ্ট নির্দয়,নিষ্ঠুর! রুমিকে মেরেছে বেশ বোঝা যাচ্ছে। রুমি তখন বাটি হাতে লোকটার পায়ে পড়ে কাঁদছে একটু খাবারের জন্য
চাচা! একটু খাবার দিন না চাচা! আমার মা খুব অসুস্থ চাচা!
কিন্তু না, রহমান চাচার মন গলেনি। রুমি জানেনা! এ শহর,এ শহরের মানুষ ঠিক কতটা নির্দয়। কিন্তু রহমান চাচার মন না গললে ও আমি আর থেমে থাকতে পারিনি। সেখানেই রহমান চাচাকে কথা শুনিয়ে আসি আর রুমিকে একটা দোকানে নিয়ে তৎক্ষণাৎ ওদের এক মাসের খাবারের ব্যবস্খা করে দেই। পরবর্তী মাসের খাবারের ব্যবস্থাও আমি করবো এ আশ্বাস নিয়ে রুমিকে সেই ছোপড়িঘরে রেখে চলে আসি। পেছন ফিরে তাকাতেই দেখি রুমির চোখে মুখে এক অন্যরকম প্রশান্তি! খুশির হাসি! আমার চোখ বেয়ে জল পড়ে। এক শিশুর খাবারের জোগান দেওয়ার খুশিতে। তার চোখে প্রশান্তির হাসি দেখে!
এ তো গেল এক রুমির কথা! এমন শত শত রুমি আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কেউ ছোপড়িতে, কেউ পথে, কেউ বা থালা হাতে দাড়িয়ে এক মুঠো খাবারের আশায় কোন রহমান চাচার দুয়ার দাড়িয়ে!
এ ছোট ছোট বাচ্চাগুলোর চোঁখে কষ্টের গভীরতা হয়ত বা আমার আপনার মত খুব কম মানুষের নজরে পড়ে! কিন্তু সবার চোখেই কি পড়ে! সবার ই কি তাদের জন্য হৃদয় কাঁদে?বুকে হাত দিয়ে বলুন তো ! পথে হাটতে হাটতে আপনি ও কি কখনো তাদের ক্ষুধার কষ্টে কাঁদতে দেখে থমকে দাড়িয়েছেন! আলতো করে ওদের ছোট হাত দুটি ধরে, " কেদো না, আমি আছি" বলে ওদের স্বান্তনা দিয়েছেন! কিংবা এক মুঠো খাবার দিয়ে ওদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেছেন!
একবার ভেবে দেখুন তো !ওদের বয়সী আপনার আমার ও তো সন্তান আছে। আজ যদি কোন কারনে তাদের এ অবস্থায় পড়তে হতো! ক্ষুধার জ্বালায় পথে দাড়িয়ে কাদতো! কিংবা এক মুঠো খাবারের আশায় চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনি খেয়ে মারা পড়তো! এমন কাহিনি তো আমরা হরহামেশাই পএিকাগুলোতে পড়ে থাকি!
আমরা প্রতিদিন কত কত খাবার নষ্ট করি! বাড়িতে,অফিসে কিংবা রেস্টুরেন্টে! অথচ এই শিশুগুলো কিংবা তাদের অসহায় মা তখনো একটু খাবারের আশায় আমাদের দিকে তাকিয়ে! বাচ্চাগুলোর সেই কষ্ট কেবল একজন মা ই জানে, অসহায় বাবাই বোঝে। যারা চাইলেও তাদের খাবার দিতে পারেনা। আর যাদের বাবা মা নেই তাদের কষ্টের কথা আর নাই বলি।
এই ছোট ছোট শিশুগুলোর মুখে হাসি ফোঁটাতে আর খাবারের জোগান দিতে বহুবছর ধরে আলোকিত পথ চেষ্টা করে এসেছে তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে।
বাংলাদেশে একমাত্র আমরাই যারা অসহায় দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া অটিজমে আক্রান্ত বাচ্চাদের জন্য কাজ করে আসছি বিগত ৮ বছর ধরে। নিয়মিত থেরাপি বিশেষ শিক্ষা ও ৭১ জন শিশুর খাদ্যের ব্যবস্থা করছে আলোকিত পথ।কিন্তু একা এত খাবার আলোকিত পথের পক্ষে জোগান দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। আমাদের কাছে আরো ১২৮ জন অপেক্ষমান বাচ্চা রয়েছে যারা তাঁদের ন্যায্য টুকু পায়না আপনার একটু সহযোগিতার মাধ্যমেই আমরা তাদের পৌছে দিতে পারি প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী।
কিছুদিনের খাবারের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়তো আমার আপনার জন্য খুব একটা কষ্টের কিছু না, কিন্তু ওই শিশুগুলোর কাছে তা সোনার হরিনের মত।
আমাদের এই পথচলায় আপনার সাহায্য একান্ত কাম্য। আপনার এই মানবিক কাজ ওদের একটু ভালোভাবে বাঁচার সুযোগ তৈরী করতে পারে
আসুন না, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি এই ছোট ছোট পুতুলগুলোর চোখের জল মুছে দিতে! তাদের মুখে এক টুকরো হাসি ফোটাতে! আমাদের সন্তানগুলোর ক্ষুধার কষ্ট লাঘব করতে।
কারন কারো ক্ষুধার কষ্ট লাঘব করা মানে
আল্লাহর রহমতের দরজা খুলে যাওয়া।
জানেন তো !
জীবে প্রেম করে যেই জন, সেজন সেবিছে ইশ্বর।
রুমির গল্প এখানেই শেষ নয়। কারণ রুমির মতো আরও অনেক অটিজম শিশু আজও অপেক্ষা করছে একটু যত্ন, একটু খাবার আর একটি নিরাপদ ভবিষ্যতের।”
“গল্পের চরিত্রটিতে ব্যবহার করা রুমি নামটি কাল্পনিক। ”