13/10/2023
'৪৭ এ ভারত-পাকিস্তান আলাদা হওয়ার পর থেকে পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকদের কাছে পূর্ব পাকিস্তানীরা (বর্তমান বাংলাদেশ) কেবলই শোষিত হয়েছে। শোষণের মাত্রা সময়ে সময়ে কেবলই বেড়ে চলেছিলো। অতঃপর যখন '৭০ এ গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত হয়েও তৎকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগের হাতে ক্ষমতা দিতে গড়িমসি করছিলো পশ্চিম পাকিস্তান, এমনই এক সময়ে ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে দুঃসাহসী ঘোষণা দেন।
এর ঘোষণাটা কি যুক্তিযুক্ত হয়েছিলো? কারণ সেই মূহুর্তে বাঙ্গালীদের হাতে ছিলো না উন্নত অস্ত্র, ছিলো না আন্তর্জাতিক বিশ্বের কুটনৈতিক সমর্থন। অন্যদিকে পাকিস্তান ছিলো মোটামুটি একটা পরাশক্তি। এই বৃহৎ শত্রুর বিপক্ষে দাড়ানোর কোনো সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও বাঙ্গালীদের উপর এত বড় একটা যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধুকে দোষারোপ করলে কি ভূল হবে?
৭ই মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর পাকিস্তান থেকে কেমন জবাব এসেছিলো দেখুন। ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানীরা শুধু ঢাকায়ই ৭,০০০ মানুষের জীবন নেয়। পুরো নয় মাসের যুদ্ধে মারা যায় মোট তিন লক্ষ মানুষ। ধর্ষিত হয় ২ লক্ষের অধিক নারী যাদের মধ্যে ছিলো নাবালিকা শিশুও। বঙ্গবন্ধুকে তো সেদিন রাতেই গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়।
এত কিছুর পরও কিন্তু বঙ্গবন্ধুর দিকে আঙ্গুল তোলা হয়না। কারণ ১৯৭১ এ যা হয়েছিলো তার জন্য বঙ্গবন্ধু দায়ী নন, দায়ী পশ্চিম পাকিস্তান। কিন্তু একই কাজ যখন ফিলি-স্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হা-মাস করে তখন কিছু ভাই হামাসের দিজে আঙ্গুল তুলতে দেরি করেন না। তাদের কিছু আর্গুমেন্ট এমন-
১. হামা-সের কারণে আজ নিরীহ ফি-লিস্তিনিরা বিপদে পড়েছে।
২. হা-মাস নিজেই নিজেদের উপর যু-দ্ধ ডেকে এনেছে।
৩. এত এত ফিলি-স্তিনির জীবন যাওয়ার পেছনে দায়ী হা-মাস।
৪. ইস-য়েল শক্তিশালী পরাশক্তি।৷ ওদের বিরুদ্ধে যু-দ্ধ করা মানে নিজের পায়ে কুড়াল মারা।
এই যুক্তিগুলো কি '৭১ এর যু-দ্ধের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য না?
kazinaimul01 13/08/23