19/04/2026
রাসায়নিক সার ব্যবহারে বাংলাদেশ প্রতি হেক্টরে ৭০০ কেজি ব্যবহার করে — যা মাত্র কয়েক দশক আগে ছিল মাত্র ৮.৫ কেজি। অর্থাৎ অল্প সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৮২ গুণ।
বিপরীতে উগান্ডায় এই সংখ্যাটি মাত্র ৩.৩ কেজি — বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় নগণ্য।
কীটনাশক ব্যবহারেও একই বৈপরীত্য।
বাংলাদেশে প্রতি হেক্টরে ১.৮ কেজি কীটনাশক প্রয়োগ হয় এবং দেশটি বিশ্বে এই তালিকায় ২৯তম স্থানে রয়েছে।
২০০৫ সালে আমদানি ছিল ১২,০০০ টন, ২০২০ সালে সেটি দ্বিগুণ হয়ে ২৭,০০০ টনে পৌঁছেছে — বার্ষিক বৃদ্ধির হার প্রায় ১০%, যা টানা ৩৩ বছর ধরে চলছে।
২০২৪ সাল নাগাদ ৮০২টি কোম্পানি এই বাজারে সক্রিয়। উগান্ডায় কীটনাশক ব্যবহার প্রায় শূন্যের কোঠায় — প্রতি হেক্টরে ০.৫ কেজিরও কম।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, বাংলাদেশের ৯৪ শতাংশ কৃষক নিষিদ্ধ কীটনাশক চিনতে পারেন না — অথচ সেগুলো অবাধে ব্যবহৃত হচ্ছে। উগান্ডায় এই প্রশ্নটি প্রায় অপ্রাসঙ্গিক, কারণ রাসায়নিক নির্ভরতা সেখানে তৈরিই হয়নি।
২০২২ সালে বাংলাদেশে মোট ১,৬৭,২৫৬টি নতুন ক্যান্সার রোগী শনাক্ত হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে ১,১৬,৫৯৮ জনের। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ক্যান্সারের মধ্যে ফুসফুস, স্তন এবং পাচনতন্ত্রের ক্যান্সার শীর্ষে।
বিশ্বব্যাংকের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের প্রায় ২৭% কৃষক প্রতি বছর কীটনাশকজনিত স্বাস্থ্যসমস্যায় আক্রান্ত হন। দীর্ঘমেয়াদী কীটনাশক সংস্পর্শ ক্যান্সার, স্নায়বিক রোগ ও হরমোন বিঘ্নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
ঢাকার সাতটি ক্যান্সার হাসপাতালে ৪৩০ জন রক্তের ক্যান্সার রোগীর মধ্যে কমপক্ষে ১৫০ জনের কীটনাশক ব্যবহারের সরাসরি ইতিহাস পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘদিন কীটনাশকমিশ্রিত খাবার খেলে ক্যান্সার, যকৃৎ রোগ ও স্নায়বিক সমস্যা হতে পারে।
২০২২ সালে উগান্ডায় প্রতি লাখে ৭৪.৩ জন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। বাংলাদেশে এই হার ১০৬.২ জন — অর্থাৎ বাংলাদেশে ক্যান্সারের হার উগান্ডার চেয়ে ৪৩% বেশি।
উগান্ডায় শীর্ষ সাতটি ক্যান্সার — জরায়ুর ক্যান্সার, কাপোসি সারকোমা, স্তন, প্রস্টেট, লিম্ফোমা, যকৃৎ ও খাদ্যনালির ক্যান্সার — মোট নতুন রোগীর ৭০% গঠন করে।
এগুলোর কারণ মূলত HIV/AIDS, HPV ভাইরাস এবং হেপাটাইটিস B — রাসায়নিক সার বা কীটনাশক নয়।
গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, উগান্ডায় সংক্রমণজনিত ক্যান্সার থেকে ধীরে ধীরে জীবনযাত্রাজনিত ক্যান্সারের দিকে পরিবর্তন ঘটছে — এটি উন্নয়নশীল দেশগুলোর নতুন বাস্তবতা।
//.\\
২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৭১% সবজিতে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে, যার অর্ধেকেরও বেশি নিরাপদ মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ৪০% কাঁচা দুধের নমুনায় ডিটারজেন্ট, অ্যান্টিবায়োটিক অথবা ফরমালিন পাওয়া গেছে। পুরো দেশ নিয়ন্ত্রণ করতে মাত্র ১৫০ জন খাদ্য পরিদর্শক আছেন — প্রতি ১০ লাখ মানুষে একজনেরও কম।
বাজার পর্যায়ে:বাংলাদেশে প্রায় সব ধরনের খাবারেই ভেজাল মেশানো হয়। মাছ, ফল ও সবজি সংরক্ষণে ব্যাপকভাবে ফরমালিন ব্যবহার হয় — যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার ও কিডনি বিকল ঘটায়। ফল পাকাতে কার্বাইড ব্যবহার করা হয়, যা গুরুতর স্নায়বিক সমস্যা তৈরি করে।
উগান্ডা ২০০৪ সালে Uganda Organic Standard এবং ২০০৭ সালে পূর্ব আফ্রিকার আঞ্চলিক অর্গানিক মান গ্রহণ করেছে। সরকার সিন্থেটিক কীটনাশক ও সার ছাড়া জৈব চাষকে সক্রিয়ভাবে প্রসার দিচ্ছে।
বাংলাদেশে খাদ্য ভেজাল ইচ্ছাকৃত, সংঘবদ্ধ এবং সব স্তরে বিস্তৃত — মাঠ থেকে বাজার পর্যন্ত। উগান্ডায় সমস্যাটি মূলত অজ্ঞতা ও নিয়ন্ত্রণের অভাব, কিন্তু গ্রামীণ বেস-লাইন এখনো অনেকটাই রাসায়নিকমুক্ত।
মুজাহিদুল ইসলাম জাহিদ
কৃষি উদ্যোক্তা