Arpon-Dorpon Memorial Foundation

Arpon-Dorpon Memorial Foundation Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Arpon-Dorpon Memorial Foundation, Nonprofit Organization, Dhaka.

চিরকুট দুইশত চৌদ্দ আমার কাজের জন্য কোন সামাজিক স্বীকৃতি পাওয়ার প্রত্যাশা  আমার কখনও ছিল না মূলত দু’টি কারণে-এক, সামাজিক ...
19/06/2026

চিরকুট

দুইশত চৌদ্দ

আমার কাজের জন্য কোন সামাজিক স্বীকৃতি পাওয়ার প্রত্যাশা আমার কখনও ছিল না মূলত দু’টি কারণে-

এক, সামাজিক স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য যে যোগ্যতা ও মানসিকতা দরকার, তা আমার নেই ।

দুই, আমি যে বিষয়ে কাজ করি তার ফলাফল দৃশ্যমান নয়; আমার জীবদ্দশায় তা দৃশ্যমান হওয়ার কোন সম্ভাবনাও নেই । ফলে, কোন ধরণের সামাজিক বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়ার আশা আমি কখনও করিনি । হয়ত এ কারণেই যখন জানলাম রোটারি, ক্লাব অব উত্তরা আমাকে সমাজকল্যাণমূলক কাজের জন্য ‘Vocational Excellence Award, 2026’ বা ‘বৃত্তিমূলক শ্রেষ্ঠত্ব পুরুস্কার, ২০২৬’ এর জন্য নির্বাচন করেছে; তখন সত্যিই আমি অবাক হয়েছি । তবে, একথা সত্য, আমার কাজের কোন কৃতিত্ব থাকলে, তা আমার নিজের নয়, এ কৃতিত্ব অর্পণ- দর্পণ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের । কারণ, আমি যাকিছু করি, তা অর্পণ- দর্পণ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের পক্ষে করে থাকি ।

অর্পণ- দর্পণ স্মৃতি ফাউন্ডেশন আসলে দুনিয়ার সকল প্রকার ভালো কাজ করতে চায় । কিন্তু বাস্তবে যেহেতু পৃথিবীর সব ভালো কাজ কোন একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে করা সম্ভব নয়; তাই আমরা আমাদের কাজকে দু’ভাগে ভাগ করেছি ।

এক, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো কাজ করা; এবং

দুই, অন্যকে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করা ।

নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো কাজ করার কাজ আমরা অর্পণ- দর্পণ স্মৃতি পাঠাগারের মাধ্যমে করে থাকি। অর্পণ- দর্পণ স্মৃতি পাঠাগার যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার মুক্তারপুর গ্রামে অবস্থিত ।

অন্যকে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করার কাজ অর্পণ- দর্পণ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ঢাকা অফিস থেকে পরিচালনা করা হয়। উল্লেখ্য, আমি নিজে একসময় এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ছিলাম । অর্পণ- দর্পণ স্মৃতি পাঠাগারের মাধ্যমে সমাজকল্যাণমূলক কাজ এবং এনজিও ব্যুরো পরিচালনার অভিজ্ঞতা - এই দুটো মিলে আমার মনে হয়েছে সমাজের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন না হলে এদেশের সত্যিকার উন্নতি কখনও সম্ভব নয় । দরিদ্রদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কাজ; আমার মনে হয়েছে, এ ধরণের সমাজকল্যাণমূলক কাজে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা না কমিয়ে, বরং বৃদ্ধি করে থাকে। কারণ, ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করতে গেলে দেখা যায়, এদেশের সকলেই দরিদ্র- সকলেই ত্রাণ সামগ্রী পেতে চান। যারা ত্রাণ বিতরণ করেন, তাঁরা জানেন, ত্রাণ সামগ্রী গ্রহণের ক্ষেত্রে এদেশে ধনী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই । আমাদের দেশের সকল প্রকার সচ্ছল মানুষের এ ধরণের মানসিকতার পরিবর্তন না হলে, কোনভাবেই এ দেশের উন্নতি সম্ভব নয় । এই অপ্রিয় বাস্তবতায় অর্পণ- দর্পণ স্মৃতি ফাউন্ডেশন অন্যকে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধকরণের ক্ষেত্রে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে থাকে; যার ফলাফল স্বল্পমেয়াদে পাওয়া সম্ভব নয় ।

বর্ণিত অবস্থায় মানুষকে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে অর্পণ- দর্পণ স্মৃতি ফাউন্ডেশন বর্তমানে ৩টি কাজ করে থাকে-

১। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘শুদ্ধাচার অনুশীলনে চল্লিশের চর্চা’র আয়োজন ।

আমাদের মনে হয়েছে, এদেশে যতপ্রকার দুর্নীতি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়, এসবের মূলে ৩ টি কারণ কাজ করে- এক, সমাজে মানুষের অবাধ মিথ্যাচার, দুই, দেশপ্রেমের অভাব এবং তিন- মানুষের মধ্যে ধর্ম ও নৈতিকতাবোধ কাজ না করা । এই ৩ টি বদগুণ আমাদের বড়দের প্রায় সকলের মধ্যে আছে । স্বল্পমেয়াদে এধরণের বদগুণমুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। এ কারণেই অর্পণ- দর্পণ স্মৃতি ফাউন্ডেশন ছোটদের তথা শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুদ্ধাচার অনুশীলনে চল্লিশের চর্চা’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে । চল্লিশ দিনের শুদ্ধাচার অনুশীলন কৌশল এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেন শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ৩টি বদগুণ দানা বাধতে না পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ প্রতিযোগিতা পরিচালনার পাশাপাশি আমরা সরকারকে অনুরোধ জানাই, যেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে এ ধরণের প্রতিযোগিতাকে বাধ্যতামূলক কর্মসূচি হিসেবে ঘোষণা দিয়ে এক্সট্রাকারিকুলার হিসেবে গ্রহণ করা হয় । এতে সরকারের কোন আর্থিক সংশ্লেষ নেই; অথচ এ ধরণের কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের সমাজ কাঠামো সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে ।

২। পুস্তক প্রকাশনাঃ আমার বছরব্যাপী লেখার সংকলনগ্রন্থ প্রতিবছর বইমেলায় প্রকাশিত হয় । প্রকাশক ইছামতি প্রকাশনী। বর্তমানে অর্পণ- দর্পণ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের গ্রন্থস্বত্বের ১২/১৩ টি বই বাজারে রয়েছে । বইগুলো অনেকের জন্য দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে সহায়ক হতে পারে বলে আমাদের বিশ্বাস।

৩। বিভিন্ন সংস্থা/ প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণে মতবিনিময় সভার আয়োজনঃ এ কর্মসূচি আমরা চলতি বছরে শুরু করেছি। যেকোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান থেকে ‘দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনঃ সমাজ পরিবর্তনের অপরিহার্য শর্ত’ বিষয়ক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হলে আমরা সেখানে অংশ নিয়ে থাকি। রোটারি ক্লাব উত্তরা এ ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে জেনে আমি আমাদের কর্মকাণ্ড ক্লাবকে জানাই । প্রস্তাবিত মতবিনিময় সভা আয়োজনের আগেই আমাকে ‘Vocational Excellence Award, 2026’ প্রদান করে সম্মানিত করা হয়েছে- এজন্য রোটারি ক্লাব অভ উত্তরার সম্মানিত সভাপতি রোটারিয়ান মনোয়ারা বেগম মুন্নি, পিএইচএফ, বি, এমডিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমাদের অশেষ কৃতজ্ঞতা ।

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে আমার স্ত্রী অধ্যাপক শারমিনা পারভীন, কন্যা দোলনচাঁপা ইসলাম এবং অর্পণ - দর্পণ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম এম্ব্যাসেডর জনাব মাশফিক- উজ- জামান নিউটন উপস্থিত ছিলেন। আমাদের কর্মকাণ্ড বিষয়ে রোটারি ক্লাবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন স্নেহভাজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার রোটারিয়ান আব্দুল হামিদ । তাঁদের সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও শুভকামনা ।

রাশেদুল ইসলাম । ১৯ জুন, ২০২৬ । উত্তরা, ঢাকা ।

16/06/2026

চিরকুট

দুইশত তেরো

বাংলাদেশে ঘরে ঘরে ফুটবল ভক্তের ছড়াছড়ি । এবার ২৩তম আসরের বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এর প্রতিযোগিতা চলছে । আয়োজক উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশ - আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকো । খেলা শুরু হয়েছে ১১ জুন; শেষ হবে ১৯ জুলাই। পৃথিবীর ৪৮ টি দেশ এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে । এ উপলক্ষ্যে আমাদের দেশের গ্রাম-গঞ্জ, শহর-বন্দর সর্বত্রই এখন ফুটবল ভক্তদের মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে । অনেকে প্রিয়দলের দেশের বিশাল পতাকা তৈরি করতে নিজেদের জমি পর্যন্ত বিক্রি করেছেন বলে সংবাদে প্রকাশ । ফুটবল ভক্তদের এ ধরণের উত্তেজনাকর মুহূর্তে আগুনে পানি দেওয়ার মত অবস্থা তৈরি হয়েছে তাঁদের নিজেদের ধর্মের ব্যাখ্যা শুনে । বাংলাদেশ ধর্মভীরু মানুষের দেশ । ধর্ম এ দেশের মানুষের রক্তের হিমোগ্লোবিনের মধ্যে মিশে আছে । এসময় মসজিদের কোন ইমাম, মুফতি বা শায়েক ফুটবল খেলা দেখা হারাম বলে ঘোষণা দেওয়া- এদেশের মুসলমান ফুটবল ভক্তদের আনন্দ প্রকাশের ক্ষেত্রে একটি মনস্তাত্ত্বিক বাধা হিসেবে কাজ করা স্বাভাবিক।

আধুনিক ফুটবল খেলার জন্ম ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দে ইংল্যান্ডে। ৯০ মিনিটের এই খেলাটি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার খেলোয়াড় বাছাইয়ের কাজ শুরু হয় প্রত্যেক দেশের ঘরোয়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যেম । ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় গোটা দেশের ফুটবল প্রেমিক ছেলেমেয়েদের মাঝে একধরণের সাজসাজ রব পড়ে যায় । শিক্ষার্থীদের শরীর চর্চা ও নির্দোষ চিত্তবিনোদনের একটি উল্লেখযোগ্য মাধ্যম এই ফুটবল খেলা । ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে ওঠারও একটি উল্লেখযোগ্য মাধ্যম এই ফুটবল। আর বিশ্বকাপ ফুটবল খেলায় বিশ্বজনীন শান্তি ও বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পারিক সম্প্রীতির সম্পর্ক স্থাপনে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। এখন প্রশ্ন, ইসলাম ধর্ম ফুটবল খেলা সমর্থন করে কি ? বা ধর্মের ভাষায়, ইসলাম ধর্ম কি মুসলমানের জন্য হারাম, না হালাল ? ধর্মের এই বিধান কোথায় পাওয়া যায় ?

এ প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আগে আর একটি প্রশ্ন করা যেতে পারে । পৃথিবীর সর্ব উত্তর বা সর্ব দক্ষিনে অবস্থিত দেশ বা অঞ্চলে ৬ মাস দিন এবং ৬ মাস রাত থাকে । নামাজ এবং রোজা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সময়ের সাথে সম্পর্কিত । ৬ মাস ব্যাপী কেউ রোজা রাখার চেষ্টা করলে, তাঁর মৃত্যু অবধারিত । এরুপ ক্ষেত্রে পৃথিবীর সর্ব উত্তর বা সর্ব দক্ষিন অঞ্চলে যারা বসবাস করেন, তাঁদের নামাজ ও রোজা পালনের ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান কি? সেই বিধানের উৎসই বা কি ?

লক্ষ্যনীয় যে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ওফাতবরণ করেন ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে এবং ফুটবল খেলা শুরু হয় ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দে; অর্থাৎ নবী করিম (সঃ) এঁর ওফাত গ্রহণের ১২৩১ বছর পরে ফুটবল খেলা শুরু হয়। মহানবী (সঃ) এঁর নিজের কথা, কর্ম ও অনুমোদনকে হাদিস বলে । সংগতকারণেই ফুটবল খেলা বিষয়ে হাদিসের কোন ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব নয় । আমার ধারণা, পৃথিবীর যে সব অঞ্চলে ৬ মাস রাত এবং ৬ মাস দিন থাকে, সে সব অঞ্চলের মানুষের জন্য নামাজ-রোজা পালনের ভিন্নরূপ বিধানও হাদিসে পাওয়া যাবে না । তার মানে এ দু’টি বিষয়ের ওপর ইসলাম ধর্মের ব্যাখ্যা দিতে গেলে কোরআন অথবা হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা দিতে হবে। এখানে প্রশ্ন, কিসের আলোকে ব্যাখ্যা দিতে হবে ? কোরআন, না হাদিস?

আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) নিঃসন্দেহে দূরদর্শী ছিলেন । তিনি ভালো করেই জানতেন, ক্রমবিবর্তনের ধারায় চলমান মানব সভ্যতার একটি বিশেষ সময়ে আরবের মক্কার মত অতিক্ষুদ্র একটি পরিসরে ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব হয়েছে । কিন্তু পৃথিবীতে সব সময় দাসপ্রথা থাকবে না, বা পৃথিবীর সর্বত্র আরবের মত মরুময় নয় । তাই তাঁর জীবনের যাবতীয় কার্যাবলী লিপিবদ্ধ করা হলে, ইসলাম ধর্ম একটি নির্দিষ্ট সময়কাল ও ব্যক্তি নির্ভরতায় আবদ্ধ হয়ে পড়বে- যা পবিত্র কোরআনের সার্বজনীনতা ক্ষুণ্ণ করবে । এ কারণেই তিনি তাঁর সাহাবীদের সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে যান, যেন তাঁর ওপর কোন লেখা লিপিবদ্ধ করা না হয়।

তবে, এখানে এটাও শতভাগ সত্য যে, ফুটবল খেলা হালাল, না হারাম, সে বিষয়ে ধর্মীয় কোন সিদ্ধান্ত দেওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতা আমার নেই । কোরআনের মর্ম অনুযায়ী ইসলাম চিন্তাশীল মানুষের ধর্ম এবং যুক্তির ধর্ম । কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যারা নিজের বিচারবুদ্ধি ও যুক্তি দিয়ে কথা বলে না, তারা মানুষ নয়’ ( সূরা আনফাল, আয়াত ২২)। এই বিধানের আলোকে আমি বোধহয় সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার্থে একটি যুক্তি এখানে তুলে ধরতে পারি। একজন মুসলমান তাঁর সহজাত বিচারবুদ্ধি দিয়ে কোরআনের নিম্নোক্ত বিধানের আলোকে ফুটবল খেলা হারাম, না হালাল নিজে বুঝে নিতে পারেন বলে আমার মনে হয়েছে ।

কোরআনে বলা হয়েছে,

“মানুষ জিজ্ঞেস করবে, তাদের জন্য কী কী হালাল করা হয়েছে ? হে নবী ! বলো, জীবনের জন্য ভালো ও কল্যাণকর সবকিছুই তোমাদের জন্য হালাল” (সূরা মায়েদা, আয়াত ৪) ।

ফুটবল খেলা মানুষের জীবনের জন্য কল্যাণকর, না ক্ষতিকর - এ বিচারের ভার পাঠকের ওপর রইল ।

রাশেদুল ইসলাম । ১৬ জুন, ২০২৬ । মুহাম্মদপুর, ঢাকা।

15/06/2026

চিরকুট

দুইশত বারো

সেদিন একটা অনুষ্ঠানে ছিলাম । অনুষ্ঠান শুরুর আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আসা আমন্ত্রিত অতিথিদের নিজেদের মধ্যে পরিচয় ও ভাব বিনিময় চলছে । এরুপ একটি সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই একজন সম্মানিত অতিথি অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে আমাকে বলেন, ‘জানেন, মাদার তেরেসা আন্তর্জাতিক চোরাচালান দলের সদস্য ছিলেন’ । আমি চমকে উঠি, ‘বলেন কি’ ? তিনি একটু হেসে বলেন, ‘আগে কিছু জানা যায়নি, এখন সব প্রমাণপত্র পাওয়া যাচ্ছে’। সর্বজনশ্রদ্ধেয় মাদার তেরেসা ১৯৯৭ সালে, মানে ২৯ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেছেন । এত বছর পরে তাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ কেন ?

কয়েকদিন আগে ফেসবুকে খলিফা ওমর (রাঃ) বিষয়ে একটা লেখা পড়লাম । লেখাতে বিভিন্ন তথ্যসূত্র উল্লেখ করে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে যে, হজরত ওমর (রাঃ) একজন চরিত্রহীন ও নীতিহীন মানুষ ছিলেন (আল্লাহ মাফ করুন)।

লক্ষণীয় যে, বর্তমানে একটি চক্র আল্লাহর নবি রসুলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সর্বজন শ্রদ্ধেয় মহাপুরুষ হিসেবে যারা যুগ যুগ ধরে মানুষের শ্রদ্ধা ভালোবাসা পেয়ে আসছেন, তাঁদেরকে তথ্যপ্রমাণসহ প্রমাণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তাঁদের কেউই শ্রদ্ধা বা সম্মান পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না । এসবের কারণ কি ?

এর বোধহয় এরকম একটা কারণ হতে পারে যে, ‘আমি নিজে খারাপ কাজ করি, তোমরা আমাকে খারাপ বলো সব ঠিক আছে, কিন্তু, তোমরা যাঁদের মহাপুরুষ ভাব, যাঁদের মডেল ভেবে শ্রদ্ধায় মাথা নত করো; তাঁদের কেউই ভালো মানুষ ছিলেন না । তাঁদের সবার আমার মত দোষ ছিলো’ । এটা মানুষকে খারাপ কাজে ইন্দন যোগানোর একটা মন্ত্রের মত ব্যবহার করা হচ্ছে মনে হয় ।

প্রশ্ন হতে পারে, এটা করে কার, কি লাভ ?

সাম্প্রতিককালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ‘কন্টেন্ট’ প্রচার করা অনেক পরিবারের আয়ের উৎস হয়ে গেছে । কন্টেন্ট প্রচারে শেয়ার, লাইক, কমেন্ট যতবেশি হয়, এ উৎস থেকে আয় ততবেশি হয় । কন্টেন্ট যত বেশি অশ্লীল, যতবেশি কুরুচিপূর্ণ, ততবেশি শেয়ার, ততবেশি লাইক ও কমেন্ট । প্রথম দিকে কেউ কেউ আদর্শভিত্তিক বা সমাজের জন্য মঙ্গলকর বিবেচনা করে ‘কনটেন্ট’ তৈরি ও প্রচার করা শুরু করলেও একপর্যায়ে ব্যবসায়িক ও পারিবারিক নির্ভরশীলতার কারণে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ কন্টেন্ট প্রচারে বাধ্য হচ্ছেন । এখন প্রশ্ন, এ খাতে অর্থ যোগাচ্ছেন কারা ? তাঁদের স্বার্থ কি ?

আমার লেখার প্রথম অংশে যে চক্রের কথা বলা হয়েছে এবং দ্বিতীয় অংশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীলতা প্রচারে অর্থ যোগানদাতা হিসেবে যাঁদের কথা বলা হচ্ছে, আমার ধারণা, তাঁরা একই দলভুক্ত, তাঁদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একই; কিন্তু কর্মপদ্ধতি ভিন্ন । তাঁদের মূল লক্ষ্য সমাজে মানুষের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বাড়ানো এবং এক ধরণের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা । প্রশ্ন হতে পারে, এতে তাঁদের সুবিধা কি এবং তা কিভাবে ?

মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ও নৈরাজ্য বাড়লে সমাজের কিশোর ও তরুণ শ্রেণির মধ্যে মাদক আসক্তি বাড়ে, মাদক আসক্তি বাড়লে সামাজিক অপরাধ বাড়ে, সামাজিক অপরাধ বাড়লে মাদক ব্যবসা জমজমাট হয়, অস্ত্র ব্যবসার বাজার তৈরি হয় । যেকোন দেশের নৈরাজ্যের শেষ অবস্থা যুদ্ধ । প্রতিবেশি দেশের সাথে কোনও একটা অজুহাতে যুদ্ধ বাঁধানো গেলে আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো । আমার ধারণা বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ীরা তাঁদের একটি স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলতে উঠেপড়ে লেগেছেন । বর্তমান সমাজে মানুষের অপকর্ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এতবেশি বেড়েছে যে, তাঁরা তাঁদের কাজের চূড়ান্তপ্রায় অবস্থায় চলে এসেছেন মনে হয় । এসব বিষয়ে সকলকে অনেক বেশি সতর্ক হওয়া দরকার বলে আমার মনে হয়েছে ।

প্রকৃতপক্ষে যেকোন সামাজিক সমস্যার সমাধান জনসচেনতার ওপর নির্ভর করে । মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে পার্থক্য কেবল জ্ঞান ও বুদ্ধিবিবেচনার । যে সমাজের মানুষ নিজেদের জ্ঞান ও বুদ্ধিবিবেচনা কাজে না লাগিয়ে কেবলমাত্র অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়, সে জাতির পতন অনিবার্য হয়ে পড়ে ।

আমার এ লেখায় দেশের চলমান পরিস্থিতির নিজের মত করে একটা ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে । যার যার অবস্থানে থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিচার বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে আমার এ লেখা সার্থক হতে পারে ।

রাশেদুল ইসলাম । ১৫ জুন, ২০২৬ । মোহাম্মদপুর, ঢাকা ।

চিরকুট দুইশত এগারো ব্যতিক্রম একটি স্কুলের  শান্তি উৎসবে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় । বলা হয়েছে,  এ স্কুলে মানুষ হবার শিক্ষ...
13/06/2026

চিরকুট

দুইশত এগারো

ব্যতিক্রম একটি স্কুলের শান্তি উৎসবে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় । বলা হয়েছে, এ স্কুলে মানুষ হবার শিক্ষা দেওয়া হয় । প্রশ্ন হতে পারে, শিক্ষার্থীরা মানুষ হওয়ার শিক্ষা পেলে কি লাভ ? স্কুলের নামের মধ্যেই এ প্রশ্নের উত্তর রয়ে গেছে । স্কুলের নাম পীস স্কুল বা শান্তির স্কুল। তারমানে এই স্কুলে পড়লে শিক্ষার্থীরা মনে শান্তি পাবে। তাঁরা যখন বড় হবে, তখন তাঁদের পরিবার ও সমাজ শান্তি পাবে । একথার সারমর্ম এইযে, মানুষ মানুষ হলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা পায় । কিন্তু, মানুষ মানুষ হলে যে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা পায়- এই ধারণা কোত্থেকে পাওয়া। আমার জানামতে, এ দেশে প্রচলিত ধর্মীয় বা সাধারণ কোন শিক্ষায় এ কথা বলা হয় না যে, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষকে মানুষ হতে হবে। তাহলে প্রশ্ন এ ধারণার উৎপত্তি কি হতে পারে ? তবে এসব কথার আগের প্রশ্ন, মানুষ হতে হলে কি শিক্ষা লাগে ?

শেষের প্রশ্নের জবাবে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উদ্ধৃতি এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে । কবিগুরু তাঁর নববর্ষ প্রবন্ধে বলেছেন, ‘তরুলতা সহজে তরুলতা, পশুপাখী সহজেই পশুপাখি; কিন্তু মানুষ প্রাণপণ চেষ্টায় তবে মানুষ’ । তার মানে মানুষ জন্মগতভাবে মানুষ হয় না । মানুষ হতে গেলে একজন মানুষের নিজের চেষ্টা ও শিক্ষা থাকতে হয় । এখানে প্রশ্ন, মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব কার ?

মানুষকে মানুষ হবার শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব মূলত তাঁর পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের । পরিবার শিক্ষা পায় কোথায় ? উত্তর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে । আমাদের দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয় ১৯৯০ সালে। সুখের কথা বাংলাদেশে ছিন্নমূলসহ সব শ্রেণির শিশুকিশোর প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেতে পারে । সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত শিশুকিশোর এনজিও পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়। কিন্তু প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার কোন পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষা দেওয়া হয় বলে আমার জানা নেই । প্রশ্ন হতে পারে, মৌলিক শিক্ষা কি ?

প্রকৃতপক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য মৌলিক শিক্ষা হচ্ছে, মানুষ হওয়ার শিক্ষা এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ ভেদে সর্বস্তরের মানুষের সাথে শান্তিপূর্ণভাবে সহঅবস্থানের শিক্ষা । এই মৌলিক শিক্ষা না পাওয়ার কারণে একজন শিক্ষার্থীর জীবনের মূল লক্ষ্য কি ? তা তিনি জানতে পারেন না । একজন শিক্ষার্থীকে যদি প্রশ্ন করা হয়, আপনার জীবনের লক্ষ্য কি ? হয়ত তাঁর উত্তর হবে, ডাক্তার হওয়া । কেনো ডাক্তার হওয়া ? এ প্রশ্নের উত্তর হবে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবা দেওয়া, - যা এককথায় মানব সেবা । তাহলে এই শিক্ষার্থীর ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন তাঁর লক্ষ্য, না উপলক্ষ্য ? শিক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত লক্ষ্য না জানার কারণে একজন শিক্ষার্থী তাঁর ডাক্তার হওয়ার লক্ষ্য (?) পূরণ করে প্রকৃত ডাক্তার না হয়ে অনেক ক্ষেত্রে কসাইয়ে রুপান্তরিত হয়ে পড়েন । তার মানে, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় লক্ষ্য এবং উপলক্ষ্যের মধ্যে পার্থক্য করা শেখানো হয় না । ফলে, এদেশে শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় । এই ভুল শিক্ষাদানের কারণে আমাদের বড়দেরও অনেকের জানা হয়না, আমাদের জীবনের আসল উদ্দেশ্য কি ? এসব ভুলের কারণে সামাজিক যে ক্ষতি হয়, তা অপূরণীয়।

আমাদের সকল ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য । এখানে ইসলাম ধর্মের উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। একজন মুসলমানকে যদি প্রশ্ন করা হয়, মুসলমান হিসেবে তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য কি ? উত্তরে তিনি বলবেন, আল্লাহর ইবাদত করা। প্রশ্ন, আল্লাহর ইবাদত করা একজন মুসলমানের লক্ষ্য, না উপলক্ষ্য ? উত্তরে তিনি বলবেন, এটি উপলক্ষ্য নয়, ধর্মবিশ্বাসী মানুষের জীবনের লক্ষ্য আল্লাহর ইবাদত করা । কারণ, হিসেবে তিনি বলবেন, কোরআনে সূরা জারিয়াতের ৫৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘জিন ও মানুষকে কেবলমাত্র আল্লাহর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে’ ।

কোরআনে ১১৪ টি সূরার মধ্যে একটি সূরার নাম সূরা জীন । এ ছাড়া কোরআনে হাতেগোণা কয়েকবার জীনের কথা বলা হয়েছে । মানুষ তো জীন নয় । এত অল্প কথার মধ্যে কোরআনে যদি জিনের কাজের কথা বলা হয়ে থাকে, তাহলে কোরআনে মানুষ হিসেবে মানুষের কি কাজ করতে বলা হয়েছে ? এ প্রশ্নের জবাবে অনেক নিরব থাকলেও, সত্য কথা এই যে, কোরআনে সূরা মূলক এর ২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে সৎকাজে কে এগিয়ে আছে, তা পরীক্ষা করার জন্যই জীবন ও মৃত্যুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে’ । তার মানে সৎকাজ করার জন্য মানুষ সৃষ্টি করা হয়েছে । তাহলে একজন মানুষের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সৎকাজ করা । কিন্তু, সৎকাজ করতে হলে, মানুষকে প্রথমে মানুষ হতে হয় । আগে নিজের মনের কালিমা দূর করতে হয় । এ জন্য একজন মুসলমানকে নামাজ পড়তে হবে বা আল্লাহর ইবাদত করতে হবে । এসবের অর্থ একজন মানুষের জীবনের লক্ষ্য সৎকাজ করা এবং উপলক্ষ্য আল্লাহর ইবাদত করা । আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার ধর্মের নাম ইসলাম এবং কেবলমাত্র সৎকাজের মাধ্যমেই সমাজে শান্তি স্থাপন সম্ভব । ফলে, পীস স্কুলে মানুষ হওয়ার শিক্ষা দেওয়ার বিষয়টি কোরআন তথা ধর্মীয় শিক্ষা থেকে পাওয়া বলে আমার মনে হয়েছে ।

তবে পীস স্কুলে ইসলাম ধর্মের কথা বেশি বলা হলেও স্কুলটি মূলত সকল ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত । এটা সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী একটি স্কুল । শিশুকিশোরদের কল্পনার সাথে স্কুলটি সাজানো যেন ! এখানে সকল শিক্ষক ও অভিভাবক শিক্ষার্থীদের সাথে আপনাআপনি করে সম্মান দিয়ে কথা বলেন । স্কুলের সবকিছু শিক্ষার্থীরা নিজেরা করেন । যে প্ল্যাকার্ড তাঁরা ব্যবহার করছেন, সেগুলো তাঁদের নিজেদের হাতে তৈরি । সবাই সত্য কথা বলে । শিক্ষার্থীদের সুকুমারবৃতি জাগানোর জন্য যা যা করা দরকার, এ স্কুলে তার সবই অনুশীলন করানো হয় । শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে আলাদা কোন পড়াশুনা করার প্রয়োজন হয় না ।

পীস স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক জনাব নূরুজ্জামান ফিরোজ ও তাঁর নিজের হাতে গড়া সেচ্ছাসেবী দলের প্রতি আমাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও অশেষ কৃতজ্ঞতা বার্ষিক বর্ণাঢ্য এই শান্তি উৎসবে আমন্ত্রণ জানানো ও চমৎকার আপ্যায়নের জন্য ।

আমার সাথে ছিলেন অর্পণ- দর্পণ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের দু’জন প্রোগ্রাম এমব্যাসেডর মেহেরপুরের জনাব মোঃ সিরাজুল ইসলাম স্যার এবং জনাব মাশফিক - উজ- জামান নিউটন ।

স্কুলের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ আমন্ত্রিত সকল অতিথির প্রতি আমাদের শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইল।

রাশেদুল ইসলাম । ১৩ জুন, ২০২৬ । মোহাম্মদপুর, ঢাকা ।

চিরকুট দুইশত দশ ঢাকায় সন্তানদের  অবহেলায় ধুঁকে ধুঁকে এক বৃদ্ধ মায়ের করুণ মৃত্যু একটি মাইলফলক। পথ নির্দেশক ।  সরকার এবং  ...
07/06/2026

চিরকুট

দুইশত দশ

ঢাকায় সন্তানদের অবহেলায় ধুঁকে ধুঁকে এক বৃদ্ধ মায়ের করুণ মৃত্যু একটি মাইলফলক। পথ নির্দেশক । সরকার এবং সমাজ সচেতন মানুষের এ অবস্থায় দেশের প্রবীণদের জন্য পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের মাইলফলক হতে পারে এই মৃত্যু । বৃদ্ধ মায়ের চার সন্তানের প্রত্যকেই উচ্চশিক্ষিত এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত। এক ছেলে সরকারের যুগ্মসচিব, এক ছেলে ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, মেয়ে ঢাকার একটি নামকরা স্কুলের শিক্ষক এবং ছোট ছেলে কানাডা প্রবাসী । মৃতদেহের পচনধরা গন্ধই বৃদ্ধ মায়ের মৃত্যু সংবাদের বাহক ছিল – যা দেশের সকল সচেতন মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে ।

৭৫ বছর বয়সি হতভাগা এই বৃদ্ধ মায়ের নাম নূরজাহান বেগম। একটা ময়লা আবর্জনায় ভরা বদ্ধঘরে বৃদ্ধ মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার বিষয়ক সংবাদ বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরপরই এ মৃত্যুর জন্য তাঁর সন্তানদের দায়ী করা হয় এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের নিকট দাবি জানানো হয় । কিন্তু সন্তানদের পরিচয় প্রকাশিত হওয়ার পর সরকার থেকে ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হলে অনেকেই সন্তানদের পক্ষে লেখালেখি শুরু করেন। যারা সন্তানদের পক্ষে লেখেন, তাঁদের যুক্তি, বৃদ্ধ মায়ের এই করুণ মৃত্যুর জন্য তাঁর সন্তানেরা দায়ী নন । এই মৃত্যুর জন্য প্রকৃত দায়ী সিজোফ্রেনিয়া নামক একটি রোগ । তাঁরা বলেন, মা নুরজাহান বেগম একজন সিজোফ্রেনিয়া রোগী ছিলেন । সিজোফ্রেনিয়া রোগীর বৈশিষ্ট হোল, রোগী কাউকে কাছে আসতে দেন না । সবাই তাঁকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে মনে করে রোগী সবসময় আতংকিত ও বিচ্ছিন্ন থাকেন এবং ময়লা আবর্জনার মধ্যে থাকতে পছন্দ করেন । এই সিজোফ্রেনিয়া রোগের কারণেই ৭৫ বছর বয়সি মা নুরজাহান সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন । তবে, সন্তানদের পক্ষের এই যুক্তি দেশের সচেতন মহলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি । সিজোফ্রেনিয়া রোগের কারণে ঈদুল আযহার দিনেও তাঁর ছেলেমেয়ে মাকে দেখতে যাবেন না, তাঁরা তাঁদের মাকে আবর্জনামুক্ত করার চেষ্টা করবেন না - এই যুক্তি কারো কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি ।

মা নুরজাহান বেগমের এই করুণ মৃত্যু, কে কিভাবে নিবেন জানিনে, আমার কাছে কেন যেন ‘প্রকৃতির বিচার’ বা ‘ন্যাচারাল জাস্টিস’ বলে মনে হয়েছে। আমার চিন্তার বিষয়টি এখানে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।

মানুষ সামাজিক জীব এবং জন্মগতভাবে মানুষ পরনির্ভর একটি প্রাণী । অন্যের সাহায্য ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না । প্রাণীজগতে জন্মের পর একমাত্র মানুষের বাচ্চার অন্যের সাহায্যের দরকার হয় । অন্যান্য সকল প্রাণীর ক্ষেত্রে বাচ্চা মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নিয়ে বা ডিমের খোলস থেকে বেরিয়ে নিজের চেষ্টায় বেঁচে থাকতে পারে- যা মানুষের বাচ্চা পারে না। মানুষের বাচ্চাকে নিজের মা বাবা ছাড়াও আপন পর অনেক মানুষের কোলে ওঠার প্রয়োজন হয়, পরিচিত অপরিচিত অনেকের সাহায্য নিয়ে আগুন-পানিসহ বিভিন্ন ধরণের বিপদ আপদ থেকে রক্ষা পেতে হয় । এই বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় একটি সন্তানকে সমাজের বিভিন্ন মানুষ ও প্রকৃতির কাছে ঋণী হতে হয় । এটাকে জন্মঋণ বলা যেতে পারে। এই জন্মঋণ শোধ করা প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব । সন্তানকে এ ধরণের ঋণ শোধ করার দায়বদ্ধতা শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব প্রথমত মা বাবার, তারপর শিক্ষক এবং পর্যায়ক্রমে সমাজ তথা রাষ্ট্রের । আমাদের চলমান সমাজব্যবস্থায় আত্মকেন্দ্রিক চিন্তার মা-বাবা সমাজ ও প্রকৃতির কাছে তাঁদের নিজেদের ঋণের কথা নিজেরা যেমন স্বীকার করেন না, সন্তানকেও সে বিষয়ে শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেন না । দেশের ধর্মীয় বা সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এ ধরণের শিক্ষা দেওয়ার প্রচলন নেই। চলমান সমাজব্যবস্থায় বাবা মা কেবলমাত্র নিজেদের ছেলেমেয়ের ভবিষ্যৎ গড়ার কথা ভেবেই সন্তান মানুষ করে থাকেন; অন্যের ছেলেমেয়েদের উপেক্ষা করা, সমাজের অন্যদের প্রতিও যে তাঁদের দায়বদ্ধতা আছে- এমনটি কখনও ভাবেন না তাঁরা । তাঁদের এ ধরণের চিন্তাচেতনা সামাজিক মানুষের প্রকৃতি বিরুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হয় । ফলে এ ধরণের মা বাবার ঐকান্তিক আকাঙ্খা ও চেষ্টায় নিজেদের ছেলেমেয়ে উচ্চশিক্ষিত হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠা পান ঠিকই; কিন্তু তাঁদের নিজেদের সামাজিক উপযোগিতা শেষ হয়ে যায় । প্রকৃতি তাঁদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে । এ ধরণের বাবা মাকে একপর্যায়ে সমাজের কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, এমনকি নিজের ছেলেমেয়েদের কেউ ইচ্ছে করলেও কোন ধরণের সাহায্য করতে পারেন না । এই সাহায্য না করার একটি অজুহাত হতে পারে ‘সিজোফ্রেনিয়া’ । এটাই ‘ন্যাচারাল জাস্টিস’। সমাজে মা নুরজাহান বেগমের মত মা – বাবা আসলে এই ন্যাচারাল জাস্টিসের শিকার ।

প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন একেবারে তলানিতে ঠেকেছে । এ কারণে সমাজে দুর্নীতি ও বিভিন্ন প্রকার অপরাধ প্রবণতা অনেক বেড়েছে এবং তা ক্রমবর্ধমান । মা নূরজাহান বেগমের মৃত্যুও ব্যতিক্রম কিছু নয় । পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন- ২০১৩ এর প্রয়োগ জোরদারকরণ এবং কিছু প্রবীণবান্ধব কার্যক্রম হাতে নেওয়া হলে স্বল্পমেয়াদে এ ধরণের সমস্যার আংশিক সমাধান সম্ভব । তবে সত্যিকার সমাধানের জন্য সরকার থেকে এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে ।

সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভালো আচরণ শিক্ষা দেওয়ার কথা ভাবছেন । প্রকৃত সমাধান আসলে এ ধরণের চিন্তার মধ্যেই নিহিত। অর্পণ- দর্পণ স্মৃতি ফাউন্ডেশন দেশের মানুষের মধ্যে দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিরসনের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘শুদ্ধাচার অনুশীলনে চল্লিশের চর্চা’ পরিচালনা করে থাকে । ‘চল্লিশের চর্চা’ সামাজিক সমস্যা নিরসনের উপায় হিসেবে আমার নিজের অনেক বছরের চিন্তার ফসল। এ ধরণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হলে শিক্ষার্থীরা পিতামাতাভক্ত, সত্যবাদী, আত্মবিশ্বাসী, দেশপ্রেমিক এবং ধর্ম ও নৈতিকতাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে বেড়ে উঠবে । কর্মজীবনে তাঁদের মধ্যে দুর্নীতি ও অপরাধ প্রবণতা কাজ করবে না বলে আমাদের বিশ্বাস ।

বাংলাদেশে অনেকে নোংরা রাজনীতি করে থাকেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে থাকা কেউ একজন বলে ফেলতে পারেন ‘শুদ্ধাচার’ শব্দটি বিগত সরকারের । এ কারণে প্রস্তাবিত আইডিয়া নেওয়া যাবে না । প্রকৃতপক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুদ্ধাচার অনুশীলনের চিন্তা রাজনীতির বাইরে জাতীয় স্বার্থে উদ্ভাবিত। কোন বিষয়ের নামকরণের সাথে তার কার্যকারিতার সম্পর্ক নেই । ‘শুদ্ধাচার অনুশীলনে চল্লিশের চর্চা’ না বলে, এ ধরণের কর্মসূচিকে ‘জীবন গঠনে চল্লিশের চর্চা’ বা ভিন্ন কোন নামে অভিহিত করা হলেও ফলাফল হবে একই – বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সমাজকাঠামো সম্পূর্ণ বদলে যাবে; কিন্তু এ খাতে সরকারের অতিরিক্ত কোন অর্থ ব্যায়ের প্রয়োজন হবে না ।

আজকের লেখাটি মূলত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সদয় বিবেচনার জন্য ।

রাশেদুল ইসলাম । ৭ জুন, ২০২৬ । মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

05/06/2026

চিরকুট

দুইশত নয়

বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭২.৩ বছর । যদিও এদেশে নারীর তুলনায় পুরুষের আয়ু কম, ৭০.৮ বছর (বিবিএস); আমার নিজের জীবনের হিসাব মেলাতে আমি গড়আয়ু ৭২.৩ বছরই ধরতে চাই । আজ আমার জন্মদিন । এসএসসি পাসের সনদপত্র অনুযায়ী আমার বয়স ৬৪ বছর পূর্ণ হয়েছে । তার মানে দেশের মানুষের মোট গড়আয়ু বিবেচনায় আমার অবশিষ্ট বয়সকাল আর ৮ বছর ৩ মাস । এ দুনিয়ায় যদি কিছু করার ইচ্ছে থাকে, আর যদি স্বাস্থ্য ঠিক থাকে, তাহলে এই সময়ের মধ্যে সেগুলো আমাকে করতে হবে । আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনকিছু নিজের যুক্তি দিয়ে বিচার করে না, সে মানুষ নয় (সূরা আনফাল, আয়াত ২২)। এই সময়ের আগে বা পরে আমার মৃত্যু হতে পারে; কিন্তু যৌক্তিক বিচারে কাজের জন্য আমি ৮ বছর ৩ মাস সময় পেতে পারি- যদি আল্লাহ কবুল করেন ।

প্রশ্ন হতে পারে, জীবনে মহৎ কিছু করার জন্য দীর্ঘ আয়ুর প্রয়োজন আছে কি ? পৃথিবীর ইতিহাস অবশ্য তা বলে না । কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ২০ বছর ৯ মাস, ইংরেজ কবি জন কিটস ২৫ বছর এবং স্বামী বিবেকানন্দ ৩৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন । কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য এবং কবি জন কিটস তাঁদের কালজয়ী কবিতার জন্য এবং স্বামী বিবেকানন্দ একজন ব্যতিক্রমধর্মী মানবপ্রেমিক ধর্মগুরু হিসেবে অমর হয়ে থাকবেন । আল্লাহর রসুল হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ৬৩ বছর বয়সে ওফাত গমন করেন । তার মানে আল্লাহর রসুলের তুলনায় অনেক বেশি বয়স পাওয়া স্বত্বেও, এখনও পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কিছু করা হয়নি আমার । ভবিষ্যতে কোন সম্ভাবনা আছে কি ? আনা মেরি রবার্টসন নামের একজন মহিলা ৭৮ বছর বয়স পর্যন্ত কৃষক ছিলেন । এরপর তিনি রঙ তুলিতে ছবি আঁকা শুরু করেন এবং ৮০ বছর বয়সে বিশ্বসেরা ফোক চিত্রশিল্পী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন (উইকিপিডিয়া)। এ ধরণের উদাহরণ বিবেচনায় নিলে আমার বয়সী মানুষের জন্য এখনও অনেক কাজ করার সুযোগ রয়ে গেছে ।

‘প্রত্যেক প্রাণই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে’- এটা কোরআনের কথা (সুরা আনকাবুত, আয়াত ৫৭)। তার মানে মৃত্যু সকলের জন্য অনিবার্য সত্য । এ কারণে মৃত্যু নিয়ে আমার নিজের কোন মাথাব্যাথা নেই । কিন্তু জন্মগতভাবে আমরা একটা মায়ার জগতে বাস করি । এখান থেকে কেউ কাউকে ছেড়ে যেতে চাইনে । ষাটোর্ধ বয়সে সমবয়সী কারো মৃত্যুর সংবাদ পেলে, নিজেদের সময়ও ঘনিয়ে আসছে মনে হয় । স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কে আগে বিদায় নিবেন- এ ধরণের আলোচনা চলে আসে। আমার স্ত্রী অধ্যাপক শারমিনা পারভিন চান, আমি বেঁচে থাকতেই যেন তাঁর মৃত্যু হয়। আমরা মুসলমান মৃত্যুর প্রসঙ্গ আসলে দাফন কোথায় হবে –এ প্রশ্নও চলে আসে । আমার স্ত্রী সাপকে বেশি ভয় পান । আগে তিনি বলতেন, তাঁর বাবার বাড়ির প্রাচীরের মধ্যে একটা আমগাছ আছে; সেই গাছতলায় যেন তাঁর দাফন হয় । কিন্তু আমার সাথে বিভিন্ন আলোচনায় এখন আর তিনি সেকথা বলেন না । আমার যুক্তি খুব সাধারণ । মুসলমান হিসেবে গোর আজাব, শেষ বিচার- এসব বিশ্বাস করলে সবুর খানের মত জাতীয় সংসদের মাঠের একপ্রান্তে কবর বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে তিননেতার মাজার – আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয় না । ঢাকাতে সর্বোত্তম কবরস্থান হতে পারে আজিমপুর গোরস্থান । ইসলাম ধর্মে কবরস্থানে কারো কবর আলাদাভাবে সংরক্ষণ করাকে নিরুৎসাহিত করা হয় । আমার মনে হয়, এটাই যৌক্তিক । একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে একটি কবরের ওপর আর একটি কবর দেওয়া হলে, কবরের এক একটা সারি বহুতল ভবনের সাথে তুলনীয় হতে পারে । একটি বহুতল ভবনে যদি দেশের পুলিশ প্রধান বা প্রতিরক্ষা প্রধান বাস করেন, তাহলে সেই বহুতল ভবনের সকল বাসিন্দা নিরাপদ । একটি বহুতল কবরে কোন পীর –আওলিয়া- দরবেশের কবর থাকলে, সেই বহুতল কবরের সকল কবরবাসি একইভাবে সুবিধা পেতে পারেন বলে আমার নিজের মনে হয় । অবশ্য এসব আমার আলোচনার বিষয় নয় । আলোচনার বিষয় নিজের জন্মদিনে অবশিষ্ট জীবনের হিসেব মিলিয়ে সেই অনুযায়ী কাজ করা ।

মানুষের জীবন সত্যই অনিশ্চিত । কার কখন বিদায় ঘণ্টা বাঁচবে আমাদের জানা নেই। কিন্তু, ‘যদি তুমি নিশ্চিত হও যে, আগামীকাল কিয়ামত হবে, তখনও যদি তোমার কাছে একটা চারাগাছ থাকে, তুমি সেটি লাগিয়ে দেও’ – এটা একটা হাদিসের কথা । এই গাছ লাগানো কিন্তু নিজের জন্য নয় । অন্যের জন্য । আমার বয়সী যারা আছেন, তাঁরা সকলেই বর্ধিত একটা জীবন পার করছেন । কারণ, ১৯৭১ সালে এদেশের মানুষের গড়আয়ু ছিল ৪৭ বছর। তখন মেয়েদের ‘কুড়িতে বুড়ি’ বলা হত । তার মানে আমার বয়সী পুরুষ মহিলা যারা কর্মক্ষম আছেন, তাঁরা সকলেই ৪৭ বছরের পরে অতিরিক্ত ২৫ বছর বেশি বাঁচার সুযোগ পাচ্ছেন । এখন যদি আমরা নিজেদের কথা ভাবার পাশাপাশি অন্যদের কল্যাণের ওপর বেশি গুরুত্ব দিই, সমাজে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলার চেষ্টা করি, তাহলে আমাদের এই বেঁচে থাকাটা সার্থক হতে পারে ।

আমার ব্যাচমেট ও সহকর্মী, বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাহিত্যিক আফরোজা পারভীন এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়ছেন । আমার স্ত্রী অধ্যাপক শারমিনা পারভীন নিজের অসুস্থতা ভুলে তাঁর বোনকে সুস্থ করার আপ্রান চেষ্টা করছেন । তাঁদের দুজনের জন্যেই সকলের দোয়া চাই । মহান আল্লাহ কবুল করুন ।

যারা জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে আমাকে সম্মানিত করেছেন তাঁদের সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও অশেষ কৃতজ্ঞতা ।

রাশেদুল ইসলাম । ৫ জুন, ২০২৬ । মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

01/06/2026

চিরকুট

দুইশত আট

ফেসবুকের কাঠগড়ায় ধর্ম । হঠাৎ কেন জানিনে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে ধর্মের বিরুদ্ধে লেখা শুরু করেছেন। ধর্মের কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, ধর্ম মানুষের কল্পিত বিষয়, পৃথিবীতে এ পর্যন্ত যত হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে, তার বেশিরভাগ ধর্মের কারণে ঘটেছে- এ ধরণের লেখা অনেকেই লিখে থাকেন । কিন্তু এখন হঠাৎ কেন যেন এ ধরণের লেখার সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে । এসব লেখায় ধর্মের যাবতীয় নেতিবাচক দিক তুলে ধরা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন, এ ধরণের লেখার উদ্দেশ্য কি? আমার নিজের মনে হয়, এসব লেখার দুটি উদ্দেশ্য থাকতে পারে-

এক- সাধারণ জ্ঞানচর্চা । যেকোন বিষয়ের নেতিবাচক দিক সকল সচেতন মানুষের জানা উচিৎ । একজন এ বিষয়ে যা জানেন, অন্যকে তা জানানো তাঁর নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে । এই চিন্তা থেকে অনেকে লিখতে পারেন।

দুই- মানুষকে ধর্মচর্চায় নিরুৎসাহিত করা । ধর্ম যেহেতু ভিত্তিহীন একটি বিষয়, মানুষ যেন অহেতুক ধর্মচর্চা থেকে বিরত থাকেন- এটাই লেখার একটা উদ্দেশ্য হতে পারে। কিন্তু, এ ধরণের লেখার ক্ষেত্রে মানুষ ধর্মচর্চা না করলে, ধর্মের বিকল্প কি করবে, সে বিষয়টি উল্লেখ থাকলে ভালো হয় । ধর্মচর্চা বাদ দিয়ে মানুষ কোন বিকল্প পথ বেছে নেবেন, বা অন্য বিকল্প কিছু আছে কি না, তা উল্লেখ করা হলে, এ প্রস্তাবের সুবিধা-অসুবিধা পাঠক ভেবে দেখার সুযোগ পেতে পারেন ।

আমার নিজের মনে হয়, ধর্মকে একটি ধারালো অস্ত্রের সাথে তুলনা করা যায় । একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে যেমন খুব সহজে মানুষ খুন করা যায়; আবার সেই একই ধারালো অস্ত্র দিয়ে মৃতপ্রায় মানুষের দেহে অস্ত্রপচার করে তাঁকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো যায় । তার মানে একটি ধারালো অস্ত্রের ক্ষতিকারক এবং মঙ্গলকারক – দুটো দিকই রয়েছে । একইভাবে ধর্মেরও ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক রয়েছে । কিন্তু, ধর্মের বিপক্ষে লেখাগুলোতে শুধু ধর্মের নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরা হচ্ছে; ইতিবাচক দিক আলোচনা করা হয় না ।

বাস্তবে ভূতের অস্তিত্ব আছে কি না – এ বিষয়ে একটা আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে, আলোচনায় প্রায় সকলেই ভূতের অস্তিত্ব নেই বলে মতামত দিবেন বলাটা মিথ্যা হবে না বোধহয় । ভূতের অস্তিত্ব নেই বলে যিনি সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য যুক্তি উপস্থাপন করবেন, তাঁকেই যদি রাতে একা শ্মশানে যেতে বলা হয়; প্রায় শতভাগ সম্ভাবনা, তিনি তাতে রাজী হবেন না । কারণ আর কিছু নয়; ভূতের ভয় । এখানে প্রশ্ন, ভূত যদি না-ই থাকবে, তাহলে ভূতের ভয় কেনও ? আমাদের সমাজে এ প্রশ্নের কোন জবাব নেই ।

সমাজবিজ্ঞানী কার্ল মার্ক্স ধর্মকে আফিমের সাথে তুলনা করে বলেছেন, ধর্ম শ্রেণি- সংগ্রামের পথে একটি বড় অন্তরায়। এ বিষয়ক আলোচনাসভার একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা একজন কম্যুনিস্ট নেতার মুখ থেকে শোনা । তাঁর বর্ণনায়, সারাদিন ধর্মের বিপক্ষে জ্বালাময়ী বক্তব্য হয়েছে, অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলেই তা মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনেছেন এবং ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন । বেলাশেষে প্রধান অতিথির বক্তব্য শুরু হওয়ার একটু পরেই মাগরিবের আযান শোনা যায় । অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রায় সকলেই সেই বক্তব্য না শুনে পাশের মসজিদে গিয়ে নামাজে দাঁড়িয়ে যান। এটাই আমাদের সামাজিক বাস্তবতা । আমার নিজের মনে হয়েছে, কম্যুনিস্ট নেতারা ধর্মকে ধর্মের জায়গায় রেখে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে, এতঅল্প সময়ের ব্যবধানে সমাজতন্ত্র মতবাদ পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ার অবস্থায় যেতো না । অবশ্য এখানে এসব আমার আলোচনার বিষয় নয় ।

আমি জানি, যারা ধর্মের বিরুদ্ধে লেখেন, তাঁরা অনেক উচ্চশিক্ষিত, অনেক জ্ঞানী । তাঁদের অনেকের জ্ঞান রাজা রামমোহন রায় বা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জ্ঞানের সাথে তুলনীয় হতে পারে । এই দু’জন মহাপুরুষের নাম উল্লেখ করলাম এই কারণে যে, তাঁরা ধর্মের বিরুদ্ধে না লিখে, ধর্মের নামে প্রচলিত অধর্মের বিরুদ্ধে লিখেছেন এবং সেগুলো প্রতিকারের ব্যবস্থা নিয়েছেন । তাঁদের কারণেই ধর্মের নামে সনাতন হিন্দু ধর্মে জন্ম নেওয়া সতীদাহ প্রথা বাতিল করা সম্ভব হয়। সতীদাহ প্রথা বলবত থাকলে এতদিনে কয়েক লক্ষ নিরীহ মেয়েকে ধর্মের নামে আগুনে পুড়িয়ে মারা হতো; সনাতন হিন্দু ধর্মের লক্ষ লক্ষ অকাল বিধবা মেয়েকে বিধবা হিসেবেই জীবন কাটাতে হতো ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে লেখার মর্ম অনুযায়ী ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করে যুদ্ধ বাধিয়ে পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মানুষ খুন করা হয়েছে যেমন সত্য, ইসলাম ধর্মে বর্ণিত শান্তির বাণীতে উদ্বুদ্ধ হয়ে শত শত মানুষ সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন, পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ মানুষের মনে তাঁরা প্রশান্তি এনে দিয়েছেন - একথাও সত্য ।

অন্যান্য ধর্মের মত ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী মুসলমানদের মধ্যেও অনেক অপব্যাখ্যা প্রচলিত আছে এবং সেগুলো নিঃসন্দেহে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায় । এ ধরণের অপব্যাখ্যা ও অপপ্রয়োগ সুচিন্তিতভাবে চিহ্নিত করে ধর্মের প্রকৃত বিধানের আলোকে সমাধান দরকার- একথা সত্য। কারো মাথাব্যাথা হলে সেই মাথা কেটে ফেলা কোন কাম্য সমাধান নয় । সুচিকিৎসার মাধ্যমে মাথাব্যাথা নিরাময় করে সেই মাথাকে সচল রাখাই প্রকৃত চিকিৎসা। সমাজের উচ্চশিক্ষিত জ্ঞানী মানুষেরা যদি ইসলাম ধর্মের সেই সব অপব্যাখ্যা ও অপপ্রয়োগ চিহ্নিত করে ধর্মের প্রকৃত বিধানের আলোকে তা থেকে বেরিয়ে আসার দিকনির্দেশনা বিষয়ক পরামর্শ দেন- দেশের সরকার ও সচেতন আলেম সমাজ দীর্ঘমেয়াদে হলেও সেগুলো একপর্যায়ে বিবেচনায় নিবেন বলে আমার বিশ্বাস। দেশের সাধারণ মানুষের মাথা থেকে ধর্মচিন্তা বাদ দেওয়ার চেষ্টা থেকে এ ধরণের কাজ অনেক সহজতর হতে পারে ।

রাশেদুল ইসলাম । ১ জুন, ২০২৬ । মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

Address

Dhaka
1205

Opening Hours

Tuesday 10:00 - 18:00
Wednesday 10:00 - 18:00
Thursday 10:00 - 18:00
Saturday 10:00 - 18:00
Sunday 10:00 - 18:00

Telephone

+8801552404422

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Arpon-Dorpon Memorial Foundation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Arpon-Dorpon Memorial Foundation:

Share