Arpon-Dorpon Memorial Foundation

Arpon-Dorpon Memorial Foundation Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Arpon-Dorpon Memorial Foundation, Nonprofit Organization, Dhaka.

19/08/2026

চিরকুট

দুইশত চল্লিশ
একজন ‘শায়েখ’ এঁর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে । ‘তিনি বলেছেন, ‘যে নামাজ পড়েনা, তাকে হত্যা করতে হবে। তারপর তাকে গোসল ছাড়াই, কাফন ছাড়াই দূরে মাঠে কোথাও পুঁতে ফেলতে হবে, যাতে কোন চিহ্ন না থাকে’ । যিনি বলেছেন, সেই শায়েখের নাম এ লেখায় উল্লেখ করতে চাইনে । ফেসবুকের সম্মানিত প্রায় সকল পাঠকই তাঁর বক্তব্যের ওপর বিরুপ মন্তব্য করেছেন । যারা শায়েখ মহোদয়ের পক্ষে বলেছেন, তাঁদের দু’জনের মতামত নিম্নরূপ-
এক- ‘(তিনি) খাঁটি মুসলমান, নবী যা কোরআন ও হাদিসে বলে গেছেন, তাই তিনি ডেলিভারি করেন’।
দুই-“ইসলাম কায়েম করতে হলে, এগুলো করতেই হয়। অতীতেও হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে”।
এ দু’টি মন্তব্যই শায়েক মহোদয়ের প্রতি অন্ধবিশ্বাস থেকে করা হয়েছে- তা সুস্পষ্ট ।
‘শায়েখ’ আরবী শব্দ । ‘শায়েখ’ অর্থ প্রবীণ বা সম্মানিত ব্যক্তি। আলেম সমাজে সাধারণত ইসলাম ধর্ম বিষয়ে প্রবীণ জ্ঞানী ব্যক্তিকে ‘শায়েখ’ সম্বোধন করা হয় । তার মানে ভাইরাল বক্তব্য দেওয়া শায়েখ মহোদয় ইসলাম ধর্ম বিষয়ে একজন জ্ঞানী ব্যক্তি এবং তাঁর বড় একটি অনুসারী দলও রয়েছে।
এখানে প্রশ্ন, ইসলাম ধর্ম বিষয়ে জ্ঞানের ভিত্তি কি ? এককথায় উত্তর দিলে বলতে হয়, ইসলাম ধর্ম মতে জ্ঞানের মূল উৎস কোরআন । যদি প্রশ্ন করা হয়, শায়েখ মহোদয় নামাজ না পড়া বিষয়ে যা বলেছেন, তা কি কোরআনে আছে ? বা তিনি কি এ বিষয়ে কোরআন সম্মত বক্তব্য দিয়েছেন ? এ প্রশ্নের এককথায় উত্তর, ‘না’, একথা কোরআনে নেই এবং শায়েখ মহোদয় নামাজ না পড়া বিষয়ে কোরআন সম্মত কথা বলেননি ।
ইসলাম ধর্ম বিষয়ে জ্ঞানের দ্বিতীয় ভিত্তি ‘সুন্নাহ, যা মূলত হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এঁর জীবন আদর্শ। এখানে প্রশ্ন হতে পারে, হযরত মুহাম্মদ (সঃ) নিজের জীবনের কোনও ক্ষেত্রে,বা কোনও পরিস্থিতিতে কি শায়েখ মহোদয় যা বলেছেন, এমন কোনও কথা, কখনও কি তিনি কোথাও বলেছেন ? এ প্রশ্নেরও এককথায় উত্তর ‘না’। নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) তাঁর জীবনে কখনও, কোথাও বলেননি যে, ‘যে নামাজ পড়ে না, তাকে হত্যা করতে হবে’ ।
কোরআনে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘ধর্মের ব্যাপারে কোন জোরজবরদস্তি নেই ‘ (সূরা বাকারা, আয়াত, ২৫৬)। ‘যে নামাজ পড়েনা, তাকে হত্যা করতে হবে’ – কথাটি নিঃসন্দেহে জবরদস্তিমূলক- যা পবিত্র কোরআনে বর্ণিত বিধানের সরাসরি পরিপন্থী ।
যে কথা কোরআনে নেই বা হাদিসে নেই- অথচ, শায়েখ সাহেব কিসের ভিত্তিতে বললেন, ‘যে নামাজ পড়েনা, তাকে হত্যা করতে হবে’ ? এ বিষয়ে কোরআনের একটি আয়াত উল্লেখ করা যেতে পারে । কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আর এক শ্রেণির মানুষ (ঐশী বাণীর পরিবর্তে) অসার কথাবার্তাকেই প্রাধ্যান্য দেয় । ওরা অর্থহীন বাক্যমালা ব্যবহার করে নির্বোধ লোকদের আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে এবং আল্লাহর বিধান নিয়ে হাসিতামাশা করে। ওদের জন্য রয়েছে অপমানজনক কঠিন শাস্তি” (সূরা লোকমান, আয়াত ৬-৭)।
প্রকৃত পক্ষে যারা শায়েক মহোদয়কে অনুসরণ করছেন, তাঁরা তাঁর প্রতি অন্ধবিশ্বাস থেকেই করছেন –যা এক ধরণের ধর্ম থেকে বিচ্যুতি । কোরআনে এ ধরণের অন্ধবিশ্বাস থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে । বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্টতম জীব হচ্ছে সেই মূক ও বধিররা, যারা তাদেরকে প্রদত্ত বিচারবুদ্ধি ব্যবহার করে না’ (সূরা আনফাল, আয়াত ২২)।
একজন শায়েখ পবিত্র কোরআন পরিপন্থী একটি কথা বললেন; কিন্তু দেশের সচেতন আলেম সমাজের কেউ এ বিষয়ে কোন প্রতিবাদ করেন নি । এতে শুধু ভিন্নধর্মের মানুষ নয়, সাধারণ মুসলমানদের মধ্যেও ভুল বার্তা যায় । বর্তমান বিশ্বে ইসলাম ধর্ম বিতর্কিত হওয়ার মূলে আলেম সমাজের এ ধরণের নিরলুপ্ততা অনেকটা দায়ী । ভাইরাল শায়েখ মহোদয়কে বলবো, ধর্মের শাখা প্রশাখার ওপর নির্ভর না করে, দয়া করে মুসলমানদের মূল ধর্মগ্রন্থ কোরআন পড়ে সে অনুযায়ী কথা বলুন । বিজ্ঞ আলেম সমাজের প্রতি বিনীত অনুরোধ, ইসলাম ধর্মের মৌলিক বিষয়গুলো কোরআন এবং কোরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা করুন । এদেশের ধর্মভীরু মানুষেরা অন্ধভাবে আলেমদের বিশ্বাস করেন, আলেমগণ যেভাবে ধর্মের ব্যাখ্যা দেন, তাঁরা সেটাই মেনে নেন । সাধারণ মুসলমানদের এ ধরণের সরল বিশ্বাসের মর্যাদা আলেমগণ দিবেন- এই প্রত্যাশা আমাদের ।
আমার মত সাধারণ একজন মুসলমান, সাধারণ ধর্মজ্ঞান নিয়ে ইসলামের শায়েখ পর্যায়ের একজন আলেমের বক্তব্য নিয়ে কলম ধরুন - এটা আমার নিজেরও কাম্য নয় ।
রাশেদুল ইসলাম , ১৯ আগস্ট, ২০২৬ । মোহাম্মদপুর, ঢাকা ।

চিরকুট দুইশত ঊনচল্লিশ বাংলার দামাল ছেলেরা ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে । অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইনের  মাটিতে অনুষ...
17/08/2026

চিরকুট

দুইশত ঊনচল্লিশ
বাংলার দামাল ছেলেরা ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে । অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইনের মাটিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বিশ্বে নতুন এক ইতিহাস রচনা করল ।
কয়েক বছর আগে একজন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞ আমাকে বুঝিয়েছিলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া, খাবার দাবার ও প্রকৃতি ক্রিকেটের টেস্ট ম্যাচ খেলোয়াড় তৈরির উপযোগী নয় । খেলায় ৫ দিন টিকে থাকার মত স্টেমিনা বা সহনশীলতা এদেশের খেলোয়াড়দের কখনও হবে না । ফলে, টেস্ট ক্রিকেট খেলায় বাংলাদেশ কখনও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে না । অস্ট্রেলিয়ার প্লেয়ার ও কোচ ডেভিড হুক্স ২০০৩ সালে একই কথা বলেন । তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট খেলা ডিজার্ভ করে না । কিন্তু, বাংলাদেশের টাইগার বাহিনি এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে সকল প্রকার নেতিবাচক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটালো । প্রাণঢালা অভিনন্দন বাংলাদেশ টাইগার বাহিনিকে !

ফিল্ড মার্শাল আয়ুব খানের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘Friends Not Masters’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে । গ্রন্থটিতে বাঙালিদের সম্মন্ধে যা উল্লেখ করা হয়েছে, তার সারকথা এইযে, বাঙালিরা আবহমান কাল থেকে বিদেশিদের দ্বারা শাসিত ও শোষিত হয়েছে । তারা যুগে যুগে হিন্দু, মুঘল, পাঠান, ইংরেজ – বিভিন্ন জাতি দ্বারা শোষিত হয়েছে । তাঁরা অন্তর্মুখী, রক্ষনশীল ও অনিশ্চিত চরিত্রের (Unpredictable)মানুষ । ফলে স্বাধীনতার অর্থ তারা বোঝে না । কেবলমাত্র কেন্দ্রের কঠোর শাসনের মাধ্যমে তাদের পাকিস্তানের জাতীয় সংহতির আওতায় আনা সম্ভব । কিন্তু,
ফিল্ড মার্শাল আয়ুব খানের চিহ্নিত বাঙালি চরিত্রের বৈশিষ্টকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে বাঙালিরা বর্তমানের স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ে তোলেন ।
বাংলাদেশকে প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ভুটান । তারিখ ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর। একই দিনে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউজের উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হেনরি কিসিঞ্জার বলেন, দেশটি একটি ‘তলাবিহিন ঝুড়ি’ (Bottomless basket) হবে । কিন্তু সকলের নেতিবাচক ধারণাকে পাস কাটিয়ে বাংলাদেশ উন্নতির ক্ষেত্রে যে আন্তর্জাতিক মানের উন্নয়নের মহাসড়কে আছে এ নিয়ে বোধহয় কারো কোন বিতর্ক নেই । বিতর্ক আছে বিভিন্ন দলের মতের ভিন্নতা নিয়ে – যা দেশের বৃহত্তর স্বার্থে একসময় ঐকমত্যে আসবে বলে দেশের সাধারণ মানুষ আশা করে ।
মুক্তারপুর গ্রামে অর্পণ – দর্পণ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের একটা পাঠাগার আছে । আমাদের সীমিত সামর্থ্যে স্থানীয় তরুণ ছেলেমেয়েদের নেতৃত্বে পাঠাগারটি পরিচালিত হয় । এই পাঠাগারকে কেন্দ্র করে এলাকার তরুণ ছেলেমেয়েরা শিক্ষা বিষয়ক কার্যক্রম ছাড়াও বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজ করে থাকে । আজ যশোরের জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খান মাসুম বিল্লাহ, উপপরিচালক, বিআরডিবি বিএম কাম্রুজ্জামান এবং চৌগাছা উপজেলা থেকে ওসি জনাব মামুনুর রশিদ এবং বিআরডিবি অফিসার এসএম শাখির উদ্দিন পাঠাগারটি পরিদর্শনে যান ।
অর্পণ – দর্পণ স্মৃতি পাঠাগার বিষয়ে আমার নিজের মধ্যে কিছুটা জড়তা কাজ করে । কারণ, যারা পাঠাগারটি দেখতে যান, তাঁরা মনে করতে পারেন, বাংলাদেশ সরকারের সচিব পর্যায়ের একজন মানুষ যেহেতু এই প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত, না জানি কতবড় প্রতিষ্ঠান এটি ! কিন্তু বাস্তবে ২ হাজার ৯ শ’ বর্গফুটের একতলা একটি ভবন মাত্র । ফলে, যারা পাঠাগারে গিয়ে আমার সাথে কথা বলেন, আমি আগেই আমাদের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করি । আমার একই কথার জবাবে আজ পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম যা বলেন, সেটা বলার জন্যই এই লেখা । পুলিশ সুপার পাঠাগারের কার্যক্রম জেনে বলেন, আমরা সবাই যদি যার যার জায়গা থেকে এরকম ছোট ছোট কাজ করতে পারি, তাহলেই তো দেশটি বদলে যেতে পারে ! সত্যই একটি চরম সত্য কথা বলেছেন তিনি ।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কয়েকজন তরুণ যেভাবে তাঁদের খেলা দিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্ববাসীর সামনে গৌরবান্বিত করেছেন, দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে, সবাই যদি দেশকে নিজ নিজ কাজে কর্তব্যনিষ্ঠ ও আন্তরিক হন, তাহলে বিশ্ব মানচিত্রে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ সহজেই একটি গৌরবের আসন পেতে পারে।
জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা একত্রে গ্রামের একটি পাঠাগার পরিদর্শনে যাওয়া দেশের উন্নয়নমূলক কাজের একটি ইতিবাচক দিক ।
আমাদের দোয়া ও শুভকামনা এ ধরণের সকল কাজের প্রতি ।

রাশেদুল ইসলাম , ১৭ আগস্ট, ২০২৬ । মোহাম্মদপুর, ঢাকা ।

12/08/2026

চিরকুট

দুইশত সাইত্রিশ

গ্রামের নাম আশুতিয়া পাড়া । সাধারণত পাড়া গ্রামের একটি অংশ হয়ে থাকে । যেমন, পূর্বপাড়া, পশ্চিম পাড়া ইত্যাদি । কিন্তু এ গ্রামের নাম শুনে মনে হচ্ছে গ্রামটি একটিমাত্র পাড়া নিয়ে গঠিত । কিন্ত প্রশ্ন, একটি গ্রাম আলোচনায় কখন আসে ? সাধারণত দেশের কোন ব্যক্তি যখন কোন বিষয়ে খ্যাতি অর্জন করেন, তখনই কেবল তাঁর জন্মস্থান কোথায়, খ্যাতির উৎস কি - এসব বিষয়ে মানুষ জানতে চান । আমি নিজেও চিরকুটে আশুতিয়া পাড়া নিয়ে লেখা শুরু করেছি, তার মানে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের বিখ্যাত কোন ব্যক্তির জন্ম এই গ্রামে । এখন প্রশ্ন সেই ব্যক্তিটি কে এবং এই লেখা কেনো ?
অনেকেই জানেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের সংগঠক ও দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বর্তমানে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত এবং তিনি লন্ডনে চিকিৎসারত । চিকিৎসার মাঝে তিনি মাত্র নয় দিনের জন্য দেশে এসে নাড়ির টানে প্রিয় জন্মস্থান আশুতিয়া পাড়া গ্রামে গিয়েছিলেন । আশুতিয়া গ্রামটি কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত । ইলিয়াস কাঞ্চনের গ্রামে যাওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হলে, সেই গ্রামের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, আশুতিয়া পাড়া গ্রামের জন্য কি করেছেন তিনি ? তার মানে ইলিয়াস কাঞ্চন যেহেতু তাঁর গ্রামের জন্য কিছুই করেন নি, তাঁর অসুস্থ অবস্থায় গ্রামে যাওয়ার বিষয়টি মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয় । একজন নিজের গ্রামে ইলিয়াস কাঞ্চন প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর অবদানের কথা উল্লেখ করেছেন । তাঁর লেখা পড়ে বোঝা গেলো, লেখক বেশ কোণঠাসা অবস্থায় আছেন । আমার মনে হয়েছে, এই একটা ঘটনায় সমগ্র বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তব একটি চিত্র ফুটে উঠেছে ।

গ্রামে ইলিয়াস কাঞ্চন কিছু করেননি বলে যারা অভিযোগ তুলেছেন, তাঁরা নিজেরাও একই গ্রামের সন্তান । গ্রামের জন্য তাঁরা নিজেরা কি করেছেন, তা উল্লেখ করা হয়নি বা আমাদের সমাজে এ বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয় না । গ্রামের প্রতি দায়িত্ব কি শুধু ইলিয়াস কাঞ্চনের ? প্রশ্ন হতে পারে, ইলিয়াস কাঞ্চন বিখ্যাত হয়েছেন, তাঁরা বিখ্যাত হতে পারেন নি । তাহলে প্রশ্ন, গ্রামে ভালো কিছু করার জন্য কি বিখ্যাত হওয়া লাগে ? নাটোর জেলায় হুলহুলিয়া নামে একটি গ্রাম আছে । হুলহুলিয়া গ্রাম বাংলাদেশের অপরাধমুক্ত ব্যতিক্রম একটি গ্রাম হিসেবে পরিচিত । সেখানে থানায় কোন ফৌজদারি মামলা হয় না । নিজেদের মধ্যে ভুলবোঝাবুঝি হলে নিজেরাই মিটিয়ে ফেলেন । সামাজিক সম্প্রীতি, শিক্ষা, নিরাপত্তা –প্রতিটি ক্ষেত্রে হুলহুলিয়া গ্রাম একটি আদর্শ গ্রাম । কোন বিখ্যাত মানুষ এই সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলেন নি। সেখানকার সাধারণ মানুষেরা সেই সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন । ইলিয়াস কাঞ্চন আশুতিয়া পাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করে গ্রামটি বিখ্যাত করেছেন । ইলিয়াস কাঞ্চন আর কি করেছেন সে বিতর্কে না গিয়ে, সবাই মিলে আশুতিয়া পাড়া গ্রামটি বাংলাদেশের আর একটি হুলহুলিয়া গ্রামে পরিণত করুন – আমরা সেটা নিয়েই লিখি । শুধু আশুতিয়া পাড়া কেনো, বাংলাদেশের যে কোন প্রান্তে যদি হুলহুলিয়া গ্রামের অনুরূপ গ্রাম গড়ে ওঠে, আমাদের কলম তাঁদের দিকেই ছুটে যাবে । তাঁদের জন্য আমরাও গর্বিত হতে পারি ।
বাংলাদেশের মানুষ প্রায় সকলেই ধর্মভীরু । ধর্মভীরু মানুষ ইহকাল এবং পরকাল – এই দুই জীবনের কথা চিন্তা করেন । মৃত্যুর পর শেষ বিচারের দিনের বিচারক কারও কাছে অন্যে কি করেছে, তা জানতে চাইবেন না। সেদিনের মহান বিচারক প্রত্যেক মানুষকে তাঁর নিজের কাজের কথা জানতে চাইবেন । জানতে চাইবেন, ‘তুমি দুনিয়ায় কি করেছো’ ? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার অনুশীলন যদি আমরা দুনিয়াতেই শুরু করি, তাহলে পরকালে এই প্রশ্নের জবাব দেওয়া সহজ হতে পারে। তাই বাবামায়ের সন্তান হিসেবে আমার কাজ কি, স্বামী/ স্ত্রী হিসেবে কাজ কি, গ্রামের সন্তান হিসেবে কাজ কি, একজন প্রতিবেশি হিসেবে কাজ কি, পথচারি হিসেবে কাজ কি, দেশের নাগরিক হিসেবে কাজ কি – এভাবে নিজেকে প্রশ্ন করে, নিজের দায়িত্ব নিজে ঠিক করে, আমরা যদি নিজেদের কাজ আন্তরিক ও নিয়মমাফিক করতে পারি- তাহলে আমরা ইহজীবনে পরিবার ও সমাজের মধ্যে শান্তিতে বাস করতে পারি; একইসাথে এ ধরণের সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য পরকালেও আমাদের শান্তি পাওয়ার পথ নিশ্চিত হতে পারে ।

বর্তমানে আমরা প্রায় সকলেই অন্যে কি করে এসব নিয়েই মাথাব্যাথা করি । নিজের কাজ কি, নিজের দায়িত্ব কি- এসব নিয়ে আমাদের কোন চিন্তা কাজ করে না – যা প্রকৃতপক্ষে কোন সুস্থ মানুষের কাজ নয়। আমরা নিজেরা যদি অন্যে কি করে, তা না দেখে, নিজেদের দায়িত্ব ও কাজের প্রতি যত্নবান হই; তাহলে আমাদের সমাজটাও সুন্দর হয়ে উঠতে পারে ।

মহান আল্লাহ ইলিয়াস কাঞ্চনের মত ভালো মনের মানুষকে সুস্থতা দান করুন । তিনি যেন তাঁর ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের সফলতা দেখে যেতে পারেন ।

রাশেদুল ইসলাম । ১২ আগস্ট, ২০২৬ । মোহাম্মদপুর, ঢাকা ।

10/08/2026

চিরকুট

দুইশত ছত্রিশ
একজন বন্ধুর অনুরোধে আজকের এই লেখা ।
বন্ধুটি একজনের একটি লেখা পাঠিয়েছেন । ইসলাম ধর্ম বিষয়ে সেই লেখাটির ওপর চিরকুটে আমার মতামত প্রকাশের জন্য তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন ।
আলোচনার সুবিধার্থে সেই লেখার অংশবিশেষ নিচে উল্লেখ করা হোল-
‘আমাদের নবিজী স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, নির্মাণ করেন নাই, আল্লাহও কোরানে কোন মাদ্রাসা নির্মাণের নির্দেশ দেন নাই । ইসলাম ধর্মে শুধু কোরান শিক্ষা নিতে হবে। নবিজী একটি মাদ্রাসাও নির্মাণ করেন নাই। নবিজী যা করেন নাই, তাই বিদাত’। তিনি লিখেছেন, “মাদ্রসা হচ্ছে এক ভয়াবহ দোযখের নাম । এই দোযখের আগুনে প্রতিদিন নির্মম নির্যাতন এবং বলৎকারের শিকার হচ্ছে অসংখ্য নিষ্পাপ শিশু”। এ কারণে তিনি শিশুর পিতা-মাতাকে মাদ্রাসা নামক ‘হাবিয়া দোযখ’ থেকে নিজেদের সন্তানকে দূরে রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন । যারা মাদ্রাসায় ভর্তি আছে, তাদেরকে সেই ‘জেলখানা’ থেকে সরিয়ে প্রচলিত স্কুল বা হাইস্কুলে ভর্তি করাতে বলেছেন তিনি । তিনি লিখেছেন, ‘ আমি যা বলেছি কোরআনের উপর নির্ভর করে বলেছি। কোরআনে নেই মানে আল্লাহ নির্দেশ দেন নাই, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় , মাদ্রাসা নির্মাণ ও প্রতিষ্ঠা করার” । ...মহানবীর মৃত্যুর ২৮০ বছর পর প্রকাশিত হাদিস বিশ্বাসযোগ্য নয় উল্লেখ করে, তিনি বলেন, “হাদিস না পড়ে, কোরআনের বিশ্বাসযোগ্য তফসির পড়, নবিজীর জীবনি পড়”।
এ কথাগুলোর মধ্যেই লেখাটির সারকথা প্রতিফলিত হয়েছে । লেখক দাবী করেছেন, তিনি কোরআনের উপর নির্ভর করেই সব লিখেছেন । উল্লেখ্য যে, কোরআনের বিধানের আক্ষরিক অর্থে একটি ব্যাখ্যা হতে পারে । আবার ভাব অর্থে বা কোরআনের বিধানের আলোকেও একটি ব্যাখ্যা হতে পারে । কোরআন যেহেতু ষষ্ট শতাব্দীতে অবতীর্ণ হয়; তখনকার বাস্তবতা ও সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল । ফলে, কোন বিষয়ে কোরআনের ব্যাখ্যা সাধারণত কোরআনের ভাব অর্থে বা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কোরআনের বিধানের আলোকে প্রদান করা হয়ে থাকে । আক্ষরিক অর্থে কোরআনে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা নির্মাণের কথা উল্লেখ নেই- লেখকের এ কথা সত্য । কিন্তু এগুলো নির্মাণ করা যাবে না বলে তিনি যে মতামত দিয়েছেন, তা কোরআনের কোন আয়াতের আলোকে দিয়েছেন, তা বলা হয়নি ।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ মানুষকে, ‘হে সহজাতবিচারবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ’ ! সম্বোধন করেছেন (সূরা মায়েদা, আয়াত ১০০)। এই আয়াত দ্বারা আল্লাহ মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, ৮৬ বিলিয়ন নিউরন সমৃদ্ধ মস্তিস্ক দিয়ে মানুষের মাথা তৈরি করা হয়েছে । এই মস্তিস্ক খাঁটিয়ে অনুসন্ধানের মাধ্যমে (সূরা জুমআ, আয়াত ১০) আল্লাহ বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীল হয়ে একজন মানুষ নিজেকে সৃষ্টির সেরাজীব (সূরা বাইয়েনাহ, আয়াত ৭) প্রমাণ করবে- এটাই কাম্য । এর বিপরীত হলে মানুষ হবে সৃষ্টির অধম (সূরা বাইয়েনাহ, আয়াত ৬)। কোরআনে মানুষকে অনুসন্ধিতসু হওয়া এবং চিন্তাশীল হওয়ার উপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে । সুস্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্টতম জীব হচ্ছে সেই মূক ও বধিররা, যারা তাদেরকে প্রদত্ত বিচারবুদ্ধি ব্যবহার করে না (সূরা আনফাল, আয়াত ২২)।
কোরআনে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়নি। কিসের কথা বলা হয়েছে ? জ্ঞানের কথা বলা হয়েছে । কোথায় বলা হয়েছে ? কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ নিজে প্রথম মানুষ আদমকে জ্ঞানদান করেন । কিসের জ্ঞান দেন তিনি ? সৃষ্টিজগতের সবকিছুর নাম আল্লাহ নিজে শিক্ষা দেন আদমকে (সূরা বাকারা, আয়াত ৩১) । তারমানে কোরআনের মর্ম অনুযায়ী সৃষ্টিজগত সম্পর্কে জানার নাম ‘জ্ঞান’ । এই জ্ঞান অর্জনের উপায় কি ? চিন্তা/অনুসন্ধান/গবেষনা ও পড়াশুনা । এসবের উপযুক্ত ক্ষেত্র হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান । একারণেই কোরআনে বর্ণিত জ্ঞান অর্জনের জন্যই স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে - যা কোন ক্রমেই কোরআনের বিধানের সাথে অসংগতিপূর্ণ নয় ।
এখানে প্রশ্ন হতে পারে, কোনকিছুর নাম জানার সাথে জ্ঞানের কি সম্পর্ক ? অনেকেই জানেন, পবিত্র কোরআনের একটি সূরার নাম পিঁপড়া । আরবীতে বলা হয় সূরা আন নহল । এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণী পিঁপড়াকে যদি জানতে হয়, তাহলে পিঁপড়ার জন্মবৃত্তান্ত, প্রকারভেদ, জীববৈচিত্র রক্ষায় পিঁপড়ার ভুমিকা- এসব জানতে গিয়েই একজন জ্ঞানী হতে পারেন । সক্রেতিস বা লালন ফকিরের গবেষণার বিষয় কি ছিলো ? তাঁরা কেবল মানুষ নিয়ে গবেষণা করেই পৃথিবী বিখ্যাত হয়েছেন । আমেরিকার গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা কোটি কোটি ডলার গবেষণা কাজে ব্যয় করে । নাসার গবেষণার বিষয় মাত্র দু’টি নাম । একটি গ্রহ, অন্যটি নক্ষত্র ।
লেখক উল্লেখ করেছেন, ‘ইসলাম ধর্মে শুধু কোরান শিক্ষা নিতে হবে’ । এ কথাটি কোরআন সম্মত নয় । আগেই বলা হয়েছে, আদমকে আল্লাহ সর্ববিষয়ে জ্ঞান দান করেন । কোরআন মানুষকে ধর্ম জ্ঞান শিক্ষা দেবে ঠিক আছে; কিন্তু অন্যান্য বিষয়ে জ্ঞান মানুষ কিভাবে পাবে ? ভুলে গেলে চলবে না যে, কোরআনের মর্ম অনুযায়ী, আদম- হাওয়াকে যখন জান্নাত থেকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, তখন একমাত্র জ্ঞানই তাঁদের সহায় ছিল (সূরা আরাফ, ২৪-২৬) । ফলে, জ্ঞান অর্জন এবং তার যথাযথ প্রয়োগই পৃথিবীতে মানুষের টিকে থাকা ও সফলতার একমাত্র উপায়। যে জাতি বুঝে না বুঝে, এই কাজটি করেছেন, তাঁরাই পৃথিবীতে সফল হয়েছেন। মুসলিম আলেমগণ কোরআনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে চিন্তা ও গবেষণা থেকে মুসলমানদের বিরত রেখে অন্যান্য জাতির তুলনায় তাঁদেরকে কমপক্ষে দু’ শ বছর পিছনে ঠেলে দিয়েছেন ।
আর একটি বাস্তবতা হোল, কোরআন একটি গাইডলাইন মাত্র । ইসলাম ধর্মের বিধানের আলোকে নিজেকে তৈরি করে কিভাবে নিজের, নিজের পারিবার, তথা সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় এবং এসবের মাধ্যমে ধর্মবিশ্বাসী একজন মানুষ কিভাবে ইহকাল ও পরকালে শান্তি অর্জন করতে পারে – কোরআনে কেবলমাত্র সেই শিক্ষা দেওয়া হয়েছে । তাই, কোরআন থেকে শিক্ষা নিয়ে বাস্তবে কোন কাজ না করলে তার ফলাফল শূন্য ।
লেখক হাদিস বিশ্বাসযোগ্য নয় উল্লেখ করে অন্যকে হাদিস পড়তে নিষেধ করেছেন । একথা সত্য যে, আমাদের আলেমগণ কোন বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে কোরআন নয়- হাদিসের উপর অত্যাধিক নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন- যা অনেক ক্ষেত্রে কোরআনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় । মাদ্রাসা শিক্ষকদের যে অপকর্মের কথা বলা হয়েছে –তাও মিথ্যা নয় । এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ ফলপ্রসূ ব্যবস্থা নেওয়া অতিজরুরি । তবে, ‘মাথা ধরার অভিযোগে মাথা কেটে ফেলা নীতি’ নয়- দেশের সরকার, আলেম সমাজ ও সমাজের সচেতনমহল বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে অনতিবিলম্বে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে এগিয়ে আসবেন – এই প্রত্যাশা আমাদের সকলের ।

রাশেদুল ইসলাম । ১০ আগস্ট, ২০২৬ । মোহাম্মদপুর, ঢাকা ।

চিরকুট দুইশত পঁয়ত্রিশ ‘সাহায্য’ শব্দের কোন বিপরীত শব্দ নেই । তারমানে কেউ সাহায্য করলে তার বিপরীতে যে কিছু করতে হবে,  এমন...
07/08/2026

চিরকুট

দুইশত পঁয়ত্রিশ

‘সাহায্য’ শব্দের কোন বিপরীত শব্দ নেই । তারমানে কেউ সাহায্য করলে তার বিপরীতে যে কিছু করতে হবে, এমন কোনও কথা নেই । কিন্তু অনেকেই আছেন, যারা বিপদে কারও সাহায্য পেলে, সাহায্যকারি কখনও কোন বিপদে পড়লে, তিনিও তাঁর সাহায্যে এগিয়ে যান। একে বলে ‘মনুষ্যত্ববোধ’। আল্লাহর সৃষ্টির সেরাজীব মানুষের মধ্যে এই ‘মনুষ্যত্ববোধ’ থাকবে এটা ধরে নিয়েই হয়ত সাহায্যের বিপরীত কোনও শব্দ রাখা হয়নি ।
তবে কোনও ‘দান’ শর্তহীন নয় । এ কারণে ‘দান’ এর বিপরীত শব্দ ‘প্রতিদান’ । তারমানে দান প্রতিদান আশা করে । স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ নিজেও প্রতিদান প্রত্যাশী। তিনি তাঁর সকল সৃষ্টির জন্য প্রতিদান হিসেবে মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রত্যাশা করেন । একথা কোরআনসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে বিভিন্নভাবে বলা হয়েছে। একারণে ধর্মবিশ্বাসী মানুষ ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকেন । তবে আমার এ লেখার বিষয় দান নয়; সাহায্য, মানুষের সাহায্য- যার বিপরীতে কোন কিছু করার বাধ্যবাধকতা নেই ।
জন্মগতভাবে মানুষ একটি পরনির্ভরশীল প্রাণী । অন্যের সাহায্য ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না । যিনি নিজের চেষ্টায় সফল হয়ে সমাজে নিজেকে ‘সেলফ মেড’ দাবি করেন, তিনি মিথ্যাকথা বলেন । কারণ, একটি নবজাত শিশু জন্মের পর যে সুতীব্র চিৎকারে কেঁদে ওঠে, সেই কান্না তার জীবনের শেষ কান্না হতে পারে- যদি কেউ তাকে সাহায্য না করে । অন্য কোন প্রাণীর বাচ্চাকে জন্মের পর কেউ সাহায্য না করলেও বেঁচে যাবে; কিন্তু মানুষের বাচ্চা বাঁচবে না । প্রকৃত সত্য এই যে, মানুষকে অন্যের সাহায্যনির্ভর করে সৃষ্টি করা হয়েছে । সমাজে যারা ‘মনুষ্যত্ববোধসম্পন্ন’ তাঁরাই কেবল এ ধরণের সাহায্যকে নিজের সামাজিক দায়বদ্ধতা হিসেবে গ্রহণ করেন এবং অনেকটা জন্মঋণ শোধ করার মতই নিজের জন্মস্থান, নিজের এলাকা তথা নিজের দেশ ও দেশের মানুষের জন্য বিভিন্ন সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ করার চেষ্টা করে থাকেন ।
আমার এতকিছু লেখা একজন মানুষের উদাহরণ দেওয়ার জন্য । তাঁর নাম মোঃ হাসানুজ্জামান রাহিন । তিনি বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত একজন সিআইপি (Commercially Important Person). ২০২২ সালে সরকারের বানিজ্য মন্ত্রণালয় দেশের যে ১৮৪ জন সিআইপির নাম ঘোষণা করেন, তাঁর মধ্যে ডিভাইন গ্রুপের কর্ণধার জনাব মোঃ হাসানুজ্জামান একজন । তিনি ১৯৯৭ সালে তাঁর ডিভাইন গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিজের সততা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা দিয়ে দেশের রেডিমেড গার্মেন্টস ও টেক্সটাইলস সামগ্রী রপ্তানীকারকদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় একজন হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন । তাঁর শিল্প প্রতিষ্ঠানে দশ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন তিনি । তারমানে দেশের দশহাজার পরিবারের মানুষের রিজিক দানের ব্যবস্থা করেছেন তিনি- যা অনেক বড় একটি ইবাদত। অন্যান্য শিল্পপতিদের মধ্যে তিনি ব্যতিক্রম তাঁর সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নেওয়া কর্মসূচির কারণে । শুধু মুনাফা অর্জন নয়, নিজ জন্মস্থান যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি তাঁর অন্যতম লক্ষ্য । প্রচারবিমুখ এই মানুষটি তাঁর গারমেন্টস ফ্যাক্টরিগুলো গাজীপুর ও সাভারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সুবিধার্থে চৌগাছাতেও নিয়ে গেছেন । স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান ও চিকিৎসার সুবিধার্থে চৌগাছায় গড়ে তুলেছেন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক মানের ডাঃ আনিসুজ্জামান হাসপাতাল এবং খায়রুন্নেসা নার্সিং কলেজ । তাঁর পিতা ডাঃ আনিসুজ্জামান আজীবন তাঁর সেবামূলক কাজের জন্য এলাকার মানুষের সম্মান ও ভালোবাসা পেয়েছেন । পুত্র হাসানুজ্জামান রাহিন মানুষের সম্মান ও ভালবাসার পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে গোটা দেশের মধ্যে চৌগাছা উপজেলার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন । অতিসাধারণ জীবনযাপন করেন তিনি এবং রাজধানী ঢাকা নয়, নিজের এলাকায় বসবাসা করেন যা – সত্যিই বিস্ময়কর ।
একজনের খারাপ কাজ, অন্যজনকে যেমন দ্রুতগতিতে খারাপ কাজে প্রভাবিত করতে পারে, একজনের ভালো কাজ, তেমনভাবে অন্যজনকে খুব দ্রুত ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করতে পারে না । তারপরও রাহিন সাহেবের সমাজকল্যাণমূলক কাজ এলাকার শিক্ষিত শ্রেণির অনেকের মধ্যে একধরণের প্রতিযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি করেছে বলে আমার মনে হয়েছে । এ ধরণের কাজ এলাকার শিক্ষার্থীদের মনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে- যা ভবিষ্যতে তাঁদের বাস্তব কাজের মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে বলে আমার বিশ্বাস ।
বাংলাদেশে বর্তমান উপজেলা সংখ্যা ৫০০ । প্রতিটি উপজেলায় আর্থিক সামর্থ্যের দিক দিয়ে রাহিন সাহেবের মত মানুষ অনেকেই আছেন । দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে যদি একজন রাহিন সাহেবের মত মন নিয়ে তাঁর এলাকায় কাজ শুরু করেন, তাহলে গোটা বাংলাদেশের চেহারা বদলে যেতে পারে ।
বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের দেশ । একইসাথে বাংলাদেশ ধর্মভীরু মানুষের দেশ । নবি হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এঁর জন্ম আরবের মক্কায় । তিনি জীবনের শেষ দশ বছর মদিনায় বসবাস করেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। তিনি তাঁর জন্মস্থান ও বাসস্থানের মানুষের জন্য এমন ব্যবস্থা করে গেছেন যে, এ দুটি নগরীর বাসিন্দারা কেয়ামত পর্যন্ত অভাবমুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করবেন। মুসলমান হিসেবে আমাদের নিজেদের জন্মস্থান এবং বাসস্থানের মানুষের জন্য একই দায়িত্ব রয়ে গেছে । আমার জানামতে এ বিষয়ে অন্যান্য ধর্মের ব্যাখ্যা একই । সকলে ইচ্ছা করলে, যার যার অবস্থানে থেকে নিজেদের দায়িত্ব সচেতনতা দিয়ে যথাযথ কাজের মাধ্যমে গোটাদেশের সার্বিক ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব ।

রাশেদুল ইসলাম । ৭ আগস্ট, ২০২৬ । মোহাম্মদপুর, ঢাকা ।

06/08/2026

চিরকুট

দুইশত চৌত্রিশ

ইদানীং ইসলামী ‘মৌলবাদ’ এবং ‘বিদআত’ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক লেখালেখি হচ্ছে। সম্প্রতি কোলকাতায় বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের বক্তব্যে ইসলামী মৌলবাদের বিরুদ্ধে তিনি তাঁর দৃঢ় অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন । অন্যদিকে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইন্সটিটিউট (AIII) উদ্বোধন কালে সেনাবাহিনি প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সঠিক ধর্মীয় শিক্ষার অভাবে ‘দেশ বিদআতে ছেয়ে গেছে’ বলে মন্তব্য করেন । সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষিতে করা এ দুটি মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কথিত মৌলবাদ এবং বিদআতের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বলা যায়, এ দুটি শব্দ একে অপরের পরিপুরক । যেহেতু ধর্মকে কেন্দ্র করে এ দুটি শব্দের উৎপত্তি – ধর্মবিশ্বাসী সকল মানুষের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা বাঞ্চনীয় ।
এখানে প্রশ্ন, মৌলবাদ ও বিদআত কি ?
বাংলা মূল অর্থ উৎস বা গোড়া । মূল থেকেই মৌলবাদ শব্দের উৎপত্তি । অন্যদিকে আরবী ‘বিদআত’ শব্দের অর্থ নতুন সৃষ্টি, যা ছিল না তার প্রচলন করা। সারকথা সবকিছুর একটা গোড়া বা মূল ভিত্তি থাকে । বোঝার সুবিধার্থে এখানে আমার নিজের মূলভিত্তির কথা বলি। আমার জন্ম গ্রামে । আমার বাপদাদারা গ্রামে বাস করতেন । তাঁরা ছিলেন কৃষিজমি নির্ভর। তাঁরা লোহার সিন্দুকে টাকা রাখতেন । আমি যদি আমার পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য একইভাবে অনুসরণ করি তাহলে আমি মৌলবাদী । সেক্ষেত্রে আমাকে গ্রামে বাস করতে হবে, আমার আয়ের উৎস হবে কৃষি এবং আমাকে আমার পূর্বপুরুষের ন্যায় লোহার সিন্দুকে টাকা রাখতে হবে । এর বাইরে নতুন কিছু করলে, যা আমার পূর্বপুরুষ করেননি, তা হবে বিদআত । তারমানে আমার গ্রামে না থেকে ঢাকা শহরে থাকা, আমার আয়ের উৎস চাকরি এবং আমি ব্যাংকে টাকা রাখি- মৌলবাদের দৃষ্টিতে আমার এসবকিছু বিদআত হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু আমার এই শহরে থাকা, চাকরি করা, আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্থার সুযোগ নেওয়া কি আমার পারিবারিক ঐতিহ্যের জন্য মর্যাদাকর, না মর্যাদা হানিকর ? যেহেতু এটা মর্যাদাকর, এ ধরণের বিদআত গ্রহণযোগ্য । আবার মৌলিকত্য বিচারে আমার পূর্বপুরুষ সচ্ছল ছিলেন এবং মর্যাদার সাথে সমাজে বাস করতেন । আমিও বর্তমান সামাজিক বিচারে সচ্ছল ও মর্যাদার সাথে বসবাস করি – সচ্ছল ও মর্যাদার সাথে বাস করার চিন্তা যদি মৌলবাদী চিন্তা হয়, তাহলেও তা গ্রহণযোগ্য মৌলবাদ- এ নিয়ে কোন বিতর্ক নেই ।

উপরের আলোচনা থেকে এটা সুস্পষ্ট যে, মৌলবাদ হচ্ছে উৎসমূলের হুবহু/ সমমানের অবস্থা বজায় রাখার অনুশীলন । জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে একজন মানুষের মৌলবাদী হওয়ার সুযোগ রয়েছে । কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে, তা উৎসমূলের সাথে যৌক্তিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ কী- না ?
এখন প্রশ্ন, ইসলামী মৌলবাদ কি ? ইসলাম কি মৌলবাদ সমর্থন করে ?
এ প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আগে মৌলবাদের সংজ্ঞা জানা দরকার ।
বাংলাভাষায় মৌলবাদ শব্দ দু’টি ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
(১) মৌলিক নীতিতে অবিচল থাকাঃ ইসলাম ধর্মের মূলনীতি; যেমন, কোরআনের বিধান অনুসরণ । কোরআনের বিধান একাগ্রচিত্তে মেনে চলা অর্থে যদি মৌলবাদ হয় – তাহলে অবশ্যই তা গ্রহনীয় এবং এ নিয়ে কোন বিতর্ক নেই । কারণ, কোরআনের ওপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস রেখেই একজন মুসলমান হন ।
(২) ধর্মীয় উগ্রবাদ ও অসহিষ্ণুতা- ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং অসহিষ্ণুতা অর্থে যদি মৌলবাদ হয়- ইসলাম তা সমর্থন করে না । এ ধরণের মৌলবাদিতা ইসলাম সমর্থন করে না । কোরআনে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘ধর্মে কোন জোরজবরদস্তি নেই’ (সূরা বাকারা, আয়াত ২৫৬)।
কোরআনে বলা হয়েছে, তোমরা রাসুল যা করতে বলেন, তাই করো (সূরা আনফাল,আয়াত ২৪)। বলা হয়েছে,
’যে রাসুলের আনুগত্য করে, সে আল্লাহরই আনুগত্য করে (সূরা নিসা, আয়াত ৮০)।
কোরআনের উক্তরুপ বিধানের আলোকে অনেকে সুন্নাহর নামে বিশেষ করে জাল হাদিসের মাধ্যমে ধর্মের অপব্যাখ্যার সুযোগ নিয়ে থাকেন, যা অনেক ক্ষেত্রে সমাজে উগ্রবাদ ও অসহিষ্ণুতা সৃষ্টি করে । আল্লাহর রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সঃ) সত্য কথা বলতেন, কখনও কারও গীবত করেননি, সারাজীবন মানুষের উপকার করেছেন, কখনও কারও ক্ষতি করেননি, নিয়মিত আল্লাহর ইবাদত করতেন- নবির এসব গুণাবলী ও কাজ অনুসরণের মাধ্যমে কারও উগ্রবাদী হওয়া বা অসহিষ্ণু হওয়ার কোন সুযোগ নেই । কিন্তু আল্লাহর রাসুল যুদ্ধ করেছেন, অনেকগুলো বিবাহ করেছেন, তিনি কখনও সাগর পাড়ি দেননি, কখনও ছবি তুলেননি, টেলিভিশন দেখেননি, রেলগাড়ি চড়েননি, জন্মদিন পালন করেন নি – সুন্নাহ অর্থে এসবের অপব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ অনেকে নিয়ে সমাজে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে থাকেন । আমাদের দেশের যে সকল আলেম অতীতে ছবি তুলতে নিষেধ করেছেন, সিনেমা দেখতে নিষেধ করেছেন বা এখনও এধরণের কথা বলেন – তাঁরা এই মৌলবাদী ধারণা থেকেই তা করে থাকেন ।
অনেকে কোরআনের বিধান অপব্যাখ্যার মাধ্যমেও সমাজে উগ্রবাদী আচরণ করে থাকেন । যেমন পবিত্র কোরআনে নারী ও পুরুষ উভয়কেই শালীনতা ও দৃষ্টি সংযমের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (সূরা নূর, আয়াত ৩০,৩১)। কোরআনে নারীদের নাক-মুখ ঢাকার কথা বলা হয়নি । কিন্তু মৌলবাদী ব্যাখ্যায় পুরুষের পোশাক ও শালীনতা বিষয়ে কোন কিছু উল্লেখ না করা হলেও, অতীতে নারীদের নাকমুখ ঢাকা বোরকা পরতে বাধ্য করা হয়েছে বা কোন কোন ক্ষেত্রে এখনও বাধ্য করা হয়ে থাকে। কোরআনে ঈমান ও সৎকর্মের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান প্রতিদানের কথা বলা হলেও (সূরা আহজাব, আয়াত ৩৫) মৌলবাদী ব্যাখ্যায় মহিলাদের ঘরের বাইরে কাজ করার সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করা হয় । অনেক ক্ষেত্রে মহিলাদের গৃহবন্দী রাখতে বাধ্য করা হয় । কিন্তু, বাস্তবে এসব কোরআনের বিধান সমর্থিত নয় ।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ সময়ের কসম খেয়ে বলেন, ‘বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীল ছাড়া প্রতিটি মানুষ অবশ্যই ক্ষতিতে নিমজ্জিত (সূরা আসর, আয়াত ২-৩)। আল্লাহ সর্বশক্তিমান । তাঁর কারও কসম খাওয়ার প্রয়োজন ছিল না । কিন্তু তিনি (আল্লাহ) সময়ের কসম খেয়েছেন। এর অর্থ এই যে, কোরআনের কোন বিধান ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থান,কাল পাত্রের বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে । যদি কেউ তা না করেন, তাহলে সেই ব্যাখ্যাকারী ক্ষতিগ্রস্থ হবেন; অর্থাৎ আল্লাহর রোষানলে পড়বেন । ‘আমাদের নবী কখনও রেলগাড়ি চড়েন নাই, একারণে রেলগাড়ি চড়া হারাম’ – এই জাতীয় ফতোয়া যিনি দিয়েছিলেন, সূরা আসরের আলোকে তিনি ঠিক কাজটি করেননি । কারণ, ফতোয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ‘সময়’ বিবেচনায় নেননি । নবি করিম (সঃ) এঁর সময়ে রেলগাড়ি ছিল না; ফলে সে সময়ে রেলগাড়ি চড়ার কারো কোন সুযোগ ছিল না। সূরা আসর এঁর প্রকৃত অর্থ আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল ভালো জানেন । কিন্তু, আমার নিজের মনে হয়েছে, কোন কিছু বিদআত ঘোষণা করা, অনেক কিছু বিচার বিশ্লেষণের বিষয়, যা অনেক ক্ষেত্রে বিপজ্জনক হতে পারে । কারণ, ভুল হলে ব্যাখ্যাদানকারী স্বয়ং আল্লাহর রোষানলে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে ।
পবিত্র কোরআনে বার বার চিন্তাশীল মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে । ফলে মৌলবাদিতা ও বিদআতের বিষয় হালকাভাবে দেখার অবকাশ নেই । বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলে গুরুত্বের সাথে দেখবেন- এই প্রত্যাশা আমাদের ।

ভিন্ন ধর্মের ক্ষেত্রেও মৌলবাদের বিষয়টি একইভাবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে ।

রাশেদুল ইসলাম । ৫ আগস্ট, ২০২৬ । মোহাম্মদপুর, ঢাকা ।

04/08/2026

চিরকুট

দুইশত তেত্রিশ

অনেকে ধর্মের অসারতা নিয়ে লেখেন । ইদানিং এ ধরণের লেখার সংখ্যা বেড়েছে । কোন ধর্মের অনুসারী হতে লেখাপড়া না জানলেও চলে । কিন্তু, লেখাপড়া না জেনে ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলা বা লেখা সম্ভব নয় । সংগত কারণেই ধর্মের বিরুদ্ধে যারা লেখেন, তাঁরা অনেক শিক্ষিত এবং অনেকের থেকে তাঁদের পড়াশুনা অনেক বেশি । তবে সবকিছুর একটা ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক আছে । ধর্মের ক্ষেত্রেও তা ব্যতিক্রম কিছু নয় । যারা ধর্মের বিরুদ্ধে লেখেন, তাঁরা বিরুদ্ধে লিখতে যে পরিমাণ মেধা ও শ্রম দান করেন, সেই একই মেধা ও শ্রম যদি ধর্মের ইতিবাচক দিক ও তা বাস্তবায়নের বিষয় নিয়ে লিখতেন, তাহলে এই অভাগা জাতির অনেক উপকার হতো । বিষয়টির একটা ব্যাখ্যা এখানে দেওয়া যেতে পারে ।
বাংলাদেশ প্রকৃতি নির্ভর দেশ । প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এদেশে শুধু দরিদ্র শ্রেণির মানুষ নয়, অতিসচ্ছল অনেক পরিবার রাতারাতি পথে বসে যান বা সে ধরণের সম্ভাবনার মধ্যে বাস করেন । এ কারণে এদেশে জনপ্রিয় লোকগীতির একটি কলি, ‘সকাল বেলার বাদসা যে জন, ফকির সন্ধ্যাবেলা’ । এ ধরণের বাস্তব পরিস্থিতিতে ‘সবর’ করা বা ভবিষ্যৎ সুখের আশায় বুক বাধার স্বপ্ন দেখার শক্তি এদেশের মানুষ ধর্ম থেকে পেয়ে থাকে । ফলে, ধর্মের বিকল্প করণীয় কিছুর উল্লেখ না করে, কেবলমাত্র ধর্ম অর্থহীন বলা আমার নিজের মনে হয়, তা সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর ।
সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষ ধর্ম বিষয়ে পড়াশুনা না করার ক্ষতিকর দিকের একটা উদাহরণ এখানে দেওয়া যেতে পারে । কিছুদিন আগে একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে, ‘ধর্ম আগে, না, মানুষ আগে’ - এ ধরণের প্রশ্নের উদ্ভব হলে, একজন তরুণ জোর দিয়ে বলেন, তাঁর কাছে, ‘আগে মানুষ, তারপর ধর্ম’। কথাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় । বেশিরভাগ মানুষ তরুণ ছেলেটিকে সমর্থন করেন । তবে তাঁদের সমর্থন ছিল নৈতিক- ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান থেকে নয় । ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান না থাকার কারণে অনেকে সেদিন আশংকা প্রকাশ করেন যে, ‘মানুষ আগে’ বলার কারণে, ছেলেটি বিপদে পড়তে পারে । সাম্প্রতিককালে আলেম পরিচয়দানকারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কারও কারও অপকর্মের ঘটনা একটার পর একটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার কারণে ধর্ম ব্যবসায়ী বা ধর্মের লেবাসধারি অনেকেই কোণঠাসা অবস্থায় আছেন । এ কারণে, ধর্মীয় দিক থেকে ছেলেটার বিরুদ্ধে বিরুপ কোন জোরালো মন্তব্য বা তাঁকে হেনস্থা করার মত কোন ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু, প্রকৃত সত্য এই যে, কোরআনের মর্ম অনুযায়ী, স্বয়ং আল্লাহ নিজেই মানুষকে ধর্মের উপরে স্থান দিয়েছেন (বিস্তারিত ব্যাখ্যা চিরকুট দুইশত ঊনত্রিশ)। কোরআন তথা ইসলামসম্মত এই সত্যকথা এদেশের সাধারণ শিক্ষিত মানুষ দ্বিধাহীনভাবে বলতে পারেন না কেবল ধর্মীয় বিষয়ে তাঁদের পড়াশুনা না থাকার কারণে । ধর্মের লেবাসধারি কতিপয় ধার্মিকগণ আমাদের শিক্ষিত মানুষের ধর্ম না জানার বিষয়টি ভালো জানেন। একারণে তাঁদের নিজেদের সুবিধার্থে ধর্ম বিষয়ে অনেক মনগড়া ব্যাখ্যা তাঁরা দিয়ে থাকেন, যা পবিত্র কোরআনের সাথে সংগতিপূর্ণ নয় । এক্ষেত্রে প্রকৃত আলেমসমাজ অনেকটা কোণঠাসা অবস্থায় আছেন বলা যায় । সাধারণ শিক্ষিত মানুষের ধর্ম বিষয়ে প্রকৃত জ্ঞান থাকলে, সমাজে প্রকৃত আলেমগণের জন্য ইসলাম ধর্মের প্রকৃত ব্যাখ্যা দেওয়া এবং সে অনুযায়ী অনুশীলনের ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হতে পারতো।

ইসলাম ধর্মে মুক্তচিন্তার কোন সুযোগ নেই বলে একটা অভিযোগ রয়েছে । এ ধরণের অভিযোগ কি আদৌ সত্য ? কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্টতম জীব হচ্ছে সেই মূক ও বধিররা, যারা তাদেরকে প্রদত্ত বিচারবুদ্ধি ব্যবহার করে না’ (সূরা আনফাল, আয়াত ২২)। এই আয়াতের সুস্পষ্ট অর্থ এই যে, যারা নিজের বিচারবুদ্ধি খাঁটিয়ে কথা না বলে, কাজ না করে, তারা মানুষই নয় । মুক্তচিন্তার জন্য এর চেয়ে বড় লাইসেন্স আর কি হতে পারে ? কিন্তু, কোরআনের এই আয়াত বিষয়ে কখনও কোন ফোরামে আলোচনা হয়েছে কি ? কোরআনে আছে, কিন্তু তা যদি আলোচনায় না আসে, তার দায় কি কোরআন বা ইসলামের ?

প্রাণীজগতের অন্যান্য প্রাণী থেকে মানুষকে আলাদা করা হয়েছে কেবলমাত্র তাদের ব্যতিক্রমধর্মী ও সৃজনশীল চিন্তাশক্তি দিয়ে। কোরআনের মত উন্নতমানের সাহিত্যগুণসম্পন্ন একটি ধর্মগ্রন্থ পড়ার ক্ষেত্রে শিক্ষিত মানুষের সেই সৃজনশীল চিন্তা প্রয়োগ করা হবে- এটাই কাম্য ছিল। কিন্তু শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও সমাজের মেধাবী ও শিক্ষিত শ্রেণির মানুষ যদি কোরআন পড়ে বোঝার চেষ্টা না করেন, সুযোগসন্ধানী অপরপক্ষ যদি কোরআনের অপব্যাখ্যা দিয়ে নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য সমাজকে দূষিত করার সুযোগ নিয়ে থাকেন, তাহলে এই দায় কার ?

রাশেদুল ইসলাম । ৪ আগস্ট, ২০২৬ । মোহাম্মদপুর, ঢাকা ।

Address

Dhaka
1205

Opening Hours

Tuesday 10:00 - 18:00
Wednesday 10:00 - 18:00
Thursday 10:00 - 18:00
Saturday 10:00 - 18:00
Sunday 10:00 - 18:00

Telephone

+8801552404422

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Arpon-Dorpon Memorial Foundation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Arpon-Dorpon Memorial Foundation:

Shortcuts

Share