03/04/2026
🌏বুয়েটে ‘ইকো-টেক হ্যাকাথন ২০২৬’ সম্পন্ন: পরিবেশ রক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন দিগন্ত🌍
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এ পরিবেশ সুরক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে সম্পন্ন হলো ‘ইকো-টেক হ্যাকাথন ২০২৬’-এর চূড়ান্ত পর্ব। বুয়েটের পরিবেশবিষয়ক সংগঠন ‘এনভায়রনমেন্ট ওয়াচ: বুয়েট’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় পরিবেশগত সমস্যার টেকসই ও কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করা।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিনব্যাপী আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনালে নির্বাচিত আটটি দল তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। এতে অংশ নেয় মোট ১৭১ জন প্রতিযোগী। তরুণ উদ্ভাবকদের সৃজনশীলতা ও উদ্যমে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
চূড়ান্ত পর্বে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সোনিয়া বিনতে মোরশেদ, বুয়েট কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাদিয়া শারমিন এবং তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মারুফ আহমেদ । তাঁদের সুচিন্তিত মূল্যায়নের ভিত্তিতে সেরা দলগুলোকে নির্বাচন করা হয়।
প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের জন্য মোট ২৫ হাজার টাকার আকর্ষণীয় পুরস্কার নির্ধারণ করা হয়,যা প্রতিযোগীদের মধ্যে আলাদা অনুপ্রেরণা জোগাতে সাহায্য করে। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় এই আয়োজন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ এ ,কে, এম মাসুদ, (পরিচালক,ছাত্র কল্যাণ পরিষদ, বুয়েট)। তিনি পরিবেশ রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাবগুলোর তৎপরতা এবং উদ্যোগ গ্রহনের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে জিবন্মান উন্নয়ের কথা বলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলক বড়ুয়া ( ফাউন্ডার, আই- জিই এস রিসার্চ কনসালটেন্ট), প্ল্যানার শাইখ মুহাম্মাদ মেহেদী আহসান ( ইন্টারন্যাশনাল টিম লিডার , ক্লাইমেট চেঞ্জ এডাপটেড আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম)। অনুষ্ঠানের বিজয়ই দলগুলোর মাঝে রয়েছে
হ্যাকাথনের পাশাপাশি আয়োজন করা হয় পরিবেশ ও মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব তুলে ধরা একটি বিশেষ সেমিনার। “মানসিক স্বাস্থ্যে পাখির ভূমিকা” শীর্ষক এই সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাজরিগার পাখি প্রজননে জাতীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন ও অভিজ্ঞ পাখিপালক মো. মাহমুদুল হাসান। তিনি পাখির সান্নিধ্য কীভাবে মানুষের মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হয়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
এছাড়া, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে আয়োজন করা হয় ‘ইকো-কুইজ ২০২৬’ প্রতিযোগিতা, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। পুরো আয়োজনের সহযোগী ও সুস্থতা অংশীদার হিসেবে যুক্ত ছিল স্কিন’ও।
আয়োজকদের মতে, বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন এখন সময়ের দাবি। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তাকে বিকশিত করে এবং ভবিষ্যতে পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম নতুন নতুন ধারণার জন্ম দেয়।।