নামাজ এবং রোজার সময়সূচী

নামাজ এবং রোজার সময়সূচী প্রতিদিনের নামাজ এবং রোজা-The importance of prayer for deliverance in personal life is immense. (Find out the truth)

Here the time of prayers and various Islamic issues are discussed.

25/05/2025

আসসালামু আলাইকুম।
জিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল।

এই দশ দিনের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুল সা: বলেন।

أفضل أيام الدنيا أيام العشر

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হল (যুলহজ্জের) দশ দিন।” (বায্যার, সহীহুল জামে’ ১১৩৩)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এমন কোন দিন নেই যে দিনসমূহের সৎকাজ আল্লাহ্ তা’আলার নিকট যুলহিজ্জা মাসের এই দশ দিনের সৎকাজ অপেক্ষা বেশি প্রিয়। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ্ তা’আলার পথে জিহাদ করাও কি (এত প্রিয়) নয়? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহ তা’আলার পথে জিহাদও তার চেয়ে বেশি প্রিয় নয়। তবে জান-মাল নিয়ে যদি কোন লোক আল্লাহ তা’আলার পথে জিহাদে বের হয় এবং এ দু’টির কোনটিই নিয়ে যদি সে আর ফিরে না আসতে পারে তার কথা (অর্থাৎ সেই শহীদের মর্যাদা) আলাদা।

-সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭২৭), বুখারী

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘ইয়াওমে আরাফার রোজার বিষয়ে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী, তিনি এর দ্বারা আগের এক বছরের ও পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করবেন’। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ১১৬২)।

আমল সমূহ:

১। জিলহজ্জ মাসের ১ তারিখ থেকে কোরবানি দেওয়া পর্যন্ত চুল নখ না কাটা।

২। রোজা রাখা ৯ টি
যদি তা সম্ভব না হয় আরাফাহ দিনের রোজা রাখা।

৩। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি যত্নশীল হওয়া। চোখ ও লজ্জাস্থানের হেফাজত করা।

৪। কুরআন তেলাওয়াত করা।
৫। নফল সালাত আদায় করা।
৬। তাকবীর পড়া, তাহমীদ পড়া, তাহলীল বেশি বেশি করে পড়া।

বি: তাকবীর :

আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

তবে বিশেষ করে।

জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজর নামাজ থেকে শুরু করে ১৩ তারিখ আসর নামাজ পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর পড়া।

পুরুষ মহিলা সকলেই পড়বে।
একবার বলা ওয়াজিব
৩ বার বলা সুন্নাহ

তাহলীল। (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) যিকির করা।

তাহমীদ : আলহামদুলিল্লাহ এর জিকির করা।

৭। বেশি করে তাওবা ইস্তেগফার পাঠ করা।

এম হাফিজুর রহমান
বিশিষ্ট দা'ঈ
তায়েফ ইসলামীক দাওয়া সেন্টার

25/03/2025

প্রতিদিন দান করুন !
------------------------------
দান শুধু অর্থকড়ি আর টাকা পয়সার সাথে সম্পর্কিত নয়। যার দান করার মতো অর্থকড়ি নেই, ইসলামের উদার নীতিতে তিনিও বড় দানশীল হতে পারেন। দান অতি বড় পুণ্যের কাজ। প্রতিদিন দান করুন। পুণ্য সঞ্চয় করুন। ইসলামের দৃষ্টিতে--------
০১. প্রতিটি ভালো কথা একটি দান।
০২. প্রতিটি ভালো উপদেশ একটি দান।
০৩. কোনো ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে কথা বলা দান।
০৪. অন্ধকে পথ চলতে সাহায্য করা একটি দান।
০৫. পথহারাকে পথ প্রদর্শন করা একটি দান।
০৬. বয়স্কদের সম্মান করা একটি দান।
০৭. ছোটদের স্নেহ করা একটি দান।
০৮. দু:খীর মুখে হাসি ফোটানো একটি দান।
০৯. কারো জন্যে কল্যাণের দোয়া করা একটি দান।
১০. কাউকে উত্তম শিক্ষাদান করা একটি দান।
১১. কাউকে দীনের জ্ঞানদান করা একটি দান।
১১. পিপাসীকে পানি পান করানো একটি দান।
১২. রোগীকে দেখতে যাওয়া একটি দান।
১৩. রোগীর কপালে হাত বুলিয়ে দেয়া একটি দান।
১৪. সামান্য কথা কাজ দিয়ে সাহায্য করাও একটি দান।
১৫. কারো কল্যাণে কিছু সময় দেয়া একটি দান।
১৬. সহানুভূতিশীল কথা বলাও একটি দান।
১৭. কারো সমস্যার কথা শোনা একটি দান।
১৮. কারো অনিষ্ট দূর করে দেয়া একটি দান।
১৯. কোমল কথা বলা একটি দান।
২০. সহৃদয়তা প্রকাশ করা একটি দান।
২১. ক্ষমা করে দেয়া একটি দান।
২২. কারো দু:খে দু:খী হওয়া একটি দান।
২৩. কারো আনন্দে আনন্দিত হওয়া একটি দান।
২৪. রাস্তা থেকে অনিষ্টকর জিনিস সরানো একটি দান।
২৫. সুপরামর্শ দেয়া একটি দান।

আল্লাহ আমাদের নেক আমল করার তাওফিক দিন । আমিন।

23/03/2025

সম্মানিত ভাই সকল! ক্বদরের রাতে আল্লাহর রহমতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। প্রিয় বান্দাদের আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য লাভের সুযোগ করে দেয়া হয়। আর বান্দা যা কিছু আল্লাহর কাছে চায় আল্লাহ তা শ্রবণ করেন, বান্দার চাহিদা ও প্রার্থনার উত্তর দেন ও সৎ কর্মশীলদের জন্য মহা পুরস্কার নির্ধারণ করেন। কেননা ক্বদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।
তাই আপনারা ক্বদরের রাতের মর্যাদা লাভের অন্বেষণে যথাসাধ্য চেষ্টা করুন। আর গাফিলতি ও অলসতা থেকে সাবধান হোন, কারণ এ ধরনের গাফিলতিতে ধ্বংস অনিবার্য।

গত হয়ে গেছে পুরো জীবন ভুলে ও খেলা এবং ক্ষতিগ্রস্ততায়

আমার জীবনের যে সময়টুকু নষ্ট করেছি তার জন্য আফসোস

জীবনের যে সময়টুকু আমি নষ্ট করেছি তাতে আমার কোনো ওযর নেই

আমি প্রশংসা ও শুকরিয়ার কর্তব্য থেকে কত গাফেল হলাম!!

যেহেতু আল্লাহ আমাদেরকে একটি মাস দিয়েছেন, তা আবার এমন মাস

যে মাসে দয়াময় সবচেয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ যিকির নাযিল করেছেন।

এ মাসের সাথে কী আর কোনো মাসের তুলনা চলে যেখানে আছে লাইলাতুল কদর?

কারণ, এ রাত্রির সংবাদ দিয়ে বহু সহীহ হাদীস রয়েছে।

গ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারীদের থেকে আমাদের কাছে বর্ণিত হয়েছে যে তা খোঁজা হবে বেজোড় রাত্রিতে

সুতরাং সে ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ যে এটাকে এর শেষ দশকে তালাশ করে

এতে নাযিল হয় ফেরেশতারা যাবতীয় নূর ও সৎকাম নিয়ে

আর এজন্যই বলা হয়েছে, শান্তি আর শান্তি যতক্ষণ না উদিত হবে ফজর।

সাবধান! এটাকে গোপন মূলধন হিসেবে জমা করে রাখ, এটা তো সর্বোত্তম মূলধন।

কারণ, এতে রয়েছে বহু মানুষ যারা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে অথচ সে জানে না।

হে আল্লাহ! আমাদেরকে তাদের মধ্যে গণ্য করুন যারা এ মাসের সত্যিকারের সিয়াম পালন করেছে, লাইলাতুল ক্বদর লাভ করেছে, এবং এর মাধ্যমে ব্যাপক সাওয়াব ও প্রতিদান প্রাপ্ত হয়েছে।

হে আল্লাহ! আমাদের অন্তর্ভুক্ত করুন তাদের মধ্যে, যারা ভালো কাজে প্রতিযোগিতা করে, সকল অন্যায় ও গর্হিত কাজ থেকে পলায়নকারী, জান্নাতের সুউচ্চ প্রসাদসমূহে নিরাপদ অবস্থানকারী, তাদের সাথে যাদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন ও গুনাহের কাজ থেকে হেফাযত করেছেন।

হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে আশ্রয় দিন পথভ্রষ্টকারী ফিতনা থেকে, বাঁচিয়ে রাখুন অশ্লীলতা থেকে যা প্রকাশ পেয়েছে এবং যা গোপন রয়েছে।

হে আল্লাহ! আপনার নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার এবং উত্তম ইবাদত করার তাওফীক দিন। আর আমাদেরকে আপনার আনুগত্যশীল ও ওলীদের কাতারে শামিল করুন। আর দুনিয়া ও আখিরাতে আমাদের কল্যাণ দান করুন ও জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। আমাদেরকে, আমাদের পিতা-মাতাদেরকে এবং সকল মুসলিমকে আপনার দয়ায় ক্ষমা করুন।

21/03/2025

*ক্বদরের রাতে ৫টি আমল করার চেষ্টা করি:*
১. নামাজ পড়ি, কম করে ২, ৪, ৬, ৮ রাকাত, যত পারি পড়ি। বড় সূরা না মুখস্থ না থাকলে কয়েকটি ছোট সূরা এক সাথে করে পড়তে পারি।
২. কিছু কুরআন তিলওয়াত করি, ১ পাতা হলেও পড়ি। সূরা ইয়াসিন, সূরা রহমান, সূরা ওয়াকিয়াহ, সূরা মুলক, সূরা কাহাফ নিয়মিত তিলাওয়াতের অভ্যাস থাকার কথা, এগুলো তিলাওয়াত করা সহজ হবে, তাই এ সূরাগুলো পড়ি।
৩. বেশী বেশী দুরদ পড়তে পারি।
৪. রাতেই কিছু টাকা সদাকাহ এর জন্য রেখে দিতে পারি, দিনের বেলায় তা উপযুক্ত জায়গায় দান করে দিবো।
৫. মাগরিব থেকে সারাক্ষন কদরের দু'আ পড়বো, নামাজে সাজদায় পড়বো, লাইলাতুল ক্বদরের দু'আ :

‎اللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ
আল্লাহুম্মা ইন্নাকা 'আফুউন, তু'হিব্বুল 'আফওয়া, ফা'ফু 'আন্নী

অর্থাৎ: হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাকারী, তুমি মাফ করতেই পছন্দ কর, অতএব তুমি আমাকে মাফ করে দাও
সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস ২৪

13/03/2025

রমাযান মাস হলো মাদরাসাতুল্য। এ মাসে সিয়ামের সবচেয়ে বড় দারস হলো, সবর। সিয়াম আমাদের ধৈর্য অবলম্বনের শিক্ষা দেয়।
যারা রমাযান মাসের সিয়াম, কিয়াম ও নফল ইবাদত নিয়ে ব্যস্ত থাকে তারাই প্রকৃত সবরকারী বা ধৈর্যশীল।
ধৈর্যশীল ব্যক্তির প্রতিদান অগণিত। এখানে দ্বিগুন বা সাতশ' গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধির কোন সীমা নেই। ধৈর্যের প্রতিদান অফুরন্ত ও অগণিত। আল্লাহ বলেন:
"নিশ্চয়ই, যারা ধৈর্য ধারণ করে, আল্লাহ তাদেরকে তাদের পুরস্কার দিবেন সীমাহীনভাবে।"
(সূরা আয-যুমার, আয়াত ১০)

উক্ত আয়াতে আল্লাহ তায়ালা জানিয়েছেন যে, যারা সৎপথে ধৈর্য ধারণ করে,আল্লাহ তাদেরকে অসীম পুরস্কার দেবেন, যার কোনো হিসাব নেই।

07/03/2025

দো‘আ কবূল হওয়ার অন্যতম সময় হচ্ছে ইফতারের সময়। কেননা সময়টি হচ্ছে ইবাদতের শেষ মূহুর্ত। তাছাড়া মানুষ সাধারণতঃ ইফতারের সময় অধিক দুর্বল হয়ে পড়ে। আর মানুষ যত দুর্বল হয় তার অন্তর তত নরম ও বিনয়ী হয়। তখন দো‘আ করলে মনোযোগ আসে বেশি এবং আল্লাহর দিকে অন্তর ধাবিত হয়। ইফতারের সময় দো‘আ হচ্ছে: اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ “হে আল্লাহ আপনার জন্য সাওম রেখেছি এবং আপনার রিযিক দ্বারা ইফতার করছি।”[1] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফতারের সময় এ দো‘আ পাঠ করতেন: ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ “তৃষ্ণা বিদূরিত হয়েছে, শিরা-উপশিরা তরতাজা হয়েছে এবং আল্লাহ চাহে তো প্রতিদান সুনিশ্চিত হয়েছে।”[2] হাদীস দু’টিতে যদিও দুর্বলতা রয়েছে কিন্তু কোনো কোনো বিদ্বান এটাকে হাসান বলেছেন। মোটকথা এগুলো দো‘আ বা অন্য কোনো দো‘আ পাঠ করবে। ইফতারের সময় হচ্ছে দো‘আ কবূল হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মূহুর্ত। কেননা হাদীসে এরশাদ হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, إِنَّ لِلصَّائِمِ عِنْدَ فِطْرِهِ لَدَعْوَةً مَا تُرَدُّ “সিয়াম পালনকারীর ইফতারের সময়কার দো‘আ প্রত্যাখ্যান করা হয় না।”[3] আর ইফতারের সময় মুআয্যিনের জবাব দেওয়া শরী‘আতসম্মত। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, إِذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ “মুআয্যিনের আযান শুনলে তার জবাবে সে যা বলে তোমরাও তার অনুরূপ বল।”[4] এ হাদীসটি প্রত্যেক অবস্থাকে শামিল করে। তবে দলীলের ভিত্তিতে কোনো অবস্থা ব্যতিক্রম হলে ভিন্ন কথা।

07/03/2025

السلام عليكم ورحمة الله وبركاته حياكم الله

~ ই'তিকাফ একটি হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহঃ

"নবী ﷺ রমযানের শেষ দশকে ই’তিকাফ করতেন।এটি
তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। অতঃপর তাঁর বিবিগন ইতিকাফ করতেন"। [ সহিহ বুখারী-২০২৬]

ই'তিকাফ একটি পরিত্যক্ত সুন্নাহ,অথচ এটি রাসূলুল্লাহ ﷺ
এর নিয়মিত সুন্নাহ ছিল,যেটি তিনি প্রতি রমজানে সব সময় করতেন। আমরা কি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর চাইতে বেশি ব্যস্ত? নিশ্চয়ই না; ব্যস্ততা নয় বরং ঈমানী দুর্বলতা, দুনিয়ার মোহ মায়া,জান্নাত পাওয়ার অনাকাঙ্ক্ষা,রাসূলের প্রতি ভালবাসা এবং সার্বিক জীবনে তাঁর অনুসরণের ত্রুটিই আমাদের ই'তিকাফের অন্তরায়।
ইবনু শিহাব আয-যুহরী (রাহি) বলেনঃ
"মুসলমানদের বিষয়টি বড় আশ্চর্যের! তারা ইতিকাফকে বর্জন করেছে অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম মদীনা প্রবেশের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কখনো ইতিকাফকে বর্জন করেনি"।
— [ফাতহুল বারী,৪/২৮৫]

∆∆∆আপনি যদি জীবনে কোনোদিন ইতিকাফে না বসেন, তাহলে এবছর চেষ্টা করতে পারেন।

শেষ 10 দিন ইতিকাফ করে লাইলাতুল কদরের পরিপুর্ণ নেকী অর্জন করার এই সুযোগ মিস করবেন না প্রিয়।

ইতিকাফে বসতে না চাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড়ো কারণ কী? আপনার ব্যস্ততা?
আপনি দাঁত কিড়মিড় করে যদি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, আমি এই ১০ দিন শুধুমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য ইতিকাফে বসবো, তাহলে চাঁদ রাতে ফিল করবেন আপনি কতোটা আনন্দিত।

যারা জীবনে একবার ইতিকাফে বসেছেন, তারা জানেন ঐ সময়টা কেমন কাটে। আপনার লাইফের শ্রেষ্ঠ ১০ দিন কাটাতে চাইলে ইতিকাফ হতে পারে সবার জন্য সেরা অপশন।

সময়ের বরকত বলতে কী বুঝায় সেটা বাস্তবে বুঝতে পারবেন। রিয়ালাইজ করবেন, আমরা সারাবছর কিভাবে সময় অপচয় করি।

আপনি সবকিছুর জন্য প্ল্যান করতে পারেন, এক্সাইটেড থাকেন; এবছর না হয় ইতিকাফের নিয়ত করুন। কোনো কারণে ইতিকাফে বসতে না পারলেও নিয়তের সওয়াব তো পাবেনই।
আল্লাহ তাওফিক দিন।আমীন ইয়া রব

بارك الله فيكم

14/02/2025

একবার ৫ মিনিট মন দিয়ে সবাই কে পড়ার অনুরোধ করছি। পরিবারসহ এতে করে আশেপাশের অনেকে উপকৃত হবে। এই পেজে থাকা সকল ব্যাক্তির উপকারে আসুক সেই কামনা করি।

শরয়ী দৃষ্টিকোণে শবে বরাতঃ করণীয় ও বর্জনীয়🔴

-----------------------------------------------------------
♦ভূমিকাঃ
আল্লাহ তায়ালা পরম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। ক্ষমা তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। তিনি বান্দাদের ক্ষমা করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সময় বরাদ্দ করেছেন । সে সময়ে তিনি মহাপাপীদের মুক্তি দেন, স্তর তরান্বিত করেন ও মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। এই মহাঅফার সমূহের একটি হলো শবে বরাত।

♦শবে বরাত কী কুরআন-হাদীসের পরিভাষা?
শবে বরাত শব্দটি কুরআন ও হাদীসের প্রচলিত কোনো পরিভাষা নয়।কেবল ভারতীয় উপমহাদেশেই শবে বরাত শব্দটি প্রচলিত। এর কুরআনিক কোনো পরিভাষা না থাকলেও হাদীসের পরিভাষায় এটিকে ليلة النصف من شعبان (লাইলাতুন নিসফে মিন শা'বান) বা মধ্য শা'বানের রজনী বলা হয়।

♦শবে বরাত কী কুরআন নাজিলের রাত?
শবে বরাত বা লাইলাতুন নিসফে মিন শা'বান এর ব্যাপারে কুরআনুল কারীমে সরাসরি কোনো আয়াত বা বক্তব্য নেই।তবে কেউ কেউ অসতর্কভাবে সূরা দূখান এর ৩-৪ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় ليلة مباركة বা বরকতময় রজনী দ্বারা শবে ক্বদর বা লাইলাতুন নিসফে মিন শা'বান কে উদ্দেশ্য করেছেন।আয়াতটি নিম্নরুপঃ
﴿ إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ . فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ ﴾
“নিশ্চয় আমি এটি (কুরআন)নাযিল করেছি বরকতময় রাতে; নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। সে রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়”(সূরা দুখান:৩,৪)।

🔴অত্র আয়াতের ব্যাপারে মুফাসসীরগণের অভিমতঃ
√ইবনুল কায়্যীম (র.) বলেন,
” وهذه هي ليلة القدر قطعا لقوله – تعالى -: إنا أنزلناه في ليلة القدر ومن زعم أنها ليلة النصف من شعبان فقد غلط “
“এটি অকাট্যভাবে কদরের রাত্রি। কারণ আল্লাহ বলছেন, নিশ্চয়ই আমি কুরআনকে কদরের রাত্রিতে নাযিল করেছি। আর যারা শাবানের মধ্য রাত্র ধারণা করছে, তারা আসলে ভুল করছে”।

√ইবনু কাসির (র.) বলছেন,
"ومن قال :إنها ليلة النصف من شعبان فقد أبعد النَّجْعَة فإن نص القرآن أنها في رمضان “
“যারা শাবানের মধ্য রাত্রি বলছেন, তারা বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছেন। বরং এটি যে রমাদান মাসের একটি রাত, সে ব্যাপারে কুরআনের ভাষা সুস্পষ্ট”।

√আল্লামা শানকিতী বলেন, ” إنها دعوى باطلة ” (মধ্য শাবানের দাবী) একটি ভিত্তিহীন দাবী”।

√একজন তাবেয়ী যার নাম ইকরিমা,তিনি বলেছেনঃ ليلة مباركة বা বরকতময় রজনী দ্বারা লাইলাতুন নিসফে মিন শাবান (মধ্য শাবানের রজনী) বা শবে বরাত উদ্দেশ্য।এটি তার ব্যক্তিগত অভিমত।ইকরিমা ছিলেন প্রখ্যাত সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) এর খাদেম।দ্বিতীয় হিজরী শতকে আন-নাদর বিন ইসমাঈল নামক কুফার এক গল্পকার ওয়ায়েজ ভুলবশত ইকরিমার ব্যক্তিগত অভিমতকে ইবনে আব্বাসের অভিমত বলে প্রচার করেন।হাদীসের ইমামগণ আন-নাদর বিন ইসমাঈল কে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত দুর্বল বলে আখ্যা দিয়েছেন।ইমাম নাসায়ী ও যুর'আ বলেছেনঃ সে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য ও মূল্যহীন। ইবনু হিব্বান বলেন,তার ভুল খুব মারাত্মক।যে কারণে তিনি পরিত্যক্ত বলে গণ্য হয়েছেন। [তথ্যসূত্রঃ যাহাবী,মীযান আল-ইতিদাল ৭/২৬, ইবনু আদী, আল-কামীল ৮/২৬৬,২৬৭, ]

ইকরিমার মতামত নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় সকল মুফাসসীরগণ তার অভিমত বাতিল বলে গণ্য করেছেন।

ইকরিমার বিপরীতে প্রায় সকল সাহাবী,তাবেয়ী ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মুফাসসীরিনে কেরাম বলেছেন,অত্র আয়াতে ليلة مباركة বা বরকতময় রজনী দ্বারা রামাদান আল কারীমের লাইলাতুল ক্বদর ই উদ্দেশ্য।অত্র আয়াতে বলা হয়েছে, কুরআন নাজিল হয়েছে এক বরকতময় রজনীতে।কিন্তু সেটি কোন রাত তা এই আয়াতে সুস্পষ্ট করে বলা হয় নি।কুরআন ব্যাখ্যার একটি শ্রেষ্ঠ মূলনীতি হলো تفسير القرآن بالقرآن অর্থাৎ,কুরআন দিয়ে কুরআনের তাফসীর। যেহেতু এই আয়াতে কুরআন নাজিলের বরকতময় রাত সম্পর্কে বলা হয়েছে সেহেতু সেটি মূলত কোন রাত তাও কুরআনের অন্য আয়াতে সুস্পষ্ট করে এভাবে বলা হয়েছে--
إِنَّآ أَنزَلْنٰهُ فِى لَيْلَةِ الْقَدْرِ

নিশ্চয়ই আমি এটি (কুরআন) নাযিল করেছি ‘লাইলাতুল ক্বাদরে।’ (সূরা আল-ক্বদরঃ ০১)।

অতএব,প্রমাণিত হলো যেই রাতে কুরআন নাজিল হয়েছে সেই রাত ক্বদরের রাত।আর সেই রাত রয়েছে রামাদান আল কারীমে।

♦শবে বরাত কী ভাগ্য রজনী?
শবে বরাত শব্দটি ফারসী।যার বাংলা অর্থ হলো- ভাগ্য রজনী।সন্দেহের অবকাশ নেই শবে বরাত অত্যন্ত বরকতময় রাত।তাই বলে শবে বরাতকে ভাগ্য রজনী বলা সুস্পষ্ট সীমালঙ্ঘন ও বাড়াবাড়ি।যদি এই রাতকে ভাগ্য রজনী মনে করা হয় তাহলে তা কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে যায়। কারণ কুরআন নাজিল হওয়া ক্বদরের রাতটি ভাগ্য রজনী।সেই রাতে তাক্বদীর লিপিবদ্ধ করা হয়। সূরা আল ক্বদরে ইরশাদ হয়েছেঃ
تَنَزَّلُ الْمَلٰٓئِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ

সে রাতে (লাইলাতুল ক্বদরে) ফেরেশতারা ও রূহ (জিবরাইল) তাদের রবের অনুমতিক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতরণ করে।(সূরা আল-ক্বদরঃ ০৪)।

আবার সূরা দুখানে ইরশাদ হয়েছে--
فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ
“ সে রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়”(সূরা দুখান: ০৪)।

অতএব,লাইলাতুন নিসফে মিন শাবান (মধ্য শাবানের রজনী) বা শবে বরাত কে ভাগ্য রজনী বলা বাড়াবাড়ি ও সুস্পষ্ট সীমালঙ্ঘন ছাড়া আর কিছুই নয়।মূলত রামাদানের লাইলাতুল ক্বদর ই হচ্ছে ভাগ্য রজনী।

তবে এই রাত্রিকে যদি আরবীতে ليلة البراءة (লাইলাতুল বারাত) বলা হয় তাহলে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ লাইলাতুল বারাত অর্থ হলোঃ ক্ষমা বা মুক্তির রাত।এই রাত ক্ষমার রাত যা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
তবে মনে রাখতে হবে,হাদীসের পরিভাষায় এটিকে ليلة النصف من شعبان (লাইলাতুন নিসফে মিন শা'বান) বা মধ্য শা'বানের রজনী বলা হয়।অতএব,আমাদের উচিত হাদীসে উল্লেখিত পরিভাষাটি বলতে অভ্যস্ত হওয়া।

♦ফজিলতঃ
নিঃসন্দেহে শবে বরাত বা লাইলাতুন নিসফে মিন শা'বান অত্যন্ত বরকতময় ও ফজিলতপূর্ণ রাত্রি।এই রাত্রির ফজিলত অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।কুরআনুল কারীমে এই রাত্রির ব্যাপারে সরাসরি ও সুস্পষ্ট কোনো আয়াত না থাকলেও প্রায় ৮ জন সাহাবী থেকে বিভিন্ন সনদে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে যা শবে বরাত সম্পর্কে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য সহীহ হাদীস।প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহ) এই হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।হাদীসটি নিম্নরুপঃ

« يَطْلُعُ اللَّهُ إِلَى خَلْقِهِ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ»
অর্থাৎ, আল্লাহ তা'আলা মধ্য শাবানের রাতে তাঁর সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। অতঃপর মুশরিক ও হিংসা-বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সকলকে ক্ষমা করে দেন।

তাহলে এই হাদীস থেকে প্রমাণিত হলো,এই রাতে মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া বাকীরা আল্লাহর রহমত,বরকত,ক্ষমা ও করুণা লাভে ধন্য হয়।

এছাড়া শবে বরাত বা লাইলাতুন নিসফে মিন শা'বান সম্পর্কে আরেকটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে,হাদীস বিশারদগণ সেটিকেও মোটামুটি গ্রহণযোগ্য বলেছেন।হাদীসটি নিম্নরুপঃ

ইমাম তিরমিযি (র.) হযরত ‘আইশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন,
فَقَدْتُ رَسُولَ الله -صلى الله عليه وسلم- لَيْلَةً فَخَرَجْتُ فإذا هو بِالْبَقِيعِ فقال: أَكُنْتِ تَخَافِينَ أَنْ يَحِيفَ الله عَلَيْكِ وَرَسُولُهُ، قلت: يا رَسُولَ اللَّهِ إني ظَنَنْتُ أَنَّكَ أَتَيْتَ بَعْضَ نِسَائِكَ، فقال: إِنَّ اللَّهَ عز وجل يَنْزِلُ لَيْلَةَ النِّصْفِ من شَعْبَانَ إلى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَغْفِرُ لِأَكْثَرَ من عَدَدِ شَعْرِ غَنَمِ كَلْبٍ
“একদা রাত্রিতে আমি রাসূল (স.) কে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তাই তার সন্ধানে বের হলাম। গারকাদুল বাকীতে গিয়ে তাকে পেলাম। তিনি বললেন, তুমি কি আশঙ্কা করছিলে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (স.) তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ভেবেছিলাম, আপনি আপনার অন্য কোন স্ত্রীর কাছে গিয়েছেন। তিনি বললেন, আল্লাহ তা‘আলা অর্ধ শাবানের রাত্রিতে দুনিয়ার আকাশে অবতীর্ণ হন এবং বনী কালবের ছাগল পালের লোমের চেয়ে অধিক পরিমাণ মানুষের গুনাহ মাফ করেন”।

উক্ত হাদীসগুলো ছাড়া শবে বরাত সম্পর্কে যতো হাদীস বর্ণিত হয়েছে হাদীস বিশারদগণ সেগুলোর কোনো কোনোটিকে ضعيف বা দুর্বল এবং কোনো কোনোটিকে জাল ও বানোয়াট বলে অভিহিত করেছেন।



♦শবে বরাতের নামাজ ও রোজাঃ
শবে বরাতের আলাদা কোনো নামাজ বা রোজা নেই।এই রাতে নামাজ আদায়ের আলাদা কোনো পদ্ধতিও নেই। তবে সালাফদের কেউ কেউ এ রাতে নফল ইবাদাত করেছেন।তাই এই রাতে কেউ যদি নফল সালাত আদায় করে তাতে কোনো অসুবিধা নেই।তবে এসব একাকী করাই উত্তম।

আর মধ্য শাবানের দিনে রোজা রাখার আলাদা কোনো বিধান ইসলামে নেই।তবে কেউ যদি 'আইয়্যামে বীদ' অর্থাৎ ১৩,১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রাখেন তাতে কোনো অসুবিধা নেই।কারণ আল্লাহর রাসূল (সা) প্রত্যেক মাসের এই ৩দিন রোজা রাখতেন।

তবে মনে রাখা দরকার,
ফরজ সালাত ও ইবাদাত বাদ দিয়ে নফল আদায়ে কোনো স্বার্থকতা ও সফলতা নেই।তাই যারা ফরজ সালাত ও ইবাদাতের প্রতি উদাসীন তাদের নফল ইবাদাত মূল্যহীন।আর যারা ফরজ সালাত ও ইবাদাতের প্রতি যত্নশীল তারা এই রাতে ঘুমিয়ে থাকলে ও সাওয়াব পাবেন।

♦করণীয়ঃ
যাদের প্রাত্যহিক বা প্রায়ই রাত জেগে ইবাদাতের অভ্যাস আছে তারা অন্যদিনের মতো এই রাতও ইবাদাতে কাটাতে পারেন তাতে কোনো অসুবিধা নেই।তবে এসব ইবাদাত একাকি করাই উত্তম।মনে রাখা দরকার, কেউ যদি শবে বরাতের নামাজ নামে আলাদা কোনো নামাজ এই রাতে আদায় করে তাহলে তা হবে বাড়াবাড়ি ও সুস্পষ্ট সীমালংঘন।সন্দেহ নেই এই রাত ফজিলতপূর্ণ,তবে এটাও সত্য এই রাতের আলাদা কোনো নামাজ রাসূল (সা) বা তার সাহাবাগণ কখনো আদায় করেন নি।

মোটকথা হলো,অভ্যাসগত কারণে এই রাতে নফল ইবাদাত করায় কোনো বাধা নেই।

♦বর্জনীয়ঃ
শবে বরাতকে কেন্দ্র করে নিম্নে উল্লেখিত প্রত্যেকটি কাজ অবশ্যই বর্জনীয়ঃ

√ শিরকে লিপ্ত হওয়া।
√ হিংসাত্মক কাজ করা।
√ আল্লাহর নাফরমানীমূলক কাজ করা।
√ সমবেত হয়ে ইবাদাত বন্দেগী করা।
√ মসজিদ,মাজার ও কবরস্থান আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা।
√ এ রাতে মৃত ব্যক্তির আত্মা তার গৃহে ফিরে আসে এমন ধারণা করা।
√ আতশবাজি ফোটানো।
√রাতে ইবাদাতের উদ্দেশ্যে সন্ধ্যায় গোসল করাকে ফজীলতপূর্ণ মনে করা।
√ এ রাতকে খাওয়া দাওয়া ও উৎসবের রাতে পরিণত করা।
√ এ রাতকে ভাগ্য রজনী মনে করা।

♦উপসংহারঃ
পরিশেষে বলবো,ফরজ ও নফলের সীমারেখা অনুধাবন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।সারাজীবনের নফল ইবাদত একটি ফরজ ইবাদতের সমান হবে না।নফলের পেছনে দৌড়ে আমরা মাঝে মাঝে ফরজ সালাতগুলোকেও তরক করে ফেলি।এর চেয়ে কঠিন আত্মপ্রবঞ্চনা আর কিছুই হতে পারে না।

মহান আল্লাহ বান্দাদের প্রতি একটি বিশেষ অনুগ্রহ করেছেন,আর তা হলো- তিনি তার বান্দাদের ইবাদত-বন্দেগীতে কোনো ত্রুটি হলে তার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। যেমনঃ নফল সালাত দ্বারা ফরজ সালাত আদায়ে ভুল-ত্রুটিগুলো পুষিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করেছেন।তাই ফরজগুলো যথাযথ আদায় করে এরপর সুন্নাত ও নফল আদায় করলেই সুফল পাওয়া যাবে।আর সমস্ত ইবাদাত হবে আল্লাহ ও রাসূল (সা) এর নির্দেশিত পন্থায়।মনগড়া কোনো ইবাদাত শরীয়তে গ্রহণযোগ্য নয়।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দ্বীনের পথে পরিচালিত করুন.....।।
১৪/০২/২৫

10/02/2025

السلام عليكم ورحمة الله وبركاته حياكم الله وبياكم
শাবান মাসের করণীয় ও বর্জনীয়।
***নফল রোজার শ্রেষ্ঠ মাস।
বুখারী ও মুসলিম এসেছে:আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন প্রিয় নবীকে দেখিনি রমজান মাস ছাড়া অন্য কোন পুরো মাসে রোজা রাখতে,আর শাবান মাস ছাড়া অন্য কোন মাসে এত বেশি নফল রোজা রাখতে দেখিনি।

***সুনানে নাসায়ী তে আসছে,, ওসামা বিন যায়েদ রা:বলেন প্রিয় নবীকে জিজ্ঞেস করলেন আপনি শাবান মাসে এর বেশি নফল রোজা রাখেন কেন?
তিনি বলেন:এই মাসটি রমজান ও পবিত্র মাসের একটি মাস রজবের মাঝখানে পরে গেছে যার কারনে এই মাসে সবাই গাফেল বা উদাসীন থেকে,যেই সময়ে সবাই অবহেলা করে সেই সময়ে ইবাদত করলে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়।

∆∆এই মাসে আল্লাহর কাছে বান্দাহর আমল পেশ করা হয়।সুবহানাল্লাহ।
যারা কাজ করে কোম্পানির কাছে তাদের সবসময় রিপোর্ট পেশ করা হয়।
আপনি যদি পুরো মাসে ভালো কাজ করেন কিন্তু কোম্পানি যখন আসে তখন যদি এসে দেখে আপনি মোবাইলে কথা বলছেন বা আপনি অমনোযোগী হয়ে আছেন তখন আপনার কেমন লাগবে?

**তবে প্রিয় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাবান মাসের শেষে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।

*এই মাসটা হল অনুশীলনের মাস,প্র্যাকটিসের মাস।
*রমজানের রোজা কে পূর্ণ করার জন্য শাবান ও শাওয়াল মাসের রোজার গুরুত্ব অনেক।
بارك الله فيكم

24/01/2025

একজন সাহাবী ভুলবশত ইহুদিদেরকে একটি গোপন তথ্য জানিয়ে দেন!
ইহুদি গোত্র বনু কুরাইজা আবু লুবাবা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে পছন্দ করতো। অবরুদ্ধ অবস্থায় তাদের কী করা উচিত, কী হবে এই ব্যাপারে তারা তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি গোপন তথ্য জানিয়ে দিলেন।
তিনি অবচেতনভাবেই এমনটা করেন। এমন না যে তিনি মুসলিমদের ধোঁকা দেবার জন্য তথ্য ফাঁস করেন।
কিন্তু, এই কাজটি করার পর তিনি অনুতপ্ত হন। সোজা চলে যান মসজিদে। মসজিদের একটি খুঁটিতে নিজেকে বেঁধে ফেলেন। প্রতিজ্ঞা করেন, তাঁর তাওবার ব্যাপারে যদি আল্লাহ কোনো আয়াত নাযিল না করেন, তাহলে তিনি এভাবেই থাকবেন।
মসজিদে সবাই নামাজে যাচ্ছে, নামাজ শেষে বাড়ি। কিন্তু, আবু লুবাবা খুঁটিতে বাঁধা। নামাজের ওয়াক্ত হলে তাঁর স্ত্রী তাঁর জন্য বাঁধন খুলে দেন, খাবার সময় খাবার দেন। বাকি পুরো সময় তিনি বাঁধা থাকতেন। ভুলের কারণে নিজেই নিজেকে শাস্তি দেন।
এভাবে কেটে গেলো কয়েকদিন।
অতঃপর একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুখবর জানালেন। আবু লুবাবা রাদিয়াল্লাহু আনহুর তাওবা কবুলের বিষয়টি আল্লাহ পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন। সরাসরি আয়াত নাযিল করে জানিয়ে দেন, আবু লুবাবার এমন অনুতপ্ত হৃদয়ের আকুতি আল্লাহ শুনেছেন।
কিয়ামত পর্যন্ত যতো মানুষ আসবে, তারা জানবে কুরআনে একজন সাহাবীর তাওবার ঘটনা আছে।
তাওবার গল্প হলো পাপী বান্দাদের জন্য অনুপ্রেরণার। এরচাইতে ভালো ‘মোটিভেশনাল স্টোরি’ হতে পারে না!
তাওবার গল্পগুলো পড়লে মনে হয়, আমাদেরকেও আল্লাহ মাফ করতে পারেন। এই আত্মবিশ্বাস আসে। আল্লাহর কাছে নিজের সব ভুল স্বীকার করার অনুভূতি জাগ্রত হয়।
তাওবার এমন প্রায় ১০০টি গল্প নিয়ে দারুল আরকাম থেকে প্রকাশিত হয়েছে ‘তাওবার গল্প’।
আজ থেকে প্রায় ৯০০ বছর পূর্বের লেখা বইটিতে আছে- নবীদের তাওবার গল্প, পূর্ববর্তী উম্মতের তাওবার গল্প, সাহাবীদের তাওবার গল্প, আলেমদের তাওবার গল্প, অমুসলিমদের তাওবার গল্প।
৩১০ পৃষ্ঠার বইটি পড়তে গিয়ে কখনো দেখবেন চোখের কোণে অশ্রু, কখনো আনন্দিত হবেন।
এই বইটি পড়ে আল্লাহর প্রতি সুধারণা তৈরি হবে, অনুশোচনা নিয়ে আপনিও তাওবা করতে উৎসাহিত হবেন।
কাউকে গল্প শুনানোর জন্য বা দ্বীনের দাওয়াত দেবার জন্য এই বইটি খুবই উপযোগী।
তাওবার গল্প
লেখক : ইবনু কুদামা মাকদিসি
প্রকাশনী : দারুল আরকাম

19/01/2025
19/01/2025

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when নামাজ এবং রোজার সময়সূচী posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share